ইমান মুফাস্সাল' অর্থ বিস্তারিত বিশ্বাস।
ফেরেশতাগণের প্রতি বিশ্বাস বলতে বোঝায়- ফেরেশতাগণ আল্লাহর এক বিশেষ সৃষ্টি। তাঁরা নুরের তৈরি। তাঁরা সর্বদা আল্লাহ তায়ালার যিকির ও তাসবিহ পাঠে রত। তাঁদের সংখ্যা অগণিত। আল্লাহ তায়ালার হুকুম ব্যতীত তারা কোনো কাজই করেন না।
আরিফের মা আরিফকে ইমান মুফাস্সালের ৭টি বিষয় জেনে নিতে বলেছেন।
ইমান মুফাসসালের সাতটি বিষয় হলো- ১. আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, ২. ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, ৩. আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, ৪. নবি-রাসুলগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, ৫. আখিরাত দিবসে পূর্ণ বিশ্বাস করা, ৬. তাকদিরের ভালো-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, ৭. পুনরুত্থান দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।
সুতরাং বলা যায়, আরিফের মা তাকে উল্লিখিত ইমান মুফাসসালের ৭টি বিষয় জেনে নিতে বলেছেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ইমান তথা ইমান মুফাস্সালের শেষ তিনটি বিষয় হলো-
১. আখিরাতে বিশ্বাস,
২. তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস এবং
৩. মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস।
দুনিয়ার জীবনই মানুষের শেষ নয়। বরং আখিরাতের জীবনও রয়েছে। আখিরাত হলো পরকাল। মৃত্যুর পর পরই এ জীবনের শুরু। মানুষ সেখানে ভালো কাজের জন্য জান্নাত ও মন্দ কাজের জন্য জাহান্নাম লাভ করবে। আখিরাতের প্রতি বিশ্বাসও ইমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাকদিরকে আমরা ভাগ্য বা নিয়তি বলে থাকি। সকল কিছুর তাকদিরই আল্লাহর হাতে। আল্লাহ তায়ালাই তাকদিরের নিয়ন্ত্রক। তাকদিরের ভালো-মন্দ যাই ঘটুক সবই আল্লাহর ইচ্ছায় হয়ে থাকে। তাই, তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস আবশ্যক। এমন একসময় আসবে যখন আল্লাহ তায়ালা সবকিছু ধ্বংস করে দেবেন। পৃথিবার কোনোকিছুই সেদিন অবশিষ্ট থাকবে না। কেবল আল্লাহ তায়ালাই বাকি থাকবেন। এরপর এক সময় আল্লাহ তায়ালা পুনরায় সবাইকে জীবিত করবেন। পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস ইমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
উদ্দীপকে আরিফ তার মায়ের কাছে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো জানতে চাইলে, তার মা তাকে ইমান মুফাসসাল পাঠ করে শোনায়, আখিরাত, তাকদির এবং পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস মূলত ইমান মুফাসসালেরই শেষের তিনটি অংশ।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত ইমানের শেষের তিনটি অংশ মূলত ইমান মুফাসসালের অংশবিশেষ।
Related Question
View Allতাওহিদ হলো মহান আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে বিশ্বাস করা।
আখিরাতে বিশ্বাস ইমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুনিয়ার জীবনই মানুষের শেষ নয়। বরং আখিরাতের জীবনও রয়েছে। মৃত্যুর পরপরই এ জীবনের শুরু। মানুষ সেখানে দুনিয়ার ভালো কাজের জন্য জান্নাত লাভ করবে এবং মন্দ কাজের জন্য জাহান্নাম পাবে। আখিরাতে অবিশ্বাস করলে মানুষ ইমানদার হতে পারে না। তাই আখিরাতে বিশ্বাস করা অপরিহার্য। আর এজন্যই মুত্তাকি আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।
নামাযের প্রতি রাজা মিয়ার মনোভাব ইসলামের দৃষ্টিতে কুফরির শামিল।
আমরা জানি, আল্লাহ তায়ালা ও ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের কোনো একটির অবিশ্বাস করাকে কুফর বলে। যেমন- ইসলামের মৌলিক ও ফরজ ইবাদতগুলোকে অস্বীকার করা কুফর। নামায যেহেতু ইসলামের একটি মৌলিক ও ফরজ ইবাদত সেহেতু এটি অস্বীকার করা কুফরি।
উদ্দীপকটি পাঠ করে আমরা জানতে পারি যে, সমাজপতি রাজা মিয়া তার প্রকল্পে কর্মরত জনাব ফরিদ উদ্দিনকে নামায পড়তে নিষেধ করে বলেন, নামায আবার কিসের জন্য, কাজ কর তাহলেই সুখ পাবে। এজন্য রাজা মিয়ার মনোভাব ইসলামের দৃষ্টিতে কুফরির শামিল।
আখিরাতে বিশ্বাস ফরিদ উদ্দিনকে নামাযে দৃঢ় ও দায়িত্বশীল করে তুলেছে।
দুনিয়াতে যে ব্যক্তি ইমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে সে আখিরাতে সম্মান ও মর্যাদা লাভ করবে। তাঁর আবাসস্থল হবে চিরশান্তির জান্নাত। অন্যদিকে যে ব্যক্তি ইমান আনবে না এবং অন্যায় ও খারাপ কাজ করবে সে আখিরাতে শাস্তি ভোগ করবে। সর্বোপরি আখিরাতে বিশ্বাস করলে মানবজীবন সুন্দর হয়। মানুষ উত্তম চরিত্রবান হিসেবে গড়ে ওঠে। আখিরাতে বিশ্বাস মানুষকে সবধরনের খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং সৎ ও দায়িত্বশীল জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করে।
ফরিদ উদ্দিন বিশ্বাস করে যে, দুনিয়া হলো আমল করার স্থান। আখিরাত হলো ফলভোগের স্থান। আখিরাতে মানুষ কোনো আমল করতে পারবে না। বরং দুনিয়াতে মানুষ যেরূপ আমল করেছে সেরূপ ফল ভোগ করবে।
সুতরাং বলা যায়, যে মূল বিশ্বাসের ফলে ফরিদ উদ্দিন নামাযে দৃঢ় ও দায়িত্বশীল, সেটি হলো আখিরাতে বিশ্বাস।
আসমাউল হুসনা' অর্থ সুন্দর নামসমূহ। আল্লাহ তায়ালার গুণবাচক নামসমূহকেই 'আসমাউল হুসনা' বলা হয়।
আল্লাহ তায়ালা অতুলনীয়। তাঁর সত্তা যেমন অনাদি ও অনন্ত, তাঁর গুণাবলিও তেমনি অনাদি ও অনন্ত। আল্লাহ তায়ালা সকল গুণের অধিকারী। আল্লাহ তায়ালার এসব গুণ নানা শব্দে নানা উপাধিতে আখ্যায়িত করা হয়। এসব গুণের প্রত্যেকটির পৃথক পৃথক নাম রয়েছে। তিনি সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা, দয়াবান, ক্ষমাশীল, শান্তিদাতা ও পরাক্রমশালী। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা ও সর্বশক্তিমান; তিনিই মালিক। এ প্রসঙ্গেই আয়াতটি নাযিল হয়েছে এবং বলা হয়েছে "কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।"
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!