তারুণ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে বিকাশমূলক কাজ। তরুণ বয়সের সব ধরনের বিকাশমূলক কাজের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশুসুলভ মনোভাব, আচরণ পরিত্যাগ করার যোগ্যতা অর্জন এবং ক্রমশ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ভূমিকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।
তরুণ-তরুণীরা নিজেকে অন্যের কাছে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে সচেষ্ট হয়। শৈশবে ছেলেমেয়েরা পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করে থাকে। কিন্তু তরুণ বয়সে এসে তারা একে অপরকে বুঝতে শেখে এবং পরস্পর সমঝোতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করে। তরুণ-তরুণীরা স্বাধীনভাবে চলতে চায়। আবার মা-বাবার ভালোবাসার বন্ধন মুক্ত হতে চায়। এ বয়সের ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজ থেকে উপযুক্ত নাগরিক হওয়ার শিক্ষা লাভ করে।
যেসব ছেলেমেয়েরা পাঠ্যবই ছাড়া অন্যান্য কাজ যেমন- খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে অংশগ্রহণ করে, তারা নিজেকে গড়ে তোলার নৈপুণ্য অর্জন করতে পারে। যারা নিষ্ক্রিয় থাকে, তারা ব্যবহারিক জীবনে নৈপুণ্য লাভ থেকে বঞ্চিত থাকে। বয়স্ক ব্যক্তিদের মূল্যবোধের সঙ্গে সংগতি বজায় রেখে নিজস্ব মূল্যবোধ গড়ে তোলার সাথে ছেলেমেয়েরা সামাজিক জীবনের দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করতে শেখে। দাম্পত্য জীবনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা বিকাশমূলক কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
Related Question
View Allবয়োবৃদ্ধির মাধ্যমে পরিপক্বতা অর্জন হচ্ছে তারুণ্য।
সামাজিক অভিযোজন বলতে বোঝায় সামাজিক আচরণ করার জন্য নতুন ধরনের সংগতিবিধান।
সামাজিক অভিযোজন একটি বিকাশমূলক কাজ। সামাজিক অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো- সমবয়সী দলের প্রভাব, সামাজিক আচরণের পরিবর্তন, বন্ধু নির্বাচনের জন্য নতুন মূল্যবোধ গড়ে তোলা ইত্যাদি।
তিতলী যে সময়টি পার করছে সেটি হলো তারুণ্য।
তারুণ্য জীবন বিকাশের একটি স্তর। এই স্তরের বয়সসীমা হচ্ছে ১৩ থেকে ১৮ বছর। তিতলী ১৮ বছরের তরুণী। ইদানিং তার মাঝে শিশুসুলভ বৈশিষ্ট্যের বিলুপ্তি ঘটে নতুন বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হচ্ছে, সেগুলো হলো-
তিতলী দৈহিক পরিবর্তন ও যৌন পরিপক্বতা অর্জন করেছে। এই পরিপক্বতা অর্জনের বৈশিষ্ট্যস্বরূপ তার ডিম্বকোষ, জরায়ু, স্তন এবং উচ্চতা ও ওজনের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটেছে। শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে। ফলে সে শারীরিক ও মানসিক পরিপক্বতা অর্জন করে। অত্যধিক আবেগ প্রবণতা তরুণদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তারা নিজেদের সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পোষণ করে থাকে। দেহের পরিবর্তন, মনোভাবের পরিবর্তনের জন্য তরুণরা নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হয়। সমস্যাগুলোর সমাধান করতে না পারলে তারা নিজেদের মধ্যেই মগ্ন থাকে। তরুণরা 'স্বাধীনভাবে চলতে চায়, কিন্তু দায়িত্ব নিলে নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পড়ে। তরুণরা বাবা-মার কাছ থেকে কোনো সমস্যার সমাধান নিতে চায় না। এরা পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির মর্যাদা অর্জন করার জন্য পূর্ণবয়স্কদের বিভিন্ন অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করে।
তিতলীর মাঝে নতুন আচরণগত বৈশিষ্ট্য ও মনোভাব লক্ষ করা যায়। তরুণ বয়সেই মানুষের ব্যক্তিত্বের বীজ রোপিত হয়। এসময় শিশু কালীন মনমানসিকতার পরিবর্তন হয় এবং ব্যক্তিত্বের পরিস্ফুটন ঘটে।
তিতলীর আবেগীয় পরিবর্তন ঘটেছে। এ বয়সে সে নিজ সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পোষণ করে, আত্মপরিচিতি অর্জন করে। তার মূল্যবোধেও পরিবর্তন আসে। এছাড়াও তার এ বয়সে অনেক সময়ই বড়দের সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। তিতলী নিজ লিঙ্গভুক্ত অথবা বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গীদের কাছে কোন কোন গুণ প্রশংসিত হবে তা বুঝতে পেরে নিজেকে সংস্কার করার চেষ্টা করে। আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিতলী দলীয় আচরণের মানকে গ্রহণ করবে এবং সে মানদন্ডের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করবে। দলের স্বীকৃতি অর্জণ ব্যর্থ হলে সে হীনম্নন্যতায় ভুগবে। ফলে ব্যক্তিত্বের সুষ্ঠু বিকাশ ঘটবে না। আদর্শ হিসেবে পরিবারের বা পরিবারের বাইরে একজন ব্যক্তিকে অনুসরণ করে এবং তার মতো হতে চাইবে। সৃজনশীলতার প্রকাশ তাকে বিশেষ ব্যক্তিত্বের অধিকারী করে। তার আত্মধারণার ওপর অনুকূল প্রভাব ফেলবে। নিজেকে অধিক যোগ্য হিসেবে প্রকাশ করতে পারলে তিতলীর আত্মসন্তুষ্টি ও আত্মবিশ্বাস সুদৃঢ় হবে এবং জীবনে প্রতিষ্ঠা পাবে।
পরিশেষে বলা যায়, তিতলীর উল্লিখিত পরিবর্তন বয়সের কারণেই ঘটেছে।
যেসব দ্রব্য সেবনে মানুষের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং দৈহিক কর্মকাণ্ডের ওপর দীর্ঘস্থায়ী, প্রকট' ও বিরূপ প্রভাব পড়ে সেই দ্রব্যগুলোকে মাদকদ্রব্য বলা হয়।
অর্থনৈতিক কারণে তারুণ্যের বিপর্যয় ঘটতে পারে। দারিদ্রকে তরুণদের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়। অসচ্ছলতার দরুন বাবা-মা সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে তারা সমবয়সী অন্যান্য ছেলেমেয়েদের সাথে সমতা রক্ষা করতে পারে না। তাদের মধ্যে নৈরাজ্যের সঞ্চার হয়, তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং নানা রকম অপরাধে লিপ্ত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!