সাংস্কৃতিক ব্যাপ্তি হলো সংস্কৃতির চলমান গতিধারা এবং এক সমাজ থেকে আরেক সমাজে সংস্কৃতির প্রসার লাভ।
আধুনিক প্রযুক্তি সমাজে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে গোটা বিশ্ব এখন বিশ্ব পল্লিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এখন ঘরে বসে পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তের খবরাখবর জানার জন্য এক সংস্কৃতির সংস্পর্শে আসছে অন্য সংস্কৃতি। অনুন্নত সংস্কৃতি দ্রুত উন্নত সংস্কৃতির উপাদান গ্রহণ করছে। এভাবে প্রযুক্তি সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করছে।
ইরার দেখা শিল্পকর্মগুলো দৃশ্যশিল্পের অন্তর্গত।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ইরা তার বাবার সাথে জাতীয় জাদুঘরে বেড়াতে গিয়ে মাটি ও বাঁশ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন শিল্পকর্ম দেখলো। রাজা রানিদের ব্যবহার্য বিভিন্ন তৈজসপত্র ও কাঠের কাজ করা কারুশিল্পও - সে দেখতে পেল। এগুলো সম্পর্কে তার বাবা বলল, এগুলো হলো আমাদের অতীত ঐতিহ্য। দৃশ্যশিল্পের বেশিরভাগই বস্তুগত শিল্প বা সংস্কৃতি হিসেবে পরিগণিত। পলিমাটিতে গড়া আমাদের এই দেশে প্রচুর বাঁশ জন্মায়। এসব উন্নতমানের বাঁশ মানুষের ঘর তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সুনির্মিত ঘর হলো মাটির তৈরি ও বাঁশের তরজার ছাউনিযুক্ত দোচালা চারচালা এমনকি আটচালা ঘর। কখনো কখনো বাঁশের কাঠামোর ওপর শন দিয়ে চাল ছাওয়া হয়েছে। বাঁশের পাশাপাশি কাঠের কাজ, আসবাবপত্র, তৈজসপত্র, শঙ্খের কাজ, কারুশিল্প প্রভৃতিও দৃশ্যশিল্পের অন্তর্গত। এসব দৃশ্য বাংলার মানুষ যেমন দক্ষতা দেখিয়েছে তেমনি সৃজনশীল মনেরও প্রকাশ ঘটিয়েছে।
হ্যাঁ, ইরার বাবার কথায় আমাদের সংস্কৃতির মননশীলতার পরিচয় বহন করে। উদ্দীপকে ইরার বাবা বললেন, এগুলো হলো আমাদের অতীত ঐতিহ্য। উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে বলা যায়, বাংলার সংস্কৃতির ব্যাপক বৈচিত্র্য আমাদের সংস্কৃতির মননশীলতার পরিচয় বহন করে। আবহমান বাংলায় দৃশ্যশিল্পসমূহ যেমন- বাঁশ ও বেতের তৈরি জিনিসপত্র, মাটির তৈরি কারুকার্য প্রভৃতি এদেশের জনগণের মনোজগতের ভাবনাগুলোর বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। সুদুর অতীত থেকে চলে আসা বাউল সঙ্গীত আমাদের বর্তমান নাগরিক সংগীতের মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলার লোকজ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি সম্প্রীতির সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ার চেষ্টা আজ সফল হয়েছে। বাংলার প্রকৃতি ও মানবিক আবেদনগুলো নকশি কাঁথার নকশায়, তালপাতার নকশায় সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। জারি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া প্রভৃতির মাধ্যমে একক বাঙালি সত্তার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। বাংলার এসব অতীত ঐতিহ্য আমাদের মননশীলতারই পরিচয় বহন করে। তাই ইরার বাবার উক্তিটি যথার্থ।
Related Question
View Allসাংস্কৃতিক পরিবর্তন পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে ঘটে। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে হস্তান্তরের সময় সংস্কৃতিতে কিছু পরিবর্তন আসে। ভিন্ন সংস্কৃতির সংস্পর্শেও সংস্কৃতির রূপ বদলায়। এটি মানুষের জীবনধারার পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।
উন্নয়ন বলতে ক্রমান্বয়ে কোনো কিছু উন্নত বা পরিপূর্ণ রূপলাভকরাকে বোঝায়। এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক উন্নয়নকেও নির্দেশ করে। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন। উন্নয়ন সমাজের পরিবর্তনের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
সংস্কৃতির পরিবর্তন ও উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। উন্নয়ন যেমন সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে, তেমনি সাংস্কৃতির পরিবর্তনও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। উদাহরণস্বরূপ, প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিতে উৎপাদন বাড়িয়ে উন্নয়ন ঘটায়।
বাংলাদেশের কৃষিতে লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টর ব্যবহার সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের উদাহরণ। এটি বস্তুগত সংস্কৃতির পরিবর্তন হিসেবে পরিচিত। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বেড়েছে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে।
সামাজিক উন্নয়ন মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের মাধ্যমে সম্ভব। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সচেতনতার প্রসারের মাধ্যমে ঘটে। উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক পরিবর্তনের ফল।
সংস্কৃতির পরিবর্তনকে নেতিবাচকভাবে দেখা উচিত নয় কারণ এটি সমাজের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। নদীর প্রবাহের মতো সংস্কৃতি পরিবেশের সাথে খাপ খেয়ে পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তন মানুষকে নতুন ধারণা ও সুযোগ দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!