হুমায়ুন শব্দের অর্থ ভাগ্যবান।
উনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে হাজি শরিয়তউল্লাহ ভারতবর্ষে যে সংস্কার আন্দোলন গড়ে তোলেন তা ফরায়েজি আন্দোলন হিসেবে অভিহিত।
হাজি শরিয়তউল্লাহ বাংলার মুসলমান সমাজে নানারূপ কুসংস্কার ও অনৈসলামিক রীতিনীতি লক্ষ করেন। ইংরেজদের অত্যাচারে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। শরীয়তউল্লাহ তাদের জন্য দুঃখ অনুভব করে তাদের উন্নতির জন্য আত্মনিয়োগ করেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ফরায়েজি আন্দোলনের সূচনা করেন।
উদ্দীপকে ইসলামপুর অঞ্চলের ছোট দলগুলো স্বাধীনতা পূর্ব ১৯৫৪ সালের নির্বাচন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে একতাবদ্ধ হয়।
১৯৪৭ সালের পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দ পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য ও বঞ্চনা প্রদর্শন করে। ফলে মুসলিম লীগ একটি জনবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। ফলে ১৯৫৪ সালের ১১ মার্চে পূর্ব বঙ্গের আইন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে সমমনা বিরোধী দলগুলো ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বরে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে যুক্তফ্রন্ট নামে একটি রাজনৈতিক ঐক্যজোট গঠন করে। যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে। যে দফাগুলো ছিল পূর্ব বাংলার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। আর পূর্ব বাংলার জনগণের ব্যালটবিপ্লবের ছোঁয়ায় যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে, আর মুসলিম লীগ মাত্র ১০টি আসন পায়। ফলে মুসলিম লীগ চিরতরে পূর্ব বাংলার নেতৃত্ব হারায়। অপরপক্ষে যুক্তফ্রন্টের নেতারা পূর্ব বাংলার মানুষের ভাগ্যবিধাতা হিসেবে আবির্ভূত হন। এভাবে পূর্ব বাংলার জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে শোষণের বিরুদ্ধে ব্যালটবিপ্লব ঘটান। উদ্দীপকেও ১৯৫৪ এর নির্বাচনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। সুতরাং বলা যায় যে, ইসলামপুর অঞ্চলের ছোট দলগুলো স্বাধীনতা পূর্ব যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে ঐক্যবদ্ধ হয়।
উদ্দীপকের আলোচ্য বিষয় অর্থাৎ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, 'যতই ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালী হোক না কেন গায়ের জোরে নির্বাচিত হওয়া যায় না।'
উদ্দীপকের ইসলামপুর অঞ্চলের দলগুলোর মতো পূর্ব বাংলার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টকে তাদের আশার একমাত্র ভেলা হিসেবে বেছে নেয়। ফলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ ব্যাপক ব্যবধানে পরাজিত হয়। এছাড়া পূর্ব বাংলার মানুষ যখন তাদের স্বায়ত্তশাসন আদায়ের পথে দৃঢ়কল্প তখন মুসলিম লীগের ক্ষীণ ষড়যন্ত্র যেন ধোপেই টিকেনি।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল শোষণ, নিপীড়ন, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনমানুষের ব্যালটবিপ্লব। এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের ভরাডুবি ঘটে। মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দ, যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকার পক্ষপাতী ছিলেন। তারা এ লক্ষ্যে পূর্ব বাংলার জনগণের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালিয়ে ছিল। এমনকি তারা পাকিস্তানের ৫৬.৪০ শতাংশ মানুষের মুখের ভাষা বাংলাকে উপেক্ষা করে ৩.২৭ শতাংশ মানুষের মুখের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তাছাড়া এমন উদ্দেশ্য সাধনে তারা পূর্ব বাংলার জনগণের ওপর ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালায়। তারা পূর্ব বাংলাকে বন্দি শিবিরে পরিণত করেছিল'। তবে তাদের এ সকল নির্যাতন ও প্রহসনের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে পূর্ব বাংলার মানুষ। এ ঘটনা উদ্দীপকে উল্লিখিত ইসলামপুর অঞ্চলের জনগণ কর্তৃক ঐক্যবদ্ধ হয়ে ক্ষমতাসীন দলকে পরাজিত করার ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পরিশেষে বলা যায়, অগণতান্ত্রিক মনোভাব প্রদর্শন ও পেশি শক্তির বলে নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না- ইতিহাস থেকে এটি প্রমাণিত।
Related Question
View Allএকজন ভাষাশহিদের নাম হলো আব্দুর জব্বার।
শহিদ মিনার নির্মাণের উদ্দেশ্য হলো ভাষাশহিদদের স্মরণ ও ভাষার প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন।
১৯৫২ সালের ভাষার জন্য শহিদ হওয়া ব্যক্তিদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ ও তাদের স্মৃতিসংরক্ষণের জন্য ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ঢাকা মেডিকেলের ছাত্ররা প্রথম শহিদ মিনার নির্মাণ শুরু করে এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি শহিদ শফিউরের বাবা তা উদ্বোধন করেন। কিন্তু পুলিশ ও সেনাবাহিনী তা ভেঙে ফেললে ১৯৫৭ সালে বর্তমান স্থানে শহিদ মিনার স্থাপন শুরু হয় এবং ১৯৬৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি নতুন শহিদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত মানভূমের ভাষা আন্দোলনের সাথে আমার * পঠিত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাদৃশ্য খুঁজে পাই।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মানভূমের বাঙালিদের মধ্যে ১৯৪৮ সালে বাংলা ভাষা আন্দোলন গড়ে ওঠে। এসময় রাজনৈতিকভাবে স্কুল-কলেজ ও সরকারি দপ্তরের হিন্দি ভাষা জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ আন্দোলনের সাথে আমার পঠিত বাংলা ভাষা আন্দোলনের * সাদৃশ্য লক্ষণীয়। অনুরূপ ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬.৪০% মানুষের মুখের ভাষা বাংলার পরিবর্তে মাত্র ৭.২০% মানুষের ভাষা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার লক্ষ্যে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা এসে ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঘোষণা করেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। তাছাড়া ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে ঘোষণা করলে পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন নতুন মাত্রা ও সর্বাত্মক রূপলাভ করে। এ সময়ে তমদ্দুন মজলিস ও রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক হরতাল আহূত হলে স্থানীয় প্রশাসন ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১ মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে এবং সকল সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়। সরকারের এ ঘোষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অতঃপর ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা মিছিল বের করলে পুলিশের গুলিতে সালাম, আবুল বরকত, রফিক উদ্দিন, আব্দুল জব্বার শহিদ হন। যার ফলে বিশ্ব ইতিহাসে ভাষার জন্য আন্দোলনের এক অবিনশ্বর ইতিহাস রচিত হয়।
অতএব উদ্দীপকের ভাষা আন্দোলনের সাথে পূর্ব-বাংলার ভাষা আন্দোলনের মিল পরিলক্ষিত হয়। বাংলা ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবাদ উজ্জীবিত হয় যা স্বাধীনতা যুদ্ধের মূলমন্ত্র ছিল।
উদ্দীপকের ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বাংলা ভাষা আন্দোলনে 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল' উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
ভাষা আন্দোলন পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায়। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি সর্বপ্রথম নিজেদের স্বতন্ত্র সত্তা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়। আর এ চেতনাই পরবর্তীতে প্রতিটি গণআন্দোলনে অনুপ্রেরণা জোগায় এবং সকল বৈষম্য থেকে মুক্তির পথ সুগম করে। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রেরণায় উদ্দীপ্ত হয়ে বাঙালি জাতি ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে শাসক দল মুসলিম লীগের সকল বৈষম্যমূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে গণরায় প্রদানের মাধ্যমে যুক্তফ্রন্টকে জয়ী করে। বাঙালি জাতীয়তাবোধে উজ্জীবিত বাঙালি জাতি পরবর্তীতে ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে স্বাধিকারের প্রশ্নে পশ্চিম পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। সর্বোপরি এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতি বুকের তাজা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে। ফলে বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের। তাই ঘটনা পরম্পরা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৫২ সালে। বাঙালি জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের যে জাতীয়তাবাদের শিক্ষা অর্জন করে তার ধারাবাহিকতাতেই স্বাধীনতা অর্জন করে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন যে জাতীয়তাবাদের শিক্ষা দেয় তার মধ্যে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল। তাই উদ্দীপকের উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাশেম।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের রাতকে কালরাত্রি বলা হয়। কাল রাত বলতে নৃশংস ও ভয়ংকর রাতকে বোঝানো হয়। ১৯৭১ সালে ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইট নামে বাঙালি জাতির উপর যে জঘন্য ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায় এ রাতকে কালরাত্রি বলা হয়। এ রাতে অসংখ্য নিরস্ত্র বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা করা হয় এবং ঢাকা শহরের রাস্তায় লাশের স্তূপ তৈরি হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!