সমাজের সদস্য হিসাবে মানুষ যেসব জ্ঞান-বিজ্ঞান, আচার- বিশ্বাস, শিল্পকলা, নীতিবোধ, আইনকানুন ও অভ্যাস অর্জন করে তার জটিল সমষ্টিকেই সংস্কৃতি বলে।
কাব্য ও কাব্যগ্রন্থ যথাক্রমে অবস্তুগত ও বস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ।
আমরা জানি, সংস্কৃতির যে অংশ অদৃশ্য বা উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল তা অবস্তুগত সংস্কৃতি। অন্যদিকে মানুষ দৃশ্যমান যা কিছু তৈরি ও ব্যবহার করে তা বস্তুগত সংস্কৃতি। সুতরাং একজন কবি যখন কবিতা বা কাব্যের কথা চিন্তা করেন তখন তা অবস্তুগত সংস্কৃতির পর্যায়ে থাকে। কিন্তু যখন তিনি কবিতাটি লিখে বইয়ে ছাপান তখন তা বস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।
উদ্দীপকের আয়েশা সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী বংশগতি উপাদানের ফল।
বংশানুক্রমে জৈব ও মানবিক যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য অধস্তন পুরুষের মধ্যে সঞ্চালিত হয় তাই বংশগতি। বংশগতি মানুষের দৈহিক আকার ও গঠনে প্রকাশ পায়, বিভিন্ন গোত্র বা বর্ণভেদ তার সাক্ষ্য বহন করে। জীব বিজ্ঞানীদের মতে, বংশগত প্রভাবঘটিত গুণাগুণ শুক্রকীটের মধ্যে সঞ্চারিত হয়ে থাকে এবং এ শুক্রকীট হতে যে শিশুর জন্ম হয় তার মধ্যে বংশগত গুণাগুণ আপনা হতেই প্রকাশ পায়। এ জন্যই দেখা যায় যে, চুলের বর্ণ, হাতের আঙ্গুল, মাথার আকৃতি, দৈহিক গঠন, গায়ের রং, দৈহিক ও মানসিক শক্তি, কর্মদক্ষতা প্রভৃতি গুণাবলি মানুষ পুরুষানুক্রমে লাভ করে থাকে। আবার মানুষের আচার ব্যবহার ও মানসিক অবস্থা এমন অনেক শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে যা স্পষ্টত বংশগত, যাদের প্রতিক্রিয়া কোনো ধরনের পরিবেশেই বদলানো সম্ভব নয়। চোখের রঙ, রক্তের বিভাগ, আঙ্গুলের ছাপ প্রভৃতি নির্ধারণকারী বংশগতির উপাদান সব পরিবেশে একই থাকে।
উদ্দীপকে আয়েশার মা হলো বংশগতভাবে জার্মান কিন্তু তার বাবা হলো বাঙালি। আয়েশা দেখতে তার মায়ের মতো হয়েছে। যা বংশগতি উপাদানকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায় যে, আয়েশা বংশগতি উপাদানেরই ফল।
উদ্দীপকে আয়েশার মুগ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে সমাজজীবনে প্রভাব বিস্তারকারী ভৌগোলিক উপাদান কাজ করেছে।
সমাজজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভৌগোলিক উপাদানের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। পোশাক-পরিচ্ছেদ এর মধ্যে অন্যতম। জলবায়ু ও আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন ধরনের পোশাক ব্যবহার করে। যেমন- শীতপ্রধান অঞ্চলের মানুষ তুলনামূলক মোটা কাপড় এবং নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের মানুষ হালকা সুতি কাপড় ব্যবহার করে। আবার একই দেশে ঋতুভেদে গরম, বা হালকা কাপড় ব্যবহার করতে দেখা যায়। অর্থাৎ ভৌগোলিক কারণে কোনো কোনো অঞ্চলে কোনো কোনো পোশাক বিশেষ পরিচিতি লাভ করে। এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের রাজশাহী সিল্ক, টাঙ্গাইলের তাঁত, নারায়ণগঞ্জের জামদানির কথা বলা যায়। এদেশের রাজশাহী অঞ্চলে তুঁতে গাছ বেশি জন্মায়। তাই এ অঞ্চলে রেশম চাষ বেশি হয়, যা সিল্ক কাপড় তৈরিতে অবদান রাখছে। আবার নারায়ণগঞ্জে বিশেষ আবহাওয়া এ অঞ্চলে জামদানি শাড়ি তৈরিতে ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে উপযুক্ত আবহাওয়া অঞ্চলের পোশাক-পরিচ্ছেদের ধরনে প্রভাব বিস্তার করে।
উদ্দীপকে লক্ষণীয়, আয়েশার বাবা তার মায়ের জন্য রাজশাহীর সিল্ক, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি এবং নারায়ণগঞ্জের জামদানি কাপড় কেনে। আয়েশা এদেশের পোশাকের বৈচিত্র্য দেখে মুগ্ধ হয় যা ভৌগোলিক উপাদানেরই প্রত্যক্ষ ফল।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের পোশাক-পরিচ্ছেদের ধরনের উপর ভৌগোলিক পরিবেশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে।
Related Question
View Allকটি. বি. বটোমোর- এর মতে "সামাজিক স্তরবিন্যাস হচ্ছে সমাজের শ্রেণি বা স্তরভিত্তিক বিভাজন যা মর্যাদা ও ক্ষমতা গঠন করে।"
মার্কসের দৃষ্টিভঙ্গি ও শিক্ষাই হচ্ছে মার্কসবাদ। কার্ল মার্কসের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে 'মার্কসবাদ'।
মার্কসবাদ হলো একটি সামগ্রিক চিন্তাধারা, একটি সমাজদর্শন। মার্কসবাদ হলো দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদ। এটি একটি সামগ্রিক তত্ত্বচিন্তা। যেকোনো জ্ঞান শৃঙ্খলাতেই এর প্রয়োগ সম্ভব। একে পৃথকভাবে কেবল রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা অর্থনীতি অথবা ইতিহাস বা দর্শন তত্ত্ব বলা ঠিক নয়। জগৎকে ব্যাখ্যা করা নয়, তাকে বদলে দেওয়াটাই আসল কথা-মার্কসবাদী চিন্তার সারকথা এটাই।
উদ্দীপকের সনু রানি দাসের পরিচয় সমাজবিজ্ঞানের সম্প্রদায় প্রত্যয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো সম্প্রদায়। কিছুসংখ্যক মানুষ একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে দীর্ঘকাল বসবাস করতে থাকলে তাদের মধ্যে অভিন্ন চিন্তাভাবনা, সামাজিক বিষয়াদিতে অভিন্নতা, ঐতিহ্যগত অভিন্নতাবোধ, গভীর সংহতিবোধ দেখা দেয়। নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলে একটি জনগোষ্ঠীর এভাবে সুসংহত সামাজিক জীবনযাপনের সূত্রেই সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে সম্প্রদায় হলো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বসবাসকারী মানবগোষ্ঠী যারা পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মধ্য দিয়ে সমজাতীয় জীবনযাপন করে এবং যার ফলে সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে সংহতিবোধ বিরাজ করে। একই নীতি, আদর্শ ও ধর্মীয় চেতনাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্প্রদায় সৃষ্টি হতে পারে, যেমন- মুসলিম সম্প্রদায়। আবার ঐতিহ্যবাহী সমজাতীয় পেশা ও জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করেও সম্প্রদায় গড়ে উঠতে পারে। যেমন- তাঁতি ও জেলে সম্প্রদায়। উদ্দীপকেও এমন একটি শ্রেণি লক্ষণীয়।
উদ্দীপকের সনু রানি দাস নারায়ণগঞ্জের হরিজন সমাজের মধ্যে প্রথম গ্র্যাজুয়েট হয়েছেন। অর্থাৎ সনু রানি দাস হরিজন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। যারা একটি নির্দিষ্ট ঐতিহ্যবাহী পেশা ও সমজাতীয় জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত এবং এর ওপর ভিত্তি করেই তারা একটি পৃথক সম্প্রদায় গড়ে তুলেছে। উপরের আলোচনা ও উদ্দীপকের তুলনামূলক বিশ্লেষণে বলা যায় সনু রানি দাসের পরিচয় সমাজবিজ্ঞানের সম্প্রদায় নামক প্রত্যয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের সনু রানি দাস ও রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তীর সামাজিক পার্থক্যের ক্ষেত্রে সামাজিক মর্যাদাগত প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। যা সাংস্কৃতিক উপাদান দ্বারা প্রভাবিত।
বাংলাদেশের সমাজ শ্রেণিভিত্তিক বা স্তরায়িত সমাজ। অর্থাৎ এ সমাজ শ্রেণিবিভক্ত। এ শ্রেণি বিভাজন কখনো উৎপাদনের উপায়ের মালিকানা, কখনো উঁচু-নিচু মর্যাদা আবার কখনো ক্ষমতা বণ্টনের ভিত্তিতে ক্রমোচ্চভাবে বিভক্ত। একটি শ্রেণি অথবা মর্যাদা গোষ্ঠীর জীবনাচরণ এবং জীবনধারণের পদ্ধতি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্য শ্রেণি অথবা মর্যাদা গোষ্ঠীর জীবনধারণের পদ্ধতি থেকে ভিন্ন। এ ধরনের স্তরবিন্যাস মূলত শিক্ষা, অর্থ, প্রতিপত্তি, বংশ মর্যাদা, পেশা ইত্যাদির ভিত্তিতে হয় এবং সংস্কৃতি দ্বারা সরাসরি প্রভাবিত।
উদ্দীপকের সনু রানি দাস হরিজন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সমাজব্যবস্থায় সুইপার সমাজের মানুষকে নিম্ন মর্যাদার মনে করা হয়। অন্যদিকে রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তী ধনী ব্যক্তি। আমাদের সমাজে ধনী শ্রেণির মর্যাদাগত অবস্থান উঁচু স্তরে। তাই দেখা যায়, সনু রানি দাস ও রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তীর মধ্যে একটি মর্যাদাগত ব্যবধান রয়েছে। যা সামাজিক স্তরবিন্যাসের পাশাপাশি সংস্কৃতির ভূমিকাকে তুলে ধরে।
উপরের আলোচনা শেষে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সনু রানি দাস ও রুদ্রাক্ষ চক্রবর্তীর সামাজিক পার্থক্যের ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক উপাদান প্রভাব বিস্তার করেছে।
সমাজজীবনে ভৌগোলিক উপাদানের প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
সামাজিক জীব হিসেবে মানুষের জীবনে খেলার মাঠ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরিবারের নির্দিষ্ট ও সীমিত গণ্ডি পেরিয়ে শিশু খেলার মাঠে প্রতিবেশীদের সংস্পর্শে আসে। খেলার মাঠে সঙ্গী-সাথীদের মাধ্যমে সে প্রভাবিত হয়। নিজেও অন্যান্যদের প্রভাবিত করে। এতে করে তার মধ্যে নেতৃত্ব, নিয়ম-শৃঙ্খলা, দায়িত্ব-কর্তব্য, সহনশীলতা ইত্যাদি গুণাবলির সূচনা ও বিকাশ ঘটে। তাই সমাজজীবনের রূপায়ণ ও সামাজিকীকরণে মানুষের জীবনে খেলার মাঠের খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!