ইংল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি হলো- "অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে।"
অর্থনীতির ভাষায় শ্রমিকদেরকে কাজে উৎসাহিত করার জন্য গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থাই হলো প্রণোদনা।
অর্থনীতিতে উৎসাহ বা প্রণোদনা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষ প্রণোদনা পায় বলেই যে কোনো কাজ যত্নের সাথে সম্পন্ন করে। কাজের স্থায়িত্ব, শ্রমিকদেরকে লভ্যাংশ প্রদান, বিনামূল্যে পোশাক, চিকিৎসা, বাসস্থান, বেতনসহ ছুটি, বৃদ্ধ বয়সে পেনশন, কাজের ঝুঁকি হ্রাস ইত্যাদি প্রণোদনার কৌশল ব্যবহার করে শ্রমিকদেরকে অধিক উৎপাদনে উৎসাহিত করা যায়।
A' দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে।
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণগুলোর ওপর ব্যক্তিমালিকানা বজায় থাকে। উৎপাদন, বিনিময় ও ভোগসহ সমাজের সকল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয়। উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ী নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী এবং মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে দ্রব্যসামগ্রী উৎপাদন ও ক্রয়-বিক্রয় করে। ভোগের ক্ষেত্রেও। প্রত্যেক ব্যক্তি পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে। এসব ক্ষেত্রে কোনো সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তাই এ ধরনের অর্থব্যবস্থাকে অবাধ বা মুক্ত অর্থনীতিও বলা হয়। এ অর্থব্যবস্থায় দ্রব্য ও সেবা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফার্মসমূহের মধ্যে অবাধ প্রতিযোগিতা লক্ষ করা যায়। সেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতার পারস্পরিক দর কষাকষির মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার। দাম নির্ধারিত হয়। উদ্দীপকের আসাদ 'A' দেশে বাস করেন। সে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেশি। সেখানে ব্যক্তি তাদের ইচ্ছ্য ও সুবিধা অনুযায়ী উৎপাদন, কলকারখানা স্থাপন ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করে। অধিকাংশ বেসরকারি উদ্যোগের ক্ষেত্রে কোনো সরকারি হস্তক্ষেপ থাকে না। তাছাড়া ঐ দেশের প্রত্যেক ভোক্তা তার নিজের পছন্দ ও বুচি অনুযায়ী অবাধে দ্রব্য ক্রয় ও ভোগ করতে পারে। কাজেই বলা যায়, 'A' দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা চালু রয়েছে।
A' দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা এবং বাংলাদেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা প্রচলিত। উভয় অর্থব্যবস্থার মধ্যে বেশকিছু পার্থক্য রয়েছে।
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সম্পদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত। অন্যদিকে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত উভয় মালিকানাই স্বীকৃত। ধনতন্ত্রে অধিকাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড; যেমন- উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন, ভোগ ইত্যাদি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয়। কিন্তু মিশ্র অর্থনীতিতে উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন, ভোগ ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি নিয়ন্ত্রণও পরিলক্ষিত হয়। ধনতন্ত্রে প্রত্যেক ভোক্তা তার নিজের পছন্দ, ইচ্ছা ও রুচি অনুযায়ী অবাধে দ্রব্য ক্রয় ও ভোগ করতে পারে। আর ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনকারী দ্রব্য সরবরাহ করে। কিন্তু মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ভোক্তা দ্রব্য ক্রয় ও ভোগে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করলেও সরকার প্রয়োজনবোধে দ্রব্যের দামের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। উদ্দীপকের আসাদ 'A' দেশে বাস করে। 'A' দেশের বৈশিষ্ট্যগুলোর দিকে লক্ষ করলে বোঝা যায় 'A' দেশে ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। কারণ 'A' দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেশি এবং সেখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগের স্বাধীনতা রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ মিশ্র অর্থনীতির দেশ। এখানে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বেসরকারি ও সরকারি উভয় মালিকানাই রয়েছে। উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ধনতান্ত্রিক ও মিশ্র অর্থব্যবস্থার মধ্যে কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হলেও; কিছু মিলও রয়েছে। উভয় অর্থব্যবস্থাতেই স্বয়ংক্রিয় দামব্যবস্থার মাধ্যমে সকল অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়
Related Question
View Allভূমিবাদীদের (Physiocracy) মতে, কৃষিই (খনি ও মৎস্য ক্ষেত্রসহ) হলো অন্যতম বা প্রধান উৎপাদনশীল খাত।
দুষ্প্রাপ্যতা বলতে অসীম অভাবের তুলনায় সম্পদের সীমাবদ্ধতাকে বোঝায়।
মানুষ তার অভাব পূরণ করার জন্য যে পরিমাণ দ্রব্য ও সেবা ভোগ করতে চায় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। অর্থাৎ মানবজীবনের অসংখ্য অভাবের তুলনায় উৎপাদনের উপকরণ তথা প্রাপ্ত সম্পদের স্বল্পতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা বলে। উদাহরণ- সাকিবের কাছে এক হাজার টাকা আছে। তার শার্ট, প্যান্ট এবং ভালো জুতা দরকার। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তার টাকার পরিমাণ কম। এটি সম্পদের 'দুষ্প্রাপ্যতাকে' নির্দেশ করছে।
সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান।
সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপাদানের ওপর রাষ্ট্রের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত। সেখানে প্রায় সব শিল্প- কারখানা ও উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মালিক সরকার এবং সেগুলো সরকারি বা সামাজিক নির্দেশে পরিচালিত হয়ে থাকে। তাছাড়া সমাজতন্ত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তারা সরকার নির্ধারিত দামে দ্রব্যাদি ভোগ করে থাকে। কোনো ভোক্তা চাইলেই নিজের খুশিমতো অর্থ ব্যয় করে কোনো কিছু ভোগ করতে পারে না। এ অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিগত মুনাফা নেই বললেই চলে, কারণ সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলি জনগণের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য পরিচালিত হয়। উদ্দীপকের সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে জমি, কলকারখানা ও খনি প্রভৃতি প্রায় সকল কিছুর মালিকানা থাকে সরকার বা রাষ্ট্রের হাতে। সেখানে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ও বণ্টন প্রক্রিয়া (কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে, কীভাবে এবং কাদের জন্য উৎপাদিত হবে) সম্পর্কে মৌলিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এসব বৈশিষ্ট্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, সুমির দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত।
সুমির দেশে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার কিছু পার্থক্য রয়েছে।
যে অর্থব্যবস্থায় সমাজের অধিকাংশ সম্পদ ও উৎপাদনের উপকরণের। ওপর রাষ্ট্রীয় বা সরকারি মালিকানা থাকে তাকে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বলে। পক্ষান্তরে, যে অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে তাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলা হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তার স্বাধীনতা থাকে না। অপরদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ভোক্তা অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। উদ্দীপকের সুমি যে দেশে বাস করে সেখানে সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান। কারণ সেখানে দাম-সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব কেন্দ্রের হাতে ন্যস্ত। সেখানে কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সকল অর্থনৈতিক কার্যাবলি পরিচালিত হয়। অপরদিকে মিশ্র অর্থব্যবস্থায় চাহিদা- যোগানের স্বয়ংক্রিয় ঘাত-প্রতিঘাতের দ্বারা দাম নির্ধারিত হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কোন কোন দ্রব্য, কী পরিমাণে ও কীভাবে উৎপাদিত হবে এবং কীভাবে বণ্টন করা হবে- এসব পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা নির্ধারিত হয়। তাই সেখানে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের কোনো সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে, মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা হয়, তাই সেখানে ধনতন্ত্রের মতো সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা ও মুনাফা অর্জনের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। সেই সাথে বেসরকারি পর্যায়ে - অর্থনৈতিক কার্যাবলির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণও বজায় থাকে।
কাজেই বলা যায়, সুমির দেশের অর্থব্যবস্থা তথা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার সাথে মিশ্র অর্থব্যবস্থার অনেক পার্থক্য রয়েছে।
ইংল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথের প্রদত্ত অর্থনীতির সংজ্ঞাটি হলো- "অর্থনীতি হলো এমন একটি বিজ্ঞান, যা জাতিসমূহের সম্পদের ধরন ও কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে।"
অর্থনীতির ভাষায় শ্রমিকদেরকে কাজে উৎসাহিত করার জন্য গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থাই হলো প্রণোদনা।
অর্থনীতিতে উৎসাহ বা প্রণোদনা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষ প্রণোদনা পায় বলেই যে কোনো কাজ যত্নের সাথে সম্পন্ন করে। কাজের স্থায়িত্ব, শ্রমিকদেরকে লভ্যাংশ প্রদান, বিনামূল্যে পোশাক, চিকিৎসা, বাসস্থান, বেতনসহ ছুটি, বৃদ্ধ বয়সে পেনশন, কাজের ঝুঁকি হ্রাস ইত্যাদি প্রণোদনার কৌশল ব্যবহার করে শ্রমিকদেরকে অধিক উৎপাদনে উৎসাহিত করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!