যে পদ্ধতিতে চাকমারা পাহাড়ে চাষাবাদ করে তা-ই 'জুম'।
মারমারা পুরাতন বর্ষকে বিদায় ও নববর্ষকে বরণ উপলক্ষে 'সাংগ্রাই' উৎসবের আয়োজন করে থাকে। এ সময় তারা 'পানি খেলা' বা 'জলোৎসব' এ মেতে উঠে। তারা এ উৎসর এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে বেশ আনন্দ উদ্দীপনার সাথে উৎযাপন করে।
উদ্দীপকে ইভা ও ইরার দেখা নৃ-গোষ্ঠী হলো গারো নৃ-গোষ্ঠী। তারা বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বাস করে।
ইভা ও ইরা যাদের সাথে পরিচিত হয়েছে তারা নিজেদের 'মান্দি' নামে পরিচয় দিতে পছন্দ করে। আর এ বিষয়টি গারোদের সম্পর্কেই সত্য।
গারোদের সংস্কৃতি বৈচিত্র্যতায় ভরা। তাদের ভাষা, উৎসব, খাবার ও পোশাকে রয়েছে স্বকীয়তা। গারো মহিলাদের নিজেদের তৈরি পোশাকের নাম 'দকমান্দা' ও 'দকশাড়ি'। পুরুষেরা পরে 'গান্দো'। গারোরা আমাদের মতো ভাত, মাছ ও শাক সবজি খেয়ে থাকে। তবে তাদের বিশেষ একটি খাবার হলো 'বাঁশের গুড়ি'। যার জনপ্রিয় নাম মেওয়া। তারা পিঠা পছন্দ করে। তাদের উৎসবগুলো কৃষিকেন্দ্রিক। তাদের প্রধান সামাজিক ও কৃষি উৎসব হলো 'ওয়ানগালা'। বাংলাদেশের গারোদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। যার নাম 'আচিক খুসিক'। তবে এর নিজস্ব বর্ণমালা নেই। গারোদের সাংস্কৃতিক জীবনের এসব দিকই উদ্দীপকের ইবা ও ইরা লক্ষ করেছিল।
হ্যাঁ, ইভা ও ইরার বাবার কথার সাথে আমি একমত।
কারণ বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠীসমূহ বহুকাল থেকে বাঙালিদের সাথে এই ভূখন্ডে বসবাস করে আসছে। জীবনের প্রয়োজনে নৃগোষ্ঠীসমূহ যেমন বাঙালিদের অনেক কার্যাবলি গ্রহণ করেছে তেমনি বাঙালিরাও নৃগোষ্ঠীসমূহের সংস্কৃতির অনেক উপাদান গ্রহণ করেছে। ফলে আমাদের সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বাংলা ভাষার শব্দভান্ডারে নৃগোষ্ঠীদের বহু শব্দ রয়েছে। কুড়ি, কত্তা, পন, গোলমাল, হৈ-চৈ, আবোল-তাবোল ইত্যাদি। আমাদের ব্যবহৃত অনেক আসবাব নৃগোষ্ঠীদের থেকে এসেছে। যেমন- লাঙল, জোয়াল, টেকি, কুলা, মই, দড়ি ইত্যাদি। নৃগোষ্ঠীদের পোশাকের বিচিত্রতা বাংলাদেশে সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলেছে। তাদের পোশাক অলঙ্করাদি অন্যদের কাছে এখন একইভাবে জনপ্রিয়। ঝুমুর নাচ, বাঁশ নৃত্য, বোতল নাচ ইত্যাদি জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। নৃগোষ্ঠীদের বৈসাবি উৎসব বাঙালির পহেলা বৈশাখের সাথে সামঞ্জস্য রয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, আমাদের নৃগোষ্ঠীদের ভাষা, সংস্কৃতি, অনুষ্ঠান আমাদের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ইভা-ইয়ার বাবার এ কথাটি যথার্থ।
Related Question
View Allবাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, পাংখুয়া, চাক, খ্যাং, খুমি এবং লুসাই নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তারা মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বাস করে। এই নৃগোষ্ঠীগুলো নৃতাত্ত্বিকভাবে মঙ্গোলীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
সমতলভূমিতে সাঁওতাল, ওরাঁও, মাহালি, মুন্ডা, মাল পাহাড়ি ও মালো নৃগোষ্ঠীর মানুষ বাস করে। এরা দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া এবং পাবনা জেলার সমতলভূমিতে বাস করে। এদের মধ্যে সাঁওতাল নৃগোষ্ঠী সংখ্যা ও প্রভাবের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি।
বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে খাসি, মণিপুরি, গারো, হাজং এবং কোচ নৃগোষ্ঠীর বাস রয়েছে। এই অঞ্চলের পাহাড়ি ও উঁচু ভূমিতে তারা নিজেদের আবাস গড়ে তুলেছে। তারা লোকগীতি, নৃত্য এবং ধর্মীয় উৎসবের মাধ্যমে তাদের সংস্কৃতির পরিচয় প্রকাশ করে।
রাখাইন নৃগোষ্ঠীর প্রধান বসতি কক্সবাজার, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলায়। তারা মূলত মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এবং সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করে। রাখাইনরা কৃষি, নৌকা নির্মাণ এবং মৎস্যশিকার পেশায় দক্ষ।
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গারো, হাজং, কোচ, খাসি এবং মণিপুরি নৃগোষ্ঠীর বসবাস। তারা ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলে নিজেদের আবাস গড়ে তুলেছে। এই নৃগোষ্ঠীগুলো কৃষিকাজ ও নৃত্য-গীতের জন্য পরিচিত।
পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীগুলো নৃতাত্ত্বিকভাবে মঙ্গোলীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। তাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে মঙ্গোলীয় বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতি দেখা যায়। এই নৃগোষ্ঠীগুলো পার্বত্য অঞ্চলে বসবাস করলেও কৃষি ও পশুপালন তাদের প্রধান পেশা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!