'হাদিস' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ 'কাদিম'।
ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত হলো হালাল উপার্জন। উপার্জন হালাল না হলে আমাদের শরীর ও আত্মা কলুষিত হয়ে পড়ে বিধায় ইবাদত কবুল হয় না। হারাম জীবিকা গ্রহণ করলে শরীরের রক্ত, মাংস ও অস্থিমজ্জা হারাম বিষয়ে পরিণত হয়। ফলে পুরো শরীরই অপবিত্র হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই এই শরীরে কোনো ইবাদত করলে তা গ্রহণযোগ্য হয় না; বরং পাপাচার হয়।
কুরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব ও ফজিলত বিবেচনা করে ইসমাইল হোসেন কুরআন তিলাওয়াতের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। আল কুরআনে আল্লাহ তায়ালা পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান পেশ করেছেন। পূর্ববর্তী সব আসমানি কিতাবের সারসংক্ষেপ এ মহাগ্রন্থ। সেজন্য কুরআন মাজিদের তিলাওয়াত যেমন ফজিলতপূর্ণ তেমনি গুরুত্ববহ। আর এ বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেই ইসমাইল হোসেন কুরআন তিলাওয়াতের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
উদ্দীপকের ইসমাইল হোসেন নিজে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করেন এবং পরিবারের সবাইকে এ ব্যাপারে উৎসাহিত করেন। কারণ তিনি জানেন যে কুরআন তিলাওয়াতের জন্য আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন। এই মহাগ্রন্থ সব জ্ঞানের আধার। এমন কোনো বিষয় নেই যার তথ্য কুরআন মাজিদে পরিবেশিত হয়নি। তাই কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইসমাইল হোসেন ও তার পরিবারবর্গ প্রয়োজনীয় জ্ঞান লাভ করবেন। শুধু তাই নয়, কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে ব্যক্তির ওপর শান্তি বর্ষিত হয়। তাছাড়া এর মাধ্যমে যে সওয়াব ও মর্যাদা লাভ করা যায় তা ব্যক্তিকে জান্নাত লাভে সহায়তা করে। আর উদ্দীপকের ইসমাইল হোসেন কুরআন তিলাওয়াতের এসব ফজিলতই উপলব্ধি করতে পেরেছেন এবং এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।
হাদিস অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষের নৈতিকতার সুষ্ঠু বিকাশ ঘটে- উদ্দীপকটিই তার বাস্তব প্রমাণ। হাদিস হলো রাসুলুল্লাহ (স)- এর কথা, কাজের বিবরণ এবং মৌন সমর্থন। মহামানবের রেখে যাওয়া এই জীবনাদর্শ অনুসরণ করলে মানুষের জীবন নৈতিকতা ও আদর্শে পরিপূর্ণ হতে বাধ্য। উদ্দীপকের ইসমাইল হোসেনের ছেলে-মেয়েদের চরিত্রেও এর প্রভাব লক্ষ্যণীয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত ইসমাইল হোসেন পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়মিত হাদিস পাঠ করে শোনান। এরই প্রভাব আমরা দেখতে পাই তার ছেলে-মেয়েদের জীবনে। হাদিসের জ্ঞান তাদের জীবনে নৈতিকতাবোধকে জাগ্রত করেছে। প্রকৃতপক্ষে নৈতিক জীবন গঠনে হাদিসের কোনো বিকল্প নেই। কারণ আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ (স) ছিলেন নৈতিক জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত। তিনি উন্নত নৈতিক জীবন গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করেছেন। ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত কীভাবে মন্দ চরিত্র ও খারাপ স্বভাব দূর করে সুন্দর চরিত্র গড়ে তোলা যায় সে পথ দেখিয়েছেন। আল হাদিসে এ বিষয়ে অসংখ্য উদ্ধৃতি রয়েছে, যা নৈতিক জীবন গঠনে চিরকাল বিশ্বমানব সভ্যতাকে সুপথ দেখিয়েছে। আর ইসমাইল হোসেনের ছেলেমেয়েরা হাদিসের মাধ্যমে সেই সুপথেরই সন্ধান পেয়েছে। ফলে তারা নৈতিকতাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে নৈতিক চরিত্র গঠনে হাদিসের গুরুত্বের প্রতিফলন ঘটেছে যা আমাদেরকে রাসুল (স) এর জীবনাদর্শ মেনে চলতেই অনুপ্রেরণা জোগায়।
Related Question
View All'সিহাহ সিত্তাহ' হলো- বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থ।
আলোচ্য হাদিসের অর্থ হলো- 'লজ্জাশীলতা ইমানের একটি বিশেষ অঙ্গ'। উল্লেখিত হাদিসটি সহিহ বুখারি ও মুসলিম শরিফে সংকলিত হয়েছে। এ হাদিসে রাসুল (স) লজ্জাশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। একজন মুমিন তার আচার-আচরণ, কথাবার্তা, কাজকর্মে অবশ্যই লজ্জাশীল হবেন। কারণ লজ্জাশীলতা ইমানের অপরিহার্য একটি দিক। তাই মান-সম্মান রক্ষা করার জন্য ও সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রত্যেক মুমিনের লজ্জাশীল হওয়া প্রয়োজন। আলোচ্য হাদিসে ইমানের সাথে লজ্জার সম্পর্কের দিকটিই ফুটে উঠেছে।
হাবিবের বক্তব্যে ওহিয়ে মাতলু তথা পবিত্র কুরআনের পরিচয় ফুটে উঠেছে। কুরআন মাজিদ আল্লাহর বাণী। এটি সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব যা সর্বশ্রেষ্ঠ নবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল। উদ্দীপকের হাবিব ওহির বিভিন্ন প্রকার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। উদ্দীপকের তিন বন্ধু ইসলামি শরিয়ার উৎস সম্বন্ধে আলোচনা করছিল। হাবিব এ সময় বলে, কিছু ওহির ভাব ও ভাষা সরাসরি আল্লাহর, যা পাঠ করা ইবাদত এবং নামাজেও এর তিলাওয়াত আবশ্যক। এর মাধ্যমে হাবিব পবিত্র কুরআনকে বুঝিয়েছে। ওহি দুই প্রকার। যথা- ওহিয়ে মাতলু ও ওহিয়ে গায়রে মাতলু। ওহিয়ে মাতলু বা পঠিত ওহি হলো কুরআন মাজিদ। এটি লাওহে মাহফুজ থেকে জিবরাইল (আ)-এর মাধ্যমে নবুওয়তের দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে মহানবি (স)-এর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে।
কুরআন সন্দেহাতীতভাবে অদ্যাবধি অবিকল ও অবিকৃত অবস্থায় সুরক্ষিত হয়ে আসছে। এর শব্দ, অর্থ, মর্ম উপস্থাপনা, বিন্যাস সবই আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া নামাজ আদায় হয় না। নামাজে কুরআন থেকে তিলাওয়াত করা ফরজ। সুতরাং উদ্দীপকের হাবিব প্রথমোক্ত ওহির মাধ্যমে কুরআন মাজিদের দিকেই ইঙ্গিত করেছে।
হাসানের উল্লেখিত বিষয়টি ওহিয়ে গায়রে মাতলু তথা হাদিস; যার সাথে হাদিসে কুদসির কতিপয় সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ওহি দুই প্রকার- যার মধ্যে একটি 'ওহি গায়রে মাতলু' অর্থাৎ অপঠিত ওহি বা হাদিস। মহানবি (স)-এর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতি তথা রাসুল (স)-এর বাস্তব জীবনের প্রতিটি কাজ ও সমর্থনই হাদিস। হাসানের বক্তব্যে হাদিসের কথাই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের হাসান ইসলামি শরিয়ার দ্বিতীয় উৎস হাদিসের প্রসঙ্গে কথা বলছিল। সে বলে, হাদিস নামাজে তিলাওয়াত করতে হয় না এবং অপবিত্র অবস্থায়ও এটি স্পর্শ করা যায়। হাসানের উল্লেখিত ওহি গায়রে মাতলু বা হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে হাদিসে কুদসি অন্যতম। হাদিসে কুদসি অন্যান্য হাদিসের মতই, তবে এ প্রকার হাদিসের ভাব স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এবং ভাষা রাসুল (স)-এর নিজের। অপরদিকে সাধারণ হাদিসের ভাব ও ভাষা উভয়টিই রাসুল (স)-এর নিজস্ব। তাছাড়া হাদিসে কুদসিও অপবিত্র অবস্থায় স্পর্শ করা যায়। 'রাসুল (স) বলেছেন', একথা অন্যান্য হাদিসের প্রারম্ভে থাকে। কিন্তু হাদিসে কুদসি শুরু হয় 'আল্লাহ বলেছেন' এ কথা দিয়ে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, হাসানের উল্লিখিত বিষয়টি হচ্ছে রাসুলের (স) বাণী বা কাজ তথা হাদিস। আর হাদিসে কুদসি এরই একটি ধরন।
সম্পূর্ণ কুরআন সর্বপ্রথম সংরক্ষিত হয় লাওহে মাহফুজে।
কুরআনকে বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করে কুরআন পাঠের অভিন্ন রীতি চালু করায় হযরত উসমান (রা) কে জামিউল কুরআন বলা হয়। হযরত উসমান (রা) এর সময় ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে কুরআন পাঠের ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য কুরআনের প্রথম পাণ্ডুলিপিটি থেকে সাতটি কপি তৈরি করা হয়। এবং সেগুলো বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয় যাতে সবাই একই রীতিতে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!