"উদ্দীপকটি 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধের একটি অংশ মাত্র, পূর্ণাঙ্গ বিষয় নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
কুটির শিল্প বলতে আমরা সাধারণত কুটিরে তৈরি শিল্পকে বুঝি। এ শিল্প গ্রামের লোকদের হাতে প্রতিষ্ঠা পায় এবং বিস্তৃতি লাভ করে বিধায় এ শিল্পটি লোকশিল্পের অন্তর্ভুক্ত। বাংলার ঘরে ঘরে একসময় এ শিল্পের উৎপাদন ও ব্যবহার ছিল।
উদ্দীপকে 'নামিল শ্রাবণসন্ধ্যা' নামে শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর একক ভাস্কর্য প্রদর্শনীর প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে। সেই প্রদর্শনীটি মূলত কাঠশিল্পকে কেন্দ্র করে আয়োজিত। সেখানে মরা কাঠ, গাছের গুঁড়ি, বাকল প্রভৃতির মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও নিসর্গের ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধে মসলিন, নকশিকাঁথা, তাঁত, জামদানি, খাদি, কাসা ও. পিতলের তৈজসপত্র, পোড়ামাটির বিভিন্ন বস্তু, কাঠশিল্প, মাদুর, শীতলপাটি, শিকা, বাঁশ শিল্প, পুতুল প্রভৃতি শিল্পের উৎস, সৃষ্টি, ব্যবহার ও বর্তমান অবস্থার চিত্র বর্ণিত হয়েছে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে রক্ষা করার জন্য প্রবন্ধে তাগিদ ও পরামর্শও রয়েছে। কিন্তু উদ্দীপকে শুধু কাঠশিল্পের কথা বর্ণিত হয়েছে।
শিল্প বলতে বোঝায় শিল্পীর তৈরি কর্মবস্তু। লোকশিল্প শিল্পের একটি শাখা। আর লোকশিল্পের শাখা-প্রশাখাও অনেক। গ্রামবাংলার এসব লোকশিল্পেরই পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে 'আমাদের লোকশিল্প' 'প্রবন্ধে। উদ্দীপকে আলোচ্য প্রবন্ধের একটি মাত্র বিষয় প্রকাশ পেয়েছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, উদ্দীপকটি 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধের একটি অংশ মাত্র, পূর্ণাঙ্গ বিষয় নয়।
Related Question
View Allখুলনা এলাকার 'মাদুর' সকলের কাছে পরিচিত।
'ঢাকাই মসলিনের কদর ছিল দুনিয়া জুড়ে' বলতে ঢাকাই মসলিনের জনপ্রিয়তার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
একসময় ঢাকা শহরের অদূরে ডেমরা এলাকার তাঁতিদের দ্বারা ঢাকাই মসলিন তৈরি হতো। মসলিন তৎকালীন মোগল বাদশাহদের বিলাসের বস্তু ছিল। এ কাপড়টি অতি সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে বোনা হতো বলে ছোট্ট একটি আংটির ভিতর দিয়ে অনায়াসে কয়েকশ গজ মসলিন কাপড় প্রবেশ করানো সম্ভব ছিল। কারিগরি দক্ষতা নয়, কাপড় বোনার জন্য শিল্পীমন থাকা প্রয়োজন।
স্বামীর মৃত্যুর পর রহিমার কাজটি 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধের 'নকশিকাঁথা'র প্রতিনিধিত্ব করে।
আমাদের লোকশিল্পের একটি অন্যতম উপাদান হলো নকশিকাঁথা। নকশিকাঁথা একদিকে যেমন আমাদের ঐতিহ্যের পরিচয় দেয় অন্যদিকে তেমনই অনেক মানুষের জীবিকার উপায় হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে রহিমা স্বামী মারা যাওয়ার পর উপায়ান্তর না দেখে নকশিকাঁথা সেলাইয়ের কাজ শুরু করে। সে নকশি তোলা কাঁথার মধ্যে নিজের জীবনের সুখ-দুঃখের স্মৃতি, নানা রকম ফুল ও নকশার মধ্যে দিয়ে সাজিয়ে তোলে। একটি বেসরকারি সংগঠনের মাধ্যমে সেগুলো বিদেশে পাঠানোর সুযোগ পেয়ে সে অনেক টাকা আয় করে। 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধটিতে যা বলা হয়েছে তা হলো- বর্ষাকালে যখন চারদিকে পানি থৈ থৈ করে, ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া যায় না, এমন মৌসুমে নকশিকাঁথা সেলাই করা হতো। মেয়েরা সংসারে কাজ শেষ করে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সেরে পাটি বিছিয়ে পানের বাটাটি পাশে নিয়ে পা মেলে বসতেন এ বিচিত্র নকশা তোলা কাঁথা সেলাইয়ের জন্য।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রহিমার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ এবং হাতে-কলমে কাজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখা প্রয়োজন। তা হলে নিজের উন্নতির পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন হয়।
আলোচ্য প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আমাদের লোকশিল্প শুধু আমাদের বিলাসিতা বা শৌখিনতার জন্যই নয়। বিশ্বের বহু উন্নত দেশের কাছে এ শিল্প সমাদৃত। অতীতে মোগল বাদশাহরা এ ধরনের শিল্পকে সাদরে গ্রহণ করতেন। বর্তমানেও বহু উন্নত জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ আমাদের লোকশিল্প অনেক মূল্য দিয়ে কিনে নিচ্ছে। 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধের এদিক বিবেচনায় উদ্দীপকের রহিমা একজন লোকশিল্প সংরক্ষণ ও উন্নয়নের প্রতিনিধি। রহিমার মতো হাজারো নারী এ শিল্পের সাথে জড়িত থেকে বিদেশি মুদ্রা নিয়ে আসছে দেশে। তারা দেশের অর্থনীতিকে শক্তি পার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধে শিল্পী কামরুল হাসান নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার এবং দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য যেসব কুটিরশিল্পের কথা বলেছেন নকশিকাঁথা সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। উদ্দীপকের রহিমা ছোটবেলা থেকেই বাঁশ-বেত দিয়ে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি করত। আচমকা স্বামী মারা গেলে নকশিকাঁথা সেলাইয়ের কাজই তার সংসারে আয় করার সুযোগ করে দিয়েছে। তাই বলা যায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রহিমার অব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিল্পগুণ বিচারে আমাদের কুটিরশিল্প লোকশিল্পের মধ্যে পড়ে।
বর্ষাকাল নকশিকাঁথা তৈরির উপযুক্ত সময়। কারণ এ সময় বৃষ্টি থাকায় ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া যায় না এবং কৃষকবধূরা অবসর থাকে।
নকশিকাঁথা লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ লোকশিল্প। এক সময় বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে এ নকশিকাঁথা তৈরির রেওয়াজ ছিল। বর্ষাকালে যখন চারদিকে পানি থৈ থৈ করে, ঘর থেকে বের হওয়া যায় না, এমন মৌসুমই ছিল নকশিকাঁথা সেলাইয়ের উপযুক্ত সময়। মেয়েরা সংসারের কাজ শেষ করে পাটি বিছিয়ে পানের বাটাটি পাশে নিয়ে পা মেলে বসতেন, মনের মতো করে নকশিকাঁথা সেলাই করতেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!



