"উক্ত কোম্পানি কালক্রমে নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায়ও সচেষ্ট হয়ে ওঠে"- উক্তিটি যথার্থ।
ভারতীয় উপহমাদেশের ধন-সম্পদের প্রাচুর্যে আকৃষ্ট হয়ে ইংরেজ বণিকগণ এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যে উৎসাহিত হন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামের বণিক সংঘটি রানির কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদি বাণিজ্য করার সনদপত্র লাভ করে। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তারা রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হয়। ১৬১২ সালে প্রথম সুরাটে তাদের বাণিজ্যকুঠি স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে তারা আগ্রা আহমেদাবাদ, মসলিপট্টম, কাশিমবাজারসহ আরো অনেক স্থানে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে। ১৬৯০ সালে পর জব চার্নক কোলকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রামের জমিদারী স্বত্ব লাভ করেন। এ তিনটি গ্রামকে কেন্দ্র করেই কোলকাতা নগরী গড়ে ওঠে এবংএখানেই পরবর্তীতে তারা ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণ করে। এ দুর্গটি ইংরেজদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা ও রাজনৈতিক স্বার্থ বিস্তারের শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হয়। পরবর্তীতে দিল্লির সম্রাট ফাররুখশিয়ারের কাছ থেকে বাংলা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে বিনা শুল্কে বাণিজ্য করার অধিকার লাভ করে তারা অপ্রতিরোধ্য গতিতে অগ্রসর হতে থাকে।
উপরের আলোচনার পরিশেষে তাই বলা যায়, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কালক্রমে নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট হয়ে উঠেছিল।
Related Question
View Allভাস্কো-ডা-গামা পর্তুগালের নাবিক ছিলেন।
প্রাচীনকালে বাংলা সম্পদে সমৃদ্ধ ও স্বয়সম্পূর্ণ ছিল বলে অনেকেই বাণিজ্য করতে এসছিল।
প্রাচীন বাংলার গ্রামের স্বয়ংসম্পূর্ণ কৃষকদের ক্ষেত ভরা ফসল, গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ থাকত। এদেশের তাঁতিদের হাতে বোনা কাপড় ইউরোপের কাপড়ের চেয়েও উন্নতমানের ছিল। এ অঞ্চলের নানা ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য ও মসলার বেশ খ্যাতি ছিল। এসব পণ্যের আকর্ষণেই এদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে এসেছে অনেকেই।
উদ্দীপকের ক্ষমতা ভাগাভাগির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের দ্বৈত শাসনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে। দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবনীয় ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের। এর মাধ্যমে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, আর নবাব পরিণত হয় ক্ষমতাহীন শাসকে। অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলআনা। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন ও কামালের মাঝে পারিবারিক গার্মেন্টস ও সংসারের দায়িত্ব বণ্টন হয়। এতে মামুন কামালকে উপযুক্ত অর্থ প্রদান না করায় সংসারে জটিলতা দেখা দেয়। এই বিষয়টির সাথে দ্বৈত শাসনের মিল রয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত ঘটনা বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল।
দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার দ্বারা প্রশাসনে চরম দুর্নীতি শুরু হয়েছিল। নামে বেনামে অর্থ ইংল্যান্ডে পাচার হয়েছিল। ফলে বাংলার রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে। এর ফলে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করারোপ করা হয়। এছাড়াও অনাবৃষ্টির কারণে ঐ সময় (১৭৭০ সাল) দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ যা ইতিহাসে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। এই দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা এমন ছিল যে, মানুষ মৃত মানুষের মাংস খেতে বাধ্য হয়েছিল। আর এই দুর্ভিক্ষেও রাজস্ব না কমিয়ে তা অব্যাহত রাখা হয়। ফলে চরম শোষণ-নির্যাতনে বাংলার মানুষ হতদরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে। তাছাড়াও কোম্পানির কর্মচারীদের দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় বণিকশ্রেণি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই বলা যায় যে, দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে পড়েছিল।
ভাগিরথী নদীর তীরে পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
ইংরেজ বন্দি হলওয়েল বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে নবাবকে হেয় করার জন্য এক মিথ্যা কাহিনীর প্রচারণা চালায় যা ইতিহাসে অন্ধকূপ হত্যা নামে পরিচিত।
এতে বলা হয় যে, ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪.১০ ফুট প্রশস্ত ছোট একটি ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হয়। এতে প্রচণ্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। এই মিথ্যা প্রচার মাদ্রাজ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আর এই মিথ্যা প্রচারই হলো 'অন্ধকূপ হত্যা'।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!