ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চরম সংকটময় মুহূর্তে ১৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম ব্রিটিশ সেনানায়ক লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতের গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসে তার রাজত্বকাল রাজ্যবিস্তার অপেক্ষা সংস্কারমূলক কাজের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে 'চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত' ছিল সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাজনা পরিশোধ করতে না পারলে জমিদারি হারানোর আইনই হচ্ছে সূর্যাস্ত আইন।

উত্তরঃ

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত লর্ড কর্নওয়ালিসের সংস্কারসমূহের মধ্যে অন্যতম।
মূলত ওয়ারেন হেস্টিংস-এর প্রবর্তিত পাঁচসালা বন্দোবস্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলে ডাইরেক্টরস সভা কর্নওয়ালিসকে দশসালা বন্দোবস্ত চালু করার পরামর্শ দেন। ফলে ভূমি বন্দোবস্তের গুরুত্ব ও জমিদারদের উৎপীড়ন থেকে রায়তদের রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শের ভিত্তিতে ১৭৮৯ সালে তিনি চালু করেন। কর্নওয়ালিস জমিদারকে এ মর্মে আশ্বাস দেন যে, ডাইরেক্টরস সভার অনুমোদন লাভ করলে তিনি এ ব্যবস্থাকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পরিণত করবেন। ফলে ১৭৯২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কর্নওয়ালিস ডাইরেক্টরস সভার অনুমোদন লাভ করেন। এরপর তিনি ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দশসালা বন্দোবস্তুকে চিরস্থায়ী ঘোষণা দিয়ে বাৎসরিক নির্দিষ্ট পরিমাণ খাজনার ভিত্তিতে জমিদারগণকে জমির মালিক হিসেবে স্বীকার করে নেন। এ ব্যবস্থারই মূলত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তু হিসেবে অভিহিত।

উত্তরঃ

লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল বহুবিধ।
প্রথমত, তার উদ্দেশ্য ছিল একটি স্থায়ী ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যাতে কোম্পানি তার বার্ষিক রাজস্ব আয়ের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পায় এবং সেই মোতাবেক অপরাপর কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, স্থায়ী ভূমি বন্দোবস্ত পেলে জমিদারগণ নিশ্চিন্তে ভূমি উন্নয়নের সুযোগ পাবে। রাজস্ব নির্ধারিত থাকায় জমিদারগণ অত্যাচারমূলকভাবে রায়তদের কাছ থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ে প্রবৃত্ত হবে না। প্রজাগণও স্থায়ী জমিদারের অধীনে নির্ধারিত খাজনার বিনিময়ে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করতে সক্ষম হবে।
তৃতীয়ত, রাজস্ব স্থায়ী হওয়ায় এবং তা আদায়ের জন্য স্থায়ী জমিদারশ্রেণি সৃষ্টি হলে একদিকে কোম্পানির রাজস্ব আয় যেমন বাড়বে। অপরদিকে রাজস্বসংক্রান্ত কাজে ব্রিটিশ সরকারের ব্যস্ততাও কমে যাবে। এতে সরকার প্রশাসনের অন্য কাজগুলোতে মনোযোগ দিতে সক্ষম হবে।
চতুর্থত, একটি স্থায়ী সমর্থক সামন্তশ্রেণি গড়ে তোলা সম্ভব হলে এই শ্রেণিটিই ব্রিটিশ সরকারের বিপক্ষে যে কোনো প্রজাবিদ্রোহের সময় ঢাল হিসেবে কাজে লাগবে। যার

উত্তরঃ

আমি মনে করি, উদ্দীপকের শাসকের মতো লর্ড ডালহৌসি ভারতীয় উপমহাদেশে সমাজ ও শিক্ষা সংস্কারে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন।
প্রথমত, লর্ড ডালহৌসিই প্রথম গভর্নর জেনারেল যিনি ভারতে রেলপথ স্থাপন করেন। ফলে ভারতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নববিপ্লব ঘটে।
দ্বিতীয়ত, আফগান নেতা শের শাহের সময়ে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের নির্মাণ শুরু হয়। লর্ড ডালহৌসি গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের নির্মাণে সমাপ্তি ঘটান। এতে করে ভারতে যোগাযোগ ব‍্যবস্থার প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়।
তৃতীয়ত, লর্ড ডালহৌসির সামাজিক সংস্কারমূলক কাজের মধ্যে আরেকটি কৃতিত্বপূর্ণ কাজ হলো গঙ্গা খাল খনন। তিনি গঙ্গা খাল খনন করে অভ্যন্তরীণ নৌ-যোগাযোগ ও বাণিজ্যের গতি সঞ্চারিত করেন।
১৮৪৫ খ্রিষ্টাব্দে তার এ কাজের সমাপ্তি ঘটে।
চতুর্থত, বনভূমি সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা প্রবর্তন করে লর্ড ডালহৌসি ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা করেন।
পঞ্চমত, লর্ড ডালহৌসি দেশব্যাপী অর্ধআনা মূল্যের ডাক সরবরাহ করার ব্যবস্থা চালু করেন। তার পূর্বে দূরত্ব বুঝে ডাক সরবরাহ খরচ আদায় করা হতো।
ষষ্ঠত, লর্ড ডালহৌসির আগমনের পূর্বে ভারতীয় হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় লর্ড ডালহৌসি হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন পাস করেন।
সপ্তমত, শিক্ষাবিষয়ক নির্দেশপত্র অনুসারে লর্ড ডালহৌসি জনশিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। তার চেষ্টায় বিভিন্ন স্থানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে কলকাতা, মাদ্রাজ ও মুম্বাই-এ ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করা যায়।

216
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংসকে ইমপিচমেন্টের সম্মুখীন হতে হয়।

1k
উত্তরঃ

ভারতে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্ধারিত তারিখে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভূমি নিলামে তুলে বকেয়া আদায়ের যে কঠোর আইন ছিল, তাকে সূর্যাস্ত আইন বলে।
১৭৯৩ সালে সূর্যান্ত আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইন অনুযায়ী জমিদারদের নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করতে হতো। যেসব জমিদার ঐ সময়ের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হতেন, তাদের জমিদারি নিলামে তোলা হতো। সূর্যান্ত আইনের কবলে পড়ে বাংলার অসংখ্য জমিদার, বিশেষ করে মুসলমান ভূস্বামীরা তাদের জমিদারি হারান

808
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত আইনে ব্রিটিশ ভারতের নিয়ামক আইন বা রেগুলেটিং অ্যাক্ট-এর প্রতিফলন ঘটেছে।
দ্বৈতশাসনের কারণে সৃষ্ট জটিলতা ও ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের ফলে বাংলায় ব্যাপক মানবীয় বিপর্যয় ঘটে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীরা আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়। তারা কোম্পানিকে দেউলিয়াত্বের পর্যায়ে নিয়ে যায়। এরপর ১৭৭২ সালে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ওয়ারেন হেস্টিংসকে বাংলার গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। তার দায়িত্ব ছিল এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটানো। ১৭৭৩ সালে তিনি 'নিয়ামক আইন' প্রণয়ন করেন, যা কোম্পানিকে ভারতের শাসক হিসেবেও স্বীকৃতি দেয়। মূলত এ আইনটি ছিল কোম্পানির ভারতীয় সাম্রাজ্য সম্পর্কে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ও কোম্পানি কর্তৃপক্ষের মধ্যকার একটি আপোস রক্ষামূলক ব্যবস্থা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কোম্পানি পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠার সময় কিছু আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যাপক বিস্তৃতির ফলে বেশ কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয় এবং আইনের কয়েকটি ধারা অকার্যকর প্রমাণিত হয়। এ প্রেক্ষিতে কোম্পানির ব্যবস্থাপককে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। নতুন আইনটি কোম্পানির ব্যবসা বৃদ্ধিতে সহায়ক হলেও ত্রুটিপূর্ণ ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত আইনে ব্রিটিশ ভারতের নিয়ামক আইনেরই প্রতিফলন ঘটেছে

357
উত্তরঃ

উক্ত আইন অর্থাৎ নিয়ামক আইনের ত্রুটি বিশ্লেষণসহ আমার মতামত
নিম্নরূপ-
প্রথমত, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট এ আইনের মাধ্যমে কোম্পানির ভারতীয় সাম্রাজ্যের ওপর সার্বস্ট্রেীম ক্ষমতা স্থাপন করতে চেয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। কেননা, এ আইনে সার্বভৌমত্ব কার্যকর করার জন্য কোনো এজেন্সি গঠনের প্রস্তাব করা হয়নি।

দ্বিতীয়ত, এ আইনের দ্বারা মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সির ওপর কলকাতা প্রেসিডেন্সির কর্তৃত্ব স্থাপন করা হয়। কিন্তু কর্তৃত্বের ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট না থাকায় পরবর্তীতে বহু জটিলতার সৃষ্টি হয়।
তৃতীয়ত, গভর্নর জেনারেল ও তার পরিষদের কর্তৃত্বের ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট না হওয়ার সুযোগে মাদ্রাজ ও বোম্বাই প্রেসিডেন্সি স্বাধীনভাবে চলতে চেষ্টা করে। এর ফলে বাংলা প্রেসিডেন্সির সাথে মতবিরোধ দেখা দেয়।
চতুর্থত, গভর্নর জেনারেলের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাউন্সিলের সদস্যবর্গ এবং সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতির নিয়ন্ত্রণ ছিল। এতে শাসনকার্যে অনেক অসুবিধার সৃষ্টি হয়।
পঞ্চমত, ভারতে ব্রিটিশ নাগরিকদের ওপর সুপ্রিমকোর্টের এখতিয়ার স্থাপন করা হলেও এ আইনে ব্রিটিশ নাগরিকদের সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট না 'হওয়ায় কোর্টের সাথে কাউন্সিলের সদস্যদের নানা বিষয়ে মতানৈক্য দেখা যায়।
ষষ্ঠত, সেসময় সুপ্রিমকোর্ট ইংল্যান্ডের আইন অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করতো। অপরদিকে, গভর্নর জেনারেল ও তার কাউন্সিল ভারতীয় আইন দ্বারা সদর দেউয়ানি আদালত ও সদর নিজামত আদালতগুলোতে বিচারকার্য চালাতো। ফলে আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, নিয়ামক আইনের উদ্দেশ্য মহৎ ছিল, কিন্তু এ আইনের সৃষ্ট ব‍্যবস্থা ছিল ত্রুটিপূর্ণ।

220
উত্তরঃ

ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য স্থাপনে যেসব গভর্নর জেনারেল অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন, লর্ড ওয়েলেসলি তাদের অন্যতম। তিনি নতুন ইংরেজ কর্মচারীদের শিক্ষার জন্য কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে একটি কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব করেন। কিন্তু বোর্ড অব ডাইরেক্টরস তার এ পরিকল্পনা অনুমোদন না করায় পরে তা ভারতীয় ভাষা শিক্ষার কলেজে পরিণত হয়।

598
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews