কোনো কোম্পানির সিকিউরিটিজ ইস্যু ও বিক্রয় বাবদ যে ব্যয় হয় তাকে উত্তরণ ব্যয় বলে।
সংরক্ষিত তহবিলের ব্যয়ের হার সর্বদা সাধারণ শেয়ারের ব্যয়ের হারের সমান হয় না। কারণ সংরক্ষিত তহবিলের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কর সমন্বয় করা হয়। যা সাধারণ শেয়ারের ব্যয়ের ক্ষেত্রে সমন্বয় করা হয় না। আবার সাধারণ শেয়ারের ক্ষেত্রে উত্তরণ ব্যয় জড়িত কিন্তু সংরক্ষিত তহবিলের ব্যয়ের ক্ষেত্রে উত্তরণ ব্যয় জড়িত না। তাই ব্যক্তিগত কর হার ও উত্তরণ ব্যয়ের কারণে সংরক্ষিত তহবিলের ব্যয়ের হার সর্বদা সাধারণ শেয়ারের ব্যয়ের হারের সমান হয় না।
আশা কোম্পানির সাধারণ শেয়ারের ব্যয়ের হার নির্ণয় :
এখানে,
ঝুঁকিমুক্ত আয়ের হার
পোর্টফোলিও আয়ের হার
বিটার মান () = ২
আমরা জানি
সাধারণ শেয়ারের ব্যয় ,
= ৭ % + (১৫% + (- ৭%) ২
= ৭ % + ১৬ %
= ২৩ %
সুতরাং আশা কোম্পানির সাধারণ শেয়ারের ব্যয়ের হার ২৩%।
বর্তমান মূলধন কাঠামো ব্যবস্থায় সার্বিক মূলধন ব্যয় (WACC) নির্ণয় :
এখানে,
সাধারণ শেয়ারের ব্যয় = ২৩ % ('গ' হতে প্রাপ্ত)
অগ্রাধিকার শেয়ারের ব্যয় = ১৪ %
করপূর্ব ঋণের ব্যয় (Kb) = ১৫%
করের হার (T)= ৪০ % বা, ০.৪০
করপূর্ববর্তী ঋণ মূলধন ব্যয়
= ১৫ % (১-.০.০৪)
= ৯ %
আবার,
সাধারণ শেয়ারের ভার
অগ্রাধিকার শেয়ারের ভার (Wp) =
ঋণ মূলধনের ভার (Wa) = = ০.৩৭৫
আমরা জানি,
সার্বিক মূলধন ব্যয়,
= (০.৫০ ২৩%) + (০.১২৫১৪%) + (০.৩৭৫ ৯%)
= ১১.৫০% + ১.৭৫% + ৩.৩৭৫%
= ১৬.৬৩%
লক্ষণীয় যে, আশা কোম্পানির মূলধন কাঠামোর ব্যয় ১৬.৬৩% এবং কোম্পানির প্রত্যাশিত আয়ের হার ২৫%। অর্থাৎ প্রত্যাশিত আয়ের হার অপেক্ষা মূলধন কাঠামোর ব্যয় অর্থাৎ সার্বিক মূলধন ব্যয় কম। এমতাবস্থায় বলা যায়, বর্তমান মূলধন কাঠামো ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করলে কোম্পানি লাভবান হবে।
Related Question
View Allইক্যুইটি মূলধন ও ঋণ মূলধনের মিশ্রণকে মূলধন কাঠামো বলে।
যৌথমূলধনী কোম্পানির মূলধনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশকে সাধারণ শেয়ার বলে।
সাধারণ শেয়ার মূলধনের ব্যয় বলতে সাধারণত লভ্যাংশ ও শেয়ারমূল্য বৃদ্ধিজনিত লাভ থেকে প্রত্যাশিত আয়ের হারকে বোঝায়। অন্যভাবে, সাধারণ শেয়ারের ব্যয় বলতে বিনিয়োগকারীদের সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ হতে প্রত্যাশিত আয়ের হারকে বোঝায়। এছাড়া সাধারণ শেয়ারের সাথে শেয়ার ইস্যু ও বিক্রয়জনিত খরচ জড়িত। তাই বলা যায়, 'সাধারণ শেয়ার মূলধনের ব্যয় আছে'।
নুসরাত লি.-এর সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয় নির্ণয় :
এখানে
সাধারণ শেয়ারের বাজারমূল্য ( P০ )= ২০০ টাকা
প্রত্যাশিত লভ্যাংশ (D1) = ১৫ টাকা
লভ্যাংশ বৃদ্ধির হার (g) = ৪ % বা, ০.০৪
আমরা জানি,
সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয়,
=
= ১১.৫০%
সুতরাং নুসরাত লি.-এর সাধারণ শেয়ার মূলধন ব্যয় ১১.৫০%।
নুসরাত লি.-এর ভারযুক্ত গড় মূলধন ব্যয় নির্ণয় :
এখানে,
সাধারণ শেয়ারের ব্যয় (K) = ১১.৫০% ['গ' নং থেকে প্রাপ্ত]
অগ্রাধিকার শেয়ারের ব্যয় (Kp) = ৮%
করপূর্ববর্তী ঋণের ব্যয় (K) = ১০%
কর হার (T) = ৪০% বা, ০.৪০
করপরবর্তী ঋণ মূলধন ব্যয় = = ৬%
আবার,
সাধারণ শেয়ারের ভার
অগ্রাধিকার শেয়ারের ভার
ঋণ মূলধন (বন্ড) এর ভার
আমরা জানি,
ভারযুক্ত গড় মূলধন ব্যয়,
WACC = WeKe + WpKp + WdKd
= ৯.১৫ %
সুতরাং নুসরাত লি.-এর ভারযুক্ত গড় মূলধন ব্যয় ৯.১৫%।
নিট আয়ের যে অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন না করে কারবারে সংরক্ষণ করা হয় তাকে সংরক্ষিত আয় বলে।
ইক্যুইটি মূলধন ও ঋণ মূলধনের মিশ্রণকে মূলধন কাঠামো বলে। কারবারে সঠিক মূলধন কাঠামো নির্বাচন করার ক্ষেত্রে মূলধন ব্যয় তাৎপর্য বহন করে। কারণ ইক্যুইটি ও ঋণ মূলধনের মিশ্রণের অনুপাতের ওপর মূলধন কাঠামোর খরচ নির্ভর করে। বিকল্প অনুপাতে মূলধন ব্যয় কম হলে সে মূলধন কাঠামো গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!