ফ্যাসিও কথাটির অর্থ গুচ্ছ/ঐক্য/একতা/শক্তি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪১ সালে যখন হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পার্লহারবার আক্রমণ করে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরে যুদ্ধ জাহাজে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। উভয় নেতা একটা সনদে স্বাক্ষর করেন, যা ইতিহাসে 'আটলান্টিক সনদ' নামে পরিচিত। যুদ্ধসংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক হলেও যুদ্ধ বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পায়, যা পরবর্তী পর্যায়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দাবানলের কথা বলা হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের আলোকে নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
i. ভার্সাই সন্ধির ত্রুটি: ভার্সাই সন্ধি দ্বারা জার্মানিকে চিরতরে পঙ্গু করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। তাই জার্মানবাসী ভার্সাই সন্ধির নাগপাশ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে যায়।
ii. হিটলারের উত্থান: ১৯৩৩ সালে হিটলার জার্মানি শাসন ক্ষমতা
গ্রহণ করেন। হিটলার ছিলেন উগ্র জাতীয়তাবাদী। তিনি জার্মাবাসীকে ভার্সাই সন্ধির বিরুদ্ধে নিয়ে গিয়ে জার্মানকে ইউরোপের শ্রেষ্ঠ দেশে পরিণত করার স্বপ্ন দেখাতে থাকেন।
iii . ব্রিটেনের তোষণ নীতি: ব্রিটেনের টোরি মন্ত্রীসভা মনে করত
রাশিয়ার সাম্যবাদকে রোধ করতে হলে নাৎসি জার্মানিকে ব্যবহার করা দরকার। জার্মানি দুর্বল হয়ে পড়লে পূর্ব ইউরোপ থেকে রাশিয়ার সাম্যবাদ্য জার্মানির পথে পশ্চিমে ঢুকে পড়বে। এর ফলে পশ্চিমের বুর্জোয়া গণতন্ত্র ধ্বংস হতে পারে। এজন্য ব্রিটেন জার্মানির শক্তি ও অস্ত্র বৃদ্ধিতে বাধা দেয়নি।
iv. জাপান ও ইতালির আগ্রাসন নীতি: এশিয়ায় জাপানের সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ এবং ইতালির আগ্রাসন নীতি বিশ্বশান্তিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া ইতালির আবিলিনিয়া আক্রমণ আলবেনিয়া অধিকার এবং জাপান কর্তৃক মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ হিটলারকে সাহস ও উৎসাহ প্রদান করে।
এছাড়াও ভাইমার প্রজাতন্ত্রের পতন, সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের সংঘাত, আদর্শগত দ্বন্দ্ব, হিটলার কর্তৃক অস্ট্রিয়া দখল ও পোল্যান্ড আক্রমণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিল।
পরিশেষে বলা যায়, একক কোনো কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি বরং ইউরোপের পরিবর্তিত পরিস্থিতিই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিল।
"যুদ্ধে পরাজয়ের পরিণতি ওই রাষ্ট্রটিতে বিপর্যয় ডেকে এনেছিল"- উক্তিটি যথার্থ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের পর মিত্রশক্তি জার্মানির নিকট থেকে যুদ্ধের ক্ষতি পূরণ আদায় করে। মিত্রশক্তি জার্মানিকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলে এবং নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। পূর্ব জার্মানিতে রাশিয়া এবং পশ্চিম জার্মানিতে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও আমেরিকার আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিভাজন জার্মানবাসীর জীবনে বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। কেননা, সমাজতন্ত্র ও ধনতন্ত্রের প্রতিযোগিতা ও দ্বন্দ্ব এবং এর ফলে সৃষ্ট বার্লিন দেয়াল জার্মানির জীবনকে দুঃসহ করে তুলেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে জার্মানির বিচারের জন্য নুরেমবার্গে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। এখানে জার্মান যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার করা হয়। এভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি একটি ধ্বংস সম্মুখ রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজয় জার্মানির জন্য বিপর্যয়। ডেকে এনেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আবার রক্তঝরায়।
Related Question
View Allদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জার্মানি ও ইতালির মধ্যে পরস্পর সহযোগিতাভিত্তিক যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে অক্ষশক্তি চুক্তি নামে পরিচিত। মূলত এটি ছিল কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তি। তবে কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তি হলেও এটিকে মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে সামরিক জোটও বলা যেতে পারে। ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের দুর্বলতা ও তাদের পারস্পরিক দুর্বলতার সুযোগে সাম্যবাদের বিরুদ্ধে ১৯৩৬ সালে জার্মানি ও জাপান কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। পরবর্তী বছর ১৯৩৭ সালে ইতালি এ চুক্তিতে যোগ দেয়। এর ফলেই রোম-বার্লিন-টোকিও উদ্ভব হয়। এ চুক্তি ইউরোপে নতুন শক্তিসাম্য গড়ে তোলে।
উদ্দীপকে আমার পাঠ্যবইয়ের বেনিতো মুসোলিনীকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ফ্যাসিবাদের জনক বেনিতো মুসোলিনী ১৮৮৩ সালে ইতালির রোমানিয়া প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন কর্মকার। শিক্ষা শেষে স্কুলশিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। সামরিক প্রশিক্ষণ এড়াতে তিনি সুইজারল্যান্ডে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি সমাজতান্ত্রিক মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সমাজতন্ত্রী দলে যোগ দিয়ে বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। ১৯১২ সালে সমাজতন্ত্রী দলের মুখপত্র 'আভান্তি' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ১৯১৯ সালে 'এক সম্মেলনে ফ্যাসিস্ট দল গঠন করেন। ফ্যাসিবাদ ছিল ইতালির সামাজিক অবক্ষয়ের যুগের একটি রাজনৈতিক ব্যাভিচার। গণতন্ত্রের ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদকে ফ্যাসিবাদীরা ঘৃণা করত।
উদ্দীপকে 'X' নামক ব্যক্তি পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের দেশে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা পেশা নিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করলেও শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। গণতন্ত্রের পরিবর্তে বল প্রয়োগে ক্ষমতা গ্রহণের পক্ষে তার মত ছিল।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'X'-দ্বারা আমার পাঠ্যবইয়ের বেনিতো মুসোলিনীকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উক্ত ব্যক্তির অর্থাৎ বেনিতো মুসোলিনীর পররাষ্ট্র নীতি ছিল সম্প্রসারণবাদ।
মুসোলিনীর' পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্য ছিল সম্প্রসারণবাদ। ক্ষমতা গ্রহণ করে তিনি ঘোষণা করেন, "আমি যুদ্ধ ভালোবাসি, যুদ্ধ করা আমার সহজাত প্রবণতা।" এ উপলক্ষে তিনি ইতালির পদাতিক, নৌ, বিমান বাহিনীকে ঢেলে সাজান। অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধের মানসিকতা প্রস্তুত করেন। তিনি যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে ভার্সাই সন্ধির প্রতারণার প্রতিশোধ নিতে মনস্থ করেন। তিনি বুঝেছিলেন যে, । ইতালির সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষাকে সফল করে তুলতে হলে ফ্রান্স, ব্রিটেন, রাশিয়া, জার্মানি ইত্যাদি শক্তিকে পরস্পরের বিরুদ্ধে নিয়োজিত করতে হবে। এজন্য তিনি ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে জার্মানির বিরুদ্ধে নিয়োজিত করেন এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিকে সম্মিলিতভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিয়োজিত করে ইতালির প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করার কৌশল অবলম্বন করেন। মুসোলিনী তার এসব কৌশল প্রয়োগ করে বেশকিছু উপনিবেশ পুনরুদ্ধারে সফল হন। ১৯২৩ সালে গ্রিসের কফুদ্বীপ গ্রিসকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে তা ফেরত নিতে হয়। এতে নিজ দেশে মুসোলিনীর ভাবমূর্তি বেড়ে যায়। প্রতিবেশী দেশগুলোতে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানকে নানাভাবে সহযোগিতা প্রদান করেন। ১৯৩৬ সালে, স্পেনে জেনারেল ফ্রাঙ্কোর নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটলে মুসোলিনী ফ্রাঙ্কোকে সমর্থন করেন। মুসোলিনী নিজ শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য জার্মানির হিটলারের সাথে মৈত্রী বন্ধনে আবন্ধ হন।
পরিশেষে বলা যায়, মুসোলিনীর পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের মাধ্যমে ইতালির সম্প্রসারণ ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতালিকে সামরিকভাবে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদন করা।
জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু মার্কিন জনগণ মিত্রপক্ষের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। মার্কিন সরকার ১৯৪১ সালের মার্চ মাসে 'Lend-Lease Act' আইন পাস করে মিত্রশক্তিকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলে জার্মান ডুবোজাহাজগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ডুবিয়ে দিতে শুরু করলে মার্কিন নৌবাহিনীও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অতঃপর ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর অক্ষশক্তির সদস্য জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'পার্ল হারবার' আক্রমণ করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি যোগদান করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!