'ইসলাম' আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ অনুগত হওয়া, আত্মসমর্পণ করা, শান্তির পথে চলা ইত্যাদি। শরীয়াতের পরিভাষায় আল্লাহর অনুগত হওয়া, আনুগত্য করা ও তাঁর নিকট পূর্ণ আত্মসমর্পণ করাকে ইসলাম বলে। (শরহে আকাঈদুন্নাসাফিয়াহ্)
ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবনব্যবস্থা। ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো জীবনব্যবস্থা আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, "কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কবুল করা হবে না।” (৩: ৮৫)
যেভাবে ইসলামের শান বাড়ানো যায়:
- ইসলামের পূর্ণ অনুসরণ করা।
- ইসলামের মাহাত্ম্য অন্যের নিকট তুলে ধরা।
- বিজাতীয় সভ্যতা পরিহার করা।
- ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত মুমিন তৈরি করা।
- শিশুদের প্রথমেই তাওহীদ ও রিসালাতের শিক্ষা দেওয়া।
- সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামি ভাবধারা তৈরি করা।
- আলেমদের সম্মান করা ও তাঁদের অনুসরণ করা।
- গণমাধ্যমে ইসলামের প্রকৃত বাণী প্রচার করা।
Related Question
View Allতাওহীদের সাথে রিসালাতের সম্পর্ক: 'তাওহীদ' আরবি শব্দ। এর অর্থ একত্ববাদ। আল্লাহকে একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, বিধানদাতা, রিযিকদাতা ও ইবাদতের যোগ্য বলে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করা ও মেনে নেয়ার নাম তাওহীদ। অপরদিকে, 'রিসালাত' শব্দের অর্থ চিঠি, পত্র ইত্যাদি। আল্লাহ তাআলা তাঁর রসুলগণের উপর তাঁর বিধিবিধান সংবলিত যে বাণী কিতাব আকারে প্রেরণ করেছেন তাকে রিসালাত বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায় যে, রিসালাত হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে পৃথিবীর মানুষের কাছে তাঁর নির্দেশ তথা আদেশ-নিষেধ পৌঁছে দেওয়া।
তাওহীদ ও রিসালাত একটি অপরটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রিসালাত ছাড়া তাওহীদের কথা বান্দার কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তাই তাওহীদের শিক্ষা নির্ভর করে অনেকাংশে রিসালাতের উপর। কীভাবে তাওহীদের উপর আমল করা যায় তা আমাদের শিখিয়েছেন রসুলগণ, এক্ষেত্রে রিসালাতের গুরুত্ব অপরিসীম। রিসালাতের ধারা যতদিন চালু ছিল ততদিন তাওহীদের শিক্ষা সমুন্নত ছিল।
ওহী: 'ওহী' আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ: কথা, বাণী, উপদেশ ইত্যাদি। শরীয়তের পরিভাষায় মহানবী (স)-উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে জিব্রাইল (আ)-এর মাধ্যমে যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে তাই ওহী। ওহী দুই প্রকার। যথা: ১. ওহীয়ে মাতলু তথা কুরআন ২. ওহীয়ে গায়রে মাতলু তথা হাদিস।
আত্মার তিনটি অবস্থা কুরআন ও হাদিসের আলোকে নিম্নে তুলে ধরা হলো :
মানবমন একটি কিন্তু অবস্থাভেদে তা তিন অবস্থায় বিভক্ত হয়। যথা :
i. নফসে আম্মারা;
ii. নফসে লাওয়ামা এবং
iii. নফসে মুতমাইন্না।
i. নফসে আম্মারা : নফসে আম্মারার কথা সূরা ইউসূফের ৫৩ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যা মানুষকে খারাপ কাজে প্ররোচিত করে।
ii. নফসে লাওয়ামা : নফসে লাওয়ামার কথা সূরা কিয়ামাহ-এর ২ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রবৃত্তি আত্মসমালোচনা করায় এবং মানুষকে খারাপ কাজ থেকে সতর্ক করে।
iii. নফসে মুতমাইন্না : নফসে মুতমাইন্নার কথা সূরা ফজরের ২৭ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। এটা সফল প্রবৃত্তি যা আল্লাহর ধ্যানে প্রশান্ত থাকে।
একই মনকে তিন অবস্থায় ভাগ করার ব্যাখ্যায় মুফাসসীরীনগণ বলেন, প্রত্যেক মানবমন আপনসত্তার দিক দিয়ে 'নফসে আম্মারা' তথা মন্দ কাজের আদেশদাতা। কিন্তু মানুষ যখন আল্লাহ ও পরকালের ভয়ে মনের আদেশ পালনে বিরত থাকে, তখন তা মন্দ কাজের জন্য তিরস্কারকারী ও মন্দ কাজ থেকে তাওবাকারী যেমন- সাধারণ মানুষের মন এবং যখন কোনো মানুষ নিজের মনের বিরুদ্ধে সাধনা করতে করতে মনকে এ স্তরে পৌঁছিয়ে দেয় যে, তার মধ্যে মন্দ কাজের কোনো স্পৃহাই থাকে না, তখন তা 'মুতমাইন্না' হয়ে যায়। অর্থাৎ প্রশান্ত ও নিরুদ্বেগ মন। পুণ্যবানরা চেষ্টা ও সাধনার মাধ্যমে মুতমাইন্নার স্তরে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু তা সদাসর্বদা অব্যাহত থাকা নিশ্চিত নয়।
হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা: মানবমনের এ তিন অবস্থা সম্পর্কে একটি হাদিস বর্ণিত আছে যার সারমর্ম তুলে ধরা হলো-একবার রসুল (স) সাহাবাদের জিজ্ঞেস করলেন, এমন সাথী সম্পর্কে তোমাদের কী ধারণা, যাকে তোমরা সম্মান ও সমাদর করলে অর্থাৎ অন্ন দিলে, বস্ত্রও দিলে, সে তোমাদেরকে বিপদে ফেলে দিল। পক্ষান্তরে, তার অবমাননা করা হলে অর্থাৎ তাকে ক্ষুধার্ত ও উলঙ্গ রাখা হলে সে তোমাদের সাথে সদ্ব্যবহার করে? সাহাবীগণ উত্তর দিলেন, হে আল্লাহর রসুল এর থেকে মন্দ সাথী আর কেউ হতে পারে না। রসুল বলেন ঐ সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের বুকের ভিতর যে মন (আত্মা) রয়েছে সে-
ই এই ধরনের সাথী। (কুবতুবী)
রসুল (স) অপর এক হাদিসে বলেন, মানুষের শরীরে একটি গোশতের টুকরা রয়েছে, যদি সেটা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে পুরো শরীর নষ্ট হয়ে যায়, আর যদি সেটা ভালো হয়ে যায় তাহলে পুরো শরীর (অর্থাৎ সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যবহারও) ভালো হয়ে যাবে। আর সেটা হলো মানবাত্মা।
সুতরাং আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে আত্মার হেফাজত করার তাওফিক দান করুন। মন যা চায় তা যদি কুরআন সুন্নাহর মোতাবেক হয় তাহলে তা করবো আর যদি সে মোতাবেক না হয় তাহলে তা প্রত্যাখ্যান করব।
সবর: 'সবর' আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ ধৈর্য, দৃঢ়তা, বিরত রাখা ইত্যাদি। বিপদে-আপদে, দুঃখে-কষ্টে, বালা-মুসিবতে অবিচল চিত্তে সব কিছু আল্লাহর উপর ন্যস্ত করে ধৈর্যধারণ করাকে 'সবর' বলা হয়। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে যে,
"হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাত আদায়ের মাধ্যমে আমার নিকট সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।"
মুমিনদের জীবনে সবরের গুরুত্ব: মুমিনদের জীবনে সবর এমন একটি মানবিক গুণ, যার অনুশীলন ব্যতীত ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবনে সাফল্য আশা করা যায় না। যদিও ধৈর্যধারণ করা খুবই কঠিন ও কষ্টসাধ্য কাজ, তথাপি এটি এমন এক মহৎ গুণ, যা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণের জন্য অপরিহার্য।
এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে যে, “বস্তুত ধৈর্যশীলদেরকে তো অপরিমিত পুরস্কার পুরোপুরিভাবেই দেওয়া হবে।" (৩৯ : ১০) সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনেও মুমিনদের জন্য সবরের প্রয়োজন। একে অন্যের প্রতি সহনশীল না হলে পৃথিবী অচল হয়ে পড়বে। ধৈর্যশীলদের সম্পর্কে আল্লাহ আরো বলেন- "আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।" (৩: ১৪৬)
সবরের গুরুত্ব সম্পর্কে রসুল (স) বলেন, “ধৈর্যের বিনিময় হলো জান্নাত।"
পিতামাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব: ইসলামে মানবাধিকারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে পিতামাতার অধিকার সবার আগে। পিতামাতার প্রতি সদাচরণ করা একজন সন্তানের প্রতি আল্লাহর হকের পর একান্ত কর্তব্য। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, "তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন তিনি ব্যতীত অন্য কারোও ইবাদত না করতে ও পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন বা উভয়েই জীবিত অবস্থায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের 'উহ' শব্দটি বলো না এবং তাদেরকে ধমক দেবে না, আর তাদের সাথে সম্মানসূচক কথা বলবে।" (১৭:২৩)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, মাতাপিতার সাথে সদ্ব্যবহারকারী পুত্র যখন রহমতের দৃষ্টিতে তার পিতামাতার প্রতি তাকায় তখন আল্লাহ তার প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে কবুল হজের সওয়াব দান করেন। সাহাবাগণ আরজ করেন, যদি সে প্রতিদিন একশবার তাকায়? বললেন, যদি সে ইচ্ছা করে একশবার তাকাতে পারে। আল্লাহ সর্বাপেক্ষা বড় ও পুতপবিত্র। (মিশকাত, পৃ. ৫২১)
রসুল (স) আরো বলেন, যে লোক পিতামাতার ব্যাপারে আল্লাহর অনুগত হয় তার জন্য জান্নাতের দুটি দরজা উন্মুক্ত হয়ে যাবে, একজন হলে একটি দরজা উন্মুক্ত হয়ে যাবে। আর কেউ যদি পিতামাতার ব্যাপারে আল্লাহর নাফরমান হয়ে যায় তার জন্য জাহান্নামের দু'টি দরজা উন্মুক্ত হয়ে যাবে, একজন হলে একটি দরজা উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
পিতামাতার সাথে দুর্ব্যবহার করা, তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা, তাদের মনে কষ্ট দেওয়া এবং তাদের নাফরমানি করা কবীরা গুনাহ। যারা এ কাজ করে তাদের উপর আল্লাহর লা'নত বর্ষিত হয়। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,
তবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে আল্লাহ এদেরকেই লা'নত করেন।” (৪৭: ২২-২৩)
পিতামাতার জন্য দোয়া করা সন্তানের জন্য অবশ্য কর্তব্য।
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন পিতামাতার জন্য এভাবে যে, “হে প্রভু! তাদের উভয়ের প্রতি অনুগ্রহ করো এমনভাবে যেভাবে তারা ছোটবেলায় আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছিল।” (সূরা বনী ইসরাঈল)
মাদানী সূরা : আল্লামা সুয়ূতি (রহ) তাঁর 'ইতকান' গ্রন্থে বলেন, রসুল (স) মদিনায় হিজরতের পর তাঁর উপর যে সমস্ত সূরা অবতীর্ণ হয়েছে চাই তা মক্কায় হোক অথবা মদিনায় হোক সেগুলোকে মাদানী সূরা বলা হয়।
ইয়াহিয়া বিন সালাম বলেন, মদীনায় মহানবীর আগমনের পর যেসব সূরা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাঁর সফরের সময় যা অবতীর্ণ হয়েছে তাই মাদানী সূরা বা আয়াত।
আল্লামা সুয়ূতি (রহ) আরোও বলেন, মদিনার আশেপাশে যেমন বদর ও উহুদে অবতীর্ণ আয়াতই মাদানী।
মাদানী সূরার বৈশিষ্ট্যসমূহ :
১. এসব সূরার আয়াতসমূহ দীর্ঘ।
২. এসব সূরায় মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
৩. এসব সূরায় আহকাম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
৪. এসব সূরায় আহলে কিতাবদের সাথে মুমিনদের মুজাদালা রয়েছে।
৫. এসব সূরায় জিহাদের বিধি-বিধান আলোচনা করা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!