ইমরান একটি দপ্তরের পিয়ন। সে প্রতিদিন অফিসে পৌঁছে তার বাইসাইকেলটি সঠিকভাবে তালা দিয়ে গ্যারেজে রেখে এর নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা করে। আজ তার সহকর্মী জুলহাসের বেতনের সাথে একটি ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়েছে। এর জন্য জুলহাস জোহরের নামাজ শেষে মুনাজাতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আল্লাহকে ধন্যবাদ জানায়।
হারাম উপার্জনকারীর ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হয় না বলে একে ইবাদত কবুলের অন্তরায় বলা হয়। অবৈধ, অননুমোদিত বা শরিয়ত পরিপন্থি যেকোনো উপায়ে উপার্জন করাকে হারাম উপার্জন বলে। যেমন- সুদ, ঘুষ, প্রতারণা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই প্রভৃতি উপায়ে উপার্জন করা হারাম। হারাম উপার্জনকারীর ইবাদত আল্লাহ কবুল করেন না। রাসুল (স) বলেছেন, "মানুষ দীর্ঘপথ অতিক্রম করে (কাবায় আসে) এবং (দোয়া কবুলের আশায়) অবিন্যস্ত চুলে ধূলি ধূসরিত অবস্থায় আকাশের দিকে দুই হাত তুলে ধরে বারবার বলতে থাকে, হে আমার প্রতিপালক! হে আমার রব! অথচ তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম, এমনকি সে লালিত-পালিত হয়েছে হারামভাবে! এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হবে?" (সহিহ মুসলিম)। তাই বুঝা যাচ্ছে হারাম পথে উপার্জিত সম্পদ ভক্ষণ করে শতবার আল্লাহর ইবাদত করলেও তা কবুল হবে না।
উদ্দীপকে জুলহাসের কাজটি মহান আল্লাহর শোকর আদায়ের শামিল। শোকর অর্থ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, ধন্যবাদ দেওয়া। মহান আল্লাহর নিয়ামত ও রহমতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাকে শোকর বলে। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে অসীম নিয়ামত দিয়েছেন এবং এর শোকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহর সর্বোত্তম নিয়ামত হলো মানুষকে সৃষ্টির সেরা ঘোষণা করা। এরপর মানুষের জীবন নির্বাহের জন্য পবিত্রতম রিজিক দিয়েছেন। পৃথিবীর সবকিছুই সৃষ্টি করেছেন মানুষের প্রয়োজন পূরণের জন্য। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "আর যদি তোমরা আল্লাহর নিয়ামত গণনা কর, তা হলে তা গুণে শেষ করতে পারবে না" (সুরা ইবরাহীম: ৭)। মূলত আল্লাহর নিয়ামতের পরিপূর্ণ শোকর আদায় করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব। এরপরও মুমিনগণ সুখে থাকলে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দুঃখে থাকলে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্যধারণ করেন। আল্লাহ বলেন, 'যদি তোমরা শোকর কর, তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের নিয়ামত বাড়িয়ে দেবো' (সুরা ইবরাহীম: ৭)।
জোহরের নামাজ শেষে মুনাজাতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আল্লাহকে ধন্যবাদ জানায়। অর্থাৎ সে আল্লাহ তায়ালার শোকর আদায় করে। সে বিশ্বাস করে, তার বেতনের সাথে যে ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়েছে তা মহান আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ। তাই সে নামাজ শেষে আল্লাহর নিয়ামতের শোকর আদায় করে।
উদ্দীপকে ইমরানের বাইসাইকেলটির নিরাপত্তার জন্য শুধু তালাবদ্ধ করাই যথেষ্ট নয় বরং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করাও অপরিহার্য। আরবি তাওয়াক্কুল শব্দের অর্থ ভরসা করা, নির্ভর করা। কোনোকিছু অর্জনের জন্য চেষ্টা বা সাধনা করার পর সফলতার জন্য মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা বা নির্ভর করাকে তাওয়াক্কুল বলে। কাঙ্ক্ষিত সফলতার জন্য আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে নিয়ম অনুযায়ী চেষ্টা ও সাধনা করা, সফল হলে আল্লাহর শোকর আদায় করা এবং কাঙ্ক্ষিত সফলতা না পেলে ধৈর্যধারণ করাই তাওয়াক্কুলের মূলকথা। আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, বান্দা আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট। খাঁটি মুমিন হতে হলে জীবনের সবক্ষেত্রে এবং সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতে হবে। আল্লাহ বলেন, "তোমরা একমাত্র আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল কর, যদি তোমরা মুমিন হও” (সুরা আল মায়িদা: ২৩)। যারা আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন। তাওয়াক্কুলের বড় সুফল হলো, যে যত বেশি তাওয়াক্কুল করবে তার ওপর তত বেশি আল্লাহর সাহায্য আসবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট" (সুরা আত-তালাক: ৩)। উদ্দীপকে ইমরান প্রতিদিন অফিসে পৌঁছে তার বাইসাইকেলটি সঠিকভাবে তালা দিয়ে গ্যারেজে রেখে এর নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনা করে। অর্থাৎ সে শুধু তালার ওপর নির্ভর করে না। কেননা সে বিশ্বাস করে, তালা কখনো বাইসাইকেলের পূর্ণনিরাপত্তা দিতে পারে না। চোর তালা ভেঙেও এটি নিয়ে যেতে পারে। একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই সাইকেলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে পারেন।
ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম- তা বর্ণনা করতে পারবেন
ইসলাম চিরস্থায়ী ও বিশ্ব মানবতার ধর্ম- তা বর্ণনা করতে পারবেন
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা- তা ব্যাখ্যা করতে পারবেন।
১. ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম
ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম। ইসলামে অনর্থক মানুষের সাথে ঝগড়া-বিবাদ করা নিষিদ্ধ কাজ। কাউকে গালি দেওয়া, কারো কুৎসা রটনা করা বা চোগলখুরি করা ইসলামে নিষিদ্ধ। কাউকে ব্যঙ্গ করাও ইসলামে বৈধ নয়। ইসলামের মর্মবাণী হল- সকল মানুষ সমান। মানুষে মানুষে কোন শ্রেণি বিভাগ বা ভেদাভেদ নেই। সকল মানুষ হযরত আদম (আ) থেকে সৃষ্টি। তাই আরব, অনারব, সাদা-কালো, ধনী, দরিদ্রের মাঝে কোন পার্থক্য নাই। একজন অপর জনের বিপদে আপদে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবে। রক্তের বন্ধন ছিন্ন করা ইসলামে নিষিদ্ধ। ভাই ভাই হয়ে একে অপরের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার বিধান ইসলামে রয়েছে। অনর্থক কোন প্রাণি হত্যা করাকেও ইসলাম অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।
"মুসলমান সেই ব্যক্তি যার হাত এবং মুখের অনিষ্টতা থেকে অপর মুসলমান নিরাপদ থাকে"। (তিরমিযি, নাসায়ি) আল্লাহ তাআলা মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) কে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا أَرْسَلْتُكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَلَمِينَ
আমি তো আপনাকে বিশ্ববাসীর প্রতি রহমত রূপেই প্রেরণ করেছি"। (সূরা আম্বিয়া ২১: ১০৭) সুতরাং ইসলাম সর্ব প্রকার জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, ও বঞ্চনা থেকে মানুষকে মুক্ত করে শান্তির ছায়াতলে আশ্রয় দেয়। ইসলাম শুধু মানুষের প্রতি ন্যায়সঙ্গত আচরণ ও ইনসাফ কায়েম করার কথা বলেনা; প্রাণিকূলের প্রতি দয়া ও সদাচরণ এবং তাদের অধিকার রক্ষার তাগিদও দিয়েছে।
২. ইসলাম মানুষের স্বভাবজাত ও বিশ্বজনীন ধর্ম আল্লাহ তাআলা মানুষের ফিতরাত বা স্বভাবের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই ইসলামের বিধি বিধান দিয়েছেন। তাই ইসলাম মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম। ইসলামের মধ্যে এমন কিছু নেই, যা পালন করা মানুষের জন্য কষ্ট সাধ্য। বিশ্বনবি (স.) বলেছেন,
كُلُّ مَوْلُودٍ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ
"প্রতিটি শিশু সহজাত ধর্ম বা ইসলামি ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে।" (আবু দাউদ, তিরমিযি) এই হাদিস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, প্রতিটি শিশুর মাঝেই হিদায়াত গ্রহণ তথা ইসলামি শরিয়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার মতো গুণাবলি রয়েছে। ইসলামি শরিয়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা মানবের স্বভাবের পরিপন্থী নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,
"আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, কঠিন করতে চান না"। (সূরা বাকারা ২: ১৮৫) এ আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, ইসলামের অনুসরণ এবং ইসলাম পালন অত্যন্ত সহজ কাজ, কঠিন কিছু নয়।
৩. ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা
হযরত আদম (আ) থেকে হযরত মুহাম্মদ (স.) পর্যন্ত পৃথিবীতে অসংখ্য নবি রাসূল আগমন করেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ যুগে নিজ নিজ জাতি ও দেশের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তি ছিলেন। আল্লাহ তাঁদেরকে শুধু দ্বিন প্রচারের জন্যই প্রেরণ করেননি। তাঁদের অনেকেই আবার জগত বিখ্যাত ও ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন। প্রত্যেক নবি ও রাসূলের শরিয়াত ভিন্ন ভিন্ন থাকলেও দ্বিন ছিল ইসলাম। এই দ্বিন ইসলাম হযরত মুহাম্মদ (স.) এর মাধ্যমে পরিপূর্ণতা লাভকরেছে। হযরত মুহাম্মদ (স.) আখেরি নবি ও রাসূল। ইসলাম হচ্ছে সকল নবি রাসূলের শরিয়াতের নির্যাস। আল্লাহ তাআলা বলেন-
"আমি সকল বিষয়ের সুস্পষ্ট বিবরণ দিয়ে এই গ্রন্থখানা অবতীর্ণ করেছি"। (সূরা আন-নাহল ১৬:৮৯) এ আয়াত দ্বারা স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মানব জীবনে যা কিছু প্রয়োজন তার সব কিছুর নীতি নির্ধারণী বর্ণনা আল কুরআনে রয়েছে। মহানবি (স.) এর পবিত্র জীবনাদর্শ হচ্ছে আল কুরআনের ব্যাখ্যা। আল্লাহ তাআলা ইসলামকে পরিপূর্ণতা দান করে আয়াত নাযিল করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,"আমি সকল বিষয়ের সুস্পষ্ট বিবরণ দিয়ে এই গ্রন্থখানা অবতীর্ণ করেছি"। (সূরা আন-নাহল ১৬:৮৯) এ আয়াত দ্বারা স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মানব জীবনে যা কিছু প্রয়োজন তার সব কিছুর নীতি নির্ধারণী বর্ণনা আল কুরআনে রয়েছে। মহানবি (স.) এর পবিত্র জীবনাদর্শ হচ্ছে আল কুরআনের ব্যাখ্যা। আল্লাহ তাআলা ইসলামকে পরিপূর্ণতা দান করে আয়াত নাযিল করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
ইসলাম শান্তি ও সম্প্রতির ধর্ম। ইসলামে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষ সমান। ইসলামে কোন শ্রেণি বিভেদ নেই। আরব, অনারব, সাদা, কালো, ধনী-দরিদ্রের মধ্যে কোন পার্থক্য নাই। ঝগড়া-বিবাদ ইসলামে নিষিদ্ধ কাজ। মানুষকে হিংসা-বিদ্বেষ, ঝগড়া-বিবাদ, গালি-গালাজ, চোগলাখুরি করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। ইসলামে কোন কঠোরতা নাই। আল্লাহ তাআলা সকল কাজ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রেখেছেন। ইসলামে কোন কিছু অস্পষ্ট নয়। আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য সব কিছু স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আল-কুরআন ইসলামি শরিয়াতের মূল উৎস। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। তাই ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করা সকল মানুষের জন্য কল্যানময়।
ইসলাম শিক্ষা-১ম পত্র-ড. মোঃ আমির হোসেন সরকার স্যারে লেখা বই
পারস্পরিক সাক্ষাতে সালাম বিনিময় করা ইসলামি সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। সালাম অর্থ শান্তি। ইসলামি সংস্কৃতির রীতি অনুযায়ী এক মুসলমানের সঙ্গে অন্য মুসলমানের দেখা হলে প্রথমে সালাম বিনিময় করে। এর মাধ্যমে অন্যের শান্তি তথা কল্যাণ কামনা করা হয়। সালাম দেওয়া সুন্নত এবং সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। কেউ সালামের উত্তর না দিলে ইসলামের বিধান অনুযায়ী সে গুনাহগার হবে।
আবদুল বাতেন তার ছেলেকে আল্লাহর ইবাদতের নিয়ম- পদ্ধতি ও হালাল-হারামের বিধান শেখার জন্য ইসলাম শিক্ষা অধ্যয়ন করতে বলেছেন। যে শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামকে একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষা দেওয়া হয় তাকে ইসলাম শিক্ষা বলে। এটি কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক একটি আদর্শ শিক্ষাব্যবস্থা। আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা, হালাল উপার্জন ও কর্মমুখী জীবন গঠন, দুনিয়ার কল্যাণ ও আখিরাতে মুক্তিলাভ প্রভৃতি ইসলাম শিক্ষার উদ্দেশ্য। আবদুল বাতেন তার ছেলেকে এ বিষয়টি অধ্যয়ন করতে বলেছেন।
উদ্দীপকের আবদুল বাতেন তার একমাত্র ছেলেকে আল্লাহর ইবাদতের নিয়ম-পদ্ধতি ও হালাল-হারামের বিধান শেখানোর জন্য একটি বিশেষ বিষয় অধ্যয়ন করতে বলেন। তিনি এখানে ইসলাম শিক্ষার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। ইসলামকে সঠিকভাবে জানা এবং তা মানার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই ইসলাম শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। ইসলামের বিধিবিধান এবং আল্লাহর ইবাদতের পদ্ধতি শেখানো, জীবনের সবক্ষেত্রে ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করা এবং ব্যক্তির চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধন ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। ইসলাম শিক্ষা মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথ প্রদর্শন করে এবং অন্যায় ও অসত্য থেকে দূরে রাখে। আল্লাহর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন এবং মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব সংরক্ষণ করাও ইসলাম শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য।
দৈনন্দিন জীবনে আবদুল বাতেন হালাল-হারামের বিধান মেনে চলেন। ইসলামি শরিয়তে যেসব বিষয়ের অনুমতি রয়েছে এবং যা সম্পর্কে কোনো নিষেধ বাণী নেই তাকে হালাল বা বৈধ বলে। আর শরিয়তে যেসব বিষয় নিষেধ করা হয়েছে তা হারাম বা অবৈধ। জীবনের সবক্ষেত্রে হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা ইসলামের বিধান। আবদুল বাতেন দৈনন্দিন জীবনে এ বিধানটি মেনে চলার চেষ্টা করেন।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে, জনাব আবদুল বাতেন জীবনযাপনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলার চেষ্টা করেন। তিনি হালাল পথে উপার্জন করেন। হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করেন। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় এ বিধানটি মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম। হালাল উপার্জন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। এটি ইবাদত কবুলের প্রধান পূর্বশর্ত। মানুষ যদি হালাল উপার্জন করে এবং হালাল জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে। আর যদি হারাম উপায়ে উপার্জন ও হারাম জীবিকা গ্রহণ করে, তাহলে তার ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। হালাল জিনিস গ্রহণ ও হারাম জিনিস বর্জন করা একজন মুমিনের জন্য অত্যাবশ্যক। হালাল- হারামের বিধান মেনে চলার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ পালন করা হয়। হালাল উপার্জনকারীর ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হন আর হারাম উপার্জনকারীর প্রতি অসন্তুষ্ট হন। হারাম বা অবৈধ জিনিস প্রহণের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এর জন্য পরকালে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন ও ইবাদত কবুলের জন্য ইসলামি শরিয়তের আলোকে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলা মুসলিমদের জন্য অত্যাবশ্যক।
হাক্কুল্লাহ বলতে আল্লাহর প্রতি মানুষের কর্তব্যকে বোঝায়। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের জন্য। আল্লাহর প্রতি মানুষের কর্তব্য পালনের মানে হচ্ছে যথাযথভাবে তার ইবাদত করা। জীবনের সবক্ষেত্রে তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলা। যেকোনো অবস্থায় আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করা এবং তার অনুগ্রহ প্রার্থনা করা। তার নেয়ামতের শোকর করা এবং সুখে-দুঃখে তার ওপর ভরসা করা।