'সাহসী জননী' বাংলা কবিতায় বাংলাদেশকে চির কবিতার দেশ বলা হয়েছে।
'এবার বাঘের থাবা, ভোজ হবে আজ প্রতিশোধে'- চরণটিতে কবিমনের মুক্তিযোদ্ধাদের শক্তিশালী আক্রমণের মাধ্যমে প্রতিশোধ গ্রহণের ব্যক্ত করা হয়েছে।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশের মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার চালায়। এদেশের সাহসী মানুষ তাদের অত্যাচার নীরবে সহ্য করেনি। তারা পাকিস্তানি শত্রুদের ধ্বংস করার জন্য জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের সেই আক্রমণকে বাঘের থাবার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তাদের শক্তিশালী আক্রমণের মধ্য দিয়ে চরম প্রতিশোধ গ্রহণের বিষয়টি প্রশ্নোক্ত লাইনটির মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয়েছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে 'সাহসী জননী বাংলা' কবিতার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধস্পৃহার দিকটি ফুটে উঠেছে। বাঙালি শান্ত ও নিরীহ জাতি হিসেবে পরিচিত।
বাঙালির এই পরিচয়ের বাইরেও একটা পরিচয় আছে, তা হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ, শত্রুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। যারা বাঙালির এই বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা রাখেনি তারা ভুল করেছে।
উদ্দীপকে আসাদের মৃত্যুতে অশ্রুসিক্ত না হয়ে তাঁর মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার সংগ্রামী চেতনার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের কবির নয়ন এখানে বজ্রবর্ষী। কারণ নরপশুরা আসাদকে হত্যা করেছে, তাঁর বাবাকে প্রহার করে ক্ষতবিক্ষত করেছে। তাঁর বৃদ্ধ মাতার কণ্ঠে ছেলে হারানোর আর্তনাদের পরিবর্তে দুর্মর ঘৃণার আগুন জ্বলছে। তাই তিনি অভিসম্পাত না করে প্রতিশোধ প্রত্যাশা করেন। শত্রুর অন্যায়ের বিরুদ্ধে চরম প্রতিশোধের যে স্পৃহা এখানে প্রতিফলিত তা 'সাহসী জননী বাংলা' কবিতার শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিশোধের বিষয়টি নির্দেশ করে। এই কবিতায় কবি স্বাধীনতার শত্রুদের আক্রমণের জবাব বহুগুণে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি শত্রুদের রক্তাক্ত হাত মুচড়ে দিতে এবং তাদের কান কেটে দেওয়ার কথা বলেছেন। কারণ পাকিস্তানি হানাদাররা এদেশে পৌরাণিক কাহিনির অসুরের মতো তাণ্ডব চালিয়েছিল। নির্বিচারে গুলি করে নিরীহ বাঙালিকে হত্যা করেছে। বাঙালি তাদের সেই অত্যাচারের সমুচিত জবাব দিয়েছে। উদ্দীপকের কবিও অনুরূপ প্রতিশোধের জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।
"উদ্দীপকে 'সাহসী জননী বাংলা' কবিতার সমগ্র অনুভূতি দৃশ্যমান।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে এদেশের মানুষকে শোষণ করে আসছিল। বাঙালিরা তাদের সেই শোষণ থেকে মুক্ত হতে আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু করে, ন্যায্য অধিকার ও স্বাধীনতা দাবি করে। ন্যায্য দাবি হলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কিছুতেই তা মেনে নেয় না। তারা অন্যায়ভাবে বাঙালিদের ওপর দমন-পীড়নের নীতি অবলম্বন করে।
উদ্দীপকে আসাদের মৃত্যুতে তাঁর স্বজনরা শোকের পরিবর্তে শত্রুর প্রতি চরম ঘৃণা প্রকাশ করেছে। তাদের ওপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পীড়ন- নির্যাতনের প্রতিবাদ ও প্রতিশোধের জন্য তারা তৎপর হয়েছে। এখানে আসাদের মৃত্যুর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখানে যে ভাব প্রকাশ পেয়েছে তা সাহসী জননী বাংলা কবিতার মূলভাবের সঙ্গে অভিন্ন। শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিশোধের যে ইচ্ছা উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রকাশ পেয়েছে তা আলোচ্য কবিতায় প্রতিফলিত কবির ইচ্ছার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ উভয় ক্ষেত্রেই শত্রুর অত্যাচারের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার প্রতিজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে।
'সাহসী জননী বাংলা' কবিতায় মাতৃভূমির বীরত্বপূর্ণ দেশপ্রেমের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। স্বদেশের স্বাধীনতার জন্য তার সন্তানেরা হাতে তুলে নিয়েছিল গ্রেনেড, রাইফেল। তারা বাংলা মায়ের অপমানের উপযুক্ত প্রতিশোধ নিয়েছে। শত্রুদের রক্তাক্ত হাত মুচড়ে দিয়েছে, কান কেটে দিয়েছে, অর্থাৎ পরাজিত করে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করেছে। প্রতিশোধের এই দিকটি উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশের কবির মা আসাদের মৃত্যুতে শত্রুদের অভিসম্পাত না করে, আর্তনাদ না করে ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। এভাবে উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিশোধস্পৃহা এক ও অভিন্ন। এসব কারণে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!