আলিফ ফ্যাশন হাউসের উল্লিখিত কার্যক্রমের সাথে সামাজিক নীতি প্রণয়নের প্রক্রিয়াগত সাদৃশ্য রয়েছে।
সামাজিক নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কতগুলো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়ে থাকে। প্রথমত নীতি প্রণয়নের জন্য একটি যৌক্তিক প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা। অর্থাৎ কোনো বিষয়ে নীতি প্রণয়ন করতে হলে তা বিবেচনায় এনে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নীতির ক্ষেত্র নির্বাচিত হয়। এ ক্ষেত্রটি যদি নীতি প্রণয়নের জন্য যৌক্তিক মনে হয় তবে এ ব্যাপারে এ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে কমিটি গঠন করে নীতির বিষয়টি বিশ্লেষণ তথা ক্ষেত্রটি সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ
অনুসন্ধান, গবেষণার মাধ্যমে ক্ষেত্রটি বিশ্লেষণ করার ব্যবস্থা করা হয়। এ পর্যায়ে কমিটি সদস্যগণ পারস্পরিক মতামতের ভিত্তিতে একটি খসড়া নীতি প্রস্তুত করেন এবং এটি অনুমোদনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করেন। এরপর নীতিটি জনগণ সমর্থন করে কিনা তা যাচাই করে দেখা হয় এবং এটি পরীক্ষামূলক অনুশীলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কোনো ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করে নীতিটি চূড়ান্ত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের রূপ লাভ করে। গৃহীত নীতি মাঝে মধ্যেই মূল্যায়ন করে দেখা হয় এটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ-খাওয়াতে পারছে কিনা।
উদ্দীপকে তন্ময় সান্যাল উপরিউক্ত পদ্ধতিতেই প্রথমে সমস্যা চিহ্নিত করলেন অর্থাৎ নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা বোধ করলেন। এরপর তিনি একটি কমিটি তৈরি করে কিছু বিজ্ঞ লোকদেরকে সমস্যাবলি পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের দায়িত্ব প্রদান করলেন। কমিটি সমস্যার প্রকৃতি বিচার বিশ্লেষণ করে একটা খসড়া নীতি প্রস্তুত করল ও তন্ময় সান্যালের কাছে প্রেরণ করল। তন্ময় সান্যাল সর্বশেষে উক্ত নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিলেন। তাই বলা যায়, তন্ময় সান্যালের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমটি সামাজিক নীতি প্রণয়নের ধাপকেই নির্দেশ করছে।
Related Question
View AllMDG-র পূর্ণরূপ Millennium Development Goals |
জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সরকারি নীতিই জনসংখ্যা নীতি।
যে কোনো দেশের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সে দেশের জনসংখ্যা। অর্থাৎ দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্পদের সাথে জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা আবশ্যক। সঠিকভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষিত ও দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত নীতিকেই জনসংখ্যা নতি বলা হয়।
শীলার কর্মকান্ডের সাথে বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়ার মিল রয়েছে।
বেগম রোকেয়া ছিলেন বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য তাদের সংগঠিত করতে চেষ্টা করেন। তিনি মুসলিম নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার প্রসার নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯১৬ সালে 'আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' বা মুসলিম মহিলা সমিতি' নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি দরিদ্র বালিকাদের শিক্ষাদান, বিধবা ও আশ্রয়হীন মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করতেন। উদ্দীপকের শীলার কর্মকাণ্ডেও এ বিষয়গুলো পরিলক্ষিত হয়।
শীলা উচ্চ শিক্ষা শেষ করে গ্রামে ফিরে যান। তিনি তার এলাকার অধিকার বঞ্চিত নারীদের সংগঠিত, শিক্ষাদান করে তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং অধিকার নিশ্চিত করতে একটি মহিলা সমিতি ও নারী শিক্ষাকেন্দ্র চালু করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড উপরে বর্ণিত বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শীলার কাজের সাথে বেগম রোকেয়ার কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান নারীদের উন্নয়নে সরকারের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছেন যার কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে।
নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, তাদের শিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে রক্ষা, সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা প্রভৃতি জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ এর প্রধান উদ্দেশ্য। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবন সব ক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন, অভিভাবকহীন, বিধবা, অসহায় নারীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা প্রভৃতির উদ্দেশ্যও এ নীতির লক্ষ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
উদ্দীপকের রূপপুর গ্রামের নারীরা পুরুষের সমান পরিশ্রম করেও তাদের সমান মজুরি পায় না। শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত। নারী-পুরুষের এই বৈষম্য দূরীকরণ ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়ন করেছে। আর রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নের জন্য এ নীতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, রূপপুর গ্রামের চেয়ারম্যান তার গ্রামের নারীদের উন্নয়নে সরকার প্রণীত জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়নে কাজ করছেন। আর এ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা
নয়টি দেশের সমাজকর্ম বিশেষজ্ঞদের নিয়ে 'Study Group' গঠন করা হয়।
সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণে সমাজকর্মীর গুরুত্ব অপরিসীম।
সমাজকর্ম পেশায় নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজের অবহেলিত ও পশ্চাৎপদ শ্রেণির স্বার্থ সংরক্ষণ এবং তাদের সেবায় বিশেষভাবে নিয়োজিত থাকে। অবহেলিত বঞ্চিত ও শোষিত শ্রেণির অধিকার রক্ষা এবং সর্বোপরি সমাজে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণে পেশাদার সমাজকর্মীর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ববহ। বিশেষ করে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও পুনরুদ্ধারে সমাজকর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!