সাম্প্রতিককালে নগরায়ণ, শিল্পায়ন প্রভৃতি ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবর্তনের ফলে সমাজে সামাজিক গতিশীলতার সুযোগ ও সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সামাজিক পরিবর্তনের হার সামাজিক গতিশীলতার সহায়ক বা প্রতিবন্ধক উপাদান হিসেবে কাজ করে। কেননা বিপ্লবের মতো দ্রুত সামাজিক পরিবর্তনের উপাদান উলম্ব সামাজিক গতিশীলতার ক্ষেত্রে সহায়তা করে। আবার প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সুযোগ যেখানে কম থাকে সেখানে সামাজিক গতিশীলতার সম্ভাবনাও কম থাকে।
উদ্দীপকের আহসান হাবিব স্যার বোর্ডে সমরূপতা, সর্বব্যাপক, সর্বজনীন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন। এগুলো সমাজের বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে।
বুৎপত্তিগত অর্থে সমাজ বলতে একত্রে বসবাসকে বুঝিয়ে থাকে। শব্দটি ব্যাপক ও সংকীর্ণ উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। ব্যাপক অর্থে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের সমগ্রতাকে সমাজ বলা হয়। আর সংকীর্ণ অর্থে একত্রে পারস্পরিক সম্পর্কসূত্রে এবং বিভিন্ন প্রথা- প্রতিষ্ঠানের ক্রিয়া পদ্ধতিতে আবদ্ধ হয়ে বসবাসকারী একদল মানুষের সমষ্টি বোঝায়। পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমেই সৃষ্ট সামাজিক সম্পর্কই সমাজ সৃষ্টির মূল উপাদান। সে অর্থে পারস্পরিক সম্পর্কে আবদ্ধ এবং সে সম্পর্ক বিষয়ে সচেতন মানবগোষ্ঠীই সমাজ। অন্যদিকে, সমাজ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সাদৃশ্য বা সহযোগিতার পাশাপাশি বিভিন্নতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
অতএব আমরা বলতে পারি যে, বোর্ডে স্যার সমাজের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে লিখেছেন।
সমরূপতা, সর্বব্যাপক ও সর্বজনীন বৈশিষ্ট্য ছাড়াও সমাজের আরও কতগুলো বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। নিচে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হলো-
সমাজ একটি সামাজিক সম্পর্কের ব্যবস্থা, সেহেতু এর বাহ্যিক আকার নেই। এটি হলো অনুভূতির বিষয়। তাই সমাজের আয়তন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। সমাজ সদা পরিবর্তনশীল। এ পরিবর্তনশীলতার ফলেই আদিম সমাজের সাথে বর্তমান সমাজের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। সমাজের অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যাকে একটি সম্পৃক্ত একক হিসেবে ধরে নেওয়া যায়।
কার্যক্রমের দিক থেকে সমাজ কতকগুলো বৃহৎ গোষ্ঠীর সমষ্টি, যার মাধ্যমে সমাজের মানুষের মৌলিক সামাজিক চাহিদার পরিপূরণ ঘটে। সমাজ সামগ্রিক কার্যপরিচালনাকারী একক হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। কেননা সমাজে যেমন সহযোগিতা বিদ্যমান, তেমনি দ্বন্দ্বও বিরাজমান। এদের উভয়েরই সহযোগে সমাজ তার কাজ চালিয়ে যায়। সমাজের সদস্যরা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এবং তারা তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক বিষয়ে সচেতন। প্রতিটি সমাজেই একটি সাধারণ জীবনপ্রণালি তথা সংস্কৃতি বিদ্যমান। সংস্কৃতির প্রতি সমাজের সকলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আনুগত্য স্বীকার করে। সর্বোপরি প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে সমাজের সদস্যরা সমাজের মধ্যে একাধিক সংঘ ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে।
Related Question
View Allকমার্কসীয় তত্ত্বানুযায়ী শ্রেণির প্রকৃতি উৎপাদন পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল।
জনসাধারণের পেশা ভৌগোলিক প্রভাবে নির্ধারিত হয় এবং তা সমাজজীবনকে প্রভাবিত করে।
ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ পাট উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। শীতলক্ষ্যার উপকূলে ডেমরা অঞ্চলে তাঁত শিল্প গড়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো যে, শীতলক্ষ্যার পানির প্রভাবে এ অঞ্চলের আবহাওয়া তাঁত-সুতার নমনীয়তা বাড়িয়ে দেয়। ফলে তাঁতিদের সুতিবস্ত্র বয়নে সুবিধা হয়। বাংলাদেশের সিলেটে ও আসামে গড়ে ওঠেছে চা শিল্প। এই শিল্পের মাধ্যমেও মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে, আর এসব শিল্পের উৎপাদনে ভূমিকা রাখছে 'ভৌগোলিক পরিবেশ'।
উদ্দীপকের শ্রমিকদের আন্দোলন মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বের ইঙ্গিত বহন করে।
শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কার্ল মার্কস বলেন, প্রতিটি মানবসমাজ দুটি বিবদমান শ্রেণিতে বিভক্ত। একটি শ্রেণি হলো উৎপাদন উপায়ের মালিক এবং অন্যটি হলো উৎপাদন উপায়ের মালিকানা থেকে বঞ্চিত অর্থাৎ শ্রমিক শ্রেণি। ঠিক এমনিভাবে আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজকেও কার্ল মার্কস পুঁজিপতি ও সর্বহারা শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে পুঁজিপতি শ্রেণি কর্তৃক শ্রমিক শ্রেণিকে অত্যধিক শোষণের ফলে এ সমাজে শ্রেণিসংগ্রাম তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। ফলে শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে - দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
উদ্দীপকে দেখতে পাই, জমির আলী যে গার্মেন্টসে কাজ করেন সেখানে শ্রমিকদের মজুরি খুবই কম। তাই জমির আলী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনের ডাক দেন। জমির আলী ও শ্রমিকদের এই আন্দোলন কার্ল মার্কসের শ্রেণি সংগ্রাম তত্ত্বকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই বলা যায়, জমির আলী ও শ্রমিকদের আন্দোলন মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বকেই নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের জমির আলীর বক্তব্যটি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বাহন ধর্মকে ইঙ্গিত করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। ধর্মীয় বিধান মানুষকে সৎ, সত্যবাদী, কর্তব্যপরায়ণ, উদার ও পরোপকারী হওয়ার শিক্ষা দেয়। ফলে মানুষ ধর্মীয় প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে অপরাধ ও অন্যায়মুক্ত জীবন গঠনে প্রয়াসী হয়।
ধর্ম মানুষকে নীতি আদর্শ মেনে চলতে একটি নির্দিষ্ট ধারায় পরিচালিত করে। কারণ পৃথিবীতে প্রচলিত প্রায় সব ধর্মেই ইহজগতে সৎকর্মের মাধ্যমে পরজগতে অনন্ত সুখের ধারণা দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে অসৎকর্মের শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। ফলে পরজগতে সুখের প্রত্যাশা ও শাস্তির ভয় মানুষকে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রিত আচরণ করতে অনুপ্রাণিত করে।
উদ্দীপকের জমির আলী শ্রমিকদের চুরি করা থেকে বিরত করে বলেন, 'আল্লাহ সব দেখছেন। আসেন আমরা চুরি না করে ন্যায্য মজুরির জন্য আন্দোলন করি।' তার এ বক্তব্য সামাজিক নিয়ন্ত্রণের বাহন ধর্মের ইঙ্গিতবহ। তাই এ কথা সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়, সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের জমির আলীর বক্তব্যটি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম বাহন ধর্মকে ইঙ্গিত করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। ধর্মীয় বিধান মানুষকে সৎ, সত্যবাদী, কর্তব্যপরায়ণ, উদার ও পরোপকারী হওয়ার শিক্ষা দেয়। ফলে মানুষ ধর্মীয় প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে অপরাধ ও অন্যায়মুক্ত জীবন গঠনে প্রয়াসী হয়।
ধর্ম মানুষকে নীতি আদর্শ মেনে চলতে একটি নির্দিষ্ট ধারায় পরিচালিত করে। কারণ পৃথিবীতে প্রচলিত প্রায় সব ধর্মেই ইহজগতে সৎকর্মের মাধ্যমে পরজগতে অনন্ত সুখের ধারণা দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে অসৎকর্মের শাস্তির কথাও বলা হয়েছে। ফলে পরজগতে সুখের প্রত্যাশা ও শাস্তির ভয় মানুষকে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রিত আচরণ করতে অনুপ্রাণিত করে।
উদ্দীপকের জমির আলী শ্রমিকদের চুরি করা থেকে বিরত করে বলেন, 'আল্লাহ সব দেখছেন। আসেন আমরা চুরি না করে ন্যায্য মজুরির জন্য আন্দোলন করি।' তার এ বক্তব্য সামাজিক নিয়ন্ত্রণের বাহন ধর্মের ইঙ্গিতবহ। তাই এ কথা সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়, সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অপরাধ বিজ্ঞানের জনক এডউইন এইচ, সাদারল্যান্ড।
ক্রিয়াবাদের জনক ডুর্খেইম তার ক্রিয়াবাদের ব্যাখ্যায় সমাজকে জীবদেহের সাথে তুলনা করেন।
একটি জীব বা একজন ব্যক্তিমানুষের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থাকে এবং জীবদেহ বা ব্যক্তিমানুষকে সচল রাখার জন্য তার অঙ্গ- প্রত্যঙ্গগুলো বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো তাদের কর্ম সঠিকভাবে সম্পাদন করলেই ব্যক্তিমানুষ সচল থাকে। তেমনি সমাজেরও থাকে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা অংশ। সমাজ সচল থাকে তখনই যখন সমাজের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠানসমূহ ও ব্যক্তিবর্গ নিজ নিজ কর্ম ও দায়িত্ব পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!