সাধারণত কারও কাছে কোনো অর্থসম্পদ গচ্ছিত রাখাকে আমানত বলে।
আমানতের ক্ষেত্র অতি ব্যাপক। প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, জাতীয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কিছু না কিছু দায়িত্ব রয়েছে। এসব দায়িত্বও আমানতের অন্তর্ভুক্ত। যেমন-পিতামাতার কাছে তাঁদের সন্তান আমানত। সন্তানের সুন্দরভাবে গড়ে তোলা পিতামাতার দায়িত্ব। শিক্ষকের কাছে ছাত্রছাত্রী আমানত। ছাত্রছাত্রীদের সুশিক্ষা দেওয়া শিক্ষকের দায়িত্ব। ছাত্রছাত্রীদের নিকট বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ও অন্যান্য সম্পদ আমানতস্বরূপ। এসব যত্নের সাথে ব্যবহার করা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা তাদের কর্তব্য।
যে সম্পদ গচ্ছিত রাখা হয় তা যথাযথভাবে মালিকের কাছে প্রত্যর্পণ না করে আত্মসাৎ বা ক্ষতিসাধন করাকে খিয়ানত বলে। আর যে ব্যক্তি খিয়ানত করে তাকে খায়িন বা আত্মসাৎকারী বলা হয়। এ হিসেবে আমরা বলতে পারি যে, ইমরানের কাজটি সমীচীন হয় নি। কারণ তার দ্বারা আমানত রক্ষা হয় নি। সে আমানতের খিয়ানত করেছে। অর্থাৎ ইমরান যেমন ইমদাদের গচ্ছিত মাল চাহিবামাত্র ফেরত দিতে সক্ষম হয় নি তেমনিভাবে সে হয়তো গচ্ছিত মাল অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে ফেরত দিতে সক্ষম হবে না। কারণ এটি সে অন্যকে ধার দিয়েছে। যে ব্যক্তি ধার নিয়েছে সে অবশ্যই এটি ব্যবহার 'করবে। ফলে কমবেশি ক্ষতি হওয়াটাই স্বাভাবিক। অধিকন্তু গচ্ছিত দ্রব্য অন্যকে ধার দেওয়া কিংবা ব্যবহার করা খিয়ানতের শামিল।
অতএব, সার্বিক বিচারে আমরা বলতে পারি যে, ইমরান যা করেছে তা আমানতের খিয়ানতের পর্যায়ে পড়ে। ফলে তার কাজটি সমীচীন হয় নি।
উদ্দীপকে আমানত বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ইসলামি জীবনবিধানে আমানতের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। নিচে এর গুরুত্বের কিছু দিক তুলে ধরা হলো- ১. আমানতদারকে সমাজের সকলেই বিশ্বাস করে ও ভালোবাসে। সবাই সহজেই তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে। ফলে সে সমাজের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ২. মুনাফিকের ৩টি আলামতের মধ্যে অন্যতম একটি হলো আমানতের খিয়ানত করা। যারা আমানতের খিয়ানত করে, তারা প্রকৃত মুমিন নয়। তারা প্রতারক, ভণ্ড ও মুনাফিক। ৩. খিয়ানতকারী শুধু মানবসমাজেই নয়, সে আল্লাহর কাছেও ঘৃণিত ও অভিশপ্ত। কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে- "নিশ্চয়ই আল্লাহ খিয়ানতকারীকে ভালোবাসেন না।” ৪. একের হক অন্যজন নষ্ট করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। কিন্তু আমানত রক্ষার ফলে এ অনাকাঙ্ক্ষিত বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় না। ৫. আমানতের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুল (স.) ইরশাদ করেন, "যার আমানতদারি নেই, তার ইমানও নেই।” তিনি আরও ইরশাদ করেন, "লোকেরা যখন পরস্পর কথাবার্তা বলে, তখন তাও একটি আমানত।"
উপরিউক্ত আলোচনা আমাদেরকে আমানত সম্পর্কে ধারণা ও সচেতনতা সৃষ্টিতে সহায়তা করে এবং সমাজ গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। অতএব, আমানত রক্ষা ও যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে কল্যাণমুখী সমাজ বিনির্মাণে সকলের এগিয়ে আসা উচিত।
Related Question
View Allকআচার-আচরণে, কথাবার্তায়, বেশ-ভূষায় ও চালচলনে মার্জিত পন্থা অবলম্বন করাই শালীনতা।
প্রতারণা একটি সামাজিক অপরাধ। কারণ এর ফলে মানুষ দুঃখ কষ্ট ভোগ করে। সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। সমাজের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। প্রতারণাকারী খাঁটি মুসলমান নয়। প্রতারণা মুনাফিকের কাজ। এর শাস্তি বড় কঠিন। আর এ প্রসঙ্গেই হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে।
জামিল সাহেবের আচরণে আমরা ক্ষমা গুণের বহিঃপ্রকাশ দেখতে পাই।
মহান আল্লাহর অন্যতম গুণ ক্ষমা। সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য মানুষের এ গুণটি থাকা খুবই প্রয়োজন। ক্ষমার ব্যাপারে মহান রাব্বুল আলামিনের নীতি ও আদর্শ আমাদের অনুসরণ করা আবশ্যক। মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, কোনো কাজে বা কথায় তার ভুলত্রুটি হয়ে যেতে পারে। অতএব অন্যের ভুলভ্রান্তি, ত্রুটিবিচ্যুতিসমূহ ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে আমাদের দেখা উচিত।
মানুষকে ক্ষমা করলে আল্লাহ খুশি হন এবং যে ক্ষমা করে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন,
وَإِنْ تَعْفُوا وَتَصْفَحُوا وَتَغْفِرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অর্থ: "আর যদি তুমি তাদের মার্জনা কর, তাদের দোষত্রুটি উপেক্ষা কর এবং ক্ষমা কর তবে জেনে রেখ আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।" (সূরা তাগাবুন: ১৪)
শিল্পপতি জামিল সাহেবের কর্মচারী জনাব মাযহার আলি পোশাক তৈরিতে কাপড় কম দিয়ে ব্যবসায়ের ক্ষতি করেছেন। মাযহার আলির এরূপ কর্মকাণ্ড প্রতারণার পর্যায়ে পড়ে।
প্রতারণা একটি সামাজিক অপরাধ। কারণ এর ফলে মানুষ দুঃখকষ্ট ভোগ করে। সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়। সমাজের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। প্রতারণাকারী খাঁটি মুসলমান নয়। আমাদের নবি (স.) এ প্রসঙ্গে বলেন, "যে ব্যক্তি প্রতারণা করে সে আমার উম্মত নয়।” (মুসলিম)
প্রতারণা মুনাফিকের কাজ। এর শাস্তি বড় কঠিন। সত্যিকার ইমানদার ব্যক্তি কখনই প্রতারণার আশ্রয় নেয় না। মানুষকে ধোঁকা দেয় না। অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না।
অন্যের প্রয়োজনে বা উপকারে আসার নামই হলো পরোপকার।
এমন কিছু আচরণ বা কাজ যা মানুষকে হীন, নিচু ও নিন্দনীয় করে তোলে সেগুলোকে আখলাকে যামিমা বা নিন্দনীয় আচরণ বলে। নিন্দনীয় আচরণগুলো হচ্ছে হিংসা, ক্রোধ, লোভ, প্রতারণা, - পিতামাতার অবাধ্য হওয়া, ইভটিজিং, ছিনতাই প্রভৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!