Introduction to Social Welfare' গ্রন্থটির লেখক হলেন ওয়াল্টার এ ফ্রিডল্যান্ডার।
সমাজকর্মের দুটি লক্ষ্যের মাঝে একটি লক্ষ্য হলো সমাজজীবন থেকে সকল প্রকার জটিল সমস্যা দূর করে পরিকল্পিত উপায়ে কাঙ্ক্ষিত ও গঠনমূলক সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করা। অর্থাৎ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন, সমাজের উন্নতি ও অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টিকারী উপাদান দূর করে সমাজকর্ম উপযুক্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলে।
সমাজকর্মের আরেকটি লক্ষ্য হলো সার্থকভাবে সমস্যা মোকাবিলা করা। এক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয়। অর্থাৎ সমাজকর্ম ব্যক্তিকে নিজের সমস্যা সমাধানের উপযোগী করে গড়ে তোলে।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের যেসব বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটেছে তা হলো- বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও দক্ষতা, সমন্বিত রূপ, মৌলিক পদ্ধতি এবং সক্ষমকারী পেশা।
অন্যান্য পেশার মতো সমাজকর্ম পেশার বিশেষ জ্ঞান ভান্ডার, নীতি ও মূল্যবোধ রয়েছে। এ পেশায় ব্যবহৃত সমাজকর্ম গবেষণা পদ্ধতি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে। এছাড়া পেশায় সেবাকর্ম সম্পাদনের জন্য অর্জিত জ্ঞানকে মানবকল্যাণে ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করতে হয়। সমাজকর্ম পেশা কলা, বিজ্ঞান ও পেশার সমন্বিত রূপ। এটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সম্পদসমূহ কাজে লাগিয়ে তাদের সমস্যার সমাধান করে। সমাজকর্ম তিনটি মৌলিক পদ্ধতি যথা- ব্যক্তি সমাজকর্ম, দল সমাজকর্ম এবং সমষ্টি সমাজকর্মের মাধ্যমে ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির উন্নয়নে কাজ করে। এছাড়া সমাজকর্ম একটি সক্ষমকারী পেশা। এটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টিকে এমনভাবে সহায়তা করে যাতে তারা নিজেদের সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হতে সক্ষম হয়। এর মাধ্যমে ব্যক্তি ও দলকে নিজেদের কর্মপ্রচেষ্টা দিয়ে আত্ম উন্নয়নে সক্ষম করে তোলা হয়।
উদ্দীপকে সমাজকর্ম সম্পর্কে বলা হয়েছে, সমাজকর্ম বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও দক্ষতা নির্ভর একটি সক্ষমকারী পেশা। বিজ্ঞান, কলা ও পেশার সমন্বয়ে নিজস্ব সম্পদ কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যার সমাধান করে। ব্যক্তির অবস্থার পরিবর্তন ও পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য বিধান করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম করে তোলে। উদ্দীপকের এ ধরনের বর্ণনার মধ্যে সমাজকর্মের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও দক্ষতা, সমন্বিত রূপ, মৌলিক পদ্ধতি এবং সক্ষমকারী পেশা এ বৈশিষ্ট্যগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে।
বর্তমান বিশ্বে সমাজকর্ম শিক্ষার গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় উদ্দীপকে বর্ণিত রনি সমাজকর্মের উপর উচ্চ শিক্ষা নিতে চায়- বক্তব্যটির সাথে আমি একমত।
বর্তমান বিশ্বে সমাজকর্ম একটি বিজ্ঞানভিত্তিক সাহায্যকারী এবং সমন্বয়ধর্মী অনুশীলনের বিজ্ঞান হিসেবে পরিচিত। আধুনিক সমাজের বিভিন্ন জটিল মনো-সামাজিক সমস্যার বিজ্ঞানসম্মত সমাধানের লক্ষ্যে সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে। সমাজকর্ম মানুষের ব্যক্তিগত, দলীয় ও সমষ্টিগত বিভিন্ন সমস্যা, তাদের উৎস, প্রকৃতি, কারণ, বিস্তৃতি, প্রভাব প্রভৃতি বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বিশ্লেষণ করে। পাশাপাশি মৌলিক ও সহায়ক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে এটি সমস্যার বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান দেয়। তাই সমস্যা সমাধানের বিজ্ঞানসম্মত উপায় হিসেবে সমাজকর্মের গুরুত্ব সারা বিশ্বে স্বীকৃত। যেকোনো উন্নয়ন কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার উপর নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগ করে জনগণকে তাদের সমস্যা, সম্পদ এবং দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। সমাজকর্মীরা আলোচনা সভা, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম আয়োজন, বুকলেট, ম্যাগাজিন প্রকাশ এবং বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের দ্বারা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া সমাজের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজন সুষম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন। সমাজকর্ম মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন পূরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এছাড়া সমাজকর্ম সমাজ সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন, মানব সম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক সমস্যার প্রতিকার ও প্রতিরোধেও এর অবদান অনন্য। উদ্দীপকেও সমাজকর্মের এরূপ গুরুত্বের কথা বর্ণিত হয়েছে।
সমাজকর্মের উল্লিখিত গুরুত্বের প্রেক্ষিতে বলা যায়, বর্তমান বিশ্বে সমাজকর্ম শিক্ষার গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ার কারণেই রনি সমাজকর্মের উপর উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে চায়।
Related Question
View Allসমাজ হলো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের এক জটিল রূপ, যেখানে মানুষ পরস্পর সংঘবদ্ধভাবে বসবাস করার সুযোগ লাভকরে।
সমাজ পরিবর্তনশীল হওয়ায় সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা দেয়।
সমাজে বসবাসকারী সদস্যদের মধ্যে সর্বদা সামাজিক সম্পর্ক বিদ্যমান। সমাজ পরিবর্তনশীল হওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের ওপর এর প্রভাব পড়ে। গতিশীল সমাজের সাথে সাথে সামাজিক সম্পর্কও দ্রুত পরিবর্তিত হয়। যার সাথে মানুষ সামঞ্জস্য বিধানে ব্যর্থ হয়।
উদ্দীপকের বর্ণনায় সমাজকর্মের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত রয়েছে।
সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সামাজিক ভূমিকা পালনের জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরের জনগণকে সক্রিয় ও সক্ষম করে তোলা এবং অনুকূল সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করা। উদ্দীপকে বর্ণিত গবেষণাকর্মীদের কাজে এ উদ্দেশ্যের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের ভোলা জেলার ঢালচর অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একদল সমাজকর্মী কাজ করছে। তারা ঐ অঞ্চলের মানুষকে নিজস্ব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সক্ষম করে তোলে। তাদের এ কাজে সমাজকর্মের চারটি লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। এগুলো হলো- জনগণের সমস্যা সমাধানে উপযোজন ক্ষমতার উন্নয়ন; সম্পদ, সেবা, ও সুযোগের সাথে মানুষের সংযোগ ঘটানো; মানুষের হৃতক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও কার্যকর ভূমিকা পালনে তাদেরকে সক্ষম করে তোলা এবং ব্যক্তিগতও সামাজিক সম্পদের সর্বোচ্চ সমাবেশ ঘটানো। উদ্দীপকের গবেষণাকর্মীদের কাজে সমাজকর্মের উল্লিখিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যগুলোই খুঁজে পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের বৃহত্তর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের মাত্র চারটি প্রতিফলিত হওয়ায় বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনায় সমাজকর্মের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।
সমাজকর্ম একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভর সাহায্যকারী পেশা। সমাজ থেকে যেকোনো ধরনের অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি দূরীকরণে এটি পরিকল্পিত উপায়ে প্রচেষ্টা চালায় এবং গঠনমূলক পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। সমাজের সার্বিক কল্যাণ সাধনের এ বৃহত্তর কাজটি করতে সমাজকর্ম সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন উপাদানের সহায়তা নেয়। উদ্দীপকে সমাজকর্মের বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের কিছু উপায়ের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
সমাজ পরিবর্তনশীল। আর এ পরিবর্তনশীল প্রকৃতির সাথে খাপ খাওয়াতে মানুষের প্রচেষ্টা সর্বাগ্রে থাকে। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাও নেহায়েত কম নয়। সমাজকর্ম অনেক সময় উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও জনগণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এবং সামাজিক নীতির বিকাশ সাধনের প্রচেষ্টা চালায়। ব্যক্তি, দল বা সমষ্টিকে স্বাবলম্বী করে তুলতে সমাজকর্ম তাদের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ তথা সচেতনতা সৃষ্টি করে। এই সচেতনতাবোধই তাদেরকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে কার্যকর মানবীয় সেবা ত্বরান্বিত করতে সমাজকর্ম নেতৃত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে সামাজিক কাজে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। সেই সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। দেশের প্রচলিত সমাজসেবামূলক কার্যক্রমগুলোর উন্নয়ন, সামাজিক কার্যক্রম জোরদার করা, সামাজিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা সমাজকর্মের অন্যতম লক্ষ্য। মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করে মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব থেকে মুক্তি দেওয়াও সমাজকর্মের লক্ষ্য।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের উল্লিখিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। তাই বলা যায় উদ্দীপকটি সমাজকর্মের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সামগ্রিক রূপ নয়।
IFSW-এর পূর্ণরূপ- International Federation of Social Workers.
শিল্পবিপ্লব পরবর্তী আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে।
সামাজিক পরিবর্তনের ফলে সমাজে বসবাসরত মানুষের সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা দেয়। স্বাভাবিকভাবেই, সামাজিক সম্পর্কের এ গতিশীল পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য বিধানে মানুষ ব্যর্থ হয়। ফলে সমাজে সৃষ্টি হয় নানা ধরনের অসংগতি ও সমস্যা। এসব অসংগতি দূরীকরণ এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশের সাথে মানুষকে সামঞ্জস্য বিধানে সক্ষম করে তোলার জন্যই সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!