একটি দেশ যখন নিজ আধিপত্য বলে অন্য কোনো দেশে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করে তখন সেই শাসনকে ঔপনিবেশিক শাসন বলে।
১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ দিল্লির সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করেন। দেওয়ানি লাভের পর তিনি শাসনব্যবস্থায় এক অভিনব পন্থা প্রবর্তন করেন। এ ব্যবস্থায় ক্লাইভবাংলার নবাবের ওপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন কোম্পানির ওপর। এর ফলে নবাব পেলেন ক্ষমতাহীন দায়িত্ব আর কোম্পানি লাভকরল দায়িত্বহীন ক্ষমতা। শাসনব্যবস্থায় এ দ্বৈত নীতির কারণে এ শাসনব্যবস্থাকে দ্বৈতশাসন বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে ঔপনিবেশিক যুগের নবজাগরণের সাদৃশ্য রয়েছে।
ইংরেজরা তাদের শাসন পাকাপোক্ত করার লক্ষ্যে দেশীয়দের মধ্য থেকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত একটি অনুগত শ্রেণি তৈরিতে মনোযোগ দেয়। মূলত তখন থেকেই বাংলায় নবজাগরণ শুরু হয়। উদ্দীপকে আলীপুরের ঘটনার সাথে ঔপনিবেশিক আমলে বাংলায় যে নবজাগরণ ঘটেছিল তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ইংরেজদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কলকাতা মাদ্রাসা, সংস্কৃত কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে নতুন চেতনার স্ফুরণ ঘটতে থাকে। বহুকালের প্রচলিত বিশ্বাস, নানা সংস্কার, বিধান সম্পর্কে তাদের মনে সংশয় ও প্রশ্ন জাগতে থাকে। হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে রীতিমতো আন্দোলন শুরু হয় এবং বিধবা বিবাহের পক্ষে মত তৈরি হয়। এসময় এদেশে জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে এক প্রকার জোয়ার সৃষ্টি হয়। রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সমাজ সংস্কারে হাত দেন। সর্বোপরি বাংলায় নবজাগরণের সূচনা হয়।
শায়লার মতো ব্যক্তিদের উদ্যোগের ফলই ভারতের স্বাধীনতার পথ সুগম করে।"- প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সমর্থনযোগ্য।
উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসকদের বেড়াজাল ছিন্ন করে নবজাগরণের উন্মেষ ঘটাতে কিছু সংবেদনশীল মানুষ এগিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, কাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ। বাঙালির এ নবজাগরণ কলকাতা মহানগরীতে ঘটলেও এর পরোক্ষ প্রভাব সারা বাংলাতেই পড়ে। এসময় গুণীজনরা সমাজের অনাচার নিয়ে আত্মসমালোচনার পাশাপাশি শাসকদের অবিচারের বিরুদ্ধেও কঠোর ভাষায় সমালোচনামুখর হন। মূলত তাদের নির্দেশিত পথেই ভারতের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। উদ্দীপকে উন্নয়নকর্মী হিসেবে শায়লা এলাকাবাসীকে নারী শিক্ষা ও মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, উনবিংশ শতাব্দীতে কয়েকজন সমাজ সচেতন বস্তির প্রচেষ্টায় বাংলায় নবজাগরণ ঘটে। শায়লাও তাদের দেখানো পথে সমাজ সংস্কারমূলক কাজ করতে উদ্যোগী হন। জাতীয়তাবাদী চেতনার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন ও ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলস্বরূপ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে এবং ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়। সৃষ্টি হয় ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সঠিক হয়েছে বলা যায়।
Related Question
View Allউপনিবেশিকরণ হলো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একটি দেশ অন্য দেশকে অর্থনৈতিক শোষণ এবং লাভের উদ্দেশ্যে নিজের দখলে আনে। দখলকৃত দেশটি দখলকারী দেশের উপনিবেশে পরিণত হয়। বাংলাও প্রায় দুইশ বছর ইংরেজদের অধীনে উপনিবেশ ছিল।
বাংলায় মানব বসতি প্রাচীনকাল থেকেই শুরু হয়। এই অঞ্চল ধনসম্পদে ভরপুর থাকায় বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে এসে বসতি গড়ে তোলে। বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই ছিল বহিরাগতদের আকর্ষণের প্রধান কারণ।
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় দীর্ঘ সময় ধরে কোনো শক্তিশালী শাসক না থাকায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই সময়কে মাৎস্যন্যায় যুগ বলা হয়। এটি সংস্কৃত ভাষায় 'বড় মাছ ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে' এমন অরাজকতার সময় নির্দেশ করে। এ সময়ে বাংলা বহু রাজ্য বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।
বাংলার স্বাধীন সুলতানি শাসনের সূচনা হয় ১৩৩৮ সালে। সোনারগাঁওয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। পরে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন।
সুলতানি আমলে বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন সুলতান - শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। তিনি বাংলার বৃহদাংশ অধিকার করে 'শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান' উপাধি গ্রহণ করেন। তার শাসনকালে বাংলার ঐক্য, 'স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়
সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ বাংলার ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বাংলার শিল্প-সাহিত্য এবং সংস্কৃতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর শাসনকালে বাংলার অর্থনীতি ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধি লাভ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!