যারা ইসলামের উদ্দেশ্যে মক্কা হতে মদিনায় হিজরত করে তারাই মুহাজির।
বিদায় হজকে বিদায় হজ বলার কারণ হলো- ওই হজটি ছিল মহানবি (স.)-এর জীবনের শেষ হজ। অর্থাৎ রাসুল (স.) জীবনের শেষলগ্নে এসে যে হজ করেন তাকে বিদায় হজ বলে। সূরা আল-নাছর নাজিল হওয়ার পর হযরত মুহাম্মদ (স.) বুঝতে পারলেন যে, তাঁর জীবন প্রায় শেষ। তাই তিনি ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের (দশম হিজরি) ২৩ ফেব্রুয়ারি লক্ষাধিক সাহাবি সাথে নিয়ে হজ করতে মক্কা অভিমুখে রওয়ানা দিলেন এবং হজ সম্পাদন করেন। একে বিদায় হজ বলা হয়।
মবিন সাহেবের কর্মকাণ্ডে হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.)-এর আদর্শ ফুটে উঠেছে।
হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.) ছিলেন আল্লাহর নির্দেশ পালনকারী, বিনয়ী, নম্র ও ন্যায়পরায়ণ শাসক। তাঁর শাসনামলে মদিনা রাষ্ট্রের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছিল। খলিফা নিযুক্ত হয়ে তিনি পূর্ববর্তী খলিফাদের গৃহীত সকল অন্যায় নীতি বাতিল করে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু করেন। তিনি গণতান্ত্রিক উপায়ে খলিফা নির্বাচনে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর অসংখ্য ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট সংস্কার ও পিপাসার্ত মানুষের জন্য অনেক কূপ খনন করেছিলেন, যা উদ্দীপকের মবিন সাহেবের কর্মকাণ্ডে পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের মবিন সাহেব একজন চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার এসব উদ্যোগ ইসলামের পঞ্চম খলিফা খ্যাত হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.)-এর গৃহীme বিভিন্ন কর্মসূচির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
আরিবার সাথে হযরত রাবেয়া বসরি (র.)-এর চরিত্রের মিল রয়েছে। তাঁর আধ্যাত্মিকতা ছিল অভাবনীয়।
আমরা জানি, একদা হযরত রাবেয়া (র.) একটি হাঁড়িতে কিছু খাদ্যদ্রব্য রান্না করছিলেন। তার একটি পিঁয়াজের দরকার পড়ে। কিন্তু তার ঘরে কোনো পিঁয়াজ ছিল না। তখন একটি পাখি তার ঠোঁটে করে একটি পিয়াজ এনে তার কাছে ফেলে দেয়। আবার হযরত রাবেয়া (র.) একবার শস্য বুনছিলেন। পঙ্গপালেরা শস্যখেতের ওপর এসে পড়েছিল। তখন রাবেয়া প্রার্থনা করে বললেন, "হে আমার প্রভু এ হলো আমার জীবিকা। যদি আপনি চান তাহলে আমি তা আপনার শত্রুদের বা বন্ধুদেরকে দিয়ে দেব। তখন পঙ্গপালেরা উড়ে পালিয়ে গেল।" কথিত আছে হযরত রাবেয়া বসরি (র.) হজ করার জন্য উটের পিঠে করে রওয়ানা দিলেন। পথে তার উটটি মারা যায়। তিনি তখন আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে বলেন, “হে আমার প্রভু! আমি তোমার ঘর জিয়ারত করতে যাচ্ছি। আর তুমি আমার উটটি মেরে আমাকে বিপদে ফেললে।" এরপর আল্লাহ উটটি জীবিত করে দেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, মিসেস আরিরা। ছোটবেলায় মা-বাবা হারান। তার বড় তিন বোন অন্যত্র চলে গেলে তিনি ক্রীতদাসী হিসেবে বিক্রি হন। মনিবের নির্যাতন সত্ত্বেও তিনি রাত জেগে ইবাদত করতেন।
উদ্দীপকের মিসেস আরিবা হযরত রাবেয়া বসরি (র.) এর প্রতিরূপ। আর রাবেয়া বসরির আধ্যাত্মিকতা ছিল অভাবনীয় এবং বিস্ময়কর।
Related Question
View Allইসলাম ধর্মজ্ঞানে সুপণ্ডিত ব্যক্তিকে মুজতাহিদ বলা হয়।
অশ্লীলতা সমাজকে কলুষিত করে, পক্ষান্তরে লজ্জাশীলতা সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লজ্জাশীলতা মানুষের পশুত্বকে দূর করে পরিশুদ্ধ করে। এজন্যই রাসুল (স.) বলেছেন, "যার মধ্যে অশ্লীলতা আছে, তা তাকে ত্রুটিযুক্ত করে। আর যার মধ্যে লজ্জাশীলতা আছে, তা তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে।" (তিরমিযি)
লিমন সাহেব হযরত রাবেয়া বসরি (র.)-এর নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তার কন্যার নাম সানিয়া রেখেছেন।
মহান তাপসী রমণী রাবেয়া বসরি (র.) ৯৯ হিজরি মোতাবেক ৭১৭খ্রিষ্টাব্দে ইরাকের বসরা নগরীতে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, চার বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ ছিলেন। তাই তাঁর নাম রাখা হয় রাবেয়া (চতুর্থা)। উদ্দীপকেও বর্ণিত হয়েছে যে, লিমন সাহেব তার দ্বিতীয় কন্যার নাম রাখেন 'সানিয়া'। বন্ধুরা কারণ জিজ্ঞেস করলে, তিনি বলেন আরবিতে 'সানিয়া' অর্থ দ্বিতীয়া। সুতরাং বলা যায়, লিমন সাহেব রাবেয়া বসরি (র.)-এর নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তার কন্যার নাম রেখেছেন।
ছাত্র-শিক্ষকের আলোচনায় যে খলিফার কর্মকান্ড ফুটে উঠেছে, তিনি হলেন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.)। তাঁর কৃতিত্ব ও চরিত্র অতুলনীয়।
হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.)-কে দ্বিতীয় উমর ও ইসলামের পঞ্চম খলিফা বলা হয়। তিনি আল্লাহর নির্দেশ পালনকারী, বিনয়ী ও নম্র প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তার অন্তরে এত আল্লাহভীতি ছিল যে, তিনি প্রায় আল্লাহর ভয়ে কাঁদতেন। তাঁর ন্যায়পরায়ণতা, ধর্মপরায়ণতা, সাম্য-মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব ও সকলের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে সক্রিয়তা তা তাঁকে অনেক মর্যাদাবান করেছে। হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.) খলিফা হয়েও অত্যন্ত সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবে তিনি অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করতেন। তাঁর সময়ে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্ম পালনে স্বাধীন ছিল। তিনি সাম্প্রদায়িকতার বিপরীতে উদার চিন্তার মানুষ ছিলেন। তাঁর আমলে ব্যাপকভাবে হাদিস সংকলিত হতে থাকে। উদ্দীপকেও ছাত্রদের উদ্দেশ্যে শিক্ষক বললেন যে, যার শাসনামলে মানুষের আর্থিক বৈষম্য দূর হয়েছে এবং মানুষ গণতান্ত্রিক শান্তি লাভকরেছে, তিনিই রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি হাদিস সংকলনেরও উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
সুতরাং, উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.) হলেন উক্ত খলিফা, যার চরিত্র এবং কৃতিত্ব অতুলনীয়।
খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (র.) শিক্ষকদের জন্য মাথাপিছু মাসিক ১০০ দিনার ভাতার ব্যবস্থা করেন।
হযরত আয়েশা (রা.) সর্বগুণে গুণান্বিতা ছিলেন। তিনি ছিলেন বিচক্ষণ, বুদ্ধিমতী, সাধারণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারিণী। একইসাথে তিনি গৃহস্থালী বিদ্যায়ও পারদর্শী ছিলেন। শরিয়তের বিভিন্ন মাসয়ালা মাসায়েল সম্পর্কে তিনি জ্ঞান দান করতেন। এজন্য মহানবি (স.) আয়েশা (রা.)-কে সারিদ তথা আরবের শ্রেষ্ঠ খাদ্য যা রুটি, গোশত ও ঝোলের সমন্বয়ে তৈরি হয় তার সাথে তুলনা করে বলেছেন, "নারী জাতির ওপর আয়েশা (রা:)-এর মর্যাদা তেমন, যেমন খাদ্যদ্রব্যের ওপর সারিদের মর্যাদা।" (বুখারি ও ইবনে মাজাহ)
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!