সমাজবিজ্ঞানের যে কটি বিষয়ের ওপর গবেষকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে তার মধ্যে সামাজিক পরিবর্তন অন্যতম।
পরিবর্তনের মাধ্যমে সামাজিক রূপান্তর ঘটে থাকে।
পরিবর্তন সমাজের কাঠামোগত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংঘ, আদর্শ, মূল্যবোধ যা নেতিবাচক, ইতিবাচক, পরিকল্পিত, অপরিকল্পিত, ঊর্ধ্বগামী, নিম্নগামী যেকোনো ধরনের রূপান্তরকেই নির্দেশ করে। পৃথিবীর সমস্ত বস্তুর মধ্যে এই রূপান্তর লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে সমাজের যেসব সংগঠনের ওপর তথ্য প্রযুক্তির প্রভাবের প্রতিফলন ঘটেছে তা হলো সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
উদ্দীপকে বর্ণিত আশরাফ সাহেব একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় এবং একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন। মাঝে মধ্যে তিনি সংবাদ সংগ্রহের জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। আর রিপোর্ট তৈরির জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করেন যা সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম সংগঠনের ওপর তথ্য প্রযুক্তির প্রভাবকে নির্দেশ করে। কেননা বিভিন্ন সংবাদ ও গণমাধ্যম সংগঠনের ওপর তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। যেকোনো সংবাদ সংরক্ষণ, পরিবর্তন, বণ্টন কিংবা তথ্য তৈরিতে তথ্য ও প্রযুক্তি সহায়তা করে। এছাড়া আশরাফ সাহেব কখনও কখনও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিষয়ের ওপর ক্লাসও নিয়ে থাকেন। সেখানে স্লাইড উপস্থাপনের মাধ্যমে পাঠদান ও প্রতিবেদন পেশ করার জন্যও তিনি কম্পিউটার ব্যবহার করেন যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর তথ্য ও প্রযুক্তির প্রভাবকে নির্দেশ করে। কারণ বর্তমানে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্লাইড উপস্থাপনের মাধ্যমে পাঠদান ও প্রতিবেদন পেশ করা হয়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে গণমাধ্যম, সংবাদপত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর তথ্য প্রযুক্তির প্রভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।
তথ্য ও প্রযুক্তি কেবল সংবাদপত্র, গণমাধ্যম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপরই প্রভাব ফেলে না আরও অন্যান্য বিষয়ের ওপরও প্রভাব ফেলে।
যেকোনো রাষ্ট্রের সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত। তথ্য প্রযুক্তি জনগণের প্রতি সেবাদানের মানকে উন্নত করে। এছাড়া তথ্য প্রযুক্তি সরকারের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে সহায়তা করে। অর্থাৎ উন্নতমানের তথ্য ও প্রযুক্তি সরকারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর করে। পাশাপাশি সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাতে প্রভাব ফেলে। তথ্য প্রযুক্তি বিভিন্নভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যকে প্রভাবিত করে। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের জন্য বিভিন্ন ধরনের সফ্টওয়্যার ব্যবহার করা হয়। তথ্য প্রযুক্তি মনিটরের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রকৃত অবস্থা জানা সম্ভব হয়। এছাড়াও টেলিভিশনে প্রচারিত বিভিন্ন সিনেমা, নাটক-নাটিকা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব গঠনে নানা রকম প্রভাব ফেলছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক কল্যাণে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত নাটক সিনেমা দেখে বাংলাদেশের শহুরে সমাজে পরিবর্তনের ছাপ লক্ষণীয়। বিশ্বের যেকোনো স্থানে কোনো একটা নতুন কিছুর উদ্ভাবন বা আবিষ্কার মুহূর্তের মধ্যেই সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ছে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যক্তির সমাজিকীকরণেও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
উপর্যুক্ত আলোচনা এবং উদ্দীপকের আলোকে আমরা বলতে পারি, তথ্য প্রযুক্তি গণমাধ্যম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংগঠনের ওপরও প্রভাব ফেলে।
Related Question
View Allধাতু যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য নগরসভ্যতার উদ্ভব।
স্বামী-স্ত্রী উভয়ই যখন তাদের নিজস্ব বিশ্বাস, চিন্তা, রুচি ইত্যাদি ক্ষেত্রে অটল থাকেন তখন পরিবারে এক ধরনের অশান্তি বিরাজ করে এবং তা থেকেই জন্ম নেয় ব্যক্তিত্বের সংঘাত। অর্থাৎ যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্য কোনো বিষয়ে বৈপরীত্য দেখা দেয় তখন ব্যক্তিত্বের সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠে। আর এই ধরনের মনোভাব স্বামী-স্ত্রীর মধ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়।
গ্রামীণ সামাজিক স্তরবিন্যাসে উদ্দীপকের আঃ সালামের অবস্থান ধনী কৃষক শ্রেণিতে।
গ্রামীণ সমাজে সামাজিক স্তরবিন্যাসের মূল ভিত্তি হলো ভূমি মালিকানা, যার ভিত্তিতে গ্রামীণ শ্রেণি বিভাজন নিশ্চিত হয়। গ্রামীণ সমাজব্যবস্থায় যারা অনেক ভূ-সম্পত্তির মালিক এবং ভূমির ওপর নির্ভর করে যথেষ্ট সচ্ছলভাবে দিনযাপন করতে পারে তাদেরকে ধনী কৃষক বলে। সম্পত্তির মালিকানার জোরে তারা গ্রামীণ সমাজে প্রভাব প্রতিপত্তি খাটায়। এদের অনেকে নিজেদের পুরো জমি চাষাবাদ না করে শস্য ভাগাভাগির ভিত্তিতে বর্গাদারদের কাছে জমি বর্গা দিয়ে থাকে। আর্থিক ক্ষমতার কারণে গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোতে এদের প্রভাবই সর্বাধিক।
উদ্দীপকে হাসাইল গ্রামের আঃ সালাম প্রায় ৫০ একর জমির মালিক। তিনি নিজে কৃষিকাজ না করে বর্গাদারদের মাধ্যমে জমি চাষ করান। গ্রামের সব বিচার-সালিশে তার মতামতই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য।
উপরের আলোচনা এবং আঃ সালামের গ্রামে তার যে অবস্থান তা পর্যালোচনা করলে বলা যায়, তিনি গ্রামীণ সামাজিক স্তরবিন্যাসে ধনী কৃষক শ্রেণিভুক্ত।
উদ্দীপকের আঃ সালামের জীবনের পরিবর্তনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়টি অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
প্রাকৃতিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান মানবজীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে। পরিবেশের পরিবর্তনের ফলে সার্বিক সমাজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে। বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে এদেশের ভূপ্রকৃতিগত অবস্থান। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণেই এখানে প্রতিবছর নানারকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয়। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, অতিবৃষ্টি প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং এর সাথে খাপখাওয়ানোর জন্য নতুন পথ, কৌশল অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। যেমন- নদী ভাঙনের ফলে যে সব মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে তারা অনেক সময় বিভিন্ন শহরে উদ্বাস্তুর মত জীবনযাপন করে থাকে। এর ফলে সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস ও সামাজিক গতিশীলতায় পরিবর্তন আসে।
উদ্দীপকে লক্ষণীয় যে, পদ্মা নদীতে ভাঙন শুরু হলে গ্রামের ধনী কৃষক আঃ সালাম রাতারাতি নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ফলে বাধ্য হয়ে জীবনধারণের জন্য তিনি শহরে চলে আসেন। এখানে কেউ তাকে চেনে না, কোনো মূল্যও দেয় না। আঃ সালামের জীবনের এ ধরনের পরিবর্তনে প্রাকৃতিক পরিবেশ মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে।
ভাষা আন্দোলনে সর্বপ্রথম বাঙালি নারীরা রাজপথে নেমেছিল।
জন্ম ও মৃত্যুহার জনসংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। কোনো দেশে জন্মহার যদি মৃত্যুহারকে ছাড়িয়ে যায় তবে এর অবশ্যম্ভাবী ফল হচ্ছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি। যেমন- বর্তমানে বাংলাদেশে সামাজিক সচেতনতা, মিডিয়ার প্রচার, শিক্ষা বিস্তার প্রভৃতির ফলে মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে। ফলে দিন দিন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!