শিশুরা ধর্মীয় শিক্ষা মূলত পরিবারেই পায়।
পিতা-মাতার আচরণ শিশুর সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। শিশুরা অনুকরণপ্রিয় হয়। তাই তাদের আচার-ব্যবহার, বিবেক-বুদ্ধি তাদের পিতা-মাতার আচরণ ও বিচার-বুদ্ধির ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে। যে কারণে শিশুর ওপর পিতা-মাতার আচরণ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
আয়েশার ব্যক্তিত্বপূর্ণ মানুষে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে' তার পরিবারের ভূমিকা ব্যাপক।
একটি শিশুর সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় তার পরিবারের গুরুত্ব অনেক। কারণ পরিবারই একটি শিশুকে পরিপূর্ণ সামাজিক মানুষে পরিণত হওয়ার প্রাথমিক জ্ঞান দেয়।
উদ্দীপকে আয়েশা ব্যক্তিত্বপূর্ণ সামাজিক মানুষে পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে তার পরিবার ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। একটি শিশু তার পিতা-মাতা, পরিবারের সদস্যদের আচার-আচরণ, মূল্যবোধ, বিচার-বিবেচনা প্রভৃতির মাধ্যমে প্রভাবিত হয়। এগুলো তাকে সমাজের সক্রিয় সদস্যে পরিণত হতে সহায়তা করে। এছাড়া একটি শিশু প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের কাছে পেয়ে থাকে। এ শিক্ষাই তার শিক্ষাজীবনের মূল ভিত্তি। আবার ধর্মীয় শিক্ষা শিশুর মূল্যবোধ গঠনে সহায়তা করে। শিশুরা ধর্মীয় শিক্ষা সাধারণত পরিবারের কাছ থেকেই পেয়ে থাকে। শিশুর মানবিক ও সামাজিক বিকাশে এ শিক্ষার গুরুত্ব অনেক। তাই বলা যায়, আয়েশাকে ব্যক্তিত্বপূর্ণ মানুষে পরিণত করতে তার পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম।
একজন সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে উদ্দীপকে উল্লেখিত মাধ্যমগুলোর অর্থাৎ পরিবার, খেলার সাথি ও বিদ্যালয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
একটি শিশুর পূর্ণাঙ্গ সামাজিক মানুষে পরিণত হওয়ার পেছনে অনেকগুলো সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করে। এদের মধ্যে পরিবার, বিদ্যালয়, ধর্ম, চিত্তবিনোদন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। উদ্দীপকে আয়েশা আচার-আচরণ, কথাবার্তা, চলাফেরা প্রভৃতি শিক্ষা পরিবার, খেলার সাথী ও বিদ্যালয় থেকে পেয়েছে।
শিশুর সামাজিকীকরণে তার পরিবারের ভূমিকা ব্যাপক। পরিবার শিশুর সামাজিক আচার-ব্যবহার, মূল্যবোধ ও রীতি-নীতির প্রাথমিক ধারণা প্রদান করে। এছাড়া শিশু প্রাথমিক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষা সাধারণত তার পরিবারের কাছ থেকে পেয়ে থাকে। এ শিক্ষাগুলো তার ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়ক। এছাড়া সে খেলার সাথীর কাছ থেকে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধসহ বিভিন্ন গুণ অর্জন করে। অন্যদিকে, বিদ্যালয় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা করে শিশুকে পূর্ণাজা সামাজিক মানুষ হতে সহায়তা করে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, শিশুর সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনে উদ্দীপকের মাধ্যমগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allযে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানবশিশু ক্রমশ সামাজিক মানুষে পরিণত হয় তাকে সামাজিকীকরণ বলে।
শিশুর সবচেয়ে কাছের মানুষ হলেন মা-বাবা। আবার এই দুজনের মধ্যে অধিকতর কাছের মানুষ হলেন মা। শিশুর সামাজিকীকরণের প্রথম সূত্রপাত ঘটে মার কাছ থেকেই। শিশুর ভাষা শিক্ষার প্রথম মাধ্যম 'মা'। মা যেভাবে শিশুকে বর্ণ, শব্দ, ছড়া ইত্যাদি শেখাবেন, শিশু ঠিক সেভাবেই শিখবে। এ কারণেই 'মা'-কে শিশুর ভাষা শিক্ষার প্রথম মাধ্যম বলা হয়।
জেরিনদের পরিবার একটি একক পরিবার।
পরিবার একটি চিরস্থায়ী সামাজিক সংগঠন। এই পরিবারের রয়েছে বিভিন্ন রূপ। এর মধ্যে অন্যতম রূপ হলো একক পরিবার ব্যবস্থা। সাধারণত স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তান নিয়ে একক পরিবার গঠিত হয়। আবার সন্তান উপযুক্ত হলে বিয়ে করে আলাদা পরিবার গঠন করে। তখন আরেকটি নতুন একক পরিবার গঠিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জেরিনদের বাসায় তার মা-বাবা ও ছোটো ভাই থাকে। অর্থাৎ জেরিনের বাবা-মা এবং তারা দুই ভাইবোন মিলে একটি পরিবারে বাস করে। জেরিনদের এই পরিবারের রূপটি একক পরিবার ব্যবস্থাকেই নির্দেশ করে। সুতরাং বলা যায়, জেরিনদের পরিবার একটি একক পরিবার।
সামাজিকীকরণ হচ্ছে এমন প্রক্রিয়া, যা মানব শিশুকে ক্রমশ সামাজিক মানুষে পরিণত করে। শিশুর এই সামাজিকীকরণে বিভিন্ন মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তেমনই একটি মাধ্যম হচ্ছে পরিবার। আকারের ভিত্তিতে পরিবার একক ও যৌথ প্রকৃতির হয়। আর সদস্য সংখ্যার তারতম্যের কারণে শিশুর সামাজিকীকরণে উক্ত দুই ধরনের পরিবারের ভূমিকায়ও পার্থক্য দেখা যায়।
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেই শিশুর 'নিজ' ও 'অপর' সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়। যা তার আত্মপরিচয় গঠনে সহায়তা করে। তাই পরিবারের সদস্য সংখ্যা যত বেশি হয়। শিশুর ভাবের আদান-প্রদানও তত বেশি হয়। ফলে সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ ঘটে। এ প্রেক্ষিতে উদ্দীপকের জেরিন একক পরিবারে বাস করায় কেবল তার বাবা-মা ও ভাইয়ের কাছ থেকে বিভিন্ন গুণ শিখতে পারবে। অন্যদিকে, মেহরিমাদের বাসায় তার চাচা-চাচি, দাদা-দাদিসহ অনেকে একত্রে বাস করে। রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে কয়েকটি পরিবারের এই একত্রে বসবাস যৌথ পরিবারকে নির্দেশ করে।
যৌথ পরিবারে দাদা-দাদি, চাচা-চাচিসহ অন্যান্য সদস্যদের সাথে শিশুর পারস্পরিক আচার-আচরণিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এসব আচার-আচরণিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শিশু সহযোগিতা, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ইত্যাদি গুণ অর্জন করার সামাজিক শিক্ষা পায়। যা শিশুর সামাজিকীকরণে প্রভাব ফেলে। আকারের ভিত্তিতে জেরিন ও মেহরিমাদের পরিবার যথাক্রমে একক ও যৌথ প্রকৃতির হওয়ায় সামাজিকীকরণে পরিবার দুটির ভূমিকায় পার্থক্য রয়েছে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, জেরিনদের পরিবারের তুলনায় মেহরিমাদের পরিবার শিশুর সামাজিকীকরণে বেশি ভূমিকা রাখে।
শিশু একটি পরিবারে তথা সমাজে যেভাবে সামাজিক হয়ে গড়ে ওঠে তাকেই সামাজিকীকরণ বলা হয়।
বর্তমান সময়ে পরিবার ছোটো হয়ে যাওয়ায় এবং বাবা-মা উভয়ের ব্যস্ততার কারণে সন্তানদের ধর্ম শিক্ষার ক্ষেত্রে পরিবারগুলোর ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
আগে সাধারণত পরিবারের মধ্যেই শিশুর ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হতো। সম্প্রতি দেখা যায়, ইউটিউবে বা ফেসবুকের অসমর্থিত সূত্র থেকে শিশুকে ধর্মশিক্ষা দিতে হচ্ছে। এতে শিশুর মধ্যে প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি হচ্ছে না। ফলে ধর্ম মানুষের জীবনে যে মানবিক, নৈতিক গুণ তৈরি করে সে গুণ তৈরি হচ্ছে না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!