ভারত উপমহাদেশে সর্বশেষ আগত ইউরোপীয় বণিক কোম্পানির নাম ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
ইংরেজ বন্দি হলওয়েল বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে নবাবকে হেয় করার জন্য এক মিথ্যা কাহিনির প্রচারণা চালায় যা ইতিহাসে 'অন্ধকূপ হত্যা' নামে পরিচিত।
এতে বলা হয় যে, ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪.১০ ফুট প্রশস্ত ছোট একটি ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হয়। এতে প্রচণ্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। এই মিথ্যা প্রচারণা মাদ্রাজ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আর এই মিথ্যা প্রচারণাই হলো 'অন্ধকূপ হত্যা'।
উদ্দীপকের আসাদ সাহেবের প্রথম সিদ্ধান্তটি ইংরেজ শাসনামলে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তকে নির্দেশ করে।
১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস রাজস্ব আদায়ের জন্য পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন। এই ব্যবস্থায় জমিদাররা উচ্চহারে ডাক নিয়ে জমির বন্দোবস্ত নিলেও সে অনুপাতে রাজস্ব আদায় হতো না। এ অবস্থায় হেস্টিংস জমিদারদের সাথে একসালা বন্দোবস্ত চালু করেন। কিন্তু এ ব্যবস্থায়ও সরকার, জমিদার, প্রজা কারোই কোনো ধরনের উপকার হয়নি। ১৭৮৯ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস দীর্ঘমেয়াদি দশসালা বন্দোবস্ত গ্রহণ করেন। যা পরবর্তীতে কোম্পানির ডাইরেক্টর সভার অনুমোদন পায়। ১৭৯৩ সালের ২২শে মার্চ কর্নওয়ালিস দশসালা বন্দোবস্তকে চিরস্থায়ী বলে ঘোষণা করেন।
উদ্দীপকের আসাদ সাহেব তার ধানের জমি নগদ অর্থের বিনিময়ে লিজ দেন। এতে দেখা যায়, কৃষকরা অধিক উৎপাদনের জন্য অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়। তাই তিনি দীর্ঘদিনের জন্য স্থায়ীভাবে জমি লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আসাদ সাহেবের এমন সিদ্ধান্ত পূর্বে আলোচিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। তাই বলা যায়, আসাদ সাহেবের সিদ্ধান্তটি চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার ইঙ্গিতবহ।
উদ্দীপকের ২য় অনুচ্ছেদে বর্ণিত ঘটনাটি দ্বৈত শাসন ব্যবস্থাকে ইঙ্গিত করে। এ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার ফলে বাংলায় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
দ্বৈত শাসন বলতে ইংরেজ কোম্পানি ও বাংলার নবাবের সমন্বয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে রবার্ট ক্লাইভ প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়। এ দ্বৈত শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা আর নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে। অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলআনা। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়। যার চরম মাসুল দিতে হয় এদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে। ১৭৭০ সালের গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ইতিহাসে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। কোম্পানির মুর্শিদাবাদের প্রতিনিধি রিচার্ড বেচারের ভাষায় “দেশের কয়েকটি অংশে যে জীবিত মানুষ মৃত মানুষকে ভক্ষণ করিতেছে, তা গুজব নয় অতি সত্যি"। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনগণের এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
১৭৬৫-১৭৭০ সালে বাৎসরিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ যা ছিল, দুর্ভিক্ষের বছরও তা প্রায় কাছাকাছি ছিল। ফলে চরম শোষণ, নির্যাতনে বাংলার মানুষ হতদরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে। দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় তিনি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হন। সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, ১৭৭০ সালে সংঘটিত দুর্ভিক্ষের মূল কারণ ছিল দ্বৈত শাসনব্যবস্থা। যে কারণে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস এ ব্যবস্থার অবসান ঘটান।
Related Question
View Allভাস্কো-ডা-গামা পর্তুগালের নাবিক ছিলেন।
প্রাচীনকালে বাংলা সম্পদে সমৃদ্ধ ও স্বয়সম্পূর্ণ ছিল বলে অনেকেই বাণিজ্য করতে এসছিল।
প্রাচীন বাংলার গ্রামের স্বয়ংসম্পূর্ণ কৃষকদের ক্ষেত ভরা ফসল, গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ থাকত। এদেশের তাঁতিদের হাতে বোনা কাপড় ইউরোপের কাপড়ের চেয়েও উন্নতমানের ছিল। এ অঞ্চলের নানা ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য ও মসলার বেশ খ্যাতি ছিল। এসব পণ্যের আকর্ষণেই এদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে এসেছে অনেকেই।
উদ্দীপকের ক্ষমতা ভাগাভাগির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের দ্বৈত শাসনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে। দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবনীয় ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের। এর মাধ্যমে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, আর নবাব পরিণত হয় ক্ষমতাহীন শাসকে। অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলআনা। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন ও কামালের মাঝে পারিবারিক গার্মেন্টস ও সংসারের দায়িত্ব বণ্টন হয়। এতে মামুন কামালকে উপযুক্ত অর্থ প্রদান না করায় সংসারে জটিলতা দেখা দেয়। এই বিষয়টির সাথে দ্বৈত শাসনের মিল রয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত ঘটনা বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল।
দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার দ্বারা প্রশাসনে চরম দুর্নীতি শুরু হয়েছিল। নামে বেনামে অর্থ ইংল্যান্ডে পাচার হয়েছিল। ফলে বাংলার রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে। এর ফলে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করারোপ করা হয়। এছাড়াও অনাবৃষ্টির কারণে ঐ সময় (১৭৭০ সাল) দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ যা ইতিহাসে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। এই দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা এমন ছিল যে, মানুষ মৃত মানুষের মাংস খেতে বাধ্য হয়েছিল। আর এই দুর্ভিক্ষেও রাজস্ব না কমিয়ে তা অব্যাহত রাখা হয়। ফলে চরম শোষণ-নির্যাতনে বাংলার মানুষ হতদরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে। তাছাড়াও কোম্পানির কর্মচারীদের দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় বণিকশ্রেণি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই বলা যায় যে, দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে পড়েছিল।
ভাগিরথী নদীর তীরে পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
ইংরেজ বন্দি হলওয়েল বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে নবাবকে হেয় করার জন্য এক মিথ্যা কাহিনীর প্রচারণা চালায় যা ইতিহাসে অন্ধকূপ হত্যা নামে পরিচিত।
এতে বলা হয় যে, ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪.১০ ফুট প্রশস্ত ছোট একটি ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হয়। এতে প্রচণ্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। এই মিথ্যা প্রচার মাদ্রাজ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আর এই মিথ্যা প্রচারই হলো 'অন্ধকূপ হত্যা'।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!