কুরআন মাজিদ লাওহে মাহফুজ বা সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
আল-কুরআন হলো সর্বশেষ আসমানি গ্রন্থ। এরপর আর কোনো কিতাব আসবে না। কুরআন মজিদ সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। এতে দীনের যাবতীয় বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে। মানুষের জীবনে যেসব সমস্যার উদ্ভব হয়ে থাকে তার সমাধানের ব্যাপারে এতে নির্দেশনা রয়েছে। পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহের মূল শিক্ষাও এতে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং আল-কুরআন সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব। আল-কুরআন আল্লাহ তায়ালার বাণী। এর ভাব ও ভাষা অনন্য ও অপূর্ব। এটি মহানবি (স.)-এর সবচেয়ে বড় মুজিযা। কেউই এর ক্ষুদ্রতম সূরার সমতুল্য কিছু রচনা করতেও সক্ষম হয়নি এবং ভবিষ্যতেও সক্ষম হবে না।
মানবজীবনে আল-কুরআনের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা আল-কুরআন হলো মানবজাতির হিদায়েতের প্রধান উৎস। কোন পথে চললে মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ করবে আল-কুরআন তা আমাদের দেখিয়ে দেয়। পাপপুণ্য, ন্যায়-অন্যায়, ভালোমন্দ ইত্যাদির পরিচয় দান করে। আল-কুরআনের নির্দেশনামতো চলে আমরা কল্যাণ লাভ করতে পারি। আখিরাতে আল-কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। দুনিয়াতে যে ব্যক্তি আল-কুরআনের নির্দেশ মেনে চলবে সে হবে মহাসৌভাগ্যশালী। সে পাবে চিরশান্তির জান্নাত। আর যে কুরআন মজিদের আদেশ-নিষেধ মানবে না তার স্থান হবে যন্ত্রণাদায়ক জাহান্নামে।
আল-কুরআন আমাদের নৈতিক ও মানবিক আদর্শ শিক্ষা দেয়। আল-কুরআন অনুসরণ করে আমরা উত্তম চরিত্রবান ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারি। ফলে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে। অন্যায়-অত্যাচার, দুর্নীতি দূরীভূত হবে।
উদ্দীপকের ইমাম সাহেব বলেন, “আল-কুরআন জ্ঞান-বিজ্ঞানের আধার।” ইমাম সাহেবের এ উক্তি সম্পূর্ণ সঠিক ও যথার্থ। আমরা জানি, আল-কুরআন জ্ঞানসমূহের ভাণ্ডারস্বরূপ। এতে রয়েছে আল্লাহ তায়ালার পরিচয়, তাঁর গুণাবলির বর্ণনা, তাঁর ক্ষমতা ও নিয়ামতসমূহের বর্ণনা। আল-কুরআনে মানব সৃষ্টির অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। সৌরজগৎ, আসমান-জমিন, নক্ষত্ররাজি, পাহাড়-পর্বত সবকিছু সম্পর্কেই এতে উল্লেখ করা হয়েছে। পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ঘটনা, নবি-রাসুলগণের বিবরণ, পুণ্যবান ও পাপীদের অবস্থা ইত্যাদিও আল-কুরআনে বর্ণনা করা হয়েছে। কুরআন মজিদ পূর্ববর্তী সকল আসমানি কিতাবের সারবস্তু ও পৃথিবীর সকল জ্ঞান-বিজ্ঞান আল-কুরআনের মধ্যে সন্নিবেশিত হয়েছে। এজন্য একে আল হাকিম বা জ্ঞানভান্ডার বলা হয়।
Related Question
View Allআল কুরআনের অবতীর্ণ পূর্ণাঙ্গ প্রথম সূরা হলো সূরা আল ফাতিহা।
আল্লাহর বাণী- হে আমার প্রতিপালক। আমাকে জ্ঞানে সমৃদ্ধ কর। এটি কুরআনের সূরা ত্বহার ১১৪নং আয়াত। এখানে জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করার কথা বলা হয়েছে। জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয। কেননা শিক্ষা ও জ্ঞানের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তায়ালাকে চিনতে পারি। তার বিধান জানতে পারি। সুতরাং আমরা ভালো করে লেখাপড়া শিখব। জ্ঞানার্জনে কোনোরূপ অবহেলা করব না। আর সাথে সাথে আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর নিকট মুনাজাত করব। কেননা মহান আল্লাহই সবকিছুর মালিক।
উদ্দীপকের আব্দুর রহিম কুরআন তিলাওয়াতে (শরিয়তের) তাজবিদ সহকারে কুরআন পড়ার বিধানটি পালন হয়নি। কারণ তাজবিদসহ কুরআন তিলাওয়াত করা আল্লাহর নির্দেশ। তাই এটি ওয়াজিবও।
তাজবিদ শব্দের অর্থ উত্তম বা সুন্দর করা। আল-কুরআনের আয়াতসমূহকে উত্তমভাবে বা সুন্দর ও শুদ্ধ করে পড়াকে তাজবিদ বলা হয়। অর্থাৎ আল-কুরআনের প্রতিটি হরফকে মাখরাজ ও সিফাত অনুসারে বিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করাকে তাজবিদ বলে।
আব্দুর রহিমের কুরআন তিলাওয়াত ছিল সুমধুর। কিন্তু তা ছিল অশুদ্ধ। যা আল্লাহর বিধানের পরিপন্থী। কেননা তাজবিদ অনুযায়ী কুরআন পড়া আল্লাহ পাকের নির্দেশ। আর শুদ্ধরূপে কুরআন শিক্ষার মাহাত্ম্য অনেক। রাসুল (স.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে তা শিক্ষা দেয়। সুতরাং আমরা তাজবিদ সহকারে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করব।
প্রদত্ত উদ্দীপকের আব্দুল করিমের কুরআন তিলাওয়াতের পদ্ধতিটি ছিল আল্লাহর নির্দেশের যথাযথ অনুসরণ।
তাজবিদ সহকারে কুরআন পড়া আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ। আর শুদ্ধরূপে কুরআন শিক্ষার ফজিলত অনেক। এ প্রসঙ্গে রাসুল (স.) ইরশাদ করেন- “তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে তা শিক্ষা দেয়।
উদ্দীপকের আব্দুল করিমের কণ্ঠস্বর সুমধুর নয়। কিন্তু তিনি দেখে ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে কুরআন তিলাওয়াত করার আপ্রাণ চেষ্টা করতেন। কেননা তাজবিদ অনুসারী কুরআন পড়া ওয়াজিব, আর না পড়লে গুনাহ হয়। এতে অনেক সময় কুরআনের অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়। যেমন- সূরা ইখলাসে এসেছে (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ) বলুন (হে নবি) তিনি আল্লাহ একক ও অদ্বিতীয়। এখানে (قُلْ)শব্দের অর্থ বলুন। আর যদি ও (কাফ)-কে ভুল মাখরাজ থেকে উচ্চারণ করে বলা হয় کُن তাহলে অর্থ বিকৃত হয়ে যায়। কেননা ১৮ শব্দের অর্থ– খাও বা ভক্ষণ কর। ফলে আল কুরআনের অর্থের বিকৃতি ঘটে। যা কোনোভাবেই জায়েয নয়।
হাদিস (اَلْحَدِيثُ)শব্দটি আরবি। এর অর্থ- কথা, বাণী ইত্যাদি।
পবিত্র কুরআন মজিদ আরবি ভাষায় রচিত। আরবি ভাষায় রয়েছে ২৯টি হরফ বা বর্ণ। প্রত্যেকটি হরফ বা বর্ণ নির্দিষ্ট স্থান থেকে উচ্চারিত হয়। আরবি বর্ণ উচ্চারিত হওয়ার স্থানকে মাখরাজ বলে। মাখরাজগুলো মুখের ৫টি স্থানে অবস্থিত। এগুলোর মধ্যে হলক বা কণ্ঠনালি অন্যতম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!