যিনি নেতৃত্ব দেন তাকে নেতা বলে।
নারী-পুরুষের ভিন্ন-ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে সচেতন থাকাকে 'জেন্ডার সচেতনতা' বলে।
একজন কর্মী নারী বা পুরুষ যাই হোক না কেন উভয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহানুভূতিশীল হতে হবে। এতে প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষ পক্ষপাতহীন আচরণ বজায় রাখতে হবে। কারও প্রতি কোনো পক্ষপাতিত্ব না করাই জেন্ডার সচেতনতার মূল বিষয়।
উদ্দীপকের ইয়াফী একজন গণতান্ত্রিক নেতা।
গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে নেতা অধস্তনদের সাথে আলাপ-আলোচনা, পরামর্শ করে কাজ পরিচালনা করেন। এক্ষেত্রে নেতা সকল ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত না রেখে প্রয়োজনীয় কর্তৃত্ব অধীনস্থদের কাছে দেন। তাছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অধীনস্থদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। ফলে নেতার প্রতি কর্মীদের ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।
উদ্দীপকের জনাব ইয়াফী একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে কর্মীদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেন। এতে কর্মীরা স্বতঃস্ফূতভাবে কাজ করে। কর্মীরা কোনো কিছু জানতে চাইলে তিনি সহজেই বুঝিয়ে দেন। তিনি কর্মীদের প্রতিষ্ঠানের অংশ মনে করেন এবং তাদের কাছে জবাবদিহিও করেন। এ কাজগুলো গণতান্ত্রিক নেতার বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়। তাই ইয়াফীকে একজন প্রকৃত গণতান্ত্রিক নেতা বলা যায়।
উদ্দীপকের কর্মীদের ওপর প্রভাব বিস্তারের অক্ষমতাটি (স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব) শাফীর ব্যর্থতার কারণ বলে আমি মনে করি।
স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বে নেতা কোনো ধরনের আলোচনা না করে কর্মীদের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। এক্ষেত্রে নেতা কর্মীদের ওপর আস্থা রাখেন না। নেতার এই ধরনের মনোভাবের কারণে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। আর কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ না করলে প্রতিষ্ঠানও সফল হতে পারে না।
উদ্দীপকের শাফী কর্মীদের সাথে আলোচনা না করে সিদ্ধান্ত নেন। তার সিদ্ধান্ত কর্মীরা কীভাবে নেবে সে বিষয়ে তিনি সচেতন নন। তিনি জোর করে কর্মীদের কাছ থেকে কাজ আদায় করতে চান। এতে কর্মীদের মধ্যে শাফীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়।
শাফীর এ ধরনের নেতৃত্বের কারণে কর্মীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে কাজ করে। ফলে কাজের প্রতি তাদের মনোবল হারিয়ে যায়। এছাড়া নিজেদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ না পাওয়ায় কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজও করে না। কর্মীদের এই অসন্তুষ্টি প্রতিষ্ঠানের ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুতরাং, স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের কারণে শাফী কর্মীদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। এর ফলে তিনি ব্যবসায়েও সফলতা অর্জন করতে পারেননি।
Related Question
View Allআধুনিক ব্যবস্থাপনার জনক হলেন হেনরি ফেওল (Henri Fayol)।
অধীনস্থ কর্মীদের পূর্ণ কার্যক্ষমতা ব্যবহারের লক্ষ্যে তাদেরকে কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত বা উৎসাহিত করার প্রক্রিয়া হলো প্রেষণা।
মানুষের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষাকে প্রভাবিত করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করার আগ্রহ তৈরি করা প্রেষণার উদ্দেশ্য। এটি কর্মীদের মানসিক অবস্থাকে প্রতিষ্ঠান ও কাজের প্রতি ইতিবাচক করে তোলে। এতে কাজের প্রতি কর্মীর মনোবল বাড়ে।
উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব মাহিনের কাজটি হলো ব্যবস্থাপনা।
এর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য অন্যকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া হয়। একজন ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ, যোগ্য কর্মী নিয়োগ, কর্মীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং দক্ষতা বাড়াতে কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। তাছাড়া তিনি কর্মীদের কাজের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য প্রেষণা দেন।
উদ্দীপকের জনাব মাহিন 'হাসি-খুশি নকশি ঘর'-এর মালিক। তিনি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি কর্মীদের কাজের জন্য দিক-নিদের্শনা ও পরামর্শ দেন। প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন বিবেচনা করে তিনি দক্ষ কর্মী নিয়োগ ও যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। এভাবে তিনি কর্মীদের দিয়ে কাজ করিয়ে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জনের চেষ্টা করেন। এসব কাজ ব্যবস্থাপনার কার্যাবলির সাথে সম্পৃক্ত। তাই জনাব মাহিনের কাজটিকে ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভুক্ত বলা যায়
উদ্দীপকে মাহিনের দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে 'হাসি-খুশি নকশি ঘর' স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের উপকরণ ও সম্পদসমূকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে প্রত্যাশিত ফল অর্জন করা যায়। একজন ব্যবস্থাপক দক্ষতার সাথে কাজ পরিচালনা করতে পারলেই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য অর্জন সহজ হয়। বর্তমানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই দক্ষ ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
উদ্দীপকের জনাব মাহিন অনেক ভেবে-চিন্তে প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করেন। আবার উকরণাদির যাতে সুষ্ঠু ব্যবহার হয় সেজন্য কর্মীদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন। পণ্যের মান বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি দক্ষ কর্মী নিয়োগ দেন। প্রয়োজনে তিনি কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেন।
জনাব মাহিনের কার্যকর দিক-নির্দেশনা ও পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটি সহজেই লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায়। তার দক্ষতার কারণেই মানবীয় (শ্রমিক-কর্মী) ও অমানবীয় (কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি) উপাদানের সদ্ব্যবহার হয়। এভাবেই 'হাসি-খুশি নকশি ঘর' স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
যিনি নেতৃত্ব দেন তাকে নেতা বলে।
নারী-পুরুষের ভিন্ন-ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে সচেতন থাকাকে 'জেন্ডার সচেতনতা' বলে।
একজন কর্মী নারী বা পুরুষ যাই হোক না কেন উভয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহানুভূতিশীল হতে হবে। এতে প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষ পক্ষপাতহীন আচরণ বজায় রাখতে হবে। কারও প্রতি কোনো পক্ষপাতিত্ব না করাই জেন্ডার সচেতনতার মূল বিষয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
