প্রায় দুশো বছর ইংরেজরা এ দেশ শাসন করেছিল। তারা এ দেশের কৃষকদের নির্যাতন করত। তিতুমীর কৃষকদের বাঁচাতে যুদ্ধ করেছিলেন। এমনকি সে যুদ্ধে ইংরেজদের আক্রমণ প্রতিহত করতে তিনি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। এ যুদ্ধে নির্ভীক তিতুমীর কৃষক সৈনিকদের সাথে নিয়ে লড়াই করতে করতে শহিদ হন।
Related Question
View Allপ্রায় দুশো বছর ইংরেজরা এ দেশ শাসন করেছে। সূর্যসেন ও প্রীতিলতা ইংরেজ শাসকদের হাত থেকে এ দেশকে মুক্ত করার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। ইংরেজ শাসকরা সূর্যসেনকে আটক করে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে। অন্যদিকে প্রীতিলতা ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় নিজের জীবন আত্মাহুতি দেন।
পাকিস্তানি সরকার আমাদের ভাষার অধিকার হরণ করতে চেয়েছিল। তাই বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা আন্দোলন করেছিলেন। সেই আন্দোলনে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অনেকে শহিদ হন। মূলত বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন। তাঁদের স্মরণ করেই শহিদ মিনার নির্মিত হয়। প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারিতে আমরা ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি ।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে আইয়ুব খান ছিলেন পাকিস্তানের শাসক। তার অত্যাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান হয়। সে আন্দোলনে আইয়ুব খানের পুলিশ বাহিনী হত্যা করেন ছাত্রনেতা আসাদকে। হত্যা করা হয় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মতিয়রকে। ঘরের মধ্যে সন্তানকে খাবার খাওয়ানোর সময় নিহত হন আনোয়ারা বেগম। এছাড়াও আইয়ুব খানের নির্মমতার স্বীকার হন সার্জেন্ট জহুরুল হক, অধ্যাপক শামসুজ্জোহাসহ কৃষক-শ্রমিক আর খেটে-খাওয়া অনেক মানুষ।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও এ দেশে এদেশের শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক আচরণ একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। ফলে এ দেশের শাসক শ্রেণির বিরুদ্ধে বারবার মানুষকে লড়াই সংগ্রাম করতে হয়েছে। শিক্ষার অধিকার রক্ষায় ১৯৮৩ সালে ছাত্রনেতা সেলিম-দেলোয়ারসহ আরও অনেকে শহিদ হন। গণতন্ত্রের দাবিতে ১৯৮৭ সালে শহিদ হন নুর হোসেন। ১৯৯০ সালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ডাক্তার মিলন ও জেহাদ। ২০২৪ সালে বৈষম্য ও অধিকারের দাবি নিয়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে। সরকারি বাহিনীর নির্যাতনে যা পরবর্তী সময়ে বিশাল এক অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
অধিকার আদায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস সুপ্রাচীন। বহু ত্যাগের পরও এ দেশের মানুষ পূর্ণ অধিকার পায় না, তাদের সাথে বৈষম্য কমে না। তাই অধিকারের দাবি ও বৈষম্যের নিরসনের কথা বলতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা ২০২৪ সালে রাস্তায় নামে। সেসময় সরকার নির্মমভাবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমন করতে চায়। তখন পুলিশের গুলিতে রংপুরে শহিদ হন আবু সাঈদ। এর ফলে আন্দোলন সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। নিহত হন আরও অনেকে।
২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রাণ দিয়ে শহিদ হওয়া আবু সাঈদ ও মীর মুগ্ধের অবদান চিরস্মরণীয়। আবু সাঈদ ছিলেন রংপুরের ছাত্রনেতা। তিনি পুলিশের অত্যাচারের বিরুদ্ধে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়ান। পুলিশ তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। তাঁর মৃত্যুতে উত্তাল হয় দেশবাসী। আর ঢাকার উত্তরায় মীর মুগ্ধ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পানি বিতরণ করেন। পানি বিতরণের একপর্যায়ে অতর্কিত গুলিতে তিনি শহিদ হন ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!