পিত্তরস হলো সবুজ ও হলুদ রঙের আঠালো ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ যা স্বাদে তিক্ত।
কার্বন, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত কার্বোহাইড্রেট এক প্রকার জটিল জৈব পদার্থ।
গঠন অনুযায়ী কার্বোহাইড্রেটকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
ক. ন্যানোস্যাকারাইড- গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাকটোজ ইত্যাদি।
খ. ডাইস্যাকারাইড- সুক্রোজ, ল্যাকটোজ, মল্টোজ ইত্যাদি।
গ. পলিস্যাকারাইড- স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, সেলুলোজ ইত্যাদি।
আহনাফের পছন্দের খাবারগুলো হলো- তেলে ভাজা খাবার, মাখন, গরুর মাংস। এ সকল খাদ্য ফ্যাটের অন্তর্ভুক্ত।
ফ্যাটের পরিপাকে যে সকল এনজাইম অংশ নেয় তার ছক তৈরি করা হলো-
এনজাইম | উৎপত্তিস্থল | খাদ্যের পরিণতি |
| পাকস্থলির লাইপেজ | পাকস্থলি | গ্লিসারল + ফ্যাটি এসিড |
| প্যানক্রিয়াটিক লাইপেজ | অগ্ন্যাশয় | মনোগ্লিসারাইড + ফ্যাটি এসিড |
| আন্ত্রিক. লাইপেজ | ক্ষুদ্রান্ত | মনোগ্লিসারাইড + ফ্যাটি এসিড |
| কোলেস্টেরল এস্টারেজ | অগ্ন্যাশয় | মুক্ত কোলেষ্টেরল + ফ্যাটি এসিড |
| লাইপেজ | ক্ষুদ্রান্ত্রের আবরক কোষ | গ্লিসারল + ফ্যাটি এসিড |
পুষ্টিবিদ আহনাফের ওজন কমানোর জন্য বেশি বেশি শাকসবজি, ফল এবং ছোট মাছ খাওয়াতে বলেন ভিটামিনযুক্ত খাবার।
খাদ্য উপাদানগুলোর মধ্যে ভিটামিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন জাতীয় খাদ্য উপাদান রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।, ভিটামিনযুক্ত খাবারের শোষণ প্রক্রিয়া নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিতরে পিত্তলবণের সাহায্যে মনোগ্লিসারাইড, দীর্ঘাণু ফ্যাটি এসিড, ফসফোলিপিড, কোলেস্টেরল প্রভৃতি নিয়ে যে মিসেল কণাগুলো সৃষ্টি হয়, চর্বিতে দ্রবণীয় ক্যারোটিন, ভিটামিন 'ডি', 'ই' এবং 'কে' সেই মিসেলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রধানত গ্রহণী ও মধ্য ক্ষুদ্রান্ত্র হতে শোষিত হয়। খাদ্যের ভিটামিন 'এ' পিত্তলবণের সাহায্য ছাড়াই গ্রহণী ও মধ্য ক্ষুদ্রান্ত্র হতে শোষিত হয়। পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলোর মধ্যে ভিটামিন 'বি১২' পাকস্থলি রসের এসিড ও অন্তর্নিহিত পদার্থের সাহায্যে সক্রিয়ভাবে শেষ ক্ষুদ্রান্ত্র হতে শোষিত হয়। অন্তর্নিহিত পদার্থটি 'বি১২' অণুর সাথে মিলে যে যৌগ উৎপাদন করে ক্যালসিয়াম, আয়রনের উপস্থিতিতে তা হতে 'বি' সহজেই শেষ ক্ষুদ্রান্ত্রের ঝিল্লিতে মাইক্রোভিলায় একটি বাহক প্রোটিনের অণুতে স্থানান্তরিত হতে পারে এবং ঐ বাহক 'বি১২' যৌগের আকারেই কোষঝিল্লি অতিক্রম করে শোষিত হয়। অন্তর্নিহিত পদার্থটির ক্ষরণ ব্যাহত হলে 'বি১২' বিশোষিত হতে পারে না। ফলে পার্নিসিয়াস এনিমিয়া রোগ হয়। আন্ত্রিক জীবাণুর দ্বারা সংশ্লেষিত ভিটামিনগুলোর মধ্যে কেবল ভিটামিন 'কে' এবং ফলিক এসিড মানুষের মলাশয় হতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে শোষিত হয়।
Related Question
View Allদেহ গ্লুকোজ শোষণ করে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করে।
লালারস হচ্ছে লালাগ্রন্থি থেকে বের হওয়া এক ধরনের রস।
লালারসে টায়ালিন নামক এনজাইম শর্করা জাতীয় খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। এছাড়া লালারস খাদ্যকে পিচ্ছিল করে ও গলাধঃকরণে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়াটি হলো পরিপাকক্রিয়া। পরিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যের কার্বোহাইড্রেট ভেঙ্গে গ্লুকোজ, প্রোটিন ভেঙ্গে অ্যামাইনো এসিড, ফ্যাট ভেঙ্গে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত হয়।
পরিপাকক্রিয়ার সাথে জড়িত অঙ্গগুলো হলো- i. মুখবিবর, ii. গলবিল, iii. অন্ননালি, iv. পাকস্থলি, v. ক্ষুদ্রান্ত্র ও vi. বৃহদন্ত্র। শরীরের এ অঙ্গগুলো পৌষ্টিকনালি নামে পরিচিত। মুখবিবরে দাঁত দিয়ে চর্বণের মাধ্যমে খাদ্যবস্তু ছোট ও নরম হয়। নরম খাদ্যবস্তু অন্ননালি হয়ে পাকস্থলিতে আসে। পাকস্থলিতে সম্পূর্ণ পরিপাক হয় না। অপরিপাককৃত খাদ্যবস্তু ক্ষুদ্রান্ত্রে আসে। এখানে প্রধান পরিপাক কাজ চলে। এরপর খাদ্য বৃহদন্ত্রে আসে এবং পরিপাকক্রিয়া সম্পন্ন করে। এছাড়াও পরিপাকক্রিয়া সম্পন্ন করতে পৌষ্টিকগ্রন্থির কার্যকারিতা রয়েছে। পৌষ্টিকগ্রন্থিগুলোর মধ্যে লালাগ্রন্থি, যকৃত ও অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত বিভিন্ন পাচক রস পরিপাকে সাহায্য করে।
খাদ্যকে দেহের গ্রহণ উপযোগী অবস্থায় পরিণত করতে পরিপাক ক্রিয়ার প্রয়োজন। সুমনের এ মন্তব্যটি যথার্থ।
খাদ্য হিসেবে আমরা যা গ্রহণ করি সেগুলোর অধিকাংশই বৃহৎ অণুবিশিষ্ট এবং এদের রাসায়নিক গঠন অত্যন্ত জটিল প্রকৃতির। অধিকাংশ খাদ্যবস্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে দেহের গ্রহণ উপযোগী সরল উপাদানে পরিণত হওয়ার পর তা শরীরের কাজে আসে।
সাধারণত ভাত খাওয়ার সাথে সাথে ভাতের প্রধান পুষ্টি উপাদান স্টার্চ শরীরের কোনো কাজে আসবে না। কারণ স্টার্চ অনেকগুলো গ্লুকোজ অণুর সমন্বয়ে গঠিত। তাই খাওয়ার পর স্টার্চ ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হলে দেহ গ্লুকোজ শোষণ করে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করে। তেমনি প্রোটিন ভেঙে অ্যামাইনো এসিড এবং খাদ্যের ফ্যাট ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে পরিণত হওয়ার পর দেহের কাজে লাগে। খাদ্যবস্তুকে শরীরে কাজে লাগাবার জন্যে খাদ্যের বড় বড় অণুগুলো ভেঙে ছোট ছোট সরল অণুতে পরিণত হওয়া প্রয়োজন।
সুতরাং বলা যায়, সুমনের মন্তব্যটি যথাযথ ও সঠিক।
লালাগ্রন্থি থেকে যে রস বের হয় তাকে লালারস বলে।
ইমালসিফিকেশন বলতে পিত্তলবণ চর্বিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করাকে বোঝায়।
পিত্তলবণ অগ্ন্যাশয়ে তৈরি চর্বি হজমকারী লাইপেজ এনজাইমকে সক্রিয় করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!