মধ্যযুগে বাংলায় পাঠশালা বসত গুরুর আবাসস্থলে অথবা বিত্তবানদের গৃহে।
মধ্যযুগের বাংলায় নিম্নশ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের নিয়ে একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণির সৃষ্টি হয়েছিল। মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে সরকারি কর্মচারী ছাড়াও উকিল, ডাক্তার, গায়ক, কবি, সংগীতকার, লেখক, ধর্মপ্রচারক ও শিক্ষকগণ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর্থিক দিক দিয়ে এরা মোটামুটি সচ্ছল ছিল। কিন্তু তাদের কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছিল না।
ছাত্র-ছাত্রী নিম্নোক্তভাবে ছকটি উপস্থাপন করবে-
ক্রমিক নম্বর | স্থাপত্য কীর্তির নাম | অবস্থান |
১ | আদিনা মসজিদ | পান্ডুয়া |
২ | বড় সোনামসজিদ | গৌড় |
৩ | বিবি পরির সমাধি | ঢাকা |
৪ | ষাটগম্বুজ মসজিদ | বাগেরহাট |
৫ | গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি | সোনারগাঁ |
মধ্যযুগের স্থাপত্যকীর্তি সম্পর্কিত শিক্ষার্থীদের তৈরি করা ছকে উল্লিখিত স্থাপত্যগুলোর মাঝে বিবি পরির সমাধি অন্যতম। আমি মনে করি, ছকে উল্লিখিত স্থাপত্য কীর্তিগুলোর মাঝে বিবি পরির সমাধি এখনও পর্যন্ত এদেশে সর্বাধিক সুন্দর মুসলিম স্মৃতিসৌধ।
উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত হয়েছে, আদিনা মসজিদ, বড় সোনা মসজিদ, ফ্যাট গম্বুজ মসজিদ, বিবি পরির সমাধি, গিয়াসউদ্দিন আযম শাহের সমাধি। এর মাঝে বিবি পরির সমাধি ছাড়া বাকিগুলো কালের অবক্ষয়ে তাদের জৌলুস হারিয়ে ফেলেছে। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো অবহেলিত হয়ে পড়ে আছে। নির্মাণকালীন সময়ে এগুলো এতটা জৌলুস দিয়েও তৈরি করা হয়নি, যতটা বিবি পরির সমাধিতে দেয়া হয়েছে।
বিবি পরি ছিলেন শায়েস্তা খানের কন্যা। ঢাকার লালবাগ দুর্গের অভ্যন্তরে ১৬৯০ সালে ইব্রাহিম খানের শাসনামলে তার সমাধি সৌধটি নির্মাণ করা হয়। এই সমাধি সৌধ নির্মাণ করা হয় মার্বেল পাথর দিয়ে। এখনও পর্যন্ত মধ্যযুগের অনেক স্থাপত্য কীর্তি স্বমহিমায় অবস্থান করছে। তবে মার্বেল পাথরে নির্মিত এই সমাধি সৌধটি বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সর্বাধিক সুন্দর মুসলিম স্মৃতিসৌধ হিসেবে গণ্য করা হয়।
Related Question
View Allকবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারত বাংলায় অনুবাদ করেন।
বাংলার মাটিতে কৃষিজাত দ্রব্যের প্রাচুর্য ছিল। বাংলার কৃষিভূমি অস্বাভাবিক উর্বর হওয়ায় এখানে ধান, গম, পাট, আদা, পিঁয়াজ, তেল, সরিষা, পান, সুপারি, রেশম, ডাল, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হতো। ফলে উদ্বৃত্ত বিভিন্ন পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হতো। এর ফলে বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটেছিল।
রেজা সাহেবের বাড়ির খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে বাংলার সুলতানি আমলের মিল রয়েছে।
সুলতানি আমলে বাংলার অভিজাতরা ভোজনবিলাসী ছিলেন। তাদের খাদ্য তালিকায় ছিল মাছ, মাংস, শাক, সবজি, দুধ, দধি, ঘৃত, ক্ষীর ইত্যাদি। এছাড়াও তাদের খাদ্য তালিকায় আচারের নামও পাওয়া যায়। এসব খাবারের পাশাপাশি কাবাব, রেজালা, কোর্মা আর ঘিয়ে রান্না করা যাবতীয় মুখরোচক খাবার জায়গা করে নেয়। খাদ্য হিসেবে রুটির কথাও পাওয়া যায়। খিচুড়ি ছিল তখনকার সমাজের প্রধান খাদ্য।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি যে, রেজা সাহেব গত সপ্তাহে তার মেয়ের জন্মদিনে পোলাও, কাবাব, রেজালা ও মিষ্টির আয়োজন করেন। এ খাবারগুলোর সাথে বাংলার সুলতানি আমলের খাওয়া-দাওয়ার মিল বিদ্যমান।
রেজা সাহেবের অর্থনৈতিক অবস্থা সুলতানি আমলের চেয়ে সমৃদ্ধ ছিল না বলে আমি মনে করি।
সুলতানি আমলে বাংলায় অনেক কৃষিপণ্য উৎপন্ন হতো। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ধান, গম, পাট, রেশম, হলুদ, শশা, পিঁয়াজ, তুলা, আদা, জোয়ার, তিল, পান, সুপারি, আম, কাঁঠাল, কলা ইত্যাদি। ফলে উদ্বৃত্ত দ্রব্য বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হতো। এছাড়াও বস্ত্রশিল্পে বাংলার অগ্রগতি ছিল সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। এখানকার নির্মিত বস্ত্রগুলো গুণ ও মানের বিচারে যথেষ্ট উন্নত ছিল বিধায় বিদেশে এগুলোর প্রচুর চাহিদা ছিল। এদেশের মসলিন কাপড়ের প্রচুর চাহিদা ছিল ইউরোপের বাজারে।
এছাড়া সুলতানি আমলে বাংলার রপ্তানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, সুতি কাপড়, রেশমি বস্ত্র, চিনি, গুড়, আদা, লঙ্কা, লবণ, নানা প্রকার মসলা, আফিম, ঔষধ ইত্যাদি। বাংলায় আমদানি করা হতো স্বর্ণ, রৌপ্য ও মূল্যবান পাথর। ফলে রপ্তানি বেশি হওয়ার কারণে বাংলার অর্থনৈতিক প্রাচুর্য বজায় ছিল সুলতানি আমলে।
উদ্দীপকের রেজা সাহেবের আমদানি ও রপ্তানি দ্রব্যের পরিমাণ খুবই স্বল্প। তাই একথা বলা যায় যে, রেজা সাহেবের অর্থনৈতিক অবস্থার চেয়ে সুলতানি আমলের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও সমৃদ্ধ ছিল।
সুবাদার শায়েস্তা খান হোসেনী দালান নির্মাণ করেন।
বাংলার বহু স্থানে আজও মুঘল শাসকদের শিল্প প্রীতির নিদর্শন রয়েছে। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় বহু সংখ্যক মসজিদ, সমাধি ভবন, স্মৃতিসৌধ, মাজার, দুর্গ, স্তম্ভ ও তোরণ নির্মিত হয়েছিল। ফলে স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য মধ্য যুগকে মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!