মাটিতে বিদ্যমান জৈব পদার্থই হলো হিউমাস।
কয়লা উত্তোলনের দুটি পদ্ধতির একটি হলো ওপেন পিট মাইনিং।
সাধারণত কয়লার স্তর ভূ-পৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে বলে ওপেন পিট মাইনিং পদ্ধতি বেশি ব্যবহৃত হয়। মেশিন দিয়ে কয়লা ভূগর্ভ থেকে তোলার পর কনভেয়ার বেল্ট দিয়ে প্রক্রিয়াকরণ প্লান্টে নেওয়া হয়।
সেখানে কয়লায় থাকা অন্যান্য পদার্থ যেমন: ময়লা, শিলা কণা, ছাই, সালফার ইত্যাদি পৃথক করে ফেলা হয়।
উদ্দীপকের নবীনগর গ্রামের জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাওয়ার কারণ হলো শিল্প-কারখানার বর্জ্য মাটিতে নিষ্কাশন করার ফলে মাটি দূষণ।
শিল্প-কারখানার বর্জ্যে বিদ্যমান মারকারি, জিংক, আর্সেনিক ইত্যাদি থেকে শুরু করে এসিড, ক্ষার, লবণ, কীটনাশক ইত্যাদি ক্ষতিকর পদার্থের দূষণের প্রভাব বহুমাত্রিক। যেমন- মারকারি ও অন্যান্য ধাতব পদার্থ মাটিতে বিদ্যমান উপকারী অণুজীবসমূহকে মেরে ফেলে, এতে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়। আবার মাত্রাতিরিক্ত লবণ, এসিড বা ক্ষার গাছপালা ও ফসলের ক্ষতিসাধন করে। এছাড়া এই জাতীয় বর্জ্যে থাকা প্রোটিন বা অ্যামিনো অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা ভেঙে হাইড্রোজেন
সালফাইড গ্যাস, সালফার ডাই অক্সাইড গ্যাস ও ফসফরাসের অক্সাইড উৎপন্ন করে। যার ফলে মাটি দূষিত হয়ে পড়ে। এই দূষণের ফলে মাটির জৈব রাসায়নিক ধর্মের পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা ফসল উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
কাজেই বলা যায়, উপরোক্ত কারণেই নবীনগর গ্রামের জমির উর্বরতা শক্তি ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নবীনগর গ্রামটির গাছপালা ও জমির উর্বরতা শক্তি ফিরিয়ে আনতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে আমি মনে করি, যা নিম্নরূপ-
যে পরিমাণ গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে তার থেকে দ্বিগুণ পরিমাণ গাছ লাগানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নতুনভাবে গাছ লাগানোর ব্যবস্থা না করে আর কোনো মতেই গাছ কাটা যাবে না। এতে পরিবেশ বিশুদ্ধ হবে ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে।
ii. প্রতিটি কারখানায় বর্জ্য বিশোধন প্ল্যান্ট অর্থাৎ ইটিপি (ETP) স্থাপনের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে। এতে করে প্রতিটি শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত কঠিন ও তরল বিষাক্ত বর্জ্য এই ব্যবস্থার সাহায্যে বিশোধিত হয়ে নির্গত হবে। এতে মাটি দূষণ কম ঘটবে।
iii. শিল্প-কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্য পদার্থগুলো যেখানে সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে গর্ত করে মাটি দিয়ে চাপা দিতে হবে। ফলে মাটি দূষণের পরিমাণ কমবে।
iv. শিল্প-কারখানাগুলো সম্ভব হলে গ্রামের একটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে করে এর ক্ষতিকর প্রভাব পুরো গ্রামে পড়বে না।
V.
জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য জমিতে জৈবসার প্রয়োগ অথবা সবুজ সার উৎপাদন হয় এমন গাছ যেমন- ধৈঞ্চা জাতীয় উদ্ভিদ চাষ করা যেতে পারে।
সুতরাং উপর্যুক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের ফলে উক্ত গ্রামের অর্থাৎ নবীনগর গ্রামের পরিবেশ ও জমির উর্বরতা শক্তি ফিরে পাওয়া যেতে পারে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!