সমাজে বসবাস করতে গিয়ে মানুষ যে সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করে তাই সংস্কৃতি।
নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সামাজিকীকরণে সমবয়সী সঙ্গীর প্রভাব বেশি। সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া। শিশুর সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে সমবয়সী বন্ধু বা সঙ্গীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শৈশবে সমবয়সীদের সঙ্গে খেলাধূলার আকর্ষণ থাকে অপ্রতিরোধ্য। এভাবে খেলার সাথিরা একে অপরের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখে। আবার নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা, আচার-আচরণ ও চালচলনের ক্ষেত্রের তারা একে অন্যকে প্রভাবিত করে। ফলে তাদের মধ্যে সহমর্মিতা, সহযোগিতা, সহনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়।
উদ্দীপকে দুই বন্ধুর সংস্কৃতি যথাক্রমে দেশি সংস্কৃতি ও বিদেশি সংস্কৃতিকে নির্দেশ করে।
যে বিষয়গুলো এদেশের মানুষের অভ্যাস, অনুষ্ঠান, রীতিনীতিতে পরিণত হয়েছে তাই হলো দেশীয় সংস্কৃতি। অপরদিকে যে বিষয়গুলো অন্যদেশ থেকে বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন মাধ্যমে এদেশের মানুষের কাছে এসেছে তা হলো বিদেশি সংস্কৃতি। উদ্দীপকে উল্লিখিত আসিফ দেশীয় সংস্কৃতি গ্রহণ করেছে। কিন্তু যোশেফ বিদেশি সংস্কৃতি ছেড়ে দেশীয় সংস্কৃতি গ্রহণ করতে পারেনি। বাংলাদেশের সংস্কৃতি খাদ্য, পরিধান, আচরণের সাথে অন্য দেশের খাদ্য, পরিধান ও আচরণের তফাৎ রয়েছে। দেশের মানুষের সাহিত্য-সঙ্গীত অন্য দেশের মানুষের সাহিত্য-সঙ্গীত থেকে আলাদা। যোশেফ সাংস্কৃতিক আত্তীকরণের মধ্যে পড়েছে। সে বিদেশে পড়াশুনা করতে গিয়ে সেখানকার সংস্কৃতি গ্রহণ করেছে। কিন্তু দেশে এসে দেশীয় সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হতে পারছে না। ফলে সে জুস, বার্গার খেতে চায়, বিদেশি পোশাক পরিধান করতে চায়। যখন কেউ দেশের বাইরে থাকে তখন তাকে সেই দেশের সংস্কৃতির সাথে মিশতে হয় ফলে সে সেই দেশের সংস্কৃতিকে আত্মপ্ত করা হলো সাংস্কৃতায়ন। আর অন্যের সংস্কৃতিকে আয়ত্ত করা হলো সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ।
উদ্দীপকে যোশেফ দেশীয় সমাজের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে চলতে না পারার কারণ হলো সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ।
আমরা জানি, সংস্কৃতি স্থির বিষয় নয়। পরিবর্তন হচ্ছে সংস্কৃতির ধর্ম। পৃথিবীর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতিতে বিভিন্নতা থাকলেও সেখানে প্রতিনিয়ত সংযোজন ও বিয়োজন চলে। একসময় সংস্কৃতির পার্থক্য বা পরিবর্তনশীলতার মধ্যে আবার নতুন সংস্কৃতির পরিবর্তন ও উন্নয়ন ঘটে। সংস্কৃতির এ পরিবর্তনের কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ অন্যতম একটি। উদ্দীপকে যোশেফকে সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ করতে দেখা যায়। আত্তীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে। যেমন- মানুষ যখন কোনো নতুন সংস্কৃতি বা সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করতে আসে তখন সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, চিন্তা-চেতনা, মূল্যবোধ এককথায় সমগ্র জীবনধারার সাথে আত্তীকৃত হতে চেষ্টা করে। এভাবে একসময় তা আত্তীকরণ হয়ে যায়।
পুরিশেষে বলা যায়, উপরিউক্ত কারণেই যোশেফ দেশীয় সমাজের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে চলতে ব্যর্থ হচ্ছে।
Related Question
View Allসাংস্কৃতিক পরিবর্তন পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে ঘটে। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে হস্তান্তরের সময় সংস্কৃতিতে কিছু পরিবর্তন আসে। ভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শেও সংস্কৃতির রূপ বদলায়। এটি মানুষের জীবনধারার পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।
উন্নয়ন বলতে ক্রমান্বয়ে কোনো কিছু উন্নত বা পরিপূর্ণ রূপলাভকরাকে বোঝায়। এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক উন্নয়নকেও নির্দেশ করে। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন। উন্নয়ন সমাজের পরিবর্তনের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
সংস্কৃতির পরিবর্তন ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। উন্নয়ন যেমন সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে, তেমনি সাংস্কৃতির পরিবর্তনও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। উদাহরণস্বরূপ, প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিতে উৎপাদন বাড়িয়ে উন্নয়ন ঘটায়।
বাংলাদেশের কৃষিতে লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টর ব্যবহার সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের উদাহরণ। এটি বস্তুগত সংস্কৃতির পরিবর্তন হিসেবে পরিচিত। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বেড়েছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।
সামাজিক উন্নয়ন মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সচেতনতার প্রসারের মাধ্যমে ঘটে। উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফল।
সংস্কৃতির পরিবর্তনকে নেতিবাচকভাবে দেখা উচিত নয় কারণ এটি সমাজের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। নদীর প্রবাহের মতো সংস্কৃতি পরিবেশের সাথে খাপ খেয়ে পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন মানুষকে নতুন ধারণা ও সুযোগ দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!