আহ্বান' গল্পের বুড়িকে কে মা বলে ডাকে?

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

লেখক/কথক


বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আহ্বান' গল্পের বুড়িকে গল্পের লেখক বা কথক 'মা' বলে ডাকতেন। গল্পে বুড়ি ও লেখকের মধ্যে একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যেখানে বুড়ি লেখকের প্রতি মাতৃসুলভ স্নেহ এবং লেখক বুড়ির প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসার নিদর্শন স্থাপন করেন। বুড়ির নিঃসন্তান অবস্থা এবং লেখকের প্রতি তার অকৃত্রিম মমতা, লেখকের মনে বুড়িকে মায়ের আসনে বসাতে উদ্বুদ্ধ করে। এই সম্পর্ক ধর্ম, বর্ণ বা আর্থিক অবস্থার ঊর্ধ্বে উঠে মানবীয় বন্ধনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
1.5k

বর্তমান জগতে মানুষের জীবন বড় জটিল ও অস্বস্তিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কি তার জন্য কাম্য, কি নয়, এই নিয়ে পণ্ডিতে পণ্ডিতে মতভেদের আর অন্ত নেই। ধ্রুব বলে' কোথাও কিছু আছে কি না এই সংশয় জনসাধারণে পর্যন্ত সংক্রমিত হচ্ছে।
তবু যে-সব দেশ ভাগ্যবান সে-সব দেশে এই বিপদ কাটিয়ে উঠবার চেষ্টাও কম হচ্ছে না। মানুষের এতদিনের জ্ঞান ও বিশ্বাসের সবকিছুই যদি ঝালিয়ে নিতে হয় তবে তা নিতে হবে এ সঙ্কল্প যাঁদের অন্তরে প্রবল তাঁদের জন্য বেশীর ভাগ বিপদ কেটে গেছে বলা যেতে পারে।
কেউ কেউ বলতে পারেন, নানা-অভাবে-জর্জরিত আমাদের এ দেশেও এই ধরণের এক ভাগ্যবন্ত দেশ। তাঁদের মতে, ভারতবাসী আজ নিষ্ক্রিয় নয়, তাদের সামনে সকল লক্ষ্যের বড় লক্ষ্য রাষ্ট্রনৈতিক লক্ষ্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এসব কথার বিরুদ্ধে কিছু বলতে যাওয়া হয়ত অশোভন। কিন্তু সন্দেহ কীট যাদের অন্তরে প্রবেশ করেছে তাদের পক্ষে মৌনের মাধুর্য উপভোগ করাও সম্ভবপর নয়। আমাদের দেশের আধুনিক চিত্ত যে কত বিশৃঙ্খলাপূর্ণ তার কিছু পরিচয় পাওয়া যাবে দেশের শিক্ষার অবস্থা একটু মনোযোগ দিয়ে দেখলে।
যে ভাষা আমাদের মাতৃভাষা নয় তার সাহায্যে শিক্ষালাভ করলে তাতে অনেক ত্রুটি যে অনিবার্য হয়ে পড়ে এ-বিষয়ে আমাদের দেশের চিন্তাশীলেরা বোধ হয় একমত। এই সমস্যার মীমাংসার চেষ্টাও এতদিনে হয়ত আরম্ভ হতো যদি নানা অনিবার্য রাজনৈতিক কারণে শিক্ষা-সমস্যা আমাদের দেশের লোকদের চোখে নগণ্য হয়ে না পড়ত । কিন্তু শিক্ষার বাহনের সুমীমাংসা হলেও শিক্ষার অবস্থা যে আশানুরূপ সুন্দর হবার পথে দাঁড়াবে সে আশায় আশান্বিত হওয়া শক্ত এই একটি কারণে যে, শিক্ষাদান গ্রহণ করবে যে-মন তার অবস্থায় যদি কিছু স্বাভাবিক থাকে তবে শুধু শিক্ষাদানের ভাষার পরিবর্তনে বাঞ্ছিত ফলাফল লাভ হওয়া সম্ভবপর । এই সুব্যবস্থিত মনের অভাব নানা কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুপ্রকট হয়ে উঠেছে এই অভিযোগ আজকাল শিক্ষার্থীদের গুরুজনের অনেকেরই মুখে শোনা যায়। কিন্তু সমস্যা যদি এই হতো তবে ব্যাপার মোটেই কঠিন হতো না, কেননা জ্ঞানের ক্ষেত্রে যারা প্রবেশার্থী তাদের ত্রুটি নগণ্য। এই মনের গন্ডগোল আমাদের দেশে এর চাইতেও জটিল— এ ব্যাধিতে হয়ত বেশী করে ভুগছেন শিক্ষার্থীদের গুরুস্থানীয়েরাই।
এই ব্যাধি দেশের গুরুস্থানীয়দের আক্রমণ করেছে এই সব দিক থেকে: প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য জীবনযাপন প্রণালীর সংঘর্ষ; একালের প্রাচ্য জীবনে যে-সব চিন্তাধারা ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করছে দেশের বৃহত্তর জীবনের সঙ্গে সে-সবের কি যোগ সে-সব অনুধাবনে অনিচ্ছা; দারিদ্র্য।
অনেক শিক্ষিত ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি, পাশ্চাত্য প্রভাবে আমরা জীবনে আদর্শহীন হয়ে পড়েছি বেশী। কিন্তু পাশ্চাত্য লোকেরা বাস্তবিকই তো আদর্শহীন নন, আর পাশ্চাত্য আদর্শের পরিবর্তে অন্য আদর্শ (তা হোকনা দেশের প্রাচীন আদর্শ) তারা সর্বান্তঃকরণে গ্রহণ করেন কেন, এ সম্পর্কে কোনো সন্তোষজনক উত্তর তাদের মুখে শুনি নি । দারিদ্র্য তাঁদের এ অবনতির কারণ বলা চলে না, কেননা, যে-সব শিক্ষক দরিদ্র নন আদর্শ নিষ্ঠার অভাব তাঁদের ভিতরেও কম লক্ষযোগ্য নয় ।
কিন্তু পাশ্চাত্য প্রভাব ও দারিদ্র্য আমাদের জীবনে যে বিশৃঙ্খলা এনে দিয়েছে তার চাইতে অনেক বেশী বিশৃঙ্খলা এনে দিয়েছে একালে আমাদের দেশে যে সব চিন্তাশীলের জন্ম হয়েছে তাদের প্রভাব। প্রতিভাবান শক্তিমান নিশ্চয়ই কিন্তু তাঁর সাহচর্য বা অনুবর্তিতা করতে হয় সজাগভাবে, কেননা, শক্তিমান বলেই ব্যক্তিত্বেও বিশেষত্ব-বর্জিত তিনি নন, আর সে-বিশেষত্ব যুগ-ধর্মের প্রভাবে গঠিত; তাই এক যুগের মহাপুরুষের অনুবর্তিতা অন্য যুগের লোকদের করতে হয় যথেষ্ট সচেতন হয়ে, নইলে; তাঁদের জন্য যেটি সব চাইতে বাঞ্ছিত— তাদের যুগে সমসাময়িক জগতে তাঁদের জীবনকে সার্থক করা— তা থেকেই তাঁরা বঞ্চিত হন।
সার্থক জীবন-যাত্রার জন্য বিচারপরায়ণতা আমাদের চাই-ই, তা যত ভুলত্রুটির ভিতর দিয়েই সে বিচার চলুক— সেই বড় প্রয়োজন শিক্ষকরা এমনি গন্ডগোল সমাধান করতে পারছেন না, বা করছেন না ।
শিক্ষকরা এই মানসিক বিশৃঙ্খলার জন্য যথেষ্ট অস্বস্তি অনুভব করছেন না কেন তার দুটি কারণ নির্দেশ করা যেতে পারে— একটি, দেশের রাজনৈতিক গন্ডগোল, সেই গন্ডগোলে আত্ম-অন্বেষণ প্রায় অসম্ভব; অপরটি, জনসাধারণের অজ্ঞতা ও ঔদাসীন্য। পুত্রকন্যার শিক্ষাদানে যে অর্থ ব্যয় তাঁদের হচ্ছে তার বিনিময়ে তারা কি পাচ্ছেন এ প্রশ্ন তাঁরা নিজেদের ভালো করে করতে পারছেন না এজন্য যে কিছুদিন আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ যোগাড় করতে পারলেই অন্নের ব্যবস্থা একরকম হতে পারত, সেই মোহ আজো পুরোপুরি কাটে নি। শিক্ষার উদ্দেশ্য জ্ঞানার্জন নিশ্চয়ই, কিন্তু সদুপায়ে অর্থার্জনও ঘৃণার সামগ্রী আদৌ নয় । শিক্ষার উদ্দেশ্য যদি হয় মানুষের ভিতরকার সুপ্ত সৃষ্টি-শক্তিকে সচেতন করা, তবে যে শিক্ষা মানুষের প্রয়োজনীয় জীবিকা আহরণের জন্য সাহায্য করে না, সে-শিক্ষা কেন আদৌ শিক্ষা নামে খ্যাত হবে, এ প্রশ্ন জনসাধারণের মনে জাগলে শিক্ষকদের হুঁশিয়ার হয়ে উঠতে হবে অনেকখানি। কিন্তু দায়িত্বও মানুষ গ্রহণ করতে পারে ইচ্ছুক হয়ে বা অনিচ্ছুক হয়ে দেশের জনসাধারণ যখন দেশের শিক্ষকদের প্রদত্ত শিক্ষার মূল্য যাচাই করতে চাইবেন তখন সে পরীক্ষা যদি তাঁরা শ্রদ্ধার ভাবে গ্রহণ করতে পারেন তবে সেইটিই হবে দেশের জন্য কল্যাণকর।
সমুদ্রগামী জাহাজের জন্য যেমন নাবিক, সমাজ বা দেশের পক্ষেও তেমনি শিক্ষক। আরোহীরা কত বিচিত্র খেয়াল ও খুশীর ভিতর দিয়ে দিন কাটাতে থাকেন, নাবিকরা সে সব দেখেন, সময় সময় তাঁদের বুকও আন্দোলিত হয়, তবু জাহাজ চালনা তাদের বড় লক্ষ্য এ-ব্যাপারে ভুল হওয়া মারাত্মক। সমাজ বা দেশের বিচিত্র জীবনযাত্রাও তেমনি শিক্ষকের বুকে স্পন্দন জাগাতে পারে, কিন্তু সর্বাগ্রে তিনি শিক্ষক— মানুষের মনের লালন, শৃঙ্খলা-বিধান তাঁর বড় কাজ, এবং সেই জন্য তিনি স্বদেশ-প্রেমিক বা বিশেষ-ধর্ম-প্রেমিক ইত্যাদি যাই হোন তারও উপরে তিনি বৈজ্ঞানিক, man of science, বিচারবুদ্ধি তাঁর শ্রেষ্ঠ অবলম্বন – একথা বিস্মৃত হলে মানুষের সেবাও আর তাঁর দ্বারা হয় না।
আমাদের দেশের শিক্ষক-সমাজ আজ মনোজীবী নন, বড়-জোর ভাবপ্রবণ মনে হয়, শিক্ষা-ব্যাপারে এ একটা
বিষম সঙ্কট ।
 

Related Question

View All
উত্তরঃ পুকুরঘাটে

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'আহ্বান' গল্পে লেখক যখন অনেকদিন পর নিজের গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন, তখন বুড়িকে প্রথম গ্রামের পুকুরঘাটে দেখতে পান। বুড়ি সেখানেই লেখকের জন্য অপেক্ষা করছিল। এই প্রথম সাক্ষাৎকারের মাধ্যমেই বুড়ির সাথে লেখকের এক অদ্ভুত মমত্ববোধের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা গল্পে অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
640
উত্তরঃ

"ওর স্নেহাতুর আত্মা বহুদূর থেকে আমায় আহ্বান করে এনেছে" উক্তিটির তাৎপর্য হলো, মোবারক নিঃসন্তান হওয়ায় তার মনে যে সন্তানস্নেহের অভাব ছিল, পরিত্যাক্ত শিশু রহমতের প্রতি তার আকস্মিক দরদ সেই অভাব পূরণ করে। রহমতের অসহায়ত্ব ও স্নেহের আকাঙ্ক্ষা যেন অলৌকিকভাবে মোবারককে তার কাছে টেনে এনেছিল, যা মোবারকের হৃদয়ের গভীর মানবিকতার পরিচায়ক।

এই উক্তিটির মাধ্যমে মানব হৃদয়ের গভীর মায়া, মমতা এবং ভালোবাসার এক অসামান্য চিত্র ফুটে ওঠে। এটি বোঝায় যে, রক্তসম্পর্ক না থাকলেও স্নেহের টানে মানুষ একে অপরের প্রতি কত গভীর বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে। রহমতের মাধ্যমে মোবারক ও ফরিদার জীবনে শূন্যতা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি এক অপার্থিব আনন্দ ও পূর্ণতার ইঙ্গিত এই উক্তির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে সন্তানহীন মানুষের মনে মাতৃত্ব ও পিতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা এবং অসহায় শিশুর প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা একাকার হয়ে যায়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
535
উত্তরঃ

উদ্দীপকের মোবারক দম্পতির মাধ্যমে নিঃস্বার্থ মানবতাবোধ, গভীর মমতা ও সন্তানস্নেহের এক অনন্য দিক প্রতিভাত হয়েছে। নিঃসন্তান ও দরিদ্র কৃষক মোবারক যখন বাগান থেকে এক রুগ্ন শিশুকে উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে আসে এবং তার স্ত্রী ফরিদার সাথে মিলে সন্তানস্নেহে লালনপালন করতে শুরু করে, তখন তাদের শূন্য ঘরে আনন্দের আগমন ঘটে। এই ঘটনা মানবজাতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের পরিচায়ক, যা মানবপ্রেমের এক মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

'আহ্বান' গল্পে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এমনই এক অকৃত্রিম মানবিক সম্পর্কের চিত্র এঁকেছেন। সেখানে বৃদ্ধা মুসলমান মহিলার প্রতি লেখকের মমত্ববোধ এবং বৃদ্ধার নিঃস্বার্থ ভালোবাসার বন্ধন অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী রূপে বর্ণিত হয়েছে। উদ্দীপকের মোবারক দম্পতির অসহায় শিশুর প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, মমতা ও সন্তানস্নেহ 'আহ্বান' গল্পের মানবিক সম্পর্কের গভীরতা এবং জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের প্রতি ভালোবাসার দিকটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

বস্তুত, উভয় ক্ষেত্রেই মানবজীবনের গভীরতম অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে। মোবারক ও ফরিদা যেমন নিজেরা সন্তান না পেয়েও এক পরিত্যক্ত শিশুকে নিজেদের করে নিয়ে তার প্রতি অগাধ মমতা ও ভালোবাসা বর্ষণ করেছে, তেমনি 'আহ্বান' গল্পেও ভিন্ন ধর্ম ও বয়সের দুটি মানুষের মধ্যে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসার মধ্য দিয়ে। এটি প্রমাণ করে যে, সামাজিক বন্ধন, ধর্ম বা আর্থিক অবস্থা নির্বিশেষে মানবীয় প্রেম ও মমত্ববোধের শক্তি জীবনকে সার্থক করে তোলে এবং এটাই 'আহ্বান' গল্পের মূল প্রতিপাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
862
উত্তরঃ

উদ্দীপকে এক নিঃসন্তান কৃষক দম্পতি কর্তৃক এক পরিত্যক্ত শিশুকে পরম মমতায় লালন-পালনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যা মানবিক প্রেম ও ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'আহ্বান' গল্পেও ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিকতার ঊর্ধ্বে মানবপ্রেমের এক অসামান্য চিত্র ফুটে উঠেছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ও সুগভীর তাৎপর্যপূর্ণ।

উদ্দীপকে দেখা যায়, দরিদ্র ও নিঃসন্তান কৃষক মোবারক শীতের এক সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক অসুস্থ, পরিত্যক্ত শিশুর কান্না শুনতে পায়। মানবিকতাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সে শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে আসে এবং তার স্ত্রী ফরিদা পরম মমতায় তাকে গ্রহণ করে। তারা শিশুটির নাম রাখে রহমত এবং তাকে নিজেদের শূন্য ঘরের আনন্দ হিসেবে বরণ করে নেয়। এই ঘটনা তাদের মধ্যে সন্তানের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং নিঃস্বার্থ সেবা প্রকাশ করে, যা জৈবিক সম্পর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে মানবপ্রেমের এক অনবদ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

অন্যদিকে, 'আহ্বান' গল্পের মূল বক্তব্য হলো, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে মানবপ্রেমের জয়গান। গল্পে এক বৃদ্ধ মুসলিম মহিলা ও একজন শিক্ষিত হিন্দু যুবকের মধ্যে গড়ে ওঠা আত্মিক সম্পর্ক বর্ণিত হয়েছে। বুড়ি নিঃস্বার্থভাবে হিন্দু যুবককে তার সন্তানস্নেহে লালন-পালন করে, তার জন্য খাবার তৈরি করে, তাকে আগলে রাখে। এই সম্পর্ক প্রচলিত সামাজিক রীতিনীতিকে অতিক্রম করে এক অপূর্ব মানবিক বন্ধনে রূপ নেয়। বুড়ির মৃত্যুতে লেখকের শূন্যতা অনুভব প্রমাণ করে যে, মানবপ্রেমের বন্ধন কতটা গভীর ও সর্বজনীন হতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের মোবারক-ফরিদা দম্পতির পরিত্যক্ত শিশুকে সন্তান হিসেবে গ্রহণ করা এবং 'আহ্বান' গল্পের বুড়ির পরধর্মাবলম্বী যুবককে সন্তানতুল্য ভালোবাসা—উভয় ক্ষেত্রেই মানবিকতা, নিঃস্বার্থ প্রেম এবং বন্ধনহীন আত্মিক সম্পর্কের জয় ঘোষিত হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই জৈবিক বা প্রথাগত সম্পর্কের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে মানবীয় ভালোবাসা নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং জীবনের শূন্যতা পূরণে এক গভীর তাৎপর্য বহন করেছে। তাই বলা চলে, উদ্দীপকের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও 'আহ্বান' গল্পের মূল বক্তব্য একই সূত্রে গাঁথা।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
633
উত্তরঃ

উদ্ধৃত উক্তিটির মাধ্যমে সৌদামিনী মালোর মাতৃস্নেহের চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটেছে। হরিদাস মুসলমান জেনে সৌদামিনীকে ছেড়ে চলে গেলেও তার মন হরিদাসের প্রতি ভালোবাসাকে উপেক্ষা করতে পারেনি।

সন্তান যখন ফিরে আসে, তখন তার ডাক উপেক্ষা করা সৌদামিনীর পক্ষে সম্ভব ছিল না, কারণ তার মন গভীর মাতৃস্নেহে পরিপূর্ণ ছিল। এই উক্তিটি নির্দেশ করে যে, ধর্ম, বর্ণ বা সামাজিক বিভেদ যাই হোক না কেন, সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা অদম্য এবং তা সকল বাধা অতিক্রম করে জয়ী হয়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
661
উত্তরঃ

‘সৌদামিনী মালো’ ও ‘আহ্বান’ উভয় গল্পেই মানব সম্পর্কের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গভীরতা প্রকাশ পেয়েছে, যা তাদের মধ্যে প্রধান সাদৃশ্য। তবে গল্পের পরিণতি ও সম্পর্কের ভঙ্গুরতার দিক থেকে তাদের মধ্যে বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।

সাদৃশ্যের দিক থেকে, দুটি গল্পেই মানবিক প্রেম ও স্নেহ ধর্মীয় ভেদাভেদকে অতিক্রম করে মহত্তর রূপে প্রকাশিত হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত 'সৌদামিনী মালো' গল্পে নিঃসন্তান সৌদামিনী মালো এক মুসলমান কৃষক পরিবারের সন্তান হরিদাসকে মাতৃস্নেহে বুকে তুলে নেন, যা ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে মানবতাবোধের জয় ঘোষণা করে। একইভাবে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'আহ্বান' গল্পে একজন হিন্দু জমিদারের শিক্ষিত তরুণ মুসলমান বৃদ্ধা উজিরন বুড়ির প্রতি গভীর আত্মিক টান অনুভব করে এবং বুড়িও তাকে মাতৃস্নেহে আগলে রাখে। উভয় ক্ষেত্রেই অসাম্প্রদায়িক মানবতাবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

অন্যদিকে, দুটি গল্পের মধ্যে বৈসাদৃশ্যও সুস্পষ্ট। 'সৌদামিনী মালো' গল্পে হরিদাস যখন জানতে পারে সে মুসলমানের ছেলে, তখন সে সৌদামিনীকে ছেড়ে চলে যায়, যা ধর্মীয় পরিচয়ের কাছে মানবিক সম্পর্কের ভঙ্গুরতা তুলে ধরে এবং সৌদামিনীর মাতৃহৃদয় হাহাকার করে ওঠে। এটি মানবতাবাদের উপর ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রভাবকে ইঙ্গিত করে। কিন্তু 'আহ্বান' গল্পে উজিরন বুড়ি ও লেখকের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ থাকে এবং ধর্মের পরিচয়ে তাদের ভালোবাসায় কোনো ভাঙন আসে না, বরং বুড়ির মৃত্যুতে লেখকের হৃদয়ে গভীর শূন্যতা তৈরি হয়, যা সম্পর্কের দৃঢ়তা ও স্থায়ীত্বের প্রতীক। এদিক থেকে দুটি গল্পে সম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতিতে ভিন্নতা দেখা যায়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
525
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews