উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে বুঝা যায় এটি হলো পাহাড়ি বন। পাহাড়ি বন ও ম্যানগ্রোভ বা লোনাভূমির বনের মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
| পাহাড়ি বন | ম্যানগ্রোভ বা লোনাভূমির বন |
| ১. বাংলাদেশের বনাঞ্চলের মধ্যে পাহাড়ি বনের পরিমাণ বেশি। | ১. সুন্দরবন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ লোনাভূমির বন। |
| ২. দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। | ২. বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মূল ভূখন্ড থেকে সমুদ্রের তীর পর্যন্ত বিস্তৃত। |
| ৩. এ এলাকায় অনেক বাঁশ পাওয়া যায় যেমন- বরাক, মূলী, উরা, মরাল, তল্লা, এলী ইত্যাদি। | ৩. অন্যান্য বৃক্ষ, যেমন- পশুর, গরান, গেওয়া, কেওড়া, কাঁকড়া, বাইন, বাদাম, গোলপাতা ইত্যাদি। |
লতা, গুলা ও ছোটবড় গাছপালায় আচ্ছাদিত এলাকাকে বন বলা হয়। বনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সেখানে উঁচু ও কাষ্ঠল বৃক্ষ থাকবে। বনে নানারকম পশু-পাখি ও পোকামাকড় বাস করে বনজ পরিবেশ তৈরি করে। বন আমাদের পরিবেশকে আবাস উপযোগী রাখে। কোনো দেশের সমগ্র এলাকার ২৫% প্রাকৃতিক বন থাকাটা আদর্শ অবস্থা। সরকারি হিসাব মতে, বাংলাদেশের ১৭% এলাকায় প্রাকৃতিক বন রয়েছে। বনকে রক্ষা করা ও নতুন বন সৃষ্টি করা এখন সময়ের দাবি। এ অধ্যায়ে প্রাকৃতিক বন, সামাজিক বন ও কৃষি বন সৃষ্টি এবং এর পরিচর্যা সম্পর্কে আমরা জানব। তাছাড়া বনের গুরুত্ব সম্পর্কেও আমরা তথ্য জানতে এবং উপলব্ধি করতে পারব।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
- কৃষি ও সামাজিক বনের সাথে প্রাকৃতিক বনের তুলনা করতে পারব।
- বাংলাদেশের মানচিত্রে প্রাকৃতিক বন চিহ্নিত করতে এবং ঐ সকল বনের উদ্ভিদ ও প্রাণীর তালিকা তৈরি করতে পারব।
- কৃষি ও সামাজিক বনায়নের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারব।
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়, কৃষি ও সামাজিক বনায়নের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বসতবাড়ির আঙ্গিনায়, ছাদে, টবে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার উপায় বর্ণনা করতে পারব।
- বসতবাড়ির আঙ্গিনায়, ছাদে, টবে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা করতে পারব।
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কৃষি ও সামাজিক বনায়নের অবদান তুলে ধরে পোস্টার অঙ্কন করতে পারব।
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কৃষি ও সামাজিক বনায়নের অবদান উপলদ্ধি করতে পারব।
Related Question
View Allবিজ্ঞানের ভাষায় লতা, গুল্ম ও ছোট বড় গাছপালায় আচ্ছাদিত এলাকাকে বন বলে।
সামাজিক বনায়নে অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। সামাজিক বন থেকে প্রাপ্ত মৌ, ফলমূল ও অন্যান্য সামগ্রী এ বনায়নে অংশগ্রহণকারী সবার মাঝে বণ্টন করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
রহিমা বেগমের গাছগুলো হলো নারকেল, শিশু, পেয়ারা ও জাম। এ গাছগুলো লাগানোর ক্ষেত্রে রহিমা বেগম নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করবে-
১. পেয়ারা ও নারকেল গাছ বাড়ির দক্ষিণ এবং পূর্বদিকে লাগাবে। কারণ দক্ষিণ ও পূর্বদিক দিয়ে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস বাড়িতে প্রবেশ করে।
২. শিশু গাছ দক্ষিণ ও পশ্চিমদিকে রোপণ করবে। কারণ এ গাছের পাতা শীতকালে ঝরে যায় বলে সহজে শীতকালে বাড়িতে রোদ আসতে পারে। এছাড়াও এ গাছ কাল-বৈশাখী ঝড়ের কবল থেকে বাড়িঘর রক্ষা করে।
৩. জামগাছ বাড়ির উত্তর, উত্তর-পশ্চিম এবং উত্তর পূর্বদিকে লাগাবে।
বসতবাড়ির চারপাশে যেসব খালি জায়গা থাকে সেখানে যদি পরিকল্পনামাফিক পরিকল্প গাছ লাগানো যায় তবে এসব গাছ থেকে প্রাপ্ত দ্রব্যাদি পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করে। অন্যদিকে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে। এদিক বিবেচনায় রহিমা বেগমের লাগানো গাছগুলো থেকে প্রাপ্ত ফল তার পরিবারের সবার দৈনন্দিন ফলের চাহিদা পূরণ করবে। গাছগুলোর উচ্ছিষ্টাংশ ও শুকনো ডালপালা তার পরিবারের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করবে। গাছগুলো যখন বড় হবে তখন এগুলোর কাঠ দিয়ে সে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র তৈরি করতে পারবে। শুধু তাই নয় লাগানো এসব গাছপালার অতিরিক্ত ফলমূল, কাঠ তিনি বিক্রি করে দিতে পারবেন। এর মাধ্যমে তার বাড়তি আয় হবে। অর্থাৎ লাগানো গাছগুলো একদিকে' খরচ কমাবে অন্যদিকে আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করবে। যার ফলে তার পরিবারে সমৃদ্ধি আসবে এবং সে সচ্ছলভাবে জীবন অতিবাহিত করতে পারবেন।
বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার প্রাকৃতিক বনকে পাহাড়ি বন বলে।
বৃহত্তর ঢাকা, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লার সমতল এলাকায় যে প্রাকৃতিক বন রয়েছে তা সমতল ভূমির বন হিসেবে পরিচিত। এসব বনের প্রধান বৃক্ষ শালগাছ। তাই এ বনকে শালবন বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!