আশা করি তুমি ভালো আছো। তোমার কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ নিয়ে এই পত্রটি লিখছি। বর্তমানে ইন্টারনেট আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে, এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কিছু বিষয় মনে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ইন্টারনেট ব্যবহারের পরামর্শ:
নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা:
ব্যক্তিগত তথ্য: তোমার ব্যক্তিগত তথ্য যেমন নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি গোপন রাখো। অজানা ও অবিশ্বস্ত সাইটে এসব তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক হও।
পাসওয়ার্ড: শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করো এবং মাঝে মাঝে এটি পরিবর্তন করো। একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ব্যবহার থেকে বিরত থাকো।
সময় ব্যবস্থাপনা:
সময়ের সীমা: ইন্টারনেটে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা এড়িয়ে চলো। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমিত রাখো যাতে এটি তোমার পড়াশোনা বা অন্যান্য কাজের উপর প্রভাব না ফেলে।
বিরতি: দীর্ঘ সময় স্ক্রীনের সামনে থাকলে চোখের বিশ্রামের জন্য বিরতি নাও।
সাইবার নিরাপত্তা:
অ্যান্টিভাইরাস: একটি ভালো অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইনস্টল করে সিস্টেমের নিরাপত্তা বজায় রাখো।
সন্দেহজনক লিংক: ইমেইল বা মেসেজে কোনো সন্দেহজনক লিংক ক্লিক করো না।
শিক্ষা ও গবেষণা:
বিশ্বস্ত উৎস: শিক্ষামূলক তথ্য ও গবেষণার জন্য বিশ্বস্ত এবং স্বীকৃত ওয়েবসাইট ব্যবহার করো। মিথ্যা বা ভুল তথ্য থেকে সাবধান থেকো।
অনলাইন কোর্স: নতুন কিছু শেখার জন্য বিভিন্ন অনলাইন কোর্সে অংশগ্রহণ করতে পারো, তবে প্রমাণিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করো।
সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের সতর্কতা:
মন্তব্য ও শেয়ারিং: সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করার সময় সঠিক মন্তব্য করো এবং দায়িত্বশীলভাবে তথ্য শেয়ার করো।
অতিরিক্ত সময়: সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক ও কার্যক্রমে প্রভাব ফেলবে এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলো।
ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় এই বিষয়গুলো মেনে চললে তুমি নিরাপদে এবং কার্যকরভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে। আশাকরি, তোমার জন্য এই পরামর্শগুলো সহায়ক হবে।
প্রিয় শাওন, আমার স্নেহ ও ভালোবাসা নিও। বাবা-মা'কে আমার সালাম জানিও । গতকাল বাবার চিঠিতে জানতে পারলাম যে, আজকাল তুমি নাকি লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে উঠেছো। ঠিকমতো পড়াশুনা করছো না। এটা জেনে আমি কিছুটা হতাশ। পত্র মারফত আরো জানতে পারলাম ইদানিং তুমি ইন্টারনেটে অধিক সময় কাটাচ্ছো। ইন্টারনেট বর্তমান সময়ের একটি বড় আবিস্কার কিন্তু ইন্টারনেট ব্যবহার করার পূর্বে এর সুফল এবং কুফল সম্পর্কে তোমাকে বিস্তারিত জানতে হবে। তাই আজ তোমাকে আমার এ পত্র লেখা ।
বিশ্বকে আজ হাতের মুঠোয় এনেছে যে প্রক্রিয়া তার নাম ইন্টারনেট। তথ্য প্রযুক্তির এ ক্ষেত্রটি আজ পুরো বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে । ইন্টারনেটের সাহায্যে মানুষ উন্নীত হয়েছে এমন এক স্তরে যেখানে সারা বিশ্বের সকল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী একটি সমাজে পরিণত হয়েছে। মানুষের সময় ও দূরত্বকে কমিয়ে এনেছে ইন্টারনেট। ইন্টারনেটের কতিপয় সুফল দিকের মধ্যে রয়েছে- বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের খবর দ্রুত জানতে পারা। লেখাপড়া ও গবেষণার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বই। অনেক সময় বিদেশ থেকে বই অর্ডার দিয়ে আনতে হয়, যা অনেক খরচ ও সময় সাপেক্ষ। কিন্তু ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন লাইব্রেরীর বই ঘরে বসেই যে কোন সময়ই পড়া সম্ভব। ইন্টারনেটের কল্যাণে আজ আমরা ঘরে বসেই বিভিন্ন জিনিস কেনাকাটা করতে পারছি। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানের আবহাওয়া, জলবায়ু, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ইত্যাদি সম্পর্কেও আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে জানতে পারি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা আমাদের আবেগ, অনুভূতি ইত্যাদি জন্য প্রকাশ করতে পারি। পূর্বে যে চিঠি পাঠিয়ে আমাদের দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হতো, এখন ই-মেইলের মাধ্যমে তা সেকেন্ডেই অন্যের নিকট পৌছে যাচ্ছে। এছাড়াও ইন্টারনেটের কল্যাণে আমরা দূরবর্তী আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধবের সাথে চাইলেই ভিডিও কলের মাধ্যমে কথা বলতে ও দেখতে পারছি।ইন্টারনেটের সুফলের পাশাপাশি কিছু কুফলও রয়েছে। যেমনঃ ইন্টারনেট ব্যবহার করে মানুষ বিভিন্ন ধরণের ক্রাইম করে যাচ্ছে যা সাইবার ক্রাইম নামে পরিচিত। বর্তমানে সাইবার ক্রাইম ভয়াবহ আকারে বেড়ে চলেছে। নানা রকমের মিথ্যা ও গুজব ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে। বর্তমান সময়ের যুবক-যুবতীরা পর্নোগ্রাফির চিত্র আদান প্রদান করার মাধ্যমে বিভিন্ন রকমের অশ্লীল ও খারাপ কাজে জড়িয়ে পরছে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন রকমের গেইম খেলে তাদের সময় অপচয় করছে এবং চোখ ও মেধার মারাত্মক ক্ষতি করছে। সন্ত্রাসী সকল কর্মকাণ্ড আজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে। ইন্টারনেটের কল্যাণে আজ সামাজিক যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে। কিন্তু সামাজিক নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীলতা সত্যিকারের যোগাযোগ অনুভূতিকে কমিয়ে দিচ্ছে। বাইরে ঘুরে বেড়ানো, খেলাধুলা, মানুষের সঙ্গে মেলামেশার দক্ষতা ও ইচ্ছা কমে যাচ্ছে।
ইন্টারনেটের অনেক কুফল রয়েছে। তাই তোমাকে সতর্কতার সাথে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হবে এবং এর ভালো দিক গুলো তোমাকে গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন ধরণের শিক্ষনীয় ওয়েবসাইট থেকে তুমি তোমার জ্ঞান ভাণ্ডারকে আরো সমৃদ্ধ করো। তোমার সফলতা ও সুস্থতা কামনা করি। চিঠির মাধ্যমে তোমার অগ্রগতি জানাইও।
'পত্র' শব্দটির আভিধানিক বা ব্যবহারিক অর্থ স্মারক বা চিহ্ন। কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে মানবমনের কোনো ভাব, সংবাদ, তথ্য, আবেদন ইত্যাদি অপরের কাছে লিখিতভাবে জানানো হলে, তাকে সাধারণভাবে পত্র বা চিঠি বলে। সুন্দর, শুদ্ধ চিঠির মাধ্যমে মানুষের শিক্ষা, বুদ্ধিমত্তা, রুচি ও ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটে। সুলিখিত চিঠি অনেক সময় উন্নত সাহিত্য হিসেবে বিবেচিত হয়। যেমন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ছিন্নপত্র'।
চিঠি লিখতে হলে কতকগুলো সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে হয়। যেমন-
ক. চিঠির প্রকাশভঙ্গি আকর্ষণীয় হতে হবে। এর জন্য সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় চিঠি লিখতে হবে।
খ. পত্রে কোনো কঠিন শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। ভাষা প্রয়োগে শুদ্ধতা বজায় রাখতে হবে।
গ. হাতের লেখা যতটা সম্ভব পরিষ্কার রাখতে হবে।
ঘ. চিঠির বক্তব্য হবে সুস্পষ্ট। পত্রে অনাবশ্যক কিংবা অতিরঞ্জিত কোনোকিছু না লেখাই ভালো।
ঙ. চিঠি লেখার পদ্ধতি মেনে চলতে হবে। খামে নাম ঠিকানা স্পষ্টাক্ষরে লিখতে হবে।
পত্র বা চিঠির অংশ:
একটি চিঠি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত। যথা:
১. শিরোনাম
২. পত্রগর্ভ।
১. শিরোনাম: এর প্রধান অংশ প্রাপকের ঠিকানা। এই অংশে চিঠির খামের ওপর বামদিকে প্রেরকের ঠিকানা ও ডান দিকে প্রাপকের ঠিকানা লিখতে হয়। বর্তমানে সরকারি পোস্ট অফিসে প্রাপ্ত খামের সামনের অংশে প্রাপকের ঠিকানা লেখার নির্দিষ্ট ছক এবং পেছনের অংশে প্রেরকের ঠিকানা আলাদা ছাপানো ছক রয়েছে। 'লেফাফা' শব্দের অর্থ- খাম বা চিঠিপত্রের উপরের আবরণবিশেষ; এতে ডাকটিকেট লাগানো হয়। পোস্টাল কোড পোস্ট অফিসের নাম নির্দেশ করে। প্রবাসী বন্ধুকে লেখা পত্রের ঠিকানা ইংরেজি ভাষায় লিখতে হবে। পূর্ণ ও স্পষ্ট ঠিকানার অভাবে চিঠিপত্র গুলোকে 'ডেড লেটার' বলা হয়।
২. পত্রগর্ভ: এটি হচ্ছে চিঠির ভেতরের অংশ। পত্রের মূল বিষয়কে পত্রের গর্ভাংশ বলা হয়।
বিষয়বস্তু, প্রসঙ্গ ও কাঠামো অনুসারে বিভিন্ন ধরনের পত্রকে নিম্নলিখিত শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ব্যক্তিগত চিঠি
২. আবেদনপত্র বা দরখাস্ত
৩. সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য চিঠি
৪. মানপত্র ও স্মারকলিপি
৫. বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িকপত্র
৬. আমন্ত্রণ বা নিমন্ত্রণপত্র
১. ব্যক্তিগত চিঠি: ব্যক্তিগত চিঠির কাঠামোতে ছয়টি অংশ থাকে। যথা:
ক. মঙ্গলসূচক শব্দ: এককালে ব্যক্তিগত চিঠির প্রথমে কাগজের পৃষ্ঠার মাঝামাঝি জায়গায় পত্রলেখক মঙ্গলসূচক শব্দ লিখতেন। আজকাল ব্যক্তিগত চিঠিতে এগুলো আর লেখা হয় না।
খ. স্থান ও তারিখ: ব্যক্তিগত পত্রের ওপরের ডানদিকে তারিখ এবং যে স্থানে বসে পত্র লেখা হচ্ছে তার নাম লিখতে হয়।
গ. সম্বোধন: পত্র লেখার শুরুতে পত্রের বামদিকে প্রাপকের সঙ্গে সম্পর্ক অনুযায়ী সম্বোধন বা সম্ভাষণ লিখতে হয়। পত্রদাতার সঙ্গে প্রাপকের সম্পর্ক অনুসারে এবং পত্র-প্রাপকের মান, মর্যাদা, সামাজিক প্রতিষ্ঠা অনুযায়ী সম্বোধনসূচক শব্দ নির্বাচন করতে হয়। যেমন-
ব্যক্তিগত পত্রের সম্ভাষণ রীতি-
শ্রদ্ধাভাজন (পুরুষ)
শ্রদ্ধাস্পদেষু, পরম শ্রদ্ধাভাজন, মাননীয়, মান্যবরেষু, মান্যবর, শ্রদ্ধাভাজনেষু ইত্যাদি।
শ্রদ্ধাভাজন (মহিলা)
মাননীয়া, মাননীয়াসু, শ্রদ্ধেয়া, শ্রদ্ধাস্পদাসু ইত্যাদি।
সমবয়স্ক প্রিয়জন/বন্ধু (পুরুষ)
বন্ধুবরেষু, অভিন্নহৃদয়েষু, প্রিয়বরেষু, প্রিয়, প্রিয়বর, বন্ধুবর, সুপ্রিয়, সুহৃদবরেষু, প্রীতিভাজনেষু ইত্যাদি।
সমবয়স্ক প্রিয়জন/বন্ধু (মহিলা)
সুচরিতাসু, প্রীতিভাজনীয়াসু, প্রীতিনিলয়াসু, সুহৃদয়াসু ইত্যাদি
বয়ঃকনিষ্ঠ (ছেলে)
কল্যাণীয়, কল্যাণীয়েষু, স্নেহাস্পদেষু, স্নেহভাজনেষু, স্নেহের, প্রীতিভাজনেষু, প্রীতিনিলয়েষু ইত্যাদি।
বয়ঃকনিষ্ঠ (মেয়ে)
কল্যাণীয়া, কল্যাণীয়াসু, স্নেহের, স্নেহভাজনীয়া, স্নেহভাজনীয়াসু ইত্যাদি।
ঘ. মূল পত্রাংশ (মূল বক্তব্য): পত্র লেখার সময় পত্রের বক্তব্য ও বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। এই অংশে পত্রলেখকের মূল বক্তব্য, উদ্দেশ্য, ইচ্ছা, আবেগ, অনুভূতি, ঔৎসুক্য ইত্যাদি লিখতে হয়। পত্র-সমাপ্তিসূচক অভিব্যক্তির পর বিদায় সম্ভাষণ হিসেবে পত্র-প্রাপকের সঙ্গে লেখকের সম্পর্ক অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়। স্থান, কাল, পাত্রভেদে পত্র-প্রাপকের সঙ্গে সম্পর্ক অনুসারে বিশেষণ ব্যবহারে পাথর্য্য দেখা যায়। বিদায় সম্ভাষণ সাধারণত পত্রের ডানদিকে লিখতে হয়। যেমন-
ব্যক্তিগত পত্রের বিদায় সম্ভাষণ-
প্রাপক শ্রদ্ধাভাজন (পুরুষ)
স্নেহভাজন, স্নেহধন্য, স্নেহাকাড়ী, প্রীত্যর্থী, গুণমুগ্ধ, প্রণত, প্রীতিধণ্য, প্রীতিস্নিগ্ধ ইত্যাদি।
প্রাপক শ্রদ্ধাভাজন
(পত্রলেখক পুরুষ) স্নেহধন্যা, প্রণতা, বিনীতা, গুণমুগ্ধা প্রীতিধন্যা, প্রীতিস্নিগ্ধা ইত্যাদি।
প্রাপক বয়সে ছোট হলে
আশীর্বাদক, আশীর্বাদিকা, শুভাকাঙ্ক্ষী, শুভানুধ্যায়ী ইত্যাদি।
প্রাপক অনাত্মীয়
সম্মানীয় লোক
(পত্রলেখক পুরুষ) নিবেদক, ভবদীয়, বিনীত, বিনয়াবনত ইত্যাদি।
(পত্রলেখক মহিলা) নিবেদিকা, বিনীতা, বিনয়াবনত ইত্যাদি।
প্রাপক বন্ধুস্থানীয় বা
প্রিয়ভাজন
(পত্রলেখক পুরুষ) প্রীতিধন্য, প্রীতিমুগ্ধ, অভিন্নহৃদয়, আপনারই, তোমারই ইত্যাদি।
(পত্রলেখক মহিলা) প্রীতিধন্য, প্রীতিমুগ্ধ, অভিন্নহৃদয়া ইত্যাদি।
ঙ. নাম-স্বাক্ষর (পত্রলেখকের স্বাক্ষর): নাম-স্বাক্ষর চিঠির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই চিঠির শেষে অবশ্যই স্বাক্ষর করতে হয়।
চ. শিরোনাম: পত্র পাঠাবার খামের উপর লিখতে হয়। খামের উপর বাম দিকে পত্রলেখকের (প্রেরক) ঠিকানা এবং ডান দিকে পত্র প্রাপকের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা স্পষ্টভাবে লিখতে হয়। খামের উপরে ডান কোণে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মূল্যের ডাক টিকিট লাগাতে হয়। আজকাল বড় বড় পোস্ট অফিসে ডাক টিকিটের পরিবর্তে মেশিনের সাহায্যে খামের উপর ছাপ মারার ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
২. আবেদনপত্র বা দরখাস্ত: যে পত্র চাকরির জন্য লিখতে হয় তার নামই আবেদনপত্র। অর্থাৎ সুযোগ-সুবিধা প্রার্থনা করে কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত পত্রের নাম আবেদনপত্র।
৩. সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য চিঠি: সংবাদপত্র একটি আবেদন প্রকাশের জন্য সম্পাদকের বরাবর পাঠাতে হয়। বিজ্ঞপ্তি হলো- সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য নিখোঁজ সংবাদ।
৪. মানপত্র ও স্মারকলিপি: অভিনন্দন বা সংবর্ধনা পত্রকে মানপত্র বা স্মারকলিপি বলা হয়।
৫. বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িকপত্র: বাণিজ্যিক পত্রে বিষয়ের স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।
৬. আমন্ত্রণ বা নিমন্ত্রণপত্র: আপ্যায়নের উদ্দেশ্যে যে দাওয়াত পত্র, তাকে নিমন্ত্রণপত্র বলে।
৭. দলিল বা চুক্তিপত্র: বৈষয়িক ব্যাপারে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আইনানুসারে লিখিত পত্রকে দলিলপত্র বা চুক্তিপত্র বলে।
স্নেহের শাওন, আমার সালাম গ্রহণ করো। বাবা-মাকে আমার সালাম জানিও। ফারজানা ও ছোট ভাই রিয়ালের প্রতি রইলো অশেষ স্নেহ। পত্র মারফত জানতে পারলাম সাম্প্রতিক সময়ে তুমি ফেসবুক ব্যবহার করা আরম্ভ করেছো। এজন্য তোমাকে এ বিষয়ে কিছু জানানো প্রয়োজন মনে করছি। বর্তমান সময়ে বিশ্বের তুমুল জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফেসবুকের উত্তর হয়েছে। বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিপুল সংখ্যক জনগন ফেসবুক ব্যবহার করেন। ফেসবুক ব্যবহার কারীদের মধ্যে দেশের রাজনীতিক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, নাট্যকারসহ বিভিন্ন পেশা ও স্তরের মানুষ রয়েছে। ফেসবুকের বদৌলতে সহজেই বন্ধুত্ব হচ্ছে, প্রেম হচ্ছে এমনকি বিবাহও হচ্ছে। ফেসবুকের কল্যানে আমরা বিভিন্ন রকমের সাহায্য পেতে পারি। বিভিন্ন সময়ে রক্তের অনুসন্ধান, পুলিশি সহায়তা ইত্যাদি বিষয়ে আমরা ফেসবুকের সাহায্য পেয়ে থাকি।
ফেসবুক বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বকে আমাদের হাতের মুঠোয় এনে দেওয়ার কারনে এর কতিপয় কুফলও রয়েছে। বর্তমানে ফেসবুক আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করছে। বিভিন্ন রকমের অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ জিনিস ফেসবুকের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করছে। অনেকে এর মাধ্যমে মিথ্যা ব্যবসা করে সাধারণ মানুষকে যৌন হয়রানি করছে। এ ছাড়াও এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মীয় অবমাননা করও রাষ্ট্রবিরোধী কথাবার্তা প্রচার করা হয়ে থাকে।
ফেসবুক ব্যবহারে তোমাকে অবশ্যই কৌশলী হতে হবে এবং এর কুফল হতে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। আজ আর বিশেষ কিছু লিখবো না। নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নিও।
জনাব, আপনার বহুল প্রচারিত, দৈনিক জনকণ্ঠ' পত্রিকার চিঠিপত্র কলামে নিম্নলিখিত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বাধিত করবেন।
বিনীত মোঃ ফাইদ ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর হাউজিং সোসাইটি, সাভার, ঢাকা।
ট্রাফিক আইন মেনে সতর্কভাবে চলাচলের পরামর্শ।
সড়ক দুর্ঘটনা বাংলাদেশের একটি নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতিদিন খবরের কাগজের পৃষ্ঠা উল্টালেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। এই সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য গাড়ির চালক, পথচারী এবং গাড়ির মালিকদের পাশাপাশি জনসাধারণ যদি নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো মেনে চলে তাহলে এই দুর্ঘটনার হার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাবেন না।
রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস, রোড পার্মিট ও ইন্সুরেন্স সাথে নিয়ে বের হবেন।
মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়ে মাথায় হেলমেট পরিধান করবেন।
ডানে বামে দিক পরিবর্তনে সংকেত দিবেন।
যেখানে সেখানে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করবেন না।
নেশা বা মদ্য পান অবস্থায় গাড়ি চালাবেন না।
ধৈর্য্য ও মনোযোগের সাথে গাড়ি চালাবেন।
হাইড্রোলিক হর্ণ বর্জন করুন।
গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইলে কথা বলা হতে বিরত থাকুন।
অতিরিক্ত ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাবেন না। টার্নিং-এ ওভারটেকিং করবেন না।
সামনের গাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
চোখে ঘুম নিয়ে অথবা অসুস্থ, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালাবেন না।
একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাবেন না।
যদি যাত্রী হউন অন্যমনস্ক হয়ে বা মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তায় হাঁটা বা রাস্তা অতিক্রম করবেন না।
রাস্তা পারাপার কিংবা গাড়িতে উঠা অবস্থায় অথবা নামাজের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন।
অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই গাড়িতে কিংবা গাড়ির ছাদে ভ্রমণ করবেন না।
যদি মালিক হউন
ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া চালক নিয়োগ দিবেন না।
এক চালক দিয়ে একটানা ৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাবেন না ।
যাত্রীবাহী গাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা বক্স ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখুন।
রেজিস্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেস, রোড পার্মিট ও ইন্সুরেন্স বিহীন গাড়ি রাস্তায় নামাবেন না।
বিনীত মোঃ ফাইদ ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর হাউজিং সোসাইটি, সাভার, ঢাকা ।
আমার সালাম নিও। আশা করি ভালো আছো। আমিও ভালো আছি। গতকাল তোমার চিঠি পেয়েছি। তুমি আমার কক্সবাজার ভ্রমণ সম্পর্কে জানতে চেয়েছো। আমিও তোমাকে আমার ভ্রমণ সম্পর্কে জানাতে খুবই আগ্রহী।
কক্সবাজার বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি পর্যটন শহর। এটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত। কক্সবাজার চট্টগ্রাম শহর থেকে ১৫২ কি. মি. দক্ষিণে অবস্থিত এবং ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ৪১৪ কি. মি.। এখানে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুকাময় সমুদ্র সৈকত যা কক্সবাজার শহর থেকে বদরমোকাম পর্যন্ত একটানা ১২০ কি. মি. পর্যন্ত বিস্তৃত। তুমি জেনে খুশি হবে যে, বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত। বিধাতা যেন বাংলার সব রূপ ঢেলে দিয়েছেন বালুর আঁচলে। সমুদ্র সৈকতে প্রবেশ করতেই কানে ভেসে আসে সাগরের উত্তাল গর্জন। সাগরের বুকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের যে মোহনীয় আবেশ তা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দুর্বার বেগে আকর্ষন করে। বালুচরে অনেক সময় দেখা যায় লাল রঙের রাজ কাকড়া। গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরে জেলেদের ফিরে আসার দৃশ্য সত্যিই জ্যাক অপরূপ। পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে হোটেল, মোটেল, কটেজ ইত্যাদি। পর্যটকদের জন্য রয়েছে ঝিনুক মার্কেট, বার্মিজ মার্কেট ইত্যাদি। এখানে আরো রয়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তম সামুদ্রিক মৎস্য বন্দর এবং সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের অনেকগুলো পয়েন্ট রয়েছে, সেগুলো হলো লাবনী পয়েন্ট, সী ইন পয়েন্ট, কলাবতী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট, বালিকা মাদ্রাসা পয়েন্ট এবং Solt ডায়বেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট। এখানে বিস্তীর্ণ বেলাভূমি, সারি সারি ঝাউবন ও সাগরের আছড়ে পড়া বিশাল ঢেউ দেখা যায় ৷ এখানকার প্যাগোডা গুলো খুবই দর্শনীয়। এখানে একটি আবহাওয়া অফিস, একটি বাতিঘর এবং রাখাইন, মারমা সহ অনেক উপজাতির বসবাস রয়েছে। বিশ্বের দীর্ঘতম এ সমুদ্র সৈকত চিত্ত বিনোদনের অন্যতম প্রাণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। এখানে পর্যটকদের বিনোদনের জন্য রয়েছে স্পিড বোট, বিচ বাইক, ওয়াটার স্কুটার, আকাশে উড়ে বেড়ানোর জন্য প্যারাসুট ইত্যাদি। এছাড়াও বিশেষ দিনগুলোতে কনসার্ট ও খেলাধুলার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে । তুমি আমাদের দেশে আসলে অবশ্যই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ভ্রমণের জন্য নিমন্ত্রণ রইলো ।
ছোটদের আমার স্নেহ দিও আর বড়দের প্রতি রইলো সালাম। তোমার অবস্থা জানিও। বিশেষ আরকি?