হ্যাঁ, জনসংখ্যা সমস্যা মোকাবিলায় জনাব আরিফ নানামুখী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।
যেকোনো সমস্যার সমাধান করতে হলে তার জন্য গবেষণার প্রয়োজন হয়, জনসংখ্যা সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রেও তা ব্যতিক্রম নয়। এক্ষেত্রে জনাব আরিফের মতো একজন সমাজকর্মী জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ, প্রভাব, সমাধানের উপায় খুঁজে বের করার জন্য গবেষণাকার্য পরিচালনা করতে পারে। যার ফলে বাস্তব উপযোগী কর্মসূচি গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
আমাদের দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো বাল্যবিবাহ। এক্ষেত্রে সমাজকর্মীরা বিলম্বে বিবাহের জন্য ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে জনসংখ্যাস্ফীতি রোধে ভূমিকা পালন করতে পারেন। আবার, দেশে প্রচলিত পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে মানুষ এখনও সচেতন নয়। এ ব্যাপারে অনেকের ধারণা থাকলেও বিভিন্ন কুসংস্কারের কারণে তারা তা গ্রহণ করতে চায় না বা গ্রহণ করতে দেওয়া হয় না। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি প্রয়োগের পাশাপাশি দল সমাজকর্ম পদ্ধতি প্রয়োগ করে জনগণকে সচেতন করতে পারেন এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারণ হলো শিশু মৃত্যুহার বৃদ্ধি। শিশু মৃত্যু রোধে ৬টি মারাত্মক রোগের (হাম, বসন্ত, পোলিও, ধনুষ্টংকার, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া) টিকাসহ শিশু স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। এক্ষেত্রে এ সমাজকর্মীরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।
আমাদের দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধকল্পে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করে যাচ্ছে। এ সব প্রতিষ্ঠানের কাজের মধ্যে সমন্বয় করে সেগুলোর সঠিক বাস্তবায়নে একজন সমাজকর্মী ভূমিকা পালন করতে পারে। সেই সাথে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি নারী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। কেননা শিক্ষাবঞ্চিত একজন নারী জনসংখ্যা বৃদ্ধির কুফল সম্পর্কে অজ্ঞ ও অসচেতন থাকেন। ফলে জনসংখ্যাও দ্রুতগতিতে বাড়ে। একজন সমাজকর্মী নারী শিক্ষার প্রসারে রেডিও, টেলিভিশন, লিফলেট ইত্যাদির মাধ্যমে সামাজিক কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারেন, যা জনসংখ্যা সমস্যা মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ওপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, জনসংখ্যা বৃদ্ধিজনিত সমস্যা মোকাবিলায় জনাব আরিফের মতো সমাজকর্মীদের কাজ করার সুযোগ আছে
Related Question
View AllIFNS এর পূর্ণরূপ হলো International Federation of Nematology Societies.
সামাজিক সমস্যা সমাজের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে বিধায় একে সর্বজনীনভাবে ক্ষতিকর বিবেচনা করা হয়।
বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যাকে সামাজিক সমস্যা বলা যায় না। যখন কোনো বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত সমস্যা সমাজের অধিকাংশ মানুষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তখন বা সামাজিক সমস্যারূপে গণ্য হয়। এটি সমাজের সামগ্রিক মঙ্গলের পরিপন্থী। এছাড়া সামাজিক সমস্যা সব দেশের সব সময়ের সমাজের মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। কোনো সমাজের মানুষই সামাজিক সমস্যার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি। তাই সামাজিক সমস্যাকে সর্বজনীন ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আনিসা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।
যে খাদ্যে খাবারের ছয়টি গুণ, যেমন- আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন বিদ্যমান সেই খাবার হলো পুষ্টিসম্মত খাবার। এ ধরনের খাবারের অভাবে শরীরে যে অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয় তাই হলো অপুষ্টি বা পুষ্টিহীনতা। আনিসার ক্ষেত্রে এ অস্বাভাবিক অবস্থাই দৃষ্টিগোচর হয়।
বস্তিবাসী আনিসা চোখে সমস্যা, মুখে ঘা, ঠোঁট ফাঁটা সমস্যাগুলোতে ভুগছে। এছাড়া রক্তস্বল্পতার জন্য তার মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
এসব সমস্যার কারণে সে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা মূলত অপুষ্টির কারণেই হয়। মানবদেহের স্বাভাবিক অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত অভাবজনিত অবস্থাকে অপুষ্টি বলা হয়। দৈনন্দিন জীবনে একজন মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম থাকার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ও গুণগত খাবার। এ ধরনের খাবারের ঘাটতিই অপুষ্টির সৃষ্টি করে। এ অবস্থা শরীরে নানা ধরনের রোগের জন্ম দেয়, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত করে, কর্মশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। এছাড়া পুষ্টিহীনতার কারণে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। যার ফলে স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হয়। উদ্দীপকের আনিসার ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটার কারণে বলা যায়, সে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।
উক্ত সমস্যা অর্থাৎ পুষ্টিহীনতা সৃষ্টি হওয়ার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদার অপূরণকে দায়ী করা যায়।
মানুষের বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলো পূরণ করা অপরিহার্য। কিন্তু বাংলাদেশের মতো নিম্ন আয়ের দেশে দারিদ্র্য, অধিক জনসংখ্যা প্রভৃতি কারণে অনেকেই মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। ফলে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যাগুলোর মধ্যে পুষ্টিহীনতা অন্যতম। আমাদের দেশের অনেক মানুষ ঠিকমতো খাবার পায় না। আর পুষ্টিকর খাবারের সংস্থান দরিদ্র লোকের জন্য প্রায় অসম্ভব। এছাড়া খাদ্যের গুণাগুণ সম্পর্কেও এদেশের বেশিরভাগ মানুষ অজ্ঞ। ফলে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে তারা স্বাস্থ্যহীনতায় বা পুষ্টিহীনতায় ভোগে। এ কারণে এদেশের মানুষ রক্তশূন্যতা, চক্ষুরোগ, রাতকানা, রিকেটসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
আবার সুস্বাস্থ্যের জন্য শুধু খাবারই পর্যাপ্ত নয়, ভালো আবাসন, পোশাক এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এদেশের মানুষ পর্যাপ্ত বাসস্থান, পোশাক এবং চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। শহর এলাকায় বস্তি সমস্যা, গ্রাম এলাকায় চিকিৎসা সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে অনেকেই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় দিন পার করছে। এসব কারণে পুষ্টিহীনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ আলোচনা থেকে তাই বলা যায় অপুষ্টি নামক সমস্যাটি সৃষ্টি হওয়ার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ না হওয়াই বেশি দায়ী।
জেলা সমাজসেবা অফিসের প্রধান কর্মকর্তা শহর সমাজসেবা কর্মসূচি তত্ত্বাবধান করেন।
সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালন বিবাহের অন্যতম কাজ। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠিত হয়। আর পরিবার সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালনের সর্বোৎকৃষ্ট প্রতিষ্ঠান। মানব শিশুর লালন-পালনের দায়িত্ব বাবা-মার ওপরই বর্তায়। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠন করায় শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ ও লালন-পালনে কোনো সমস্যা হয় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!