প্রবহমান নদী যে সাঁতার জানে না তাকেও ভাসিয়ে রাখে
দেশমাতৃকার প্রতি কবির ভালোবাসার দিকটি কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।
দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত হলে দেশপ্রেমিকের চেতনায় দেশই মাতৃরূপে ফিরে আসে। আর চেতনায় দেশমাতাকে ধারণ করলে জন্মদাত্রী মায়ের আবেদন তার কাছে তুচ্ছ হয়ে যায়। প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা কবি এ কথাটিই বোঝাতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার বর্ণিত পূর্বপুরুষদের অত্যাচারিত জীবনের দিকটি ফুটে উঠেছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তার পূর্বপুরুষদের নিপীড়িত অত্যাচারিত হওয়ার ইতিহাস তুলে ধরেছে। পরাধীনতার কারণে তাদের উপর বারবার অমানুষিক অত্যাচার নেমে এসেছে। বিদেশি শত্রুরা তাদের সাথে ক্রীতদাসের মতো আচরণ করত। তাদের পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষতই প্রমাণ করে বারবার পূর্বপুরুষদের উপর অমানুষিক অত্যাচার নেমে এসেছিল।
উদ্দীপকে শ্রমজীবী মানুষদের অমানবিক দুঃখকষ্ট এবং নিপীড়িত হওয়ার দৃশ্য ফুটে উঠেছে। হাতুড়ি, শাবল, গাঁইতি চালিয়ে যারা পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করেছিল সে রাস্তার পাশেই তাদের নিপীড়িত হতে দেখা যায়, অত্যাচারিত হতে দেখা যায়। যাদের শ্রম আর ঘামে পৃথিবীতে সভ্যতার আলো ফুটে ছিল তাদের ব্যথিত বক্ষ পদদলিত করা হয় বারবার। মূলত আলোচ্য কবিতায় পূর্বপুরুষদের অত্যাচারিত ও নিপীড়িত হওয়ার দিকটি উদ্দীপকে দৃশ্যমান হয়েছে।
উদ্দীপকের বক্তব্য 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মৌলসত্য- মন্তব্যটি যথার্থ।
'আমি' কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের বন্দিজীবন কাটানোর কথা বলেছেন। তাঁদের পিঠে রক্তজবার মতো গভীর ক্ষতের কথা উল্লেখ করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি শিকড়সন্ধানী মানুষের সার্বিক মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণা দিয়েছেন। কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের সাহসী ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথাও বলেছেন। তাঁর মতে, আমাদের ঐতিহ্য হলো কৃষিজীবী, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষের লড়াই করে টিকে থাকার ইতিহাস। তাঁদের ওপর বর্বর নির্যাতনের ইতিহাসকেও বহন করে চলেছি আমরা।
উদ্দীপকে শ্রমজীবী মানুষদের জীবনবাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। যাদের শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে পৃথিবী বসবাসের যোগ্য হয়ে উঠেছে। তাদের ওপর-ই যুগ যুগ ধরে নেমে এসেছে অত্যাচারের হস্ত।
পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ আমাদের পূর্বপুরুষদের দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করতে হয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। কিন্তু মুক্তিসংগ্রামীদের অদম্য মানসিকতার ফলেই আমরা পেয়েছি মুক্তির আনন্দ। মূলত 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় উচ্চারিত হয়েছে শিকড়সন্ধানী মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির ঘোষণা। আর উদ্দীপকে আমাদের শ্রমজীবী মানুষের অত্যাচারিত হওয়ার নির্মম সত্যতা তুলে ধরা হয়েছে। সেই সাথে আমাদের পূর্বপুরুষ তথা এই অত্যাচারিত শ্রমজীবী মানুষদের ঋণ শোধের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ তাদের মুক্তির কথা বলা হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!