উক্ত সংগঠন অর্থাৎ ইউসেপ ললিতার ইচ্ছা পূরণ করতে পারবে বলে আমি মনে করি।
শিশু-কিশোরদের কল্যাণার্থে বাংলাদেশে যে কয়টি বেসরকারি সংগঠন কাজ করে তাদের মধ্যে ইউসেপ অন্যতম। সমাজের বঞ্চিত ও কর্মজীবী শিশুদের ভাগ্য উন্নয়নে এ সংস্থাটি বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগের আওতায় কর্মজীবী শিশুদের পরিচালিত করতে পারলে তারা আর দেশের বোঝা হয়ে থাকবে না। অর্থাৎ এতে ললিতার মতো শিশুদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন হবে। ললিতার ইচ্ছা হলো শিক্ষিত হয়ে নিজেকে দেশের দক্ষ মানবশক্তিতে পরিণত করবে। মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাবে। তাদের সব দুঃখ দূর করে দেবে। তার মতো শিশুদের এই ধরনের ইচ্ছা পূরণে ইউসেপ বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত করছে। যেমন- এগারো বছরের শ্রমজীবী শিশুদের জন্য ইউসেপ চার বছর মেয়াদী সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আবার তাদেরকে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ইউসেপের সাধারণ স্কুলে সাড়ে চার বছর শিক্ষা শেষ করার পর তার ভিত্তিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীদের কারিগরি স্কুলে ভর্তি করা হয়। ইউসেপের টেকনিক্যাল স্কুলগুলোতে যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় সেগুলো হলো-আশা ওয়েল্ডিং এবং ফেব্রিকেশন, অটোমেকামিক্স, ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি, রেফ্রিজারেশন এবং এয়ার কন্ডিশনিং ইত্যাদি। এর ফলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পেশায় দক্ষ কারিগর হিসেবে নিয়োজিত হতে পারছে। ইউসেপ বাংলাদেশ কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি উন্নয়নের জন্য ১৯৯০ সালে একটি ট্রেনিং সেল স্থাপন করে। এখানে কয়েকজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও প্রশিক্ষণ দানে অংশ নেন। এছাড়া ইউসেপ বাংলাদেশের মাধ্যমে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ শেষে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হয়। যারা ইউসেপের সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ পায় না; তাদের জন্য ইউসেপ প্যারাট্রেড প্রশিক্ষণ ইউনিট পরিচালিত হচ্ছে। এতে কাপড়ে ব্লক ও প্রিন্ট করা, কাঠের কাজ, মোটরযান মিস্ত্রী, বিজ্ঞপ্তি লেখা ইত্যাদি শেখানো হয়।
পরিশেষে বলা যায়, কর্মজীবী শিশু-কিশোরদের নিয়ে পরিচালিত ইউসেপের কর্মসূচির মাধ্যমে তাদেরকে বিভিন্ন কাজে দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়। এতে তারা দক্ষ মানবশক্তি হিসেবে তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থারও পরিবর্তন করতে পারে। তাই বলা যায়, ইউসেপের বিভিন্ন কার্যক্রমের আওতায় ললিতার স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।
Related Question
View Allগ্রামীণ সমাজসেবা কার্যক্রম সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত হয়।
বিবাহ সমাজে বংশের ধারা বজায় রাখে।
বিবাহিত পিতা-মাতার সন্তান বংশ সুরক্ষায় সক্ষম হয়। সন্তান পিতা-মাতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হয়। বিবাহই সন্তানকে অবৈধ সন্তানের পরিচয়ের গ্লানি থেকে রক্ষা করে এবং পিতৃ পরিচয় দান করে। সন্তানের সামাজিক পরিচিতির নিয়ামক হলো বিবাহ। বিবাহ সমাজে সন্তানের পিতৃত্ব তথা অভিভাবকত্ব নির্ধারণ করে।
রঞ্জ মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
বর্তমান যুগে মানুষকে সভ্য সমাজে সমাজে টিকে থাকতে হয় সমাজে ভালোভাবে টিকে থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন তা পূরণ করাই হলো মৌলিক মানবিক চাহিদা। অন্যভাবে বলা যায়, একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যে সকল চাহিদা পূরণ করতে হয় সেসব চাহিদাকে বলা হয় মৌলিক মানবিক চাহিদা। এ চাহিদাগুলো পূরণ ব্যতীত পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা। প্রতিটি মানুষের এ চাহিদাগুলো পূরণ করা আবশ্যক। যদি কেউ এগুলোর বেশিরভাগ পূরণ করতে না পারে তাহলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
রঞ্জুর ক্ষেত্রেও দেখা যায়, সে প্রায়ই খাদ্যের অভাবে না খেয়ে থাকে এবং স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায় না। এগুলো সবই মৌলিক মানবিক চাহিদার অন্তর্ভুক্ত। তাই বলা যায়, রঞ্জু মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত এনজিওটি হচ্ছে ইউসেপ। ইউসেপের সকল কার্যক্রমে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ করে এর সফলতা আরো বৃদ্ধি করা হয়।
সমাজকর্ম একটি স্বীকৃত পেশা। এ পেশায় একজন সমাজকর্মী তার কর্মক্ষেত্রে সমাজকর্মের বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করে সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চালায়। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকে। ইউসেপ বাংলাদেশে একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থা। এটি দরিদ্র ও দুস্থ ছেলে-মেয়েদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে থাকে। এজন্য নানা ধরনের কর্মসূচি এখানে পরিচালিত হয়ে থাকে। ইউসেপে এর কার্যক্ষেত্রে সমাজকর্মের প্রায় সব কয়টি পদ্ধতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। প্রথমত এখানে দল সমাজকর্মের পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। কেননা সাধারণ স্কুল ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দলগতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। দলীয় গতিশীলতা এখানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া সাধারণ শিক্ষার পর শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে তাদের কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে স্থানান্তর করা হয়।
ব্যক্তি সমাজকর্মের মনো-সামাজিক অনুধ্যানের প্রক্রিয়ায় এটি করাহয়ে থাকে। সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি ইউসেপে এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেননা শহরের বিশেষ একটি গোষ্ঠী বা সমষ্টির ভাগ্য উন্নয়নে ইউসেপে কাজ করে থাকে। এছাড়া ইউসেপের লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে নানা ধরনের গবেষণামূলক কাজ করা হয়ে থাকে। সমাজকর্মের বিভিন্ন কৌশলও ইউসেপে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। মূলত সমাজকর্ম একটি সাহায্যকারী পেশা। এ পেশার প্রতিটি পদ্ধতি প্রণীত হয়েছে সাহায্যার্থীর কল্যাণে। এ জন্য মানবকল্যাণধর্মী সব প্রতিষ্ঠানেই কোনো না কোনোভাবে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ হয়ে থাকে। ইউসেপের কার্যক্রমেও তাই সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহার করা যেতে পারে।
The History of Human Marriage' গ্রন্থের লেখক ফিনল্যান্ডের সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক এডভার্ড ওয়েস্টারমার্ক (Edvard Westermarck) |
পুলিশ সমাজকর্ম সমাজকর্মের একটি বিশেষায়িত শাখা।
সমাজকর্মের এ শাখা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশদের বিভিন্ন মনো-সামাজিক সমস্যা এবং প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান ও মৌলিক চাহিদা পূরণে সাহায্য করে থাকে। বাংলাদেশে পুলিশ সমাজকর্ম বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!