'খেয়া' শব্দটির অর্থ হলো নদী পার হওয়ার নৌকা।
ছাতা কিনে নেওয়ায় ব্যাঙ আর বর্ষার আগমনকে ভয় পায় না বলে এ কথাটি বলেছে।
প্রকৃতিতে স্বাভাবিক নিয়মে বর্ষা আসে। এই বর্ষা প্রাণিকুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্ষার আগমনে কিছু অসুবিধাও সৃষ্টি হয়। বর্ষায় বাইরে তেমন বের হওয়া যায় না। বাইরে গেলে বৃষ্টি থেকে রক্ষার উপায় খুঁজতে হয়। আর এক্ষেত্রে সহজ ও অন্যতম অবলম্বন হলো ছাতা। বর্ষার কথা ভেবে ব্যাঙ আগে থেকেই ছাতা কিনে নিয়েছে। তাই তো সে আর বর্ষার আগমনকে ভয় পায় না।
উদ্দীপকের মাঝির প্রসঙ্গটি 'চিঠি বিলি' ছড়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
নদীমাতৃক বাংলাদেশে মাঝির সঙ্গে সবাই পরিচিত। নানা ধরনের নৌকা ভাসিয়ে মাঝিরা কূল-কিনারাহীন নদী ও গভীর সমুদ্র পাড়ি দেয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দেয়। তবে দক্ষ-অদক্ষ যাই হোক, যারা নৌকা চালনা করে তারা সবাই মাঝি।
উদ্দীপকে উজান দেশের মাঝির কথা বলা হয়েছে। সে নৌকা নিয়ে ভাটির দেশে যায়। তার কাছে কেউ অত্যন্ত আকুল স্বরে মিনতি করছে তার বাবার কাছে খবর পৌঁছে দেওয়ার। দেখা হলে বাবার কাছে যেন তার খবর পৌঁছে দেয়, সেই অনুনয় করছে সে মাঝির কাছে। কেননা মাঝি তো তার নৌকা নিয়ে নৌপথে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। সেই বিবেচনায় অনুনয়কারী তার বাবাকে খবর পৌঁছে দেওয়ার জন্য আকুল কামনা করে মাঝির কাছে। এমনই এক মাঝির দেখা পাওয়া যায় 'চিঠি বিলি' ছড়াটিতেও। সেখানে মাঝির ভূমিকায় পাওয়া যায় চিংড়ি মাছের বাচ্চাকে। সে একজন দক্ষ মাঝির মতো নৌকার হাল ধরে। দুচোখ বুজে সে যখন হাল ধরে, তখন তাকে একজন দক্ষ মাঝি হিসেবেই মনে হয়। সব ধরনের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও কেবল মাঝি হিসেবে 'চিঠি বিলি' ছড়ার মাঝির সঙ্গে উদ্দীপকের মাঝি সাদৃশ্যপূর্ণ।
"উদ্দীপকটি 'চিঠি বিলি' ছড়ার সামান্য দৃশ্য তুলে ধরলেও তা সার্বিক চিত্রকে ধারণ করতে পারেনি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের কল্পলোকে নানা ধরনের খেয়াল-খুশির সৃষ্টি হয়। কল্পনার জগতে কোনো সীমাবদ্ধতা না থাকায় সেখানে অনেক অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। অনেক অদ্ভুত বিষয়কেও বর্ণিলরূপে উপস্থাপন করা যায়। কল্পনার সেসব অদ্ভুত ও অবাস্তব বিষয়গুলো বাস্তব জীবনের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে। চেনা পৃথিবীর পরিচিত বিষয়ই স্থান পায় অতিরঞ্জিত হয়ে, যা অদ্ভুত রূপ লাভ করে।
উদ্দীপকে মাঝির প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে। উজান দেশের এক মাঝির কাছে কোনো একজন তার বাবার কাছে খবর পৌছে দেওয়ার মিনতি জানাচ্ছে। মাঝি যেহেতু নানা স্থানে যাতায়াত করে, তাই সে এ ধরনের অনুনয় করেছে। নৌকা নিয়ে উজান দেশ থেকে ভাটির দেশে গেলে তার বাবার সাথে মাঝির দেখা হতে পারে। তাই সে তার বাবার কাছে খবর পৌছে দেওয়ার কথা বলে মাঝিকে। নদীপথে মাঝির নৌকা চালনার এক সামান্য দৃশ্য 'চিঠি বিলি' ছড়ায়ও পরিলক্ষিত হয়।
'চিঠি বিলি' ছড়াটিতে মানুষের অদ্ভুত কল্পনার পরিচয় পাওয়া যায়। সেখানে ব্যাঙের চিঠি বিলি করা, চিংড়ি মাছের বাচ্চার নৌকা চালনা করা, 'খলসে কিংবা কাতলার চিঠি লেখার কাহিনি আছে। এগুলো বাস্তবসম্মত নয়। পাশাপাশি বর্ষার চিত্রও ফুটে উঠেছে। বর্ষার দুর্দশা এবং তা থেকে আত্মরক্ষার ব্যবস্থা ও উপায় দেখানো হয়েছে। এসব দৃশ্য' উদ্দীপকে নেই। সেখানে কেবল মাঝির নৌকা চালানোর দৃশ্য দেখা যায়। এটি ছড়ায় উল্লিখিত দক্ষ মাঝি চিংড়ি মাছের বাচ্চার সঙ্গে কিছুটা সাযুজ্যপূর্ণ। সেটাও কেবল নৌকা চালনার দিক থেকে অর্থাৎ মাঝি হিসেবে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allসাঁঝের বেলার রোদে খলসে মাছের চোখ ঝলসে গেছে।
'জবর মাঝি সাচ্চা' হলো চিংড়ি মাছের বাচ্চা।
ছড়াটতে চিংড়ি মাছের বাচ্চাকে নৌকার মাঝি হিসেবে দেখা যায়। সে যখন নদীর জলে নৌকা ভাসায়, তখন দু'চোখ বুজে, হাল ধরে। তাকে দেখলে একজন দক্ষ মাঝি হিসেবেই মনে হয়। দক্ষ মাঝিরা তার মতো করেই হাল ধরে। এভাবেই তারা নৌকা চালনা করে। তাই চিংড়ি মাছের বাচ্চাকে উদ্দেশ্য করে তাকে 'জবর মাঝি সাচ্চা' বলা হয়েছে।
উদ্দীপকের সামির চরিত্রের সঙ্গে 'চিঠি বিলি' ছড়ায় ব্যাঙের চরিত্রটি সংগতিপূর্ণ।
পৃথিবীতে প্রত্যেকেই কোনো না কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত। তবে নির্দিষ্ট কাজের বাইরেও কখনো কখনো কিছু কাজ করতে হয়। আবার কেউ কেউ দ্বেচ্ছায় কিছু কাজ সানন্দে করে থাকে। এতে তারা আনন্দ পায় ।
উদ্দীপকের সামির গরুর দুধ বাজারে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে। এই উপার্জিত আয়েই তার সংসার চলে। এলাকার বিভিন্ন গৃহস্থ বাড়ি থেকে দুধ সংগ্রহ করে বাজারে যাওয়ার সময় সে গ্রামের ভালো-মন্দ নানান খবর অন্যদের জানিয়ে যায়। সামির চরিত্রের এই বৈশিষ্ট্য 'চিঠি 'বিলি' কবিতার ব্যাঙের মাঝে খুঁজে পাওয়া যায়। ব্যাঙ চিঠি বিলি করে। চিঠি বিলি করাই তার কাজ। চিঠি বিলি করতে বের হয়ে সে অনেকের খোঁজখবর জানতে পারে। সেসব 'খবর সংগ্রহ করে সে অন্যদের সেগুলো জানায়। ছড়াটিতে চিংড়ি, খলসে, ভেটকি, কাতলা, বর্ষা প্রভৃতির নানান খবর ব্যাঙের মাধ্যমে জানা যায়। সুতরাং এসব দিক বিবেচনায় ব্যাঙের সঙ্গেই উদ্দীপকের সামির চরিত্রটিকে সংগতিপূর্ণ বলে মনে হয়।
"নির্ধারিত কাজের বাইরেও ছোটো ছোটো কাজের মাধ্যমে মানুষ অন্যরকম আনন্দ পেতে ও দিতে পারে"- উদ্দীপক ও 'চিঠি বিলি' ছড়া অবলম্বনে এ উক্তিটি যৌক্তিক।
পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানুষকেই কিছু না কিছু দায়িত্বে নিয়োজিত হতে হয়। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত থাকে। তবে নির্ধারিত কাজের বাইরেও মানুষ কখনো কখনো এমন কিছু কাজ করে থাকে, যা তাকে আনন্দ পেতে ও অন্যকে আনন্দদানে সহায়তা করে।
উদ্দীপকের সামির এলাকার গৃহস্থ বাড়ি থেকে গরুর দুধ সংগ্রহ করে তা বাজারে বিক্রি করে। দুধ বিক্রির টাকা দিয়েই সে জীবিকা নির্বাহ করে। এলাকায় সে বেশ পরিচিত। গ্রামের ভালো-মন্দ নানান খরব তার কাছ থেকে অন্যরা জানতে পারে। দুধ নিয়ে বাজারে যাওয়ার সময় সে এই কাজটি করে থাকে। এ ধরনের কাজ করার মধ্য দিয়ে সামির অন্যরকম আনন্দ বোধ করে। এমনই এক বিষয় 'চিঠি বিলি' ছড়াতেও পরিলক্ষিত হয়।
'চিঠি বিলি' ছড়াটিতে ব্যাঙ চিঠি বিলি করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তার নির্ধারিত কাজ করতে গিয়ে সে বিভিন্ন খবর জানতে পারে এবং সেগুলো অন্যদের জানায়। ভেটকি মাছের নাতনির দেশের বাইরে যাওয়ার কথা, দেশজুড়ে একটানা বৃষ্টি হওয়ার খবরও তার মাধ্যমে জানা যায়। চিঠি বিলি করতে বের হয়ে বিভিন্ন খবর সংগ্রহ করে তা অন্যদের কাছে পৌছে দেওয়ার কাজটি সে স্বেচ্ছায় করে থাকে। এ ধরনের কাজ করলে আনন্দ যেমন পাওয়া যায় তেমনই অন্যদেরও আনন্দ দেওয়া যায়। তাই উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যৌক্তিক ও যথার্থ।
দেশের বাইরে গেছে ভেটকি মাছের নাতনি।
ব্যাঙ খেয়া নৌকা ধরার জন্য ছুটছে।
ব্যাঙ চিঠি বিলি করতে যাবে। তাকে খেয়া নৌকায় নদী পাড়ি দিতে হবে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে যাতায়াতের একটি অন্যতম মাধ্যম হলো এই নৌকা। এদেশের নদীগুলোতে ছোটো-বড়ো অসংখ্য নৌকা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সাধারণেরা যাতায়াতের জন্য খেয়া নৌকাগুলোই বেশি ব্যবহার করে থাকে। ব্যাঙও খেয়া নৌকাতেই নদীর ওপারে যাবে। তাই সে খেয়া নৌকা ধরার জন্য ছুটছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!