সুরা আল বাকারার আয়াত সংখ্যা ২৮৬।
অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে আল কুরআনের ভূমিকা অপরিসীম। সম্পদের অসম বণ্টন, উপার্জন ও ব্যয়ে হারাম পদ্ধতি অনুসরণ, সম্পদ আত্মসাৎ, সুদ প্রভৃতি হচ্ছে মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা। এজন্য আল কুরআনে হালাল জীবিকা উপার্জনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অসম অর্থ-বণ্টন রোধে আল্লাহ জাকাত প্রথার প্রবর্তন করেছেন। সর্বোপরি, অর্থব্যবস্থাকে শোষণমুক্ত রাখতে সুদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এভাবে অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানে কুরআন মাজিদ অনন্য ভূমিকা পালন করে।
সুরা আল-বাকারার ৪নং আয়াতে মুত্তাকিদের তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে, যা শাকিল আহমেদের জীবনাচরণে প্রতিফলিত হয়েছে। মুত্তাকিরা কুরআন মাজিদ ও মহানবি (স)-এর বিভিন্ন মুজিযার প্রতি ইমান পোষণ করে এবং আমল করে। তারা মহানবি (স)- এর পূর্ববর্তী নবিদের ওপর নাজিলকৃত কিতাবের প্রতিও ইমান পোষণ করে, তবে আমল করে না। তাছাড়া মুত্তাকিরা পরকালে সুদৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে। সুরা আল-বাকারার ৪নং আয়াতে আলোচিত এ তিনটি বৈশিষ্ট্য শাকিল আহমেদ তার জীবনে ধারণ করে আছেন।
শাকিল আহমেদ কুরআন মাজিদের প্রতি বিশ্বাস পোষণের পাশাপাশি সব বিধি-নিষেধ মেনে চলেন। তবে পূর্বোক্ত কিতাবগুলোর বিধি-নিষেধ তিনি মেনে চলেন না। কুরআন নাজিলের পর এ কিতাবসমূহ অনুসরণের কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ কুরআনেই সব আসমানি কিতাবের মূল শিক্ষা ও সারমর্ম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাছাড়া তিনি পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করেন। কুরআনের ভাষায় একে বলা যায় 'ইয়াকিন'। 'ইয়াকিন' হলো সুদৃঢ় প্রত্যয় বা বিশ্বাস পোষণ। ইমান পোষণের চেয়েও এ বিষয়টি বেশি মজবুত।
সুতরাং আলোচ্য বৈশিষ্ট্যসমূহের আলোকে শাকিল আহমেদকে একজন মুত্তাকি বলা যায়।
মানুষের জীবনাচরণ বন্ধুর দ্বারা প্রভাবিত হয়- এ বিষয়টি উদ্দীপকের আসিফ রহমানের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়। জীবন চলার পথে মানুষকে বন্ধু বেছে নিতে হয়। এক্ষেত্রে বন্ধু নির্বাচনে সচেতন হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। কারণ একজন ভালো বন্ধু মানুষের জীবনে কল্যাণ বয়ে আনে এবং একজন খারাপ ও অসৎ বন্ধু মানুষের জীবনকে অর্থহীন করে দেয়। পাঠ্যবইয়ের সংশ্লিষ্ট একটি হাদিসে এ বিষয়টিরই ইঙ্গিত রয়েছে।
উদ্দীপকে আসিফ রহমান তার বন্ধু শাকিল আহমেদের জীবনাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। শাকিল আহমেদ একজন মুত্তাকি। ফলে তার সংস্পর্শে এসে আসিফ রহমানও একজন সৎ ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পেরেছেন। বন্ধুর প্রভাবে প্রভাবিত হওয়া, বন্ধু সংস্পর্শে তার কর্মপদ্ধতি ও আদর্শের প্রতি আগ্রহী হওয়া মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। এ কারণেই মহানবি (স) ইরশাদ করেছেন, মানুষ তার বন্ধুর দীন বা জীবনাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকেই যেন যাচাই করে নেয় কার সাথে সে বন্ধুত্ব করছে (মুসনদে আহমদ, সুনানে আবু দাউদ, জামি আত- তিরমিযি)। এই হাদিস থেকেই আমরা মানুষের জীবনে বন্ধুর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারি।
উপরের আলোচনায় দেখা যায়, বন্ধুর প্রভাব মানুষের জীবনে অতি স্বাভাবিক। তাই আমাদের উচিৎ হবে সৎ ও মুত্তাকি ব্যক্তিকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা।
Related Question
View All'সিহাহ সিত্তাহ' হলো- বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থ।
আলোচ্য হাদিসের অর্থ হলো- 'লজ্জাশীলতা ইমানের একটি বিশেষ অঙ্গ'। উল্লেখিত হাদিসটি সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে সংকলিত হয়েছে। এ হাদিসে রাসুল (স) লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। একজন মুমিন তার আচার-আচরণ, কথাবার্তা, কাজকর্মে অবশ্যই লজ্জাশীল হবেন। কারণ লজ্জাশীলতা ইমানের অপরিহার্য একটি দিক। তাই মান-সম্মান রক্ষা করার জন্য ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক মুমিনের লজ্জাশীল হওয়া প্রয়োজন। আলোচ্য হাদিসে ইমানের সাথে লজ্জার সম্পর্কের দিকটিই ফুটে উঠেছে।
হাবিবের বক্তব্যে ওহিয়ে মাতলু তথা পবিত্র কুরআনের পরিচয় ফুটে উঠেছে। কুরআন মাজিদ আল্লাহর বাণী। এটি সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব যা সর্বশ্রেষ্ঠ নবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। উদ্দীপকের হাবিব ওহির বিভিন্ন প্রকার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। উদ্দীপকের তিন বন্ধু ইসলামি শরিয়ার উৎস সম্বন্ধে আলোচনা করছিল। হাবিব এ সময় বলে, কিছু ওহির ভাব ও ভাষা সরাসরি আল্লাহর, যা পাঠ করা ইবাদত এবং নামাজেও এর তিলাওয়াত আবশ্যক। এর মাধ্যমে হাবিব পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। ওহি দুই প্রকার। যথা- ওহিয়ে মাতলু ও ওহিয়ে গায়রে মাতলু। ওহিয়ে মাতলু বা পঠিত ওহি হলো কুরআন মাজিদ। এটি লাওহে মাহফুজ থেকে জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে নবুওয়তের দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে মহানবি (স)-এর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে।
কুরআন সন্দেহাতীতভাবে অদ্যাবধি অবিকল ও অবিকৃত অবস্থায় সুরক্ষিত হয়ে আসছে। এর শব্দ, অর্থ, মর্ম উপস্থাপনা, বিন্যাস সবই আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া নামাজ আদায় হয় না। নামাজে কুরআন থেকে তিলাওয়াত করা ফরজ। সুতরাং উদ্দীপকের হাবিব প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে কুরআন মাজিদের দিকেই ইঙ্গিত করেছে।
হাসানের উল্লেখিত বিষয়টি ওহিয়ে গায়রে মাতলু তথা হাদিস; যার সাথে হাদিসে কুদসির কতিপয় সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ওহি দুই প্রকার- যার মধ্যে একটি 'ওহি গায়রে মাতলু' অর্থাৎ অপঠিত ওহি বা হাদিস। মহানবি (স)-এর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতি তথা রাসুল (স)-এর বাস্তব জীবনের প্রতিটি কাজ ও সমর্থনই হাদিস। হাসানের বক্তব্যে হাদিসের কথাই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের হাসান ইসলামি শরিয়ার দ্বিতীয় উৎস হাদিসের প্রসঙ্গে কথা বলছিল। সে বলে, হাদিস নামাজে তিলাওয়াত করতে হয় না এবং অপবিত্র অবস্থায়ও এটি স্পর্শ করা যায়। হাসানের উল্লেখিত ওহি গায়রে মাতলু বা হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে হাদিসে কুদসি অন্যতম। হাদিসে কুদসি অন্যান্য হাদিসের মতই, তবে এ প্রকার হাদিসের ভাব স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এবং ভাষা রাসুল (স)-এর নিজের। অপরদিকে সাধারণ হাদিসের ভাব ও ভাষা উভয়টিই রাসুল (স)-এর নিজস্ব। তাছাড়া হাদিসে কুদসিও অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা যায়। 'রাসুল (স) বলেছেন', একথা অন্যান্য হাদিসের প্রারম্ভে থাকে। কিন্তু হাদিসে কুদসি শুরু হয় 'আল্লাহ বলেছেন' এ কথা দিয়ে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, হাসানের উল্লিখিত বিষয়টি হচ্ছে রাসুলের (স) বাণী বা কাজ তথা হাদিস। আর হাদিসে কুদসি এরই একটি ধরন।
সম্পূর্ণ কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষিত হয় লাওহে মাহফুজে।
কুরআনকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করে কুরআন পাঠের অভিন্ন রীতি চালু করায় হযরত উসমান (রা) কে জামিউল কুরআন বলা হয়। হযরত উসমান (রা) এর সময় ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে কুরআন পাঠের ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কুরআনের প্রথম পাণ্ডুলিপিটি থেকে সাতটি কপি তৈরি করা হয়। এবং সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় যাতে সবাই একই রীতিতে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!