যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীবকোষের অভ্যন্তরে জটিল খাদ্য জারিত হয়ে সরল খাদ্যে পরিণত এবং সেইসাথে শক্তি উৎপন্ন হয় সেই প্রক্রিয়াকে শ্বসন বলে।
ফেটে যাওয়া বা আঘাতপ্রাপ্ত কন্দজাতীয় মশলা ও সবজির ক্ষত স্থান শুকিয়ে রোগমুক্ত করাকে কিউরিং বলে।
শাকসবজি জমি থেকে সংগ্রহ করার সময় কমবেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এসব ক্ষতস্থান থেকে পানি বেরিয়ে বা জীবাণু প্রবেশ করে শাকসবজি পচে যেতে পারে। তাই ফসল সংগ্রহের পর বাতাস চলাচল করতে পারে (আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮৫%) এমন স্থানে ২০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দু-তিন দিন রেখে কিউরিং করলে শাকসবজির ক্ষতস্থান সেরে উঠে এবং সংরক্ষণকাল বেড়ে যায়।
উদ্দীপকের আসাদ সাহেব ফল ও সবজি দূরবর্তী স্থানে নিয়ে যাবার পর দেখলেন সেগুলো পচে গেছে।
ফল ও সবজি সংগ্রহের পর যানবাহনে ভর্তির সময় বা গ্রেডিং, প্যাকিং ও লেবেলিং করার সময় আঘাত পেলে উক্ত অবস্থা অর্থাৎ নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ ছড়ায়। শাকসবজি ও ফল গাছ থেকে সংগ্রহের পর এর মেটাবলিক পরিবর্তন, শ্বসনে ইথিলিনের উৎপত্তি ও দেহ- নিঃসৃত উৎসেচকের প্রভাবে জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়। শাকসবজি ও ফল সংগ্রহের পর অভ্যন্তরীন জলীয় অংশ কমে যায়। ফলে অসংখ্য জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে ও তাতে পচন ধরে। আসাদ সাহেব পরিবহনের উদ্দেশ্যে যেসব ফল ও শাকসবজি পাঠিয়েছেন সেগুলো তার চারপাশের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়েই পচতে শুরু করেছে। কিছু কিছু ফল ও সবজিতে যেসব সাদা ও ছাইয়ের মতো দাগ দেখা গিয়েছে সেগুলো ছত্রাক সংক্রমণের প্রমাণ।
অতএব বলা যায়, উপরিউক্ত বিভিন্ন কারণে আসাদ সাহেবের শাকসবজি ও ফল পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়।
আসাদ সাহেব পরিবহনকালীন কিছু ব্যবস্থাপনা ও সতর্কতা অবলম্বন না করার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে উদ্দীপকের স্থানীয় আড়তদার মন্তব্য করেন।
ফল ও শাকসবজি দূরে পাঠাতে পরিবহন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্যাকেট এমনভাবে তৈরি করতে হয় যাতে পরিবহনকালীন সময়ে ভেতরের দ্রব্য আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। প্যাকেজিং নির্ভর করে পণ্য কতদূর এবং কোন মাধ্যমে যাবে এর ওপর। গ্রেডিং করে ছোট-বড় আকৃতি পৃথক রাখতে হয়। শাকসবজির প্যাকেটে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা অপরিহার্য। শীতকালে একটানা ১২ ঘণ্টা এবং গরমের সময় ৮ ঘণ্টার বেশি যানবাহনে ফল ও শাকসবজি রাখা যাবে না। যানবাহন গন্তব্যে পৌঁছার পর প্যাকেট বা বস্তা বা ঝুড়ির মুখ খুলে দিয়ে ঠান্ডা স্থানে রাখতে হবে। পাকার সময় ফল থেকে প্রচুর ইথিলিন গ্যাস নির্গত হয় বলে ফল ও শাকসবজি কখনও একই প্যাকেটে রাখা উচিত নয়। উন্নত বিশ্বে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাযুক্ত প্লাস্টিক, কাঠ অথবা হার্ডবোর্ডের বাক্সে শাকসবজি রেখে দূরে চালান দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে বাঁশের খাঁচা বা পাটের বস্তায় ভরে ট্রাকে, বাসে কিংবা ট্রেনে করে শাকসবজি ও ফল চালান দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে একটি বস্তার উপর আর একটি বস্তা রেখে যেভাবে নেওয়া হয় তাতে নিচের বস্তার শাকসবজি আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অতএব, পরিবহনকালীন ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে গ্রহণ করলে ফল ও শাকসবজি পচনের হাত থেকে রক্ষা করা যায়। তাই আড়তদারের বক্তব্যটি যথার্থ ছিল।
Related Question
View Allকারখানার কাঁচামাল যোগান দেওয়ার জন্য যে সকল ফসল উৎপাদন করা হয় তাদেরকে শিল্প ফসল বলে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিস প্রায় প্রতি মাসে অথবা প্রয়োজন অনুসারে মাঝে মাঝে কৃষকদের নিয়ে যে সভা বা বৈঠক করে তাকে উঠোন বৈঠক বলে।
উঠোন বৈঠক আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণ তথা কৃষি তথ্য সরবরাহ ও কৃষি সেবার একটি অত্যন্ত কার্যকর কৌশল। এই কৌশলের একটি প্রধান সুবিধা হলো যে এতে সকল ধরনের নারী-পুরুষ কৃষক স্থানীয়ভাবে অংশ গ্রহণ করতে পারে। তারা সেখানে • নিঃসংকোচে তথ্য বিনিময় করতে পারে।
ফাহাদ বিভিন্ন কৃষি তথ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হতে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।
বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কৃষি বিষয়ক নানান তথ্য ও সেবা দিয়ে কৃষকদের সাহায্য করে থাকে। ফাহাদ তার বাগানের ফল ও শাকসবজি সংরক্ষণের জন্য কৃষি তথ্য সার্ভিসের সাথে যোগাযোগ করে প্রক্রিয়াজাতকরণের তথ্য নেয়। এই ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের তথ্য বিভিন্ন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ভোকেশনাল কৃষি ফার্ম, পলিটেকনিক ও কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট ও কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেও সরবরাহ করা হয়। এ সকল প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি 'এ টু আই' প্রকল্প, কৃষি তথ্য সংস্থা, কৃষি তথ্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের সেন্টারসমূহ হতেও সে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। এছাড়াও সে কৃষিতথ্য সংগ্রহের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম ইন্টারনেটের থেকেও এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে উল্লিখিত উৎসগুলো ছাড়াও ফাহাদ অভিজ্ঞ কৃষক, উঠোন বৈঠক বা কৃষক সভা থেকেও ফল ও শাকসবজি সংরক্ষণের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।
ফাহাদ তাই এ সকল প্রতিষ্ঠান থেকে ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।
ফাহাদকে তথ্য সার্ভিস সংস্থা প্রক্রিয়াজাত করে ফল ও শাকসবজি সংরক্ষণ করতে পরামর্শ দেয়।
বিভিন্ন উপায়ে ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ করা যায়। যেমন- চিনি ও অ্যাসিড সংযোজন করে জ্যাম, জেলি, মোরব্বা ও ক্যান্ডি তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি সংরক্ষণ করা। প্রক্রিয়াজাতকৃত এইসব খাদ্যকে বেশ সুগন্ধযুক্ত ও দর্শনীয় করার জন্য অনেক রকম খাদ্য রং ও এসেন্স মিশ্রিত করা হয়।
জেলি তৈরির সময় ফলের রস ব্যবহার করা হয়। মিহি চালনী বা কাপড়ের সাহায্যে ফলের শাঁসকে ছেঁকে নেওয়া হয় বলে ফলের আঁশ বাদ পড়ে যায়। জ্যাম তৈরির সময় ফলের পাল্প ব্যবহার করা হয়। যে সকল ফল বা সবজিতে পেকটিন কম সে ক্ষেত্রে পালপের সাথে পেকটিন যোগ করে নেওয়া হয়। এছাড়া জ্যাম ও জেলির সাথে সাইট্রিক অ্যাসিডও মিশিয়ে নেওয়া হয়। ফল বা সবজির বড় টুকরা চিনির সিরায় ডুবিয়ে সিরা নিংড়িয়ে মোরব্বা তৈরি করা হয়। রকমারি মশলা মেশানো ফল বা সবজিকে খাওয়ার তেল বা ভিনেগারে ডুবিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে আচার তৈরি করা হয়। মশলা হিসেবে আদা, রসুন, হলুদ, মরিচ, মেথি, কালজিরা ব্যবহার করা হয়। লবণ ও চিনি মিশিয়ে চাটনি তৈরি করা যায়। বিভিন্ন মশলা মিশিয়ে চাটনির স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ানো হয়।
উল্লিখিত যেকোনো পদ্ধতি প্রয়োগ করেই ফাহাদ তার ফল ও শাকসবজিগুলো প্রক্রিয়াজাত করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারবে।
যে সকল ফসল উদ্যানে বেড়াযুক্ত অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে উদ্যান ফসল বলে।
বসতবাড়ির আশেপাশে, রাস্তার পাশে, পতিত জমিতে, রেললাইনের পাশে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আশেপাশেসহ বিভিন্ন সামাজিক এলাকায় যে বন গড়ে উঠে তাকে সামাজিক বন বলে। সামাজিক বনে বিভিন্ন ফলজ বৃক্ষ লাগানো হয়। সামাজিক বন মানুষের ফলের চাহিদা পূরণ, ভূমিক্ষয় রোধ হয়, কুটির শিল্প তৈরির কাঁচামাল, ঘরবাড়ি তৈরির কাঠ ও জ্বালানি কাঠ পায়। এছাড়াও সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। অতএব বলা যায়, সামাজিক বন জনগণের উপকার করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!