উক্ত সংগঠন তথা 'রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। উক্তিটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত।
রাজনৈতিক সংগঠনের শক্তিশালী ও সুসংগঠিত অস্তিত্ব গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সাফল্যের প্রথম শর্ত। রাজনৈতিক দলগুলো দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিকসহ বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তার আলোকে দলীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ করে। এ নীতিমালা ও কর্মসূচি দলের ম্যানেফেস্টোতে উল্লেখ থাকে। দেশের জাতীয় নির্বাচনে দলের প্রার্থী নির্বাচন ও তার পক্ষে দলীয় বিচারকার্য চালানো রাজনৈতিক দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মনোনীত প্রার্থীগণ নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলের সমর্থনে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে। কারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব প্রায় পুরোটাই নির্ভর করে দলটির প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থনের ওপর। নির্বাচনে বিজয় লাভের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করে। নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী দল সংসদে বিরোধী রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব পালন করে। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী দল পার্লামেন্টে বিতর্ক, সরকারের নীতির সমালোচনা, মুলতুবি প্রস্তাব উপস্থাপন এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতামত প্রদানের মাধ্যমে সংসদকে কার্যকর করে। এছাড়াও জনগণের সামনে সরকারের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসূচি তুলে ধরাও বিরোধী দলের কাজ। এককথায় রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ এলাকায় জনগণের সাথে মিশে থাকে এবং জনগণ ও সরকারের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধন সৃষ্টি করে।
সর্বোপরি বলা যায়, রাজনৈতিক দলগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম পূর্বশর্ত।
Related Question
View Allরাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বলেছেন, “যারা কতকগুলো সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন করতে চেষ্টা করে, সেই জনসমষ্টিকে রাজনৈতিক দল বলা হয়।”
বাংলাদেশে নির্বাচনসমূহ পরিচালনার জন্য যে সাংবিধানিক সংস্থা রয়েছে তার নাম নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কয়েকজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগদান করেন। নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর।
মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটি আমার পঠিত পরোক্ষ গণতন্ত্রের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে সাধারণত নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকে বোঝায়। যেমনটি মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে। মিতুলদের ক্লাবে অধিকাংশ সদস্যই সাধারণ সম্পাদক হতে চায়। কেউ কাউকে ছাড় দিতে না চাওয়ায় অবশেষে সবাই মিলে কয়েকজনকে ক্ষমতা অর্পণ করে একজন সম্পাদক বাছাই করার জন্য। উক্ত ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ পরবর্তীতে তাদের ক্লাবের একজন সাধারণ সম্পাদক বাছাই করে। এখানে সবাই মিলে সাধারণ সম্পাদক বাছাই না করে তারা কয়েকজনকে ক্ষমতা অর্পণ করে। আর সেই ক্ষমতাপ্রাপ্তরা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই করে। এটি পরোক্ষ গণতন্ত্রের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
"বাছাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিরসন করতে পারলেই সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়াটি সর্বোত্তম হবে।" উক্তিটি যথার্থই সঠিক।
মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই করা হয়েছে পরোক্ষ পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে সাধারণত নাগরিকগণ সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্যে অংশ নেয়। কিন্তু মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়ায় যে দুর্বলতা কাজ করেছে তা হলো সততা ও নৈতিকতা বিচার না করে সাধারণ সম্পাদক বাছাই করা। বাছাইকৃত সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সততা ও নৈতিকতা থাকলে তাকে কিছু ব্যক্তির স্বার্থের জন্য বিতর্কিত হতে হতো না। অতএব, বাছাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিরসন করতে পারলেই সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়াটি সর্বোত্তম হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নিজ স্বার্থের প্রতি লক্ষ রেখে শাসনকার্য পরিচালনা করলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হয় এবং এতে করে গণঅসন্তোষ দেখা দেয়। নির্বাচিত প্রার্থী যদি সততা ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে নিজ স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট হয় তবে তিনি জনসমর্থন হারিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হবেন।
প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে- 'গণতন্ত্র হলো, জনগণের, জনগণের জন্য ও জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা।'
যে নির্বাচন পদ্ধতিতে ভোটারগণ ভোেট দিয়ে সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচন করে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনি সংস্থা তৈরি করে তাকে ইলেক্টোরাল কলেজ বা নির্বাচকমণ্ডলী বলে। এ নির্বাচনি সংস্থা চূড়ান্তভাবে প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করে। যেমন- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে এ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!