NASWF এর পূর্ণরূপ হলো- National Association of Social Work Foundation
ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় সমাজসেবা ক্ষেত্রে দান সংগঠন সমিতির উদ্ভব ঘটে, যা সমাজকর্ম পেশার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থায় যে সমাজকল্যাণ বা সমাজসেবামূলক প্রচেষ্টা চালানো হতো তা ছিল বিচ্ছিন্ন ও অসংগঠিত। এ সকল সমাজকল্যাণ ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ইংল্যান্ডের লন্ডনে ১৮৬৯ সালে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাফেলো শহরে ১৮৭৭ সালে দান সংগঠন সমিতি (COS) প্রতিষ্ঠিত হয়।
স্লাইড 'ক' তে ১৮৩৪ সালের দরিদ্র সংস্কার আইনের ইঙ্গিত নীরয়েছে।
১৬০১ খ্রিষ্টাব্দের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন প্রণয়নের পর ইংল্যান্ডের সমাজজীবনে বিভিন্ন ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ফলে বঞ্চিত ও অসহায় দরিদ্রদের সত্যিকার কল্যাণ প্রদানের উদ্দেশ্যে দরিদ্র সংস্কার আইনটি প্রণীত হয়। অর্থনৈতিক বিচারে দেখা যায় যে, ১৮৩৪ সালে দরিদ্র সংস্কার আইন সরকারের দরিদ্র আইন বাস্তবায়নে ব্যয় হার অনেকাংশে হ্রাস করতে সক্ষম হয়। যার ফলশ্রুতিতে ইংল্যান্ডে এ আইন প্রণয়নের তিন বছরের মধ্যে দরিদ্র সাহায্য ব্যয় এক-তৃতীয়াংশ কমে যায়। ১৮৩৪ সালের দরিদ্র আইন সংস্কারের মাধ্যমে সক্ষম দরিদ্রদের নিজেদের পরিবারের প্রয়োজন পূরণে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য কাজে বাধ্য করা হয়, যা প্রাথমিকভাবে সমাজকর্ম পেশার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এছাড়া সমাজকল্যাণমূলক সংস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৮৪৭ সালে Poor law Board গঠন করা হয়, উদ্দীপকে আমরা 'ক' স্লাইডটিতে এসব বিবরণ সম্পর্কেই জানতে পারি। তাছাড়া এ আইনের প্রেক্ষিতে ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দে জনস্বাস্থ্য আইন প্রণয়নের মাধ্যমে 'General Board of Health' গঠন করা হয়। এ বোর্ডের মাধ্যমে বস্তি এলাকার বাসস্থান উন্নয়ন, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, মহামারি ও সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা করা হয়। সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ আইনটি নানাভাবে সমালোচিত হলেও ইংল্যান্ড ও সমাজকর্ম পেশার প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান ও বিকাশে এ আইনের ভূমিকা অপরিসীম।
আলোচ্য উদ্দীপকের স্লাইড 'খ' তে ১৯০৫ সালে ইংল্যান্ডে প্রণীত দরিদ্র আইন কমিশনের সুপারিশমালা বর্ণিত হয়েছে। আধুনিক সমাজকর্ম পেশার ভিত্তি সুদৃঢ়করণে উক্ত কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১৯০৫ সালের দরিদ্র আইন কমিশনের মাধ্যমে ইংল্যান্ডে সমাজকল্যাণের ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। এ কমিশনের বাস্তবমুখী সুপারিশমালা ইংল্যান্ডের সমাজসেবার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে আসে। দরিদ্র আইন কমিশনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে কতগুলো সামাজিক আইন প্রণীত হয়। যেগুলো ইংল্যান্ডের সমাজজীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে।
১৯০৫ সালের দরিদ্র আইনের অধীনে ১৯০৬ সালের শিক্ষা আইন প্রণীত হয় যার মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যায়ে স্কুলগুলোতে ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা করা হতো। এছাড়া ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার জন্য ১৯০৭ সালে শিক্ষা আইন প্রণীত হয়। ১৯০৮ সালের বৃদ্ধকালীন পেনশন আইনে বৃদ্ধ বা প্রবীণদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি হিসেবে পেনশন প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়। এ আইনের অধীনে শ্রমিকদের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণে ১৯০৯ সালে শ্রমিক বিনিময় আইন প্রবর্তন করা হয়। একই সময়ে সক্ষম দরিদ্রদের শ্রমাগার ও অক্ষম দরিদ্রদের দরি দ্রাগারে রাখার পরিবর্তে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ১৯০৯ সালের দরিদ্র আইন সংশোধন পাস করা হয়। এ আইন কমিশনের আলোকে ১৯১১ সালে জাতীয় বিমা আইন প্রণয়ন করা হয়- যার মাধ্যমে পরিমিত আয়ের শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য বিমার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া ১৯২৫ সালের বিধবা, এতিম ও বৃদ্ধ পেনশন আইন প্রণয়নেও দরিদ্র আইন কমিশনের ভূমিকা লক্ষ করা যায়। ১৯১৩ সালের জাতীয় অর্থনীতি আইন প্রণয়নেও এ কমিশনের প্রভাব ব্যাপকভাবে লক্ষ করা যায়।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ১৯০৫ সালের দরিদ্র আইন কমিশনের সুপারিশমালা ইংল্যান্ডের সমাজকল্যাণ এবং আধুনিক সমাজকর্ম পেশার ভিত্তি সুদৃঢ়করণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
Related Question
View Allহেনরীয় দরিদ্র আইন প্রণয়ন করেন ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরি।
আত্মনির্ভরশীলতা বলতে যেকোনো বিষয়ে ব্যক্তির আত্মনিয়ন্ত্রণকে বোঝায়।
সমাজকর্মে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সাহায্যার্থীকে এমনভাবে সাহায্য করা হয় যেন সে নিজেই নিজেকে সাহায্য করতে পারে। সক্ষমতা অর্জন করতে পারাই আত্মনির্ভরশীলতা। এ গুণ অর্জনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে পারেন। এক্ষেত্রে ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস তাকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলে।
উদ্দীপকের রফিক সমাজকর্ম পেশার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
সমাজকর্ম হলো একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভর সাহায্যকারী পেশা। এ পেশায় নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগ করে সমাজে বসবাসকারী ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহায়তা করেন। এক্ষেত্রে তারা সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক, মানসিক ও আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন। উদ্দীপকের রফিকও তাই করেছেন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, কারখানায় কাজ করার সময় আতিক সাহেবের হাত কেটে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসা বাবদ অনেক টাকা খরচ হয় যা তার পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তার সমস্যা সমাধানে রফিক এগিয়ে আসেন। তিনি নিজের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে আতিক সাহেবকে সাহায্য করেন। তিনি আইনের সহায়তায় কারখানা থেকে তাকে ক্ষতিপূরণও পাইয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ রফিক সমাজকর্মীর মতো সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগ করে আতিক সাহেবের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহায়তা করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রফিক সমাজকর্ম পেশার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
আতিকের সহায়তায় ১৯৪২ সালের বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রণীত সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির সাহায্য নেওয়া হয়েছে যা পরবর্তী সময়ে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ইংল্যান্ডে আর্থ-সামাজিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এ সমস্যা মোকাবিলার লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার স্যার উইলিয়াম বিভারিজকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে। সার্বিক বিশ্লেষণে- এ কমিটি ১৯৪২ সালে সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন পেশ করে যা বিভারিজ রিপোর্ট নামে পরিচিত। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে ১৯৪২ সালে ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তায় সামাজিক বিমা, পারিবারিক ভাতা, শ্রমিক ক্ষতিপূরণ বা শিল্প দুর্ঘটনা বিমা, সরকারি সাহায্য, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি প্রভৃতি প্রণয়ন করা হয়। এসব কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্য, বার্ধক্য ও পড়া বিমা; শিশু জন্ম-মৃত্যুর জন্য বিশেষ ভাতা, পরিবারে দুইয়ের অধিক ১৮ বছরের কমবয়সী সন্তানের জন্য ভাতা, শিল্প দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ক্ষতিপূরণ, দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কাজের ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
ইংল্যান্ডে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রণয়নের ফলে সমাজের দুস্থ, অসহায় ও দরিদ্ররা সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা পেতে থাকে। অনেকের কাজের ব্যবস্থা হওয়ায় পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসে সরকারিভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় জনগণের চিকিৎসার চাহিদাও পূরণ হয় যা জনসাধারণের সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এভাবে বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রণীত কর্মসূচিগুলো জনগণের কল্যাণ সাধনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এর ফলে বিশ্বে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ধারণা সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আতিক সাহেব কারখানায় কাজ করতে গিয়ে আহত হন। তিনি চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে ব্যর্থ হলে রফিক তাকে সহযোগিতা করেন। এ সময় রফিক ১৯৪২ সালের বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রণীত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় কারখানা থেকে' আতিক সাহেবকে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেন। আর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো জনগণের কল্যাণ সাধনে ভূমিকা রেখেছিল যা দেখে বিশ্বের অন্য দেশগুলো অনুপ্রাণিত হয়। এর ফলে বিশ্বে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি রচিত হয়। তাই বলা যায়, আতিকের সহায়তায় যে কর্মসূচির সাহায্য নেওয়া হয়েছে সেটি পরবর্তী সময়ে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে
১৮-২৯ সালে সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইন পাস হয়।
সামাজিক নীতি প্রণয়নের উদ্দেশ্য হলো সামাজিক কল্যাণ সাধন।
যেকোনো সমাজেই দারিদ্রদ্র্য বিমোচন, নারীদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি লক্ষ্য পূরণের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে সামাজিক নীতি প্রণয়নের উদ্দেশ্য হলো ক্ষুধা, দারিদ্রদ্র্য এবং মানসিক অসুস্থতার মতো সামাজিক সমস্যাসমূহ দূর করা। তাই বলা যায়, সামাজিক নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো সামাজিক কল্যাণ ও উন্নয়ন সাধন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!