মহানবি (স) ৬১০ সালে নবুয়ত লাভ করেন।
হিলফুল ফুজুল বলতে কিশোর বয়সে মহানবি (স) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি শান্তিসংঘকে বোঝায়।
মহানবি (স) ছিলেন শান্তির দূত। তাই বালক বয়সে যখন তিনি পাঁচ বছর স্থায়ী 'হারবুল ফুজ্জার' যুদ্ধের (৫৮৪-৫৮৮ খ্রি.) ভয়াবহতা দেখলেন তখন তাঁর অন্তর মানবতার জন্য কেঁদে উঠল। এ প্রেক্ষিতেই তিনি সমমনা কয়েকজন উৎসাহী যুবক ও পিতৃব্য যুবাইরকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন 'হিলফুল ফুজুল' নামের শান্তিসংঘটি। সংগঠনটি গোত্রীয় যুদ্ধের অবসানসহ সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করত। এটি প্রায় ৫০ বছর স্থায়ী ছিল।
উদ্দীপকে আহাদ ও আসাদের বক্তব্যের মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাসের প্রথম যুদ্ধ বদর যুদ্ধের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধটি ইসলামের প্রাথমিক যুগে সংঘটিত হয়েছিল।
এটি ছিল ইসলামের ইতিহাসের প্রথম যুদ্ধ। এই যুদ্ধে মুসলমানদের জয়লাভের ফলে ইসলাম আরব উপদ্বীপে টিকে যায়। এই তথ্য থেকে প্রমাণিত হয় যে, যুদ্ধটি বদরের যুদ্ধ।
ইসলাম প্রচারে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে এবং কুরাইশদের অত্যাচারে আল্লাহর নির্দেশে মহানবি (স) ও অন্যান্য মুসলমানরা মক্কা ছেড়ে ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় হিজরত করেন। এরপর মুসলমানদের ওপর কুরাইশদের ক্ষিপ্ততা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছিল তেমনি মুসলমানদের সাথে তাদের শত্রুতাও সৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়া মদিনার ইহুদি নেতা আব্দুল্লাহ বিন উবাইয়ের মহানবি (স) কে মদিনা থেকে বহিষ্কারের ষড়যন্ত্র, মদিনায় ইহুদিদের বিশ্বাসঘাতকতা, আবু সুফিয়ানের মিথ্যা প্রচারণার কারণে এ শত্রুতা আরও বেড়ে গেলে ৬২৪ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মার্চ বদর প্রান্তরে মক্কার কুরাইশ ও মদিনার মুসলমানদের মধ্যে একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা ঐতিহাসিক বদরের যুদ্ধ নামে খ্যাত। এ যুদ্ধে মুসলমানরা জয়লাভকরে এবং এজন্য বদর যুদ্ধকে ইসলামের প্রথম বিজয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত উসমান এ যুদ্ধের কথাই উল্লেখ করেছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টির মধ্যে বদর যুদ্ধের চিত্র ফুটে উঠেছে এবং ইসলামের ইতিহাসে এই যুদ্ধের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব সময়ই ন্যায়ের জয় হয়। আর অসত্য কখনো সত্যকে পরাজিত করতে পারে না। বদর যুদ্ধ ছিল এরই প্রতিফলন। ইসলামের ইতিহাসের প্রথম ও যুগান্তকারী ঘটনা ছিল বদর যুদ্ধ। আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাওহিদ পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এটা অজ্ঞতার বিরুদ্ধে জ্ঞানের, সত্যের এবং পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে তাওহিদের বিজয় সূচনা করেছে। এটা ছিল ইসলাম ধর্মের এক বিশেষ পরীক্ষার দিন।
এ যুদ্ধে ইসলাম ও পৌত্তলিকতার চূড়ান্ত মীমাংসা হয়ে যায় এবং এতে মুসলিমরা জয়লাভ করে। সামান্য সংখ্যক মুসলমান সহস্রাধিক কুরাইশদেরকে পরাজিত করেন। যার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, ইসলাম আল্লাহর প্রেরিত ধর্ম এবং ইসলামকে ধ্বংস করার ক্ষমতা মানুষের সধ্যাতীত। এ যুদ্ধে মুসলমানগণ জয়লাভ না করলে ইসলাম ধর্ম পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। বদর যুদ্ধে জয়লাভকরে মুসলমানদের মনোবল, শক্তি, সাহস ও উদ্দীপনা বৃদ্ধি পায়। ফলে তাদের ধর্মবিশ্বাস ও আত্মবিশ্বাসে অনুপ্রাণিত হয়ে ধর্মের জন্য প্রাণদানের দৃঢ়সংকল্প গ্রহণই পরবর্তীকালে মুসলমানদের জন্য ব্যাপক সুফল বয়ে এনেছিল। এছাড়াও এ যুদ্ধে পরাজয়ের পর কুরাইশদের শক্তি খর্ব এবং সকল প্রকার অহংকার ধূলিসাৎ হয়ে যায়। অন্যদিকে ইসলামের গৌরব ও শক্তি মদিনায় ও মদিনার বাইরে বহুগুণে দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ইসলামের প্রথম যুদ্ধ হিসেবে বদর যুদ্ধের গুরুত্ব ছিল অপরিহার্য।
Related Question
View Allমহানবি (স) ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন।
সততা ও বিশ্বস্ততার ধারক হওয়ায় মহানবি (স)-কে আল-আমিন বলা হয়।
আল আমিন' শব্দের অর্থ বিশ্বাসী। মহানবি (স) ছোটবেলা থেকেই এ গুণটির অধিকারী ছিলেন। তিনি কখনো মিথ্যা কথা বলতেন না। তাই সবাই তাঁকে প্রচণ্ড বিশ্বাস করত এবং তাঁর ওপর আস্থা রাখত। এ মহান গুণের জন্য তাঁকে সবাই 'আল-আমিন' বলে ডাকত।
মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণে দেওয়া দাস-দাসীদের প্রতি সদয় আচরণের উপদেশটি মেনে চললে আশরাফ সাহেব অধীনদের সাথে বিরূপ আচরণ করতে পারতেন না।
১০ম হিজরির ৯ জিলহজ (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ) মহানবি (স) বিশ্বমানবতার জীবন পরিচালনার সার্বিক নির্দেশনাস্বরূপ মক্কার আরাফাতের ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যা বিদায় হজের ভাষণ নামে খ্যাত। এ ভাষণে তিনি মানবজাতির সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার সার্বিক উপদেশ প্রদান করেন। অধীন বা দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহারও ছিল এ ভাষণের একটি উপদেশ। কিন্তু আশরাফ সাহেব এ নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন।
আশরাফ সাহেব তার অধীন ড্রাইভার, পরিচারিকা, বাবুর্চির সাথে সমতাভিত্তিক আচরণ করেন না। তিনি তাদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করেন। তাদের চিকিৎসা, পোশাক, বাসস্থানের ব্যাপারেও তিনি উদাসীন। অথচ বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (স) বলেছেন, 'দাস-দাসীদের সাথে সদয় ব্যবহার করো। তাদের ওপর কোনোরূপ অত্যাচার করো না। তোমরা যা খাবে, তাদেরও তাই খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে, তাদেরও তাই পরাবে- ভুলে যেও না তারাও তোমাদের মতো মানুষ।'
রাসুল (স)-এর এ নির্দেশ মেনে চললে আশরাফ সাহেব তার অধীন কর্মচারীদের প্রতি অন্যায় আচরণ করতে পারতেন না।
উদ্দীপকে নারীর প্রতি যে অবহেলা প্রকাশ পেয়েছে তা মহানবি (স)-এর বিদায় হজের ভাষণের নারীর প্রতি সদ্ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশনার পরিপন্থি
মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর বিদায় হজের ভাষণ ছিল মানবজাতির জীবন পরিচালনার সার্বিক দিকনির্দেশনা। এ ভাষণে মানবজাতির মুক্তির নির্দেশনা দিতে গিয়ে রাসুল (স) বলেন 'তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সদয় ব্যবহার করবে, তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না। তাদের ওপর তোমাদের যেমন অধিকার রয়েছে তেমনি তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার রয়েছে।' কিন্তু জনাব আশরাফ এ নির্দেশ অমান্য করেছেন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আশরাফ সাহেব তার স্ত্রীর সাথে দুর্ব্যবহার করেন। পারিবারিক কোনো সিদ্ধান্তে তিনি স্ত্রীর মতামত গ্রহণ করেন না। তার এ কর্মকাণ্ড ইসলাম তথা রাসুল (স)-এর নির্দেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। কারণ ইসলাম নারীর সবধরনের অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে। মহান আল্লাহ স্ত্রীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাসুল (স)ও বিদায় হজের ভাষণে স্ত্রীদের প্রতি সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিশেষে বলা যায়, ইসলাম নারীকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে তাদের সকল প্রকার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই প্রত্যেকের কর্তব্য হলো ইসলামের এ নির্দেশ মেনে চলে নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা।
হযরত মুহাম্মদ (স)-এর মাতার নাম আমিনা বেগম।
হিলফুল ফুজুল বলতে কিশোর বয়সে মহানবি (স) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি শান্তিসংঘকে বোঝায়।
মহানবি (স) ছিলেন শান্তির দূত। তাই বালক বয়সে যখন তিনি পাঁচ বছর স্থায়ী 'হারবুল ফুজ্জার' যুদ্ধের (৫৮৪-৫৮৮ খ্রি.) ভয়াবহতা দেখলেন তখন তাঁর অন্তর মানবতার জন্য কেঁদে উঠল। এ প্রেক্ষিতেই তিনি সমমনা কয়েকজন উৎসাহী যুবক ও পিতৃব্য যুবাইরকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন 'হিলফুল ফুজুল' নামের শান্তিসংঘটি। সংগঠনটি গোত্রীয় যুদ্ধের অবসানসহ সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করত। এটি প্রায় ৫০ বছর স্থায়ী ছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!