পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তি ও স্বাধিকার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত 'ছয় দফা' কর্মসূচির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ সকল ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়। কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের প্রতি সর্বক্ষেত্রে যে বৈষম্য ও শোষণ করা হয়েছিল ৬ দফা কর্মসূচি ছিল তার বিরুদ্ধে প্রথম বলিষ্ঠ প্রতিবাদ। এটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকস্বরূপ। এতে বাঙালির চরম প্রত্যাশিত স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানানো হয়। এটি ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একটি স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে বাঁচার দাবি।
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শাসন-শোষণ ও বঞ্চনার হাত থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করার জন্য এটি ছিল এক সুচিন্তিত, সুপরিকল্পিত ও অনুপ্রেরণা সমৃদ্ধ কর্মসূচি। ৬ দফাভিত্তিক আন্দোলন দমনের জন্য সরকার কঠোর দমন-নিপীড়নমূলক নীতি গ্রহণ করে। এর ফলে বাঙালির নবজাগ্রত জাতীয়তাবাদী চেতনা তাদের ঐক্য ও সংহতি জোরদার করে। তাদের এই ঐক্য সংহতি ও সংগ্রামী চেতনার ফসল '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান। আর এ গণঅভ্যুত্থানের পথ ধরেই বাঙালি জাতি তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের পথে অগ্রসর হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত রূপ হলো ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, যার মাধ্যমে অভ্যুদয় হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।
সুতরাং সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, ৬ দফা কর্মসূচি ছিল বাঙালির মুক্তির 'সনদ'।
Related Question
View Allআন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয় ২১শে ফেব্রুয়ারি।
দ্বিজাতি তত্ত্ব ব্রিটিশ ভারতকে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত করার একটি রাজনৈতিক মতবাদ। এর ভিত্তিতেই ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল।
ভারতীয় উপমহাদেশের হিন্দু ও মুসলমান অধিবাসীরা দুটি আলাদা জাতি- এটাই দ্বিজাতি তত্ত্বের মূল কথা। ১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে তৎকালীন মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি বলেন, "ভারতের হিন্দু ও মুসলমানরা দুটি আলাদা জাতি। তাদের জীবন দর্শন, ধর্মীয় আদর্শ ও সামাজিক রীতিনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।” জিন্নাহ এ যুক্তি দিয়ে ভারতের মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র আবাসভূমির দাবি করেন। তার এ যুক্তিই উপমহাদেশের ইতিহাসে 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' নামে পরিচিত।
উপরের ছবিটি আমাদের ভাষা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত।
উপরের ছবিতে একটি মিছিলের একাংশ দেখা যাচ্ছে। ছাত্রজনতা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করছে। এ ছবির সাথে ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের মিছিলের সাদৃশ্য রয়েছে। পাকিস্তানের শতকরা ৫৬ জন অধিবাসীর মাতৃভাষা ছিল বাংলা। অথচ পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক শাসকগোষ্ঠী সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এর প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা যে আন্দোলন শুরু করে, তা-ই ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন নামে পরিচিত।
পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে পূর্ব বাংলার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করতে থাকে। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। এর প্রতিবাদে পূর্ব বাংলায় রাজনৈতিক নেতৃত্বে, বুদ্ধিজীবী ও ছাত্র নেতৃত্বের সমন্বয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। কয়েক বছর ধরে চলা এ আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভেঙে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সমাবেশ ও মিছিল করে। পুলিশ মিছিলে গুলি চালালে সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। অতঃপর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য হয়।
ছবির লোকগুলোর চেতনাই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম দিতে- সক্ষম হয়- এ উক্তিটির পক্ষের যুক্তিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-
ভাষা আন্দোলন তখনকার পূর্ব বাংলা অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে প্রথম অধিকার সচেতন করে তোলে। বাঙালি জাতি তার স্বতন্ত্র আত্মপরিচয়ের ব্যাপারে নতুন করে সচেতন হয়ে ওঠে। ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার কিছুদিন পর থেকেই বাঙালিরা বুঝতে পারে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা এতে পূরণ হচ্ছে না। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মুসলিম লীগের ভরাডুবি এবং বিরোধী জোট যুক্তফ্রন্টের বিজয় পূর্ব বাংলার মানুষের রাজনৈতিক চেতনাকে আরও শানিত করে। পাকিস্তানি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মাতৃভাষাকেন্দ্রিক ভাষা আন্দোলনের ফলে পূর্ব বাংলার হিন্দু-মুসলমান উভয়ের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটে।
ভাষা আন্দোলনের জের ধরেই ধীরে ধীরে পূর্ব বাংলার ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী সবাই পাকিস্তানিদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। ভাষা আন্দোলনের ফলে বাঙালিদের মধ্যে যে জোরালো অধিকারবোধের সৃষ্টি হয় তা এ ভূখণ্ডের রাজনৈতিক বিবর্তনকে এগিয়ে নেয়। এর ধারাবাহিকতায়ই ধাপে ধাপে আসে পাকিস্তানি বৈষম্যের বিরুদ্ধে ১৯৬৬ সালের ৬ দফা ও '৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয় পাওয়া আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পাকিস্তানি শাসকচক্র মুক্তিযুদ্ধকে অনিবার্য করে তোলে। পাকিস্তানের দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
সুতরাং বলা যায়, ছবির লোকগুলোর চেতনা তথা ভাষা আন্দোলনের চেতনাই কালক্রমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম দিতে সক্ষম হয়।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা কর্মসূচি উত্থাপন করেন।
গেরিলা যুদ্ধ একটি বিশেষ রণকৌশল।
গেরিলা যুদ্ধের মূলকথা হচ্ছে বৃহৎ ও নিয়মিত শত্রুবাহিনীর ওপর, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণ, যার উদ্দেশ্য হলো বৃহত্তর বাহিনীকে হয়রানি, নাজেহাল এবং সম্ভব হলে নির্মূল করা। শক্তির পার্থক্যের কারণে গেরিলা যোদ্ধারা যথাসম্ভব সম্মুখযুদ্ধ এড়িয়ে চলে। পেশাদার সেনাদের বদলে সাধারণ জনগণের সমন্বয়ে গেরিলা বাহিনী গঠিত হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে আক্রমণের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা পদ্ধতিকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলেন। গেরিলাদের মধ্যে ছাত্র ও কৃষকের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!