মাছ আহরণের পর সকল গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রেখে ভোক্তাদের চাহিদা অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদিভাবে সংরক্ষণ করে বাজারজাতকরণই হলো মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ।
দেশের অভ্যন্তরে ও দেশের বাইরে চিংড়ির চাহিদা ও বাজারদর বেশি থাকায় চিংড়ি চাষ লাভজনক।
চিংড়ির পোনা সহজলভ্য, অল্প বিনিয়োগেই চিংড়ির খামার গড়ে তোলা যায় এবং সারা বছর চিংড়ি চাষ করা যায়। আধুনিক পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করে বর্তমানে হেক্টরপ্রতি ফলন ৪৫০ কেজি থেকে ৬০০ কেজিতে উন্নীত করা সম্ভব। আমাদের দেশে মাছ রপ্তানি আয়ের শতকরা ৫৮ ভাগ আসে চিংড়ি থেকে। চিংড়ির চাষ করে চাষির আয় ও কর্মসংস্থান ৩০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব। দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে চিংড়ি চাষের সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রোগটি হলো মাছের ফুলকা পচা রোগ। Branchiomyces sanguinis নামক ছত্রাকের আক্রমণে মাছের এ রোগ হয়। এ রোগের লক্ষণগুলো হলো-
i. প্রাথমিক অবস্থায় ফুলকা ফুলে ওঠে ও তাতে রক্ত জমে যায়।
ii. পরবর্তীতে ফুলকায় লাল দাগ পড়ে ও ফুলকার রং ক্রমশ সাদা হয়ে যায়।
iii. ফুলকার গাত্রসমূহ ধীরে ধীরে একটির সাথে অপরটি লেগে যায় এবং খসে পড়ে।
iv. কখনও কখনও ফুলকা থেকে শ্লেষ্মা নির্গত হয়।
V. আক্রান্ত মাছের স্বাভাবিক চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায় এবং খাদ্য গ্রহণ কমিয়ে দেয়।
অর্থাৎ, উল্লিখিত লক্ষণসমূহ দেখে ফুলকা পচা রোগে আক্রান্ত মাছ শনাক্ত করা যাবে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রোগটি হলো মাছের ফুলকা পচা রোগ। Branchiomyces sanguinis নামক ছত্রাকের আক্রমণে মাছের এ রোগ হয়। এ রোগের লক্ষণগুলো হলো-
i. প্রাথমিক অবস্থায় ফুলকা ফুলে ওঠে ও তাতে রক্ত জমে যায়।
ii. পরবর্তীতে ফুলকায় লাল দাগ পড়ে ও ফুলকার রং ক্রমশ সাদা হয়ে যায়।
iii. ফুলকার গাত্রসমূহ ধীরে ধীরে একটির সাথে অপরটি লেগে যায় এবং খসে পড়ে।
iv. কখনও কখনও ফুলকা থেকে শ্লেষ্মা নির্গত হয়।
V. আক্রান্ত মাছের স্বাভাবিক চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায় এবং খাদ্য গ্রহণ কমিয়ে দেয়।
অর্থাৎ, উল্লিখিত লক্ষণসমূহ দেখে ফুলকা পচা রোগে আক্রান্ত মাছ শনাক্ত করা যাবে।
উদ্দীপকে আলালের পুকুরে চাষকৃত রুই মাছ ফুলকা পচা রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।
এ রোগে মাছের গায়ে একধরনের সাদা গুটি দেখা যায়। এছাড়াও এ রোগে আক্রান্ত হলে ফুলকা ফুলে গিয়ে স্বাভাবিক রং নষ্ট হয়ে যায় এবং মাছ পানির উপর ভেসে থাকে। Branchiomyces sanguinis নামক ছত্রাকের কারণে এ রোগ হয়ে থাকে। এ রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য আলাল মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শনুযায়ী নিম্নোক্ত জৈবিক ও রাসায়নিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন-
i. পুকুরের তলার কাদা সরিয়ে প্রতি শতকে ১ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করেন।
ii. পানিতে ২.৫% লবণ মিশিয়ে রোগাক্রান্ত মাছগুলোকে গোসল করিয়ে পুনরায় পুকুরে ছাড়েন।
iii. পুকুরের দূষিত পানি পরিবর্তন করে পরিশোধিত পানি দেন।
iv. সাময়িকভাবে জৈবসার প্রয়োগ বন্ধ রাখেন।
V. পুকুরের তলা ও পাড়ের ময়লা আবর্জনা এবং আগাছা পরিষ্কার করে দেন।
vi. মাছকে পরিমিত পরিমাণে সুষম খাদ্য সরবরাহ করেন।
উপরিউক্ত প্রতিরোধ ও প্রতিকার ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করায় রোগটি অন্য পুকুরে ছড়ায়নি। তাই বলা যায়, মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শটি যৌক্তিক ছিল।
Related Question
View Allকোনো প্রাণীর যথাযথ বৃদ্ধি ও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়ার জন্য। প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি বাইরে থেকে যে খাদ্য সরবরাহ করা হয় তাই সম্পূরক খাদ্য।
পুকুরে নিয়মিত সার প্রয়োগ করলে পানিতে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরির হার সন্তোষজনকভাবে বাড়ে এবং মাছের ফলন বৃদ্ধি পায়।
পুকুরে মাছের খাদ্য হিসেবে প্রাকৃতিকভাবে যে উদ্ভিদ ও প্রাণিকণা জন্মায় তাকে প্লাংকটন বলে। প্লাংকটন উৎপাদনের আধিক্যের ওপর মাছের উৎপাদন নির্ভর করে। ফাইটোপ্লাংকটনের আধিক্যের জন্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম প্রভৃতি পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। পানিতে এইসব উপাদান অনেক সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। এছাড়াও মাছ আহরণ, পানি পরিবর্তন এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে পুকুরে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ কমে যায়। তাই পুকুরের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন জৈব ও অজৈব সার ব্যবহার করে
প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের যোগান দেওয়া হয়।
চিত্র-ক হলো গলদা চিংড়ি। ধানের সাথে চিত্র-ক অর্থাৎ গলদা চিংড়ি চাষের কৌশল নিচে দেওয়া হলো-
ধানক্ষেতে চিংড়ি চাষের ক্ষেত্রে যে জমিতে বছরে ৩-৪ মাস সময় এবং ১০-২০ সেমি গভীরতায় পানি আটকে রাখা যাবে এমন জমি নির্বাচন করতে হবে। জমির আইল শক্ত, মজবুত এবং উঁচু করে তৈরি করতে হবে। পানির গভীরতা সমান রাখার জন্য জমির সকল স্থানে চাষ দিয়ে সমতল রাখতে হবে। জমিতে ভালোভাবে চাষ দেয়ার পর প্রচলিত নিয়মে রাসায়নিক সার ও গোবর সার মিশিয়ে জমি তৈরি করতে হবে। জমির ঢাল অনুযায়ী ক্ষেতের ভিতরে আড়াআড়িভাবে কয়েকটি নালা খনন করতে হবে। প্রতিটি নালা ৫০-৬০ সেমি গভীর এবং ৬০-১০০সেমি প্রশস্ত হতে হবে। নালার মাথায় কিংবা সংযোগস্থানে নালার চেয়ে গভীর ও প্রশস্ত করে গর্ত খনন করতে হবে যার গভীরতা হবে ১ মিটার। এরপর ধানের চারা সারিবদ্ধভাবে রোপণ করতে হবে। ধানের চারা রোপণের ক্ষেত্রে সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০-২৫ সেমি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ১৫-২০ সেমি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ধানের চারা রোপণের ২০-২৫ দিন পর চিংড়ির পোনা ছাড়তে হয়। জৈষ্ঠ্য মাসে ধান রোপণের ১০-১৫ দিন পর সাধারণ নিয়মে গলদা চিংড়ির পোনা প্রতি হেক্টরে ৫ সেমি আকারে ১০-১৫ হাজার হারে মজুদ করা হয়।
উপরে উল্লিখিত পদ্ধতিতে ধানের সাথে গলদা চিংড়ির চাষ করা হয়।
চিত্র-ক ও চিত্র-খ দ্বারা যথাক্রমে গলদা ও বাগদা চিংড়িকে বোঝানো হয়েছে।
গলদা ও বাগদা চিংড়ির বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যগুলো হলো-
বৈশিষ্ট্য | গলদা চিংড়ি | বাগদা চিংড়ি |
|---|---|---|
| মাথা ও ক্যারাপেস | বড় এবং দেহের ওজনের প্রায় অর্ধেক | ছোট এবং দেহের ওজনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। |
| রোস্ট্রাম | লম্বা ও বাঁকানো | খাটো ও সোজা। |
| রোস্ট্রামে কাঁটার সংখ্যা | উপরিভাগে ১১-১৪টি এবং নিচের দিকে ৮- ১৪টি। | উপরিভাগে ৭-৮টি এবং নিচের দিকে ২-৩টি। |
| অ্যানটেনিউল | তিনটি ফ্লাজেলাযুক্ত। | দুটি ফ্লাজেলাযুক্ত। |
| শিরোবক্ষ | অন্যান্য অঙ্গ যেমন- উদর অংশ অপেক্ষা বড় ও উন্নত। | অংশটি অপর অংশের তুলনায় স্বাভাবিক। |
| প্লুরা | দ্বিতীয় উদর খন্ডকের প্লুরা প্রথম ও তৃতীয় খন্ডকের প্লুরাকে আবৃত রাখে। | দ্বিতীয় উদর খন্ডকের প্লুরা কেবল প্রথম খন্ডকের প্লুরাকে আবৃত করে রাখে। |
| বক্ষোপাঙ্গ | প্রথম দুটি উপাঙ্গ চিলেটে বা সাঁড়াশির ন্যায় অংশে রূপান্তরিত হয়। | প্রথম তিন উপাঙ্গ চিলেটে বা সাঁড়াশির ন্যায় অংশে রূপান্তরিত হয়। |
| আবাসস্থল | প্রধানত স্বাদু পানি। | লোনা পানি। |
| বর্ণ | হালকা সবুজ বাদামি। | হালকা বাদামি। |
প্লাংকটন হলো পানিতে মুক্তভাবে ভাসমান আণুবীক্ষণিক জীব যা মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
পুকুরে প্রয়োগকৃত বিভিন্ন সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য চুন প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ।
চুন মাটি ও পানির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। পানির পিএইচ মানের ভারসাম্য বজায় রাখে। পানিতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বাড়ায়। পানির ঘোলাতু কমায় ও পানি পরিষ্কার রাখে। মাছের রোগজীবাণু ও পরজীবী ধ্বংস করে। এ সমস্ত কারণে পুকুরে চুন প্রয়োগ করতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!