হাদিস বর্ণনার বিভিন্ন স্তরে যে হাদিসের সনদ পুরোপুরি অবিচ্ছিন্ন নয় বরং কোনো না কোনো পর্যায়ে রাবির নাম বাদ পড়েছে, তা-ই মুনকাতি হাদিস।
মুনাফিকদের দ্বিমুখী চরিত্রের কারণে তারা কাফের- মুশরিকদের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর। আল্লাহদ্রোহিতায় কাফির-মুশরিকদের ভূমিকা সুস্পষ্ট। তারা প্রকাশ্যে ইসলামের বিরোধিতা করে। ফলে তাদের থেকে আত্মরক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু মুনাফিকরা অন্তরে অবাধ্য হলেও বহিরাবরণে সাধু। ফলে তাদের ভূমিকা সহজেই চিহ্নিত করা যায় না। এ কারণে তাদের ক্ষতি থেকে আত্মরক্ষা করা কষ্টকর।
আশিকুর রহমানের ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানে আল কুরআন অত্যন্ত কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা রেখেছে। আল-কুরআন মুসলমানদের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এতে সব প্রকার সমস্যার সমাধানের ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে। ব্যক্তিজীবনে মানুষ যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে তার সমাধানও কুরআন মাজিদে বিদ্যমান। উদ্দীপকে ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানে কুরআনের কার্যকারিতাই পরিলক্ষিত হয়।
আশিকুর রহমান অলস ও কর্মবিমুখ ছিলেন। ধর্ম-কর্ম তার কাছে ছিল অর্থহীন। কিন্তু কুরআন মাজিদ তার জীবন পরিবর্তন করে দিয়েছে। কুরআনের তাফসির শুনেই তিনি অনুধাবন করতে পেরেছেন যে, জীবনে অলসতা ও কর্মবিমুখতার স্থান নেই। প্রকৃতপক্ষে কর্মবিমুখতা ও বৈরাগ্য ব্যক্তিজীবনের অন্যতম সমস্যা। কুরআন ব্যক্তিকে সাধারণ সংসারী, ধার্মিক এবং কর্মমুখী হওয়ার নির্দেশ দিয়ে এ সমস্যার নিরসন করে। কুরআন মাজিদে ব্যক্তিকে কুফর, শিরক, পৌত্তলিকতা প্রভৃতি অসার বিশ্বাস থেকে আল্লাহর একত্ববাদ, রিসালাত ও আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপনের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। আশিকুর রহমান এই আহ্বান অনুধাবন করেই ধর্মে মনোযোগী হয়েছেন। তাই বলা যায়, কুরআন মাজিদই তার ব্যক্তিজীবনকে সমস্যামুক্ত করার মাধ্যমে আমূল বদলে দিয়েছে।
একজন সৎ ব্যবসায়ী হিসেবে আশিকুর রহমান আখিরাতে উত্তম প্রতিদান লাভ করবেন। ব্যবসায়ে সততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মুসতাদরাক হাকিম গ্রন্থের একটি হাদিসে বলা হয়েছে, বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন শহিদদের সাথে থাকবেন।
উদ্দীপকের আশিকুর রহমান একজন সৎ ও সত্যবাদী ব্যবসায়ী। তাই আলোচ্য হাদিসের আলোকে বলা যায়, তিনি কিয়ামতের দিন শহিদদের সাথে থাকবেন। প্রকৃতপক্ষে ব্যবসায়ের পদ্ধতি ও প্রকৃতিই এমন যে, ব্যবসায়ী ইচ্ছে করলে এর মধ্যে প্রতারণা করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। আশিকুর রহমানও সেসব সুযোগ গ্রহণ করতে পারতেন। কিন্তু তার অন্তরে আল্লাহভীতি থাকার কারণে তিনি কখনোই কাউকে ঠকাননি; বরং ব্যবসায়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আর তার মতো বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী মুসলিম ব্যবসায়ীর জন্য পুরস্কারের ঘোষণাও বিপুল। তারা কিয়ামতের কঠিন দিনে শহিদদের সাথে বিপুল আনন্দে আরশের ছায়া লাভ করবেন। মূলত ব্যবসায়ীদেরকে সততায় উৎসাহী করতেই এরূপ পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, পরকালে উত্তম প্রতিদানের প্রত্যাশায় আশিকুর রহমানের মতো প্রত্যেক ব্যবসায়ীরই উচিত ব্যবসায়ে সৎ থাকার চেষ্টা করা।
Related Question
View All'সিহাহ সিত্তাহ' হলো- বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থ।
আলোচ্য হাদিসের অর্থ হলো- 'লজ্জাশীলতা ইমানের একটি বিশেষ অঙ্গ'। উল্লেখিত হাদিসটি সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে সংকলিত হয়েছে। এ হাদিসে রাসুল (স) লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। একজন মুমিন তার আচার-আচরণ, কথাবার্তা, কাজকর্মে অবশ্যই লজ্জাশীল হবেন। কারণ লজ্জাশীলতা ইমানের অপরিহার্য একটি দিক। তাই মান-সম্মান রক্ষা করার জন্য ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক মুমিনের লজ্জাশীল হওয়া প্রয়োজন। আলোচ্য হাদিসে ইমানের সাথে লজ্জার সম্পর্কের দিকটিই ফুটে উঠেছে।
হাবিবের বক্তব্যে ওহিয়ে মাতলু তথা পবিত্র কুরআনের পরিচয় ফুটে উঠেছে। কুরআন মাজিদ আল্লাহর বাণী। এটি সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব যা সর্বশ্রেষ্ঠ নবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। উদ্দীপকের হাবিব ওহির বিভিন্ন প্রকার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। উদ্দীপকের তিন বন্ধু ইসলামি শরিয়ার উৎস সম্বন্ধে আলোচনা করছিল। হাবিব এ সময় বলে, কিছু ওহির ভাব ও ভাষা সরাসরি আল্লাহর, যা পাঠ করা ইবাদত এবং নামাজেও এর তিলাওয়াত আবশ্যক। এর মাধ্যমে হাবিব পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। ওহি দুই প্রকার। যথা- ওহিয়ে মাতলু ও ওহিয়ে গায়রে মাতলু। ওহিয়ে মাতলু বা পঠিত ওহি হলো কুরআন মাজিদ। এটি লাওহে মাহফুজ থেকে জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে নবুওয়তের দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে মহানবি (স)-এর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে।
কুরআন সন্দেহাতীতভাবে অদ্যাবধি অবিকল ও অবিকৃত অবস্থায় সুরক্ষিত হয়ে আসছে। এর শব্দ, অর্থ, মর্ম উপস্থাপনা, বিন্যাস সবই আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া নামাজ আদায় হয় না। নামাজে কুরআন থেকে তিলাওয়াত করা ফরজ। সুতরাং উদ্দীপকের হাবিব প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে কুরআন মাজিদের দিকেই ইঙ্গিত করেছে।
হাসানের উল্লেখিত বিষয়টি ওহিয়ে গায়রে মাতলু তথা হাদিস; যার সাথে হাদিসে কুদসির কতিপয় সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ওহি দুই প্রকার- যার মধ্যে একটি 'ওহি গায়রে মাতলু' অর্থাৎ অপঠিত ওহি বা হাদিস। মহানবি (স)-এর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতি তথা রাসুল (স)-এর বাস্তব জীবনের প্রতিটি কাজ ও সমর্থনই হাদিস। হাসানের বক্তব্যে হাদিসের কথাই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের হাসান ইসলামি শরিয়ার দ্বিতীয় উৎস হাদিসের প্রসঙ্গে কথা বলছিল। সে বলে, হাদিস নামাজে তিলাওয়াত করতে হয় না এবং অপবিত্র অবস্থায়ও এটি স্পর্শ করা যায়। হাসানের উল্লেখিত ওহি গায়রে মাতলু বা হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে হাদিসে কুদসি অন্যতম। হাদিসে কুদসি অন্যান্য হাদিসের মতই, তবে এ প্রকার হাদিসের ভাব স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এবং ভাষা রাসুল (স)-এর নিজের। অপরদিকে সাধারণ হাদিসের ভাব ও ভাষা উভয়টিই রাসুল (স)-এর নিজস্ব। তাছাড়া হাদিসে কুদসিও অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা যায়। 'রাসুল (স) বলেছেন', একথা অন্যান্য হাদিসের প্রারম্ভে থাকে। কিন্তু হাদিসে কুদসি শুরু হয় 'আল্লাহ বলেছেন' এ কথা দিয়ে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, হাসানের উল্লিখিত বিষয়টি হচ্ছে রাসুলের (স) বাণী বা কাজ তথা হাদিস। আর হাদিসে কুদসি এরই একটি ধরন।
সম্পূর্ণ কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষিত হয় লাওহে মাহফুজে।
কুরআনকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করে কুরআন পাঠের অভিন্ন রীতি চালু করায় হযরত উসমান (রা) কে জামিউল কুরআন বলা হয়। হযরত উসমান (রা) এর সময় ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে কুরআন পাঠের ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কুরআনের প্রথম পাণ্ডুলিপিটি থেকে সাতটি কপি তৈরি করা হয়। এবং সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় যাতে সবাই একই রীতিতে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!