যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ তরলে পরিণত হয়, ঐ - তাপমাত্রা হলো ঐ পদার্থের গলনাঙ্ক।
নিচে ধাতু ও অধাতুর পার্থক্য দেওয়া হলো-
ধাতু | অধাতু |
১. তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। | ১. তাপ ও বিদ্যুৎ কুপরিবাহী। |
২. ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি | ২. ঘনত্ব কম হয়। |
৩. আঘাতে ঝনঝন শব্দ করে। | ৩. আঘাতে ঝনঝন শব্দ করে না। |
৪. দেখতে চকচকে কিন্তু ভঙ্গুর নয়। | ৪. দেখতে অনুজ্জ্বল ও ভঙ্গুর প্রকৃতির। |
উদ্দীপকের পদার্থসমূহ তথা কাচ, প্লাস্টিক ও এলুমিনিয়ামের তাপ পরিবাহিতা ভিন্ন, যা নিম্নের পরীক্ষার মাধ্যমে বর্ণনা করা হলো-
১. প্রথমে একটি দিয়াশলাই জ্বালিয়ে তাপ দিয়ে মোম নরম করে প্রতিটি চামচের হাতলের উপর চাপ দিয়ে বসাই।
২. এবার একই জাতীয় তিনটি মুদ্রা নিয়ে হাতলের উপর রাখা মোমের উপর এমনভাবে বসাই যেন মোমের সাথে লেগে থাকে।
৩. এবার চামচগুলোর অন্য প্রান্ত বিকারের পানিতে ডুবিয়ে চামচের যে প্রান্তে মুদ্রা লাগানো আছে সেই দিকে বিকারের তলায় স্পিরিট ল্যাম্প দিয়ে তাপ দিতে থাকি।
৪. কিছুক্ষণ পরে লক্ষ করলাম এলুমিনিয়ামের চামচ হতে মুদ্রাটি খসে পড়ল। তার কিছুক্ষণ পর কাঠের চামচ হতে, তারও কিছুক্ষণ পর প্লাস্টিকের চামচ হতে মুদ্রা খসে পড়ল।
৫. তাপের পরিবাহিতার পার্থক্যের কারণে এমনটি হলো অর্থাৎ এখানে এলুমিনিয়ামে সবচেয়ে বেশি, কাঠে তার চেয়ে কম এবং প্লাস্টিকে সবচেয়ে কম তাপ পরিবহন হয়।
উদ্দাপকের পদার্থসমূহ: কাচ, প্লাস্টিক ও এলুমিনিয়ামের বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নিচের একটি পরীক্ষার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করি-

চিত্রানুযায়ী, একটি ব্যাটারি নেই যার এক প্রান্তে যোগ চিহ্ন (+), অপর প্রান্তে বিয়োগ চিহ্ন (-) আছে। এবার একটি তামার তার ব্যাটারির এক প্রান্তে ও অপরটি অপর প্রান্তে আটকিয়ে দেই।
এরপর একটি বৈদ্যুতিক বাল্বের এক প্রান্তে সকেটে প্রবেশ করাই। সংযোগকৃত সকেটের প্রান্তের দুই পাশে একটু উঁচু করে বসানো দুটি ধাতব সংযোগ বিন্দু বা মোটা তারের মতো সংযোগ বিন্দু রয়েছে। এবার দুটি তারের একটির খোলা প্রান্ত ঐ দুটি বিন্দুর একটিতে আর অপর তারটির খোলা প্রান্ত অপর সংযোগ বিন্দুতে আটকাই, এখন লক্ষ করি, বাঘটি জ্বলে উঠেছে। এর কারণ হলো তামার তার সুপরিবাহী বলে এটি ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ পরিবহন করে বাল্বে পৌছে দেয় আর বাল্বটি জ্বলে উঠে। কিন্তু তামার তার বিদ্যুৎ পরিবাহী না হলে পরিবহন হতো না আর বাল্বও জলে উঠতো না।
এখন যদি তার দুটির সংযোগ খুলে এদের মাঝে এলুমিনিয়াম দ্বারা সংযোগ দেই তাতে বাতির উজ্জ্বলতা কমে যাবে। আবার যদি কাচ, প্লাস্টিক ইত্যাদি দিয়ে তার দুটি সংযোগ করি, তাহলে বাল্বটি আর জ্বলে উঠবে না। কারণ কাচ, প্লাস্টিক বিদ্যুৎ অপরিবাহী ফলে এরা ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ চার্জ পরিবহন করতে পারবে না; তাই বাল্বটি আর জ্বলবেও না।
Related Question
View Allযা জায়গা দখল করে ও যার ভর আছে তাকেই পদার্থ বলে।
যেসব মৌলিক পদার্থ বিদ্যুৎ ও তাপ সুপরিবাহী নয়, তাদেরকে অধাতু বলে। অধাতুকে আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ করে না। এদেরকে সরু তারে ও পাতে পরিণত করা যায় না। এরা নিম্ন গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট। যেমন- কার্বন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি অধাতু।
ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রীর ব্যবহৃত পাত্রটির উপাদান হচ্ছে এলুমিনিয়াম। এটি একটি হালকা নীলাভ সাদা ধাতু। এ ধাতুটির ব্যবহারের দিক থেকে অনেক গুরুত্ব রয়েছে। যেমন-
১. এলুমিনিয়াম ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী।
২. ধাতুটি খুব হালকা এবং ভারবহনের ক্ষমতা আছে বলে এর ধাতু সংকরসমূহ উড়োজাহাজ, রেলগাড়ি, মটরগাড়ি, ট্রাম প্রভৃতির অংশ নির্মাণ করতে ব্যবহৃত হয়।
৩. বিদ্যুৎ সুপরিবাহী এবং কপারের তুলনায় সস্তা বলে বৈদ্যুতিক কেবল হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।
৪. হালকা বহনক্ষম সিড়ি নির্মাণে, বাসনপত্র, চেয়ার, বাক্স প্রভৃতি তৈরিতে এ ধাতু প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।
৫. এলুমিনিয়ামের পাতলা পাত দিয়ে সিগারেট, চকলেট ও অনেক খাদ্য দ্রব্যের মোড়ক তৈরি করা হয়।
৬. চকচকে বার্নিশ তৈরিতে এলুমিনিয়াম চূর্ণ ব্যবহৃত হয়।
অতএব উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রীর ব্যবহৃত পাত্রটির উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম।
রান্নার ক্ষেত্রে ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রী বেশি সুবিধা পায়।
বিশ্লেষণ: উদ্দীপকে আমরা পাই, ফজলুল হক সাহেবের মা মাটির চুলায় মাটির পাতিলে রান্না করেন। অপরদিকে তার স্ত্রী গ্যাসের চুলায়এলুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করেন। ফজলুল হক সাহেবের মা মাটির চুলায় রান্না করার কারণে তিনি কম সুবিধা পান। কারণ, মাটি তাপ কুপরিবাহী বলে এর মধ্য দিয়ে তাপ চলাচল করে ধীরগতিতে। যার ফলে মাটির চুলায় মাটির পাতিলে রান্না করলে সহজে তাপ পাতিলের জিনিসকে সিদ্ধ করে না। এতে তার অনেক বেশি জ্বালানি খরচ করতে হয়। তাছাড়া মাটির চুলায় তিনি জ্বালানি হিসেবে যে কাঠ খড়ি ব্যবহার করেন আমরা জানি যে, তার প্রায় ৮৫ ভাগ নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে এলুমিনিয়ামের তাপ পরিবাহকত্ব মাটির তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এলুমিনিয়ামের তৈরি পাত্রে রান্না করলে পাতিলের জিনিস তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়। তাছাড়া এতে গ্যাস ব্যবহারের কারণে জ্বালানিও বেশি খরচ হয় না। ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রী এ সুবিধাগুলো পেয়ে থাকেন, যা তার মা পায় না। তাই বলা যায়, রান্নার ক্ষেত্রে ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রী তার মায়ের চেয়ে বেশি সুবিধা পায়।
যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ ফুটতে শুরু করে এবং বাষ্পে রূপান্তরিত হয়, তাই ঐ তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক।
কোনো বস্তুর তাপ পরিবহনের ক্ষমতাকে ঐ বস্তুর তাপ পরিবাহিতা বলে। যেমন, কাচের চেয়ে লোহা দ্রুত তাপ পরিবহন করে। তাই লোহার তাপ পরিবাহিতা বেশি, কাচের তাপ পরিবাহিতা লোহার চেয়ে কম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
