তিলাওয়াত' আরবি শব্দ। 'তিলাওয়াত' শব্দের অর্থ পাঠ করা।
'তাজবিদ' অর্থ বিন্যাস করা, সাজানো, সুন্দর করা। ইসলামের পরিভাষায় কুরআন মজিদের প্রতিটি হরফের মাখরাজ ও সিফাত জানা এবং মাদ্দ ও গুন্নাহ আদায় করার নিয়ম অবগত হওয়াকে তাজবিদ বলে। মাখরাজ অর্থ উচ্চারণস্থল। আর সিফাত অর্থ উচ্চারণের নিয়ম।
আলফাজ সহীহভাবে কুরআন তিলাওয়াত শেখার জন্য নিম্নরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে-
১. আলফাজ কোনো মাদ্রাসায় গিয়ে অথবা কোনো ক্বারী সাহেবের কাছে কুরআন তিলাওয়াত শিখতে পারে।
অথবা, গ্রাম বা শহরে মক্তব বা মসজিদে গিয়ে ইমাম/মুয়াজ্জিনের কাছে আলফাজ কুরআন তিলাওয়াত শিখতে পারে। অথবা, যিনি শুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারেন তার সাহায্য নিতে হবে।
২. আলফাজ একটি তাজবিদের বই কিনতে পারে।
৩. স্লেট, চক বা খাতা-পেন্সিল ব্যবহারের মাধ্যমে আরবি হরফগুলো শিখতে পারে।
৪. আরবি হরফের চার্ট দেখে দেখে প্রথমে মুখস্থ করতে পারে এবং পরে শুদ্ধ উচ্চারণে মাখরাজ শিখতে পারে। এ ব্যাপারে ক্বারী সাহেবের সাহায্য নিতে পারে।
৫. আলফাজ অক্ষর জানার পরে হরকত, যজম এবং তাশদীদ সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে। তারপর শব্দ গঠন করতে পারবে।
৬. শব্দ গঠনের পরে আলফাজ আয়াত পাঠ করা শুরু করবে এবং পরে নুন-সাকিন-তানবিনসহ তাজবিদের অন্যান্য কায়দাগুলো শিখবে।
উদ্দীপকে শফিকের বর্ণনার আলোকে কুরআন মজিদ তিলাওয়াতের গুরুত্ব ও ফযিলত নিচে উপস্থাপন করা হলো-
১. ফরয ইবাদতসমূহের পরে সকল ইবাদতের মধ্যে কুরআন মজিদ তিলাওয়াত করা সর্বোত্তম।
২. কুরআনে পাকের আয়াতে কারীমা আল্লাহর কালাম। ফলে আয়াতে কারীমা পাঠ করা মানে আল্লাহর সাথে বাক্যালাপ করা।
৩. রাসুল (স.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কুরআন মজিদ মুখস্থ করে এবং সে অনুযায়ী আমল করে তার জন্য বেহেস্তের সুসংবাদ রয়েছে।”
৪. রাসুল (স.) এরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি কুরআন মজিদের একটি অক্ষর পাঠ করে, সে একটি নেকি পায় এবং এর প্রত্যেকটি নেকি দশটি নেকির সমান।"
৫. পাপ ও গুনাহ করতে করতে মানুষের অন্তরে মরিচা পড়ে যায়। রাসুল (স.)-এর মতে, এ মরিচা দূর করার উপায় হলো অধিক পরিমাণে মৃত্যুর কথা স্মরণ করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করা।
৬. কুরআনে বলা হয়েছে- "যখন তাদের নিকট তাঁর (আল্লাহর) আয়াত পাঠ করা হয়, তখন তাদের ইমান বৃদ্ধি পায়।”
৭. কুরআন মজিদ তিলাওয়াতের মাধ্যমে মানসিক উৎকর্ষ সাধন করা যায়। হৃদয়বৃত্তি স্ফটিকের ন্যায় স্বচ্ছ করার একমাত্র উপায় হলো বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা।
পরিশেষে বলা যায়, কুরআন মজিদ ইসলাম ধর্মের মূলমন্ত্র। তাই কুরআন মজিদ তিলাওয়াত করা, অর্থ হৃদয়ঙ্গম করা এবং এর নির্দেশ অনুযায়ী চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য।
Related Question
View Allআল কুরআনের অবতীর্ণ পূর্ণাঙ্গ প্রথম সূরা হলো সূরা আল ফাতিহা।
আল্লাহর বাণী- হে আমার প্রতিপালক। আমাকে জ্ঞানে সমৃদ্ধ কর। এটি কুরআনের সূরা ত্বহার ১১৪নং আয়াত। এখানে জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করার কথা বলা হয়েছে। জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয। কেননা শিক্ষা ও জ্ঞানের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তায়ালাকে চিনতে পারি। তার বিধান জানতে পারি। সুতরাং আমরা ভালো করে লেখাপড়া শিখব। জ্ঞানার্জনে কোনোরূপ অবহেলা করব না। আর সাথে সাথে আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর নিকট মুনাজাত করব। কেননা মহান আল্লাহই সবকিছুর মালিক।
উদ্দীপকের আব্দুর রহিম কুরআন তিলাওয়াতে (শরিয়তের) তাজবিদ সহকারে কুরআন পড়ার বিধানটি পালন হয়নি। কারণ তাজবিদসহ কুরআন তিলাওয়াত করা আল্লাহর নির্দেশ। তাই এটি ওয়াজিবও।
তাজবিদ শব্দের অর্থ উত্তম বা সুন্দর করা। আল-কুরআনের আয়াতসমূহকে উত্তমভাবে বা সুন্দর ও শুদ্ধ করে পড়াকে তাজবিদ বলা হয়। অর্থাৎ আল-কুরআনের প্রতিটি হরফকে মাখরাজ ও সিফাত অনুসারে বিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করাকে তাজবিদ বলে।
আব্দুর রহিমের কুরআন তিলাওয়াত ছিল সুমধুর। কিন্তু তা ছিল অশুদ্ধ। যা আল্লাহর বিধানের পরিপন্থী। কেননা তাজবিদ অনুযায়ী কুরআন পড়া আল্লাহ পাকের নির্দেশ। আর শুদ্ধরূপে কুরআন শিক্ষার মাহাত্ম্য অনেক। রাসুল (স.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে তা শিক্ষা দেয়। সুতরাং আমরা তাজবিদ সহকারে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করব।
প্রদত্ত উদ্দীপকের আব্দুল করিমের কুরআন তিলাওয়াতের পদ্ধতিটি ছিল আল্লাহর নির্দেশের যথাযথ অনুসরণ।
তাজবিদ সহকারে কুরআন পড়া আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ। আর শুদ্ধরূপে কুরআন শিক্ষার ফজিলত অনেক। এ প্রসঙ্গে রাসুল (স.) ইরশাদ করেন- “তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে তা শিক্ষা দেয়।
উদ্দীপকের আব্দুল করিমের কণ্ঠস্বর সুমধুর নয়। কিন্তু তিনি দেখে ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে কুরআন তিলাওয়াত করার আপ্রাণ চেষ্টা করতেন। কেননা তাজবিদ অনুসারী কুরআন পড়া ওয়াজিব, আর না পড়লে গুনাহ হয়। এতে অনেক সময় কুরআনের অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়। যেমন- সূরা ইখলাসে এসেছে (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ) বলুন (হে নবি) তিনি আল্লাহ একক ও অদ্বিতীয়। এখানে (قُلْ)শব্দের অর্থ বলুন। আর যদি ও (কাফ)-কে ভুল মাখরাজ থেকে উচ্চারণ করে বলা হয় کُن তাহলে অর্থ বিকৃত হয়ে যায়। কেননা ১৮ শব্দের অর্থ– খাও বা ভক্ষণ কর। ফলে আল কুরআনের অর্থের বিকৃতি ঘটে। যা কোনোভাবেই জায়েয নয়।
হাদিস (اَلْحَدِيثُ)শব্দটি আরবি। এর অর্থ- কথা, বাণী ইত্যাদি।
পবিত্র কুরআন মজিদ আরবি ভাষায় রচিত। আরবি ভাষায় রয়েছে ২৯টি হরফ বা বর্ণ। প্রত্যেকটি হরফ বা বর্ণ নির্দিষ্ট স্থান থেকে উচ্চারিত হয়। আরবি বর্ণ উচ্চারিত হওয়ার স্থানকে মাখরাজ বলে। মাখরাজগুলো মুখের ৫টি স্থানে অবস্থিত। এগুলোর মধ্যে হলক বা কণ্ঠনালি অন্যতম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!