কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা বাজারের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে।
বাণিজ্যিক ব্যাংককে স্বল্পমেয়াদি ঋণের ব্যবসায়ী বলা হয়।
বাণিজ্যিক ব্যাংক জনগণের নিকট হতে প্রথমে আমানত হিসেবে সংগ্রহ করে উক্ত আমানত পরবর্তীতে নির্দিষ্ট হারে জমা রেখে বাকি অংশ বিনিয়োগ করে বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে স্বল্প মেয়াদে ঋণ দান করে। বাণিজ্যিক ব্যাংকের এরূপ ঋণদান কাজ সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য হয়ে থাকে। কারণ গ্রাহক তার জমাকৃত অর্থ যেকোনো সময় ফেরত চাইতে পারে। এক্ষেত্রে গ্রাহকের চাহিদার কথা বিবেচনা করে মূলত বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের মেয়াদ স্বল্পমেয়াদি হয়। তাই বলা যায়, বাণিজ্যিক ব্যাংক স্বল্পমেয়াদি ঋণের ব্যবসায়ী।
উদ্দীপকের আহাদ আশরাফ যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তা হচ্ছে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
যে ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্থ আমানত হিসেবে জমা রাখে এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী ঋণ প্রদান করে তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলে। বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রথম ও প্রধান কাজ হলো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে আমানত সংগ্রহ করা। কারণ এ ব্যাংক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ আমানতকারীর চাহিদা মেটানোর জন্য গচ্ছিত রেখে বাকি অর্থ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে স্বল্প মেয়াদের জন্য ঋণ প্রদান করে।
উদ্দীপকের আহাদ আশরাফ এরকম একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কারণ তাদের প্রতিষ্ঠানটি মুনাফার উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হয়। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে এবং উপযুক্ত জামানত ও বন্ধকির বিপরীতে ঋণ প্রদান করে। তাছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংক গৃহনির্মাণ, মৎস্য চাষ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি ক্ষেত্রে ঋণ প্রদান করে। বাণিজ্যিক ব্যাংক বিনিময়ের মাধ্যম সৃষ্টি, দেশীয় ও বৈদেশিক বাণিজ্য সহায়তা, অর্থ স্থানান্তর, বৈদেশিক আয় সংগ্রহ এবং সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে বাণিজ্যিক ব্যাংক। গঠন ও ধরনের ভিত্তিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনেক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা বাজারে মুরুব্বি হিসেবে কাজ করে। দেশের মুদ্রা বাজার সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য এ ব্যাংক কার্যরত সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংক দেশের মুদ্রা বাজারের একজন সদস্য। মুদ্রা বাজারে কার্যরত বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দায়িত্ব এ ব্যাংকের নেই।
উদ্দীপকের আহাদ আশরাফের প্রতিষ্ঠানটি ছিল বাণিজ্যিক ব্যাংক। তাদের ব্যাংকটি জনগণের অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেটি করে না। কারণ এটি দেশের সার্বিক কল্যাণের জন্য পরিচালিত হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের ব্যাংক। এটি সরকারের কর-রাজস্ব ও আয় সংরক্ষণ করে এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করে। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যাংক সরকারের আর্থিক বিষয়ে কোনো পরামর্শ দেয় না এবং অর্থসংক্রান্ত কোনো নীতি প্রণয়নে ভূমিকা রাখে না। সুতরাং বলা যায়, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
Related Question
View Allযা বিনিময়ের সাধারণ মাধ্যম, মূল্যের পরিমাপ ও সঞ্চয়ের বাহন হিসেবে সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত ও সকলের নিকট সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য হয়, তাকে মুদ্রা বলে।
মুদ্রার মূল্য বলতে তার ক্রয় ক্ষমতাকে বোঝায়।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দ্বারা যে পরিমাণ দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা ক্রয় করা যায় তাই হলো অর্থের মূল্য। অর্থের এ ক্রয়ক্ষমতা তথা অর্থের মূল্য দুটি দিক থেকে বিবেচনা করা হয়। যথা-অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ক্রয়ক্ষমতা। অর্থের অভ্যন্তরীণ মূল্য বলতে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থের ক্রয়ক্ষমতাকে বোঝায়। অন্যদিকে, অর্থের বৈদেশিক মূল্য বলতে আন্তর্জাতিক বাজারে তার ক্রয়ক্ষমতাকে বোঝায়। এটি বৈদেশিক বিনিময় হারের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। অর্থের মূল্য ১ বা যেখানে, Vm = অর্থের মূল্য ও P = দামস্তর।
দামস্তর
জাউদ্দীপকে উল্লিখিত তথ্যের ভিত্তিতে ফিশারের অর্থের বিনিময় সমীকরণ ব্যবহার করে নিচে দেশটির দামস্তর নির্ণয় করা হলো:
ফিশারের মুদ্রার পরিমাণ তত্ত্ব অনুসারে ভারসাম্য অবস্থায় অর্থের চাহিদা ও যোগান সমান হয়। অর্থাৎ, PT = MV + M'V' হয়, যা ফিশারের বিনিময় সমীকরণ নামে পরিচিত। এক্ষেত্রে PT হলো অর্থের চাহিদা এবং MV + M'V' হলো অর্থের যোগান।
এখন,
বা,PT = MV + M' V'
P=MV + M' V'
T
বা,
বা
বা
বা
এটিই হলো দেশটির নির্ণেয় দামস্তর।
ফিশারের বিনিময় সমীকরণ,
বা,
বা,
বা,
বা,
বা, P = 23.33
... নতুন দামস্তর, overline P1= 23.33 টাকা। দামস্তরের সাথে অর্থের মূল্য (Vm) এর বিপরীত সম্পর্ক হওয়ায় দামস্তর কমলে অর্থের মূল্য বাড়ে। যেমন- উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী দামস্তর P
= 64 টাকা হতে P1 = 23.33 টাকা হলে অর্থের মূল্য থেকে বেড়ে হয়। সুতরাং বলা যায়, প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী উল্লিখিত দেশটির ক্ষেত্রে অর্থের মূল্যের ধনাত্মক পরিবর্তন হবে তথা অর্থের মূল্য বাড়বে।
যে ব্যাংক দেশের মুদ্রা ব্যবসায় ও সমগ্র ব্যাংক ব্যবসায়কে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলে
ব্যাংকিং সুবিধা ও গঠন প্রক্রিয়ার দিক থেকে অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং থেকে ভিন্ন।
অনলাইন ব্যাংকিং বলতে এমন একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে বোঝায়, যার মাধ্যমে পূর্বে প্রচলিত ব্যাংকিং সার্ভিস দ্রুত এবং ব্র্যাঞ্চ নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা যায়। যেমন- অ্যাকাউন্ট থেকে যেকোনো ব্র্যাঞ্চের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়া বা উত্তোলন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের তথ্য জানা বা লেনদেন। অপরপক্ষে মোবাইল ব্যাংকিং একটি সম্পূর্ণ নতুন ব্যবস্থা যার মাধ্যমে মোবাইল নম্বরভিত্তিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থের লেনদেন করা যায়। অনলাইন ব্যাংকিং-এ ইন্টারনেট ও কম্পিউটার থাকা আবশ্যক। কিন্তু মোবাইল ব্যাংকিং-এ গ্রাহকের কাছে ইন্টারনেটের কোনো প্রয়োজন নেই। তাই বলা হয়, অনলাইন ব্যাংকিং এর গঠন প্রক্রিয়া, মোবাইল ব্যাংকিং এর গঠন প্রক্রিয়ার থেকে ভিন্ন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!